17/08/2026
কলসকাঠী প্রাইমারি, বয়েজ ও গার্লস স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা শেষ। কিন্তু দর্শকদের চোখেমুখে তখনো অপেক্ষা মনে হচ্ছে, বিশেষ কিছু এখনো বাকি! দর্শকদের উত্তেজনা, হঠাৎ মাইকে ভেসে এলো পরিচিত ঘোষণা ‘‘এবার মঞ্চে আসবেন আপনাদের প্রিয় শিল্পী সোহাগ খান”। দর্শকদের উচ্ছাস ও কড়তালি। মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিলেন, চিরচেনা ভঙ্গিতে তিনবার বললেন- হ্যালো-হ্যালো-হ্যালো- সাউন্ড চেক। লম্বা নিশ্বাসে মনির খানের গান দিয়ে শুরু করলেন। প্রথম সুরেই যেন বদলে গেল পুরো অনুষ্ঠানের আবহ। আবারও দর্শকদের উচ্ছাস ও হইচই। কণ্ঠ ও সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হলো উপস্থিত দর্শক। গান শেষ হতেই চারদিক থেকে ভেসে এলো বজ্রধ্বনি “ওয়ান মোর, ওয়ান মোর”।
বলছিলাম কলসকাঠীর একসময়ের মঞ্চকাঁপানো শিল্পী, সবার পরিচিত ও প্রিয় মুখ সোহাগ খানের কথা। কন্ঠ ও সুরের মূর্ছনায় যে একদিন স্টেইজ গরম করতো। শুধু তাঁর একটি গান শোনার অপেক্ষায় অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জড়ো হয়ে থাকতেন শত শত মানুষ। তিনি মঞ্চে উঠলে দর্শকের উচ্ছ্বাসে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেত পুরো আয়োজন। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে একসময় জমে উঠত প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি এখন তরুণদের সমাজ সেবকের ভুমিকায় কলসকাঠী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে ইউপি সদস্য হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনার পথে তিনি এগিয়েছেন অনেক আগেই। সংগীতজীবন থেকে সরে এসে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে।
কণ্ঠের মাধুর্যে যিনি একদিন মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিলেন, তিনি আজ সেবার মাধ্যমে মানুষের জীবন ছুঁতে চান। কলসকাঠীর সেই চিরচেনা মুখ সোহাগ খান। আপনাদের দোয়া, পরামর্শ ও ভালোবাসা নিয়ে শুরু করতে চান জনসেবার নতুন অধ্যায়।
সিদ্ধান্ত আপনাদের, দায়িত্বও আপনাদের।
মানুষ ও এলাকার কল্যাণে হোক আগামীর পথচলা।