01/07/2020
!!!!.............অসাধারণত্বের 🇧🇩..............!!!!
স্টেশন রোড, ঘোড়াপীর মাজার, রংপুরে অবস্থিত অসাধারণ কৃত্রিম উপায়ে তৈরী সবুজ একটি প্রতিষ্ঠান।
এই সবুজে ঘেরা কারখানাটি অবস্থিত রংপুর শহরে।
প্রায় তিন লক্ষ্য বর্গফুটের বিশাল এই সাত তলা কারখানাটির এক একটা ফ্লোর চল্লিশ হাজার বর্গফুট ছড়ানো।এখানে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
রংপুর শহরের রবার্টসনগঞ্জে স্থাপিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের এই কারখানার ভবন শীতল রাখা হয়েছে এক বিশেষ ধরনের স্থাপত্যকৌশল প্রয়োগ করে। এতে কারখানাটির ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যুতের ব্যবহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনে একটি সবুজ (গ্রিন) কারখানা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
কারখানার নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার এর মতে, কারখানাটির শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় গ্রাম বাংলার লোকজ জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে।
কারুপণ্যের এই বিশাল কারখানায় যা তৈরি হয়, তার নাম শতরঞ্জি। এটি রংপুর অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য। একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই শিল্প আবার জেগে উঠেছে। নব্বইয়ের দশকে হাতে গোনা কয়েকজন পুরোনো কারিগরকে সংগঠিত করে নতুন করে এর যাত্রা শুরু করা হয়। ২৮ বছরের দীর্ঘ সময়ে কাঁচামাল, বুনন ও নকশায় নানা পর্যায় পেরিয়ে রংপুরের শতরঞ্জি আজ রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশের ৫৫টি দেশে।
গত অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৩ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশে হস্তশিল্প রপ্তানি বাণিজ্যে শিল্প খাতে ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে কারুপণ্য। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া জাতীয় রপ্তানি ট্রফির স্বর্ণপদক পেয়ে আসছে।
এই শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় ব্যবহার করা হয় প্রাকৃতিক ও নবায়নকৃত কাঁচামাল। বছরে ৩ হাজার টন কটন মিলের তুলার বর্জ্য থেকে তৈরি হয় সুতা। তা ছাড়া ১ হাজার ২০০ টন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির বর্জ্য ঝুট কাপড় এবং সাড়ে ৪ হাজার টন পাটের আঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে এই কারখানায়। বর্জ্য নবায়ন করে পণ্য প্রস্তুত করার ফলে দূষণের হার কমে গেছে।
কারখানার স্থাপত্য নকশায় এমন বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে, যাতে কারখানার ভেতরে বাতাস প্রবাহিত হয়। নিচতলায় লবিতে পুকুরের মতো বড় বড় চারটি জলাধার। ১৫ হাজার বর্গফুট ব্যাসার্ধের এ জলাধারগুলো একসঙ্গে ধারণ করতে পারে ৫ লাখ লিটার পানি। আয়রনমুক্ত এই পানি কারখানায় শতরঞ্জি ডাইংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়ে এই জলাধারে আসে।
সবুজ গাছপালা আর এই পানির ওপর দিয়ে উড়ে আসা বাতাস ৩৭ ফুট ব্যাসার্ধের চারটি চক্রাকার শূন্য স্তম্ভের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে কারখানার ভেতরে। তারপর বিভিন্ন তলায় উঠে যায়। ফলে এসি বা ফ্যান ছাড়াই কারখানার বাইরের চেয়ে ভেতরের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তামমাত্রা মাপার জন্য প্রতি তলায় রয়েছে ব্যারোমিটার।
ভিজ্যুয়াল আর্ট নিয়ে শিল্পী সাইদুল জুইস গ্রামীণ বাংলার ছাপ ফুটিয়ে তুলতে কাজ করেছেন।
সেবা বিভাগের একতলা ভবনের ছাদে সবুজের বাগান। এটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নন্দিনী পার্ক’। ছাদের মধ্যে গাছের ফাঁকে ফাঁকে বসার জন্য ছোট ছোট অনেক বেঞ্চ। পানির ফোয়ারা আছে। আছে পদ্মফুল। এখানেই দুপুরের খাবার খান শ্রমিকেরা।
সত্যিই অসাধারণ স্থাপত্য শৈলী। যা আমাদের নিজের দেশেই গড়ে উঠেছে।
মজার ব্যাপার হল এই যে ছবিগুলো ব্যবহার করছি আমি এর প্রতিটি ছবি নিখুঁত ভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন একজন ফটোগ্রাফার।যিনি একবারের জন্যও হলেও ভাবাতে বাধ্য করেছেন এগুলো হয়তো বাইরের দেশের কোন ছবি।আর এই সুন্দর কাজটি করেছেন ফটোগ্রাফার রাফিউল ইসলাম জিয়ন।
আশা করি সবাই নিজের দেশের সবুজে ঘেরা কৃত্রিম উপায়ে তৈরী কারখানার বিশদ শুনে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করবেন।
যারা রংপুরবাসী তারা চাইলেই দেখে আসতে পারেন।আর আমরা যারা দূরে থাকি তারাও চাইলেই একদিন সময় করে যেতেই পারি চক্ষুকে সবুজ শান্তি দিতে।
লেখাঃ Snigdha Popy
(সংগৃহীত এবং কিছুটা পরিবর্তিত)
ছবিঃ রাফিউল ইসলাম জিয়ন