14/05/2026
আমি উন্নয়নের বিরুদ্ধে না, আমি গরিব মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়নের বিরুদ্ধে।
আমি রাজনীতির বিরুদ্ধে না, আমি সেই নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে যেখানে জনগণ শুধু ভোট আর কর দেওয়ার মেশিন হয়ে যায়।
এক সময় বলা হয়েছিল উন্নয়নের জোয়ারে দেশ বদলে যাবে। বড় বড় সেতু, মেট্রোরেল, উড়ালসড়ক হয়েছে—হওয়া উচিতও ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই উন্নয়নের ভার কে বহন করেছে?
সাধারণ মানুষ।
ব্যাংক লুট হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ হয়েছে, শেয়ারবাজারে মানুষের স্বপ্ন ভেঙেছে, অথচ শেষ পর্যন্ত চাপ পড়েছে মধ্যবিত্ত আর গরিবের পকেটে।
ভ্যাট বেড়েছে, ট্যাক্স বেড়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু ঘুষ, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট আর ক্ষমতার ব্যবসা আগের মতোই রয়ে গেছে।
আজ নতুন মুখ এসেছে, নতুন কথা এসেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একই আছে—
রাষ্ট্র কি সত্যিই জনগণের জন্য, নাকি কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য?
ব্যাংক একীভূত করার নামে যদি মানুষের কষ্টার্জিত শেয়ার মূল্যহীন হয়ে যায়, খেলাপিদের দায়মুক্তি হয়, আর দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়া হয়—তাহলে সাধারণ মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে?
৫ আগস্টের পর আমরা আরও একটি বাস্তবতা দেখেছি।
জেল থেকে বের হওয়া বা দেশ ছেড়ে যাওয়া সবাই কি নিরপরাধ ছিল?
নাকি রাজনৈতিক পালাবদলের ভিড়ে অপরাধ, বিচার আর সুবিধাবাদ একসাথে মিশে গেছে?
এই প্রশ্ন করার অধিকার জনগণের আছে।
আমরা এমন উন্নয়ন চাই না যেখানে মানুষ আধা-পেট খেয়ে শুধু বড় বড় প্রকল্পের গল্প শুনবে।
আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে—
গরিব মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচবে,
যুবক চাকরি পাবে,
ব্যবসায়ী নিরাপদে ব্যবসা করবে,
আমানতকারী তার টাকা নিয়ে ভয় পাবে না,
এবং আইন সবার জন্য সমান হবে।
লন্ডন বা সিঙ্গাপুরের স্বপ্ন দেখানোর আগে দরকার মানুষের পকেট, ন্যায়বিচার আর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কারণ সত্যিকারের উন্নয়ন কংক্রিটের দেয়ালে নয়, মানুষের মুখের স্বস্তিতে দেখা যায়।