অামাদের মনপুরাঃ- প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরার অপার শোভা আমরা দেখেছি যা আমাদেরকে তার মত সুন্দর হতে অনুপ্রেরণা যোগায়। মনপুরার আতিথীয়তা আমাদের মহৎ হতে অনুপ্রেরণা যোগায়। মনপুরার ভ্রাতৃত্ববোধ আমাদের অপরকে ভালোবাসতে শেখায়। সর্বপরি মনপুরা আমাদের মানুষ হতে শেখায়।
=======★========★========★========
ভোলা: বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রূপালী দ্বীপ মনপুরা। চত
ুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ শ্যামল ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা। মনপুরা উপজেলা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের কাছে যেমন আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা তেমনি বিদেশিদের কাছেও। যেসব জেলার বা বিভাগের লোকজন মনপুরা ভ্রমণে বা কাজের জন্য এসেছেন বা অবস্থান করেছেন এখানকার মানুষকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এবং ভালবেসেছেন এখানে না আসলে বোঝাই যাবে না সবুজের দ্বীপ মনপুরায় কি সৌন্দর্য লুকায়িত আছে।
পর্যটনের কি অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে পুরানো এ দ্বীপে। পর্যটক আর ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেয়ার বহু উপকরণ রয়েছে এ দ্বীপে। এখানে সকাল বেলার সূর্য যেমন হাসতে হাসতে পূর্বদিকে উদিত হতে দেখা যায়, তেমনি বিকাল বেলাও লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে মুখ লুকায়। মনপুরাতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করা যায়।..
দ্বীপের নাম:- মনপুরা।
বিভাগ:- বরিশাল।
জেলা:- ভোলা।
↓
অায়তন:- ৩৭৩.১৯ বর্গকিমি।
↓
স্থানাঙ:- ২২°১৭′৫৫″উত্তর
৯০°৫৮′৪৫″পূর্ব /
২২.২৯৮৬° উত্তর
৯০.৯৭৯২° পূর্ব।
↓
প্রশাসনিক এলাকা:- মনপুরাতে ৪ টি ইউনিয়ন, ২২ টি মৌজা ও ৩৩ টি গ্রাম আছে।
↓
ইউনিয়ন সমূহ - মনপুরা , হাজিরহাট , উত্তর সাকুচিয়া এবং দক্ষিণ সাকুচিয়া।
↓
অবস্থান:- এই উপজেলার উত্তরে মেঘনা নদী ; পূর্বে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা ; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে তজমুদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলা ।
↓
সংক্ষিপ্ত:- মনপুরা দ্বীপের রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ৬০০ বছর পূর্বে পর্তুগীজ দস্যুরা এই দ্বীপে আশ্রয় নিত।
ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে মেঘনার মোহনায় তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ'র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। এ দ্বীপে পর্তুগীজদের আস্তানা ছিল। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় কেশওয়ালা কুকুর। মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির সারি সারি বাগান। মনপুরায় ছোট-বড় ৮-১০টি চর ও বন বিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ বিপ্লব। শীত মৌসুমে শত শত পাখির কল-কাকলিতে মুখরিত থাকে এসব চরাঞ্চল।
পর্তুগীজদের প্রস্থানের পর ভোলা, লক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী থেকে মানুষজন এই দ্বীপে এসে বাস করতে শুরু করে।
বাংলাদেশের দক্ষিনে অবস্থিত এই দ্বীপটির আয়তন ৩৭৩.১৯ কিলোমিটার এবং বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যতে ভরপুর এই দ্বীপটির অবস্থান একটু দুর্গম হলেও আপনি যদি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভিন্ন রূপ দেখতে
এবং তাঁর স্বাদ নিতে চান তবে এই দ্বীপে বেড়াতে আসতে পারেন।
↓
যে ভাবে ঢাকা থেকে মনপুরা যাবেন:- আপনি ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে সরাসরি মনপুরায় যেতে
পারেন। সদরঘাট থেকে বিকাল ৪.৪৫ (টিপু ৫ / পানামা) মিনিট ও বিকাল ৫.৩০ (ফারহান ৩ / ফারহান ৪) মিনিটে এই দুটি লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং পরদিন সকাল ৭ টায় মনপুরায় পৌঁছে।
↓
চলাচল:-
১। মোটর সাইকেল অথবা স্থানীয়ভাবে “টুকটুক” নামে পরিচিত ইজিবাইকে চড়ে আপনি পুরো দ্বীপটি ঘুরে দেখতে পারেন।
২। আপনি বনে এবং নদীর পাড়ে ঘুরতে পারেন, নৌকা ভ্রমন করতে পারেন এবং নদীতে মাছ ধরতে পারেন।
৩। ছবি তুলতে পারেন।
↓
ইতিহাস:-
প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা হচ্ছে ভোলা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বে সাগরের বুকে নয়নাভিরাম আরেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। মনগাজী নামে এখানকার এক লোক একদা বাঘের আক্রমনে নিহত হন। তার নামানুসারে মনপুরা নাম করন করা হয়। ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে অত্র উপজেলাপট গঠিত হলেও বর্তমানে নবগঠিত ৪নং দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন গঠিত হওয়ায় বর্তমানে ইউনিয়ন সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪টি। ১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলা জেলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ১৯৮৩ সালে মনপুরাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। এভাবে এগিয়ে যায় আজকের মনপুরা। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই মনপুরার প্রধান সমস্যা। মন চাইলে যে কেউ মনপুরা আসতে বা যেতে পারবে না। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে রুটিনমাফিক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে খ্যাত এ উপজেলায় রয়েছে প্রাকৃতির অপরুপ রুপ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ উপজেলায় চিন্তানিবাস করার ইচ্ছা পোষন করেছিলেন। প্রতি বছর শীতে শত শত পর্যটক ভীর করে এ উপজেলার নয়নাবিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এ উপজেলা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে ট্রলার যোগে নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। উপজেলা সদরে আবাসিক হোটেল ছাড়াও এখানে রয়েছে জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাকবাংলো, কারিতাস ডাক বাংলো প্রভৃতি।