23/09/2026
ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.): প্রজ্ঞা ও বৈরাগ্যের অনির্বাণ দীপশিখা
হিজরি ২১ সনে (৬৪২ খ্রি.) নবীনগরী মদিনা মুনাওয়ারার পুণ্য আঙিনায় এক শুভক্ষণে ভূমিষ্ঠ হন হাসান। পিতা ইয়াসার ছিলেন মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাস, আর জননী খাইরা ছিলেন উম্মুল মুমিনীন হজরত উম্মে সালামা (রা.)-এর সেবিকা। জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নবুয়তের সুবাসিত আবহে লালিত হন। কথিত আছে, মাতা খাইরা কাজে ব্যাপৃত থাকলে শিশু হাসানের ক্রন্দন থামাতে উম্মে সালামা (রা.) তাঁকে বুকে তুলে নিতেন। তাঁর জন্য তিনি প্রজ্ঞা ও সুবুদ্ধির দোয়াও করেছিলেন। কালের প্রবাহে সেই দোয়াই যেন বাণীর নির্ঝর হয়ে তাঁর কণ্ঠে উৎসারিত হয়েছিল।
কৈশোরে তিনি ওয়াদিউল-কুরায় অবস্থান করেন এবং সেখানে বহু সাহাবির সান্নিধ্যে জ্ঞানের অমৃত পান করেন। পরে বসরা নগরীতে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। সেই নগরীই তাঁর সাধনার তপোভূমি ও প্রজ্ঞার পীঠস্থানে পরিণত হয়। তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবি ভাষাসাহিত্যে তিনি অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তাঁর বাগ্মিতা ছিল এমনই মর্মভেদী যে শ্রোতার হৃদয়ের পাষাণ গলে অশ্রুধারা বইত।
পার্থিব বিভবকে তিনি মরীচিকাসদৃশ জ্ঞান করতেন। তাঁর উপদেশের মর্মকথা ছিল, এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী পান্থশালা মাত্র, এখানে অন্তরকে বাঁধা মূর্খতা। আখিরাতের ভাবনায় তাঁর হৃদয় সর্বদা বিগলিত থাকত। লোকে বলে, তাঁকে দেখলে মনে হতো যেন কোনো শোকার্ত পথিক, যার প্রিয়জন এইমাত্র বিদায় নিয়েছে। অথচ সেই বিষণ্ণতাই ছিল তাঁর আত্মিক ঐশ্বর্য।
জালেম শাসকের সম্মুখেও তিনি সত্যবচনে অকুণ্ঠ ছিলেন। তবে ফিতনার উত্তাল তরঙ্গে উম্মাহর ঐক্য যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়, সে বিষয়ে ছিলেন প্রজ্ঞাবান ও সংযত। তাঁর শিক্ষাঙ্গন থেকে অগণিত শিষ্য দীক্ষা নিয়ে ইলম ও তাযকিয়ার আলো দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসলামী তাসাউফের ইতিহাসে তাঁকে আদি স্তম্ভগুলোর অন্যতম গণ্য করা হয়।
হিজরি ১১০ সনের রজব মাসে (৭২৮ খ্রি.) আটাশি বছর বয়সে এই সাধকশ্রেষ্ঠ পরপারে পাড়ি জমান। বসরাবাসী শোকবিহ্বল হয়ে তাঁর জানাজায় ভেঙে পড়েছিল। বর্ণিত আছে, সেদিন জনতার ঢল এতটাই বিপুল ছিল যে আসরের নামাজে জামে মসজিদ ছিল জনশূন্য, যা বসরার ইতিহাসে বিরল দৃশ্য।
বাহ্যিক দেহ মাটির বুকে বিলীন হলেও হাসান আল-বাসরীর বাণী ও বৈরাগ্য যুগের পর যুগ ধরে সত্যান্বেষীদের হৃদয়াকাশে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করছে।
এ আধ্যান্তিক ও জ্ঞানতাপস ইমাম কে জানতে লাইব্রেরির পেইজে ইনবক্স করুন।ইমাম হাসান আল-বাসরী (রহ.): প্রজ্ঞা ও বৈরাগ্যের অনির্বাণ দীপশিখা
হিজরি ২১ সনে (৬৪২ খ্রি.) নবীনগরী মদিনা মুনাওয়ারার পুণ্য আঙিনায় এক শুভক্ষণে ভূমিষ্ঠ হন হাসান। পিতা ইয়াসার ছিলেন মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাস, আর জননী খাইরা ছিলেন উম্মুল মুমিনীন হজরত উম্মে সালামা (রা.)-এর সেবিকা। জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নবুয়তের সুবাসিত আবহে লালিত হন। কথিত আছে, মাতা খাইরা কাজে ব্যাপৃত থাকলে শিশু হাসানের ক্রন্দন থামাতে উম্মে সালামা (রা.) তাঁকে বুকে তুলে নিতেন। তাঁর জন্য তিনি প্রজ্ঞা ও সুবুদ্ধির দোয়াও করেছিলেন। কালের প্রবাহে সেই দোয়াই যেন বাণীর নির্ঝর হয়ে তাঁর কণ্ঠে উৎসারিত হয়েছিল।
কৈশোরে তিনি ওয়াদিউল-কুরায় অবস্থান করেন এবং সেখানে বহু সাহাবির সান্নিধ্যে জ্ঞানের অমৃত পান করেন। পরে বসরা নগরীতে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। সেই নগরীই তাঁর সাধনার তপোভূমি ও প্রজ্ঞার পীঠস্থানে পরিণত হয়। তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবি ভাষাসাহিত্যে তিনি অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তাঁর বাগ্মিতা ছিল এমনই মর্মভেদী যে শ্রোতার হৃদয়ের পাষাণ গলে অশ্রুধারা বইত।
পার্থিব বিভবকে তিনি মরীচিকাসদৃশ জ্ঞান করতেন। তাঁর উপদেশের মর্মকথা ছিল, এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী পান্থশালা মাত্র, এখানে অন্তরকে বাঁধা মূর্খতা। আখিরাতের ভাবনায় তাঁর হৃদয় সর্বদা বিগলিত থাকত। লোকে বলে, তাঁকে দেখলে মনে হতো যেন কোনো শোকার্ত পথিক, যার প্রিয়জন এইমাত্র বিদায় নিয়েছে। অথচ সেই বিষণ্ণতাই ছিল তাঁর আত্মিক ঐশ্বর্য।
জালেম শাসকের সম্মুখেও তিনি সত্যবচনে অকুণ্ঠ ছিলেন। তবে ফিতনার উত্তাল তরঙ্গে উম্মাহর ঐক্য যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়, সে বিষয়ে ছিলেন প্রজ্ঞাবান ও সংযত। তাঁর শিক্ষাঙ্গন থেকে অগণিত শিষ্য দীক্ষা নিয়ে ইলম ও তাযকিয়ার আলো দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসলামী তাসাউফের ইতিহাসে তাঁকে আদি স্তম্ভগুলোর অন্যতম গণ্য করা হয়।
হিজরি ১১০ সনের রজব মাসে (৭২৮ খ্রি.) আটাশি বছর বয়সে এই সাধকশ্রেষ্ঠ পরপারে পাড়ি জমান। বসরাবাসী শোকবিহ্বল হয়ে তাঁর জানাজায় ভেঙে পড়েছিল। বর্ণিত আছে, সেদিন জনতার ঢল এতটাই বিপুল ছিল যে আসরের নামাজে জামে মসজিদ ছিল জনশূন্য, যা বসরার ইতিহাসে বিরল দৃশ্য।
বাহ্যিক দেহ মাটির বুকে বিলীন হলেও হাসান আল-বাসরীর বাণী ও বৈরাগ্য যুগের পর যুগ ধরে সত্যান্বেষীদের হৃদয়াকাশে ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করছে।
এ আধ্যান্তিক ও জ্ঞানতাপস ইমাম কে জানতে লাইব্রেরির পেইজে ইনবক্স করুন।