05/08/2026
জাতির ইতিহাসে আত্মত্যাগের ঘটনাগুলো শুধু স্মরণ করার জন্যই নয়, বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এই অনুপ্রেরণাকে বুকে ধারণ করে আজ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে বরিশালে স্থাপিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বোর্ডের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা পর্বে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত সচিব, কলেজ পরিদর্শক এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
অনুষ্ঠানে প্রধান ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচার, গুম-খুন ও অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "শহীদদের এই রক্তদান আমাদের জন্য কেবল একটি দিবস নয়, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী চেতনা।" শিক্ষা বোর্ডকে একটি বিশাল সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে সেবা নিতে আসা লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক যদি কোনোভাবে বঞ্চিত বা হয়রানির শিকার হন, তবে জুলাইয়ের এই মহান আত্মত্যাগ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হবে। তাই সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতার সাথে মানুষের সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে চেয়ারম্যান মহোদয় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশনের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে শিক্ষিত সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সততার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা পর্ব শেষে এক আবেগঘন পরিবেশে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এই দোয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে সকল বীর সন্তান দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, সেই সকল শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করা হয়। একইসাথে, এই আন্দোলনে যারা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, পরম করুণাময়ের কাছে তাদের দ্রুত আরোগ্য, পরিপূর্ণ সুস্থতা এবং একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ প্রার্থনা করা হয়। সর্বোপরি, শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।