Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ

Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ প্রাণের শহর বগুড়া,
জীবন বৈচিত্র, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি Community

21/05/2026

রাগ করলা ?

বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় কি হবে...
👇

19/05/2026

বগুড়ায় কি কি সংস্কার দরকার
👇
কমেন্ট করুন

অ‌ভিনন্দন ,বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ১ম প্রশাসক হলেন জনাব , এম আর ইসলাম স্বাধীন , সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপিপ্রজ্ঞাপন জারি;   ...
19/05/2026

অ‌ভিনন্দন ,
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ১ম প্রশাসক হলেন জনাব , এম আর ইসলাম স্বাধীন , সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপি
প্রজ্ঞাপন জারি;
M. R. Islam Shadhin

২০২৬ সালে বগুড়ার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই বছরই বগুড়া দেশে...
19/05/2026

২০২৬ সালে বগুড়ার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও স্মরণীয় অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই বছরই বগুড়া দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে।
২০২৬ সালে এসে বগুড়ার বর্তমান চিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বড় পরিবর্তনগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দেশের নতুন মহানগরী (বগুড়া সিটি করপোরেশন)
সিটি করপোরেশনের মর্যাদা: ২০২৬ সালের মে মাসে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে "বগুড়া সিটি করপোরেশন" গঠন করা হয়েছে।
সীমানা ও ওয়ার্ড: বর্তমান পৌর এলাকা ছাড়াও বগুড়া সদর এবং শাজাহানপুর উপজেলার বেশ কিছু বর্ধিত এলাকা (যেমন: লতিফপুর, চকফরিদ, বনানী, নিশিন্দারা, ঠনঠনিয়া, ফুলদিঘী, বেতগাড়ী ইত্যাদি) মিলিয়ে মোট ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে এই নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত হয়েছে। আয়তনের দিক থেকে এটি রাজশাহী, খুলনা বা সিলেট সিটি করপোরেশনের চেয়েও বড়।
প্রশাসনিক সূচনা: মে মাসেই নবগঠিত এই সিটির প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে এম আর ইসলাম স্বাধীন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই সিটি করপোরেশন হিসেবে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে।

২. মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নতুন প্রতিষ্ঠান
পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর ২০২৬ সালে এসে বগুড়াকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বড় প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:
বউক (বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ): রাজধানী বা চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে 'বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ' (বউক) গঠনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া ওয়াসা (WASA): ক্রমবর্ধমান শহরের নাগরিকদের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য আলাদা 'ওয়াসা' গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অগ্রাধিকার: এই মুহূর্তে শহরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

৩. নতুন উপজেলার স্বীকৃতি (মোকামতলা)
২০২৬ সালের মে মাসেই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে বগুড়া জেলার জন্য আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত আসে। জেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র 'মোকামতলা'-কে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৪. আধুনিকায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য
"উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার" হিসেবে পরিচিত এই শহরটি ২০২৬ সালে এসে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিক হাব-এ পরিণত হচ্ছে। এখানকার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ, কৃষি যন্ত্রাংশের বাজার এবং ই-কমার্স সেক্টর আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল।
এককথায়, ২০২৬ সালটি বগুড়াবাসীর জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা। অবহেলা ও বঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়া এখন একটি সুপরিকল্পিত, আধুনিক এবং বাসযোগ্য মেগাসিটি বা মহানগরী হিসেবে গড়ে ওঠার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ

সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত কিছু এলাকার নতুন গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। দেখে নিন তালিকায় কোন কোন নামগুলো আসছে। #সিটি_কর্পোরেশন...
15/05/2026

সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত কিছু এলাকার নতুন গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। দেখে নিন তালিকায় কোন কোন নামগুলো আসছে।
#সিটি_কর্পোরেশন #নতুন_গেজেট #ব্রেকিং_নিউজ #এলাকা_নির্ধারণ #সরকারি_গেজেট #নতুন_তালিকা
#বগুড়া #বগুড়া_সিটি_কর্পোরেশন

ইতিহাস কি তবে আমাদের ভুল শেখাচ্ছে? বাংলাদেশের আজকের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান? ব্রিটিশ ২০০ বছর শাসন আমলে পূর্ব বা...
15/05/2026

ইতিহাস কি তবে আমাদের ভুল শেখাচ্ছে? বাংলাদেশের আজকের অবকাঠামো কি পাকিস্তান আমলেরই দান? ব্রিটিশ ২০০ বছর শাসন আমলে পূর্ব বাংলায় মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল "ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়। সেটিরও বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কলকাতার প্রভাবশালী মহল। ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছরে পূর্ব বাংলায় কোনো উন্নয়ন করেনি। যদি কিছু করার উদ্যোগও নেওয়া হতো, সেগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াত কলকাতার দাদা-বাবুরা। কলকাতাকে তারা ভারতের রাজধানী বানিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের শেখানো হয় যে পাকিস্তান ২৪ বছর আমাদের শোষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন গুলো পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে মোট ৫ টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে।
◾রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৩)
◾চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৬)
◾জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭০)
◾জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮)
◾পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ কৃষি বিঃ) (১৯৬১)
▶ পাকিস্তান আমলে মোট ৪ টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। ◾বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৬২ সাল
◾রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সাল ◾চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সাল ◾খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৯ সাল উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মোট ৫ টা, যার মধ্যে ৪ টাই পাকিস্তান আমলের। আর পরবর্তী ৫০ বছরে হয়েছে ১ টা। ▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার মোট ৮৭ টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করে৷ যার মধ্যে রয়েছে
◾নটর ডেম কলেজ, ঢাকা (১৯৪৯)
◾সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (১৯৪৯)
◾বাঙলা কলেজ (১৯৬২)
◾ভিকারুননিসা নুন স্কুল ও কলেজ উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা শহরে মোট ৩৯ টি কলেজ আছে, যার ভেতর ৮ টি তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে, ২১ তৈরি হয়েছে পাকিস্তান আমলে, আর মাত্র ১০ টি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে।
▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৮ টা সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (১৯৫৭)
◾রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (১৯৫৮)
◾ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ (১৯৬২)
◾স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬৩)
◾স্নাতকোত্তর চিকিৎসা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বর্তমান নামঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) (১৯৬৬)
◾শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (১৯৬৮)
◾রংপুর মেডিকেল কলেজ (১৯৭০) উল্লেখ্য ইংরেজ শাসন আমলের ২০০ বছরে মোট ১টি মেডিকেল তৈরি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান আমলে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।
▶পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ১৭ টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯টি সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট রয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তান সরকার ২৪ বছরে করেছে ১৭ টি। আর বাংলাদেশ সরকার ৫০ বছরে করেছে ৩২টি৷
▶ পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান সরকার ৪ টি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠা করে।
◾ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(১৯৫৮)
◾মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ(১৯৬৩)
◾ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ( ১৯৬৩)
◾রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ (১৯৬৫) উল্লেখ্য বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ আছে ১২ টা এর ভেতর ৪ টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে।
▶ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী, নৌ অফিসার, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার জন্য ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনী কর্তিক এই একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর নাম "বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (BMA)"
▶ এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে....
◾ইস্ট পাকিস্তান টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট’ (১৯৫০) যার বর্তমান নাম "বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)"।
◾ চট্টগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৬২ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
◾এরকম আরো অনেক বিশেষায়িত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে। এছাড়া দেশ ব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাই স্কুল। ★অনেকেই অভিযোগ করেন পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে পুর্ব পাকিস্তান পিছিয়ে ছিলো, কারন পূর্ব পাকিস্তানে কম উন্নয়ন করা হয়েছে। লক্ষ করুন, ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল মাত্র ১ টা, বিপরিতে পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১৮ টা। অর্থাৎ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টির আগ থেকেই আমরা উচ্চ শিক্ষার দিক দিয়ে পাকিস্তানের চেয়ে ১৮ গুন পিছিয়ে ছিলাম আমরা!

- তথ্য ইন্টারনেট

১৯৯৮ সাল। বগুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে এরুলিয়া। ৪৫০০ ফুটের একটা রানওয়ে, চারপাশে ধানক্ষেত। টার্মিনাল বলতে টিনের চা...
15/05/2026

১৯৯৮ সাল। বগুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে এরুলিয়া। ৪৫০০ ফুটের একটা রানওয়ে, চারপাশে ধানক্ষেত। টার্মিনাল বলতে টিনের চাল। রাত নামলে শেয়াল ডাকে। সার্চলাইট নেই, তাই সন্ধ্যার পর এখানে শুধু অন্ধকার নামে। সেনাবাহিনীর দুই সিটার প্লেন নামতো মাসে একবার। পাইলটরা বলতো, “এটা বিমানবন্দর না, গরুর মাঠ।”

কিন্তু ২৬ বছর পর, ১২ অক্টোবর ২০২৪, রাত ৩টা ১১ মিনিটে, একই রানওয়ের মাথায় দাঁড়িয়ে আছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। পাশে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিব। সবার হাতে ড্রোনের মনিটর। মনিটরে ভেসে উঠছে নতুন মাস্টার প্ল্যান — ১০,৫০০ ফুট রানওয়ে, প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে, ক্যাট-৩ লাইটিং, আন্তর্জাতিক কার্গো টার্মিনাল, ফ্লাইং একাডেমি, বিমান বাহিনীর ফরওয়ার্ড বেস।

চেয়ারম্যান ফিসফিস করে বলেন, “এটা আর বগুড়া থাকবে না, এটা হবে নর্থের শাহজালাল।”

কেউ জানে না, এই ফিসফাসের শব্দই আগামী দিনে দিল্লি, কাঠমাণ্ডু, নেপিডোর টেবিলে কাঁপনি তুলবে। কেউ জানে না, ৩০০০ একর জমির নিচে শুধু রানওয়ে না, লুকিয়ে আছে ভূরাজনীতির নতুন রানওয়ে।

বর্তমান বগুড়া বিমানবন্দর ১০৯ একর। রানওয়ে ৪৫০০ ফুট বাই ১০০ ফুট। রাতে আলো নেই। ফায়ার স্টেশন আছে, কিন্তু পানি নেই। টার্মিনাল আছে, কিন্তু ইমিগ্রেশন নেই। ১৯৮৭ সালে বানানো হয়েছিল স্টল এয়ারক্রাফটের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাঞ্চলে ভিআইপি মুভমেন্ট আর সেনামহড়া। ২০২৩ সালে এসেও চিত্র একই — সপ্তাহে একটা ফ্লাইটও না।

অথচ ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বগুড়া শহর, শেরপুর, শাহজাহানপুর — ২৪ লাখ মানুষ। উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলা, আট কোটি মানুষ। আম, আলু, মরিচ, শস্য, তাঁত, মৃৎশিল্প — হাজার কোটি টাকার পণ্য। কিন্তু আকাশপথ শূন্য। ঢাকায় যেতে লাগে সাত ঘণ্টা। অ্যাম্বুলেন্সের রোগী মারা যায় যমুনা সেতুর জ্যামে।

এই বাস্তবতা বদলাতেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একনেকে গড়ে ওঠে “বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প”। বাজেট প্রাথমিক ১৮৩০ কোটি টাকা। লক্ষ্য — ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারের পর দেশের পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

কিন্তু এটা শুধু ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটের জন্য না। এটা হবে এভিয়েশন কমপ্লেক্স — যাত্রী, কার্গো, সামরিক, প্রশিক্ষণ — চার মাথার দানব।

নতুন মাস্টার প্ল্যানে লাগবে ৩০০০ একর জমি। বর্তমানে ১০৯ একরের সাথে যোগ হবে আরো ২৮৯১ একর। এর মধ্যে এরুলিয়া, নামুজা, গোকুল ইউনিয়নের ধানি জমি, ভিটেবাড়ি। জেলা প্রশাসন বলছে, ৮৪২টি পরিবার পড়বে অধিগ্রহণে।

কৃষক রফিকুলের তিন বিঘা জমি যাবে রানওয়ের সেন্টার লাইনে। তিনি বলেন, “জমি গেলে খাবো কি? কিন্তু টিভিতে দেখি দুবাইয়ের এয়ারপোর্ট। আমার নাতি যদি পাইলট হয়?”

সরকার বলছে, ক্ষতিপূরণ তিন গুণ। সাথে পুনর্বাসন প্লট। সাথে এয়ারপোর্টে চাকরির কোটা।

কিন্তু কেউ জানে না, এই ৩০০০ একর শুধু রানওয়ে না। ডিফেন্স এনালিস্টরা বলছেন, এটা ডুয়েল ইউজ — বাণিজ্যিক নামে সামরিক গভীরতা। কারণ নতুন রানওয়ে ১০,৫০০ ফুট। বোয়িং ৭৭৭, এয়ারবাস এ৩৫০, সি-১৩০জে, এমনকি এয়ারবাস এ৪০০এমও নামতে পারবে।

১০,৫০০ ফুট মানে ভারতের শিলিগুড়ি করিডর থেকে ১৮ মিনিটের ফ্লাইট টাইম। মানে নেপাল, ভুটান, সেভেন সিস্টার্সের কার্গো হাব। কেউ জানে না, এই রানওয়ের ছায়া কতদূর যাবে।

ফেজ-ওয়ান, ২০২৫ থেকে ২০২৭ — জমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট, নতুন রানওয়ে ৯০০০ ফুট বাই ১৫০ ফুট, পিসিএন-৭০, ক্যাট-৩ লাইটিং, আইএলএস। টার্মিনাল ১.২ লাখ বর্গফুট। পিক আওয়ারে ১২০০ যাত্রী।

ফেজ-টু, ২০২৮ থেকে ২০৩০ — রানওয়ে বর্ধিত হয়ে ১০,৫০০ ফুট, প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে, কার্গো টার্মিনাল ৫০,০০০ টন, কোল্ড স্টোরেজ।

ফেজ-থ্রি, ২০৩১ থেকে ২০৩৫ — দ্বিতীয় রানওয়ে, এমআরও হ্যাঙ্গার, ফ্লাইট একাডেমি, ২০টি ট্রেইনার এয়ারক্রাফট, বিমান বাহিনীর ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “ঢাকার চেয়ে আধুনিক হবে। শাহজালালের থার্ড টার্মিনালে যা আছে, এখানে তার সাথে থাকবে সামরিক স্ট্র্যাটেজি।”

কারণ বগুড়া বসে আছে চিকেন নেকের ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণে। চীন-বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটান ইকোনমিক করিডরের সেন্টারে। কেউ জানে না, এই রানওয়ে একদিন “এয়ার সিল্ক রুট” হবে কিনা।

মাস্টারপ্ল্যানের সবচেয়ে চমক — ইমিগ্রেশন আর বাণিজ্যিক সংযোগ। ঢাকা থেকে বগুড়া ৩৫ মিনিট। চট্টগ্রাম থেকে বগুড়া এক ঘণ্টা। কলকাতা থেকে বগুড়া ৪৫ মিনিট। কাঠমাণ্ডু থেকে বগুড়া ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট।

কার্গোতে উত্তরাঞ্চলের ১.২ লাখ টন সবজি, ৮০ হাজার টন আম, ৪০ হাজার টন আলু — দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপে যাবে ছয় ঘণ্টায়।

সামরিক দিকেও পরিকল্পনা বিশাল। বিমান বাহিনীর এফ-৭, মিগ, সি-১৩০, এমআই-১৭ — সব বসবে। রিফুয়েলিং, রিয়ার্মিং, দুর্যোগে লাইফলাইন।

প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ ফ্লাইট একাডেমি উইং — বছরে ২০০ পাইলট, বিদেশি ক্যাডেট।

প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, “যমুনার পূর্বে আমাদের কোনো ফাইটার বেস নেই। যুদ্ধ লাগলে ঢাকা থেকে উড়ে আসতে ১২ মিনিট লাগে। বগুড়া হলে দুই মিনিট।”

কেউ জানে না, এই দুই মিনিট একদিন সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি হবে কিনা।

বগুড়ার মাটি পলি, বালি, পানি। রানওয়ে বানাতে লাগবে সয়েল স্ট্যাবিলাইজেশন। ৪ মিটার ডিপ সিমেন্ট ট্রিটমেন্ট। তার উপর ১.২ মিটার পেভমেন্ট। পিসিএন-৭০ মানে বোয়িং ট্রিপল সেভেন নামলেও দেবে যাবে না।

পাখির ঝুঁকি আছে। পাশে করতোয়া, বার্ড স্ট্রাইক জোন। তাই বসবে এভিয়ান রাডার, লেজার, সাউন্ড ক্যানন।

টার্মিনালে বসবে ই-গেট, সিটিপিএস, বায়োমেট্রিক ইমিগ্রেশন। পরামর্শক — বুয়েট, এমআইএসটি, কোরিয়ান এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।

কেউ জানে না, ২০২৭ সালে উদ্বোধনের দিন আকাশে কি থাকবে — উদ্বোধনী ফ্লাইওভার, নাকি থান্ডারস্টর্ম।

বেবিচকের হিসাব — নির্মাণে ১২ হাজার চাকরি। অপারেশনে ৪ হাজার সরাসরি, ৪০ হাজার পরোক্ষ। উত্তরাঞ্চলের জিডিপিতে ১.২% থেকে ২% বুস্ট। ১০ বছরে ৩ বিলিয়ন ডলার ভ্যালু অ্যাড।

টুরিজম — মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, শেরপুর বিশ্ব ঐতিহ্য — এক ঘণ্টায় ঢাকা থেকে টুরিস্ট। কৃষিতে কার্গো কস্ট ৪০% কমবে। আমের কেজিতে ২০ টাকা বেশি পাবে চাষী।

কিন্তু খরচও বিশাল। ফেজ-ওয়ান ৪৯০০ কোটি। ফেজ-টু ৬৯৩০ কোটি। ফান্ডিং — জিওবি ৬০%, জাইকা ৩০%, এক্সিম ব্যাংক ১০%।

কেউ জানে না, ঋণের সুদ গুনতে গিয়ে লাভ থাকবে কিনা। আবার কেউ জানে, রানওয়ে না হলে লস আরো বেশি।

এরুলিয়ার ধানক্ষেতে পুঁতেছে লাল ফ্ল্যাগ। সার্ভে টিম লিখেছে — “RWY-09 Threshold”। ১০০ মিটার দূরে কৃষক রফিকুল দাঁড়িয়ে। হাতে দলিল, চোখে পানি। পাশে তার নাতি, ক্লাস টেনের ছেলে। মোবাইলে দেখাচ্ছে — “দাদা, এই দেখো এমিরেটসের প্লেন। এটা নামবে আমাদের এখানে।”

রফিকুল হাসে, আবার কাঁদে।

ঠিক তখনই ঢাকা সচিবালয়ে বাজে এনক্রিপ্টেড ফোন। ওপাশে বিদেশি ডিফেন্স অ্যাটাশে। গলা নামিয়ে বলে, “Excellency, we noticed your new runway length. It’s strategic. We hope it’s only a commercial.”

সচিব পাঁচ সেকেন্ড চুপ। তারপর বলেন, “আপনি কি আমাদের সংবিধান পড়েছেন? প্রতিরক্ষা আমাদের দায়িত্ব। বাণিজ্য আমাদের অধিকার। দুটোই করবো, কারো অনুমতি নিয়ে না।”

ফোন রাখেন। সামনে ফাইল। ফাইলের নাম — “Bogura FOB Fighter Deployment Roadmap”। নিচে নোট — “Phase-1 complete হলে after F-7 BGS squadron. Phase-2 তে MRCA।”

তিনি সই করেন না। ফাইলটা লকারে রাখেন। কারণ কেউ জানে না, কালকের বাংলাদেশ কি চাইবে — শুধু যাত্রী, নাকি পাহারা।

শুধু জানে, পদ্মার উত্তরে আজ একটা নতুন রানওয়ে জন্ম নিচ্ছে। এই রানওয়ের শেষ মাথায় লেখা নেই ঢাকা বা দিল্লি। লেখা আছে একটাই শব্দ — বাংলাদেশ।

আর সেই শব্দটার পাহারায় দাঁড়িয়ে আছে ৩০০০ একর জমি, ১০,৫০০ ফুট কংক্রিট, আর ১৭ কোটি মানুষের স্বপ্ন।

কেউ জানে না, এই স্বপ্ন আকাশ ছোঁবে, নাকি ভূরাজনীতির মেঘে ঢাকা পড়বে। কিন্তু রফিকুলের নাতি জানে — সে পাইলট হবে। এই রানওয়ে থেকেই উড়বে।

ভবিষ্যৎ................
- Rayhan

বগুড়া সাতমাথায় তৈরি হচ্ছে বড় একটি সুইমিং পুল 😀লে....  #বগুড়া  #সাতমাথা               Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ
08/05/2026

বগুড়া সাতমাথায় তৈরি হচ্ছে বড় একটি সুইমিং পুল 😀
লে....

#বগুড়া #সাতমাথা Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ

'বগুড়া' নয়, 'বগড়া' ; আমাদের আত্মপরিচয়ের লড়াই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই জনপদের নাম এবং পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র রুখে দিন...
20/04/2026

'বগুড়া' নয়, 'বগড়া' ; আমাদের আত্মপরিচয়ের লড়াই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই জনপদের নাম এবং পরিচয় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র রুখে দিন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার প্রতি রইল উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র ও পুণ্ড্রবর্ধনের পুণ্যভূমি বগড়াবাসীর অকুন্ঠ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ আপনি রাষ্ট্রের হাল ধরেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজ জেলা বগড়ায় প্রথম পা' রাখতে যাচ্ছেন। আপনি কেবল এই রাষ্ট্রের প্রধান নন, আপনি এই মাটিরই সন্তান। ফলে, এই জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বঞ্চনার কথা আপনার চেয়ে ভালো আর কেও অবগত নন।

আজ এই লেখার মাধ্যমে আমাদের প্রাণের জেলা ‘বগড়া’র নাম ও এর আদি পরিচিতি ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই-

★ বগড়া খানের উত্তরাধিকার ও আমাদের শেকড়-

বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসের পাতা উল্টালে আমরা দেখি সুলতান নাসিরউদ্দীন বগড়া খানের নাম। দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবনের সুযোগ্য পুত্র নাসিরউদ্দীন বগড়া খান ১২৮১ থেকে ১২৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই অঞ্চল শাসন করেছিলেন। 'বলবন' তাঁকে দিল্লির সিংহাসন গ্রহণের প্রস্তাব দিলেও, বাংলায় এসে তিনি এ অঞ্চলের প্রেমে পড়ে যান। তিনি শান্তিতে থাকতে পছন্দ করতেন, তাই- দিল্লির সুলতান হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে, আমৃত্যু এই অঞ্চলের শাসক হিসেবে জনসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর শাসনকাল ছিল শান্তি, স্থিতি ও সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামোর এক অনন্য উদাহরণ। তাঁরই নামানুসারে ফার্সি উচ্চারণ অনুযায়ী এই জনপদটি পরিচিত হয়েছিল 'বগড়া' (Bogra) নামে। এটি কেবল একটি নাম নয়, বরং এই জনপদের মানুষের আত্মপরিচয় ও মুসলিম ঐতিহ্যের এক সুদীর্ঘ দলিল।

★ ‘বগড়া’ থেকে ‘বগুড়া’: ভাষাগত না কি সাংস্কৃতিক ষড়যন্ত্র?

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সময়ের আবর্তে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সুলতান বগড়া খানের ঐতিহাসিক অবদান ও তাঁর মুসলিম পরিচয়কে জনমানস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলের শুরুর দিক পর্যন্ত সরকারি নথিপত্রে এই জেলার ইংরেজি বানান 'Bogra' এবং বাংলায় উচ্চারণ 'বগড়া' ছিলো। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং হিন্দুস্তানী সংস্কৃতায়নের অভিলাষে ‘বগড়া’ শব্দটিকে কিছুটা কোমল করার অজুহাতে এ জেলার নাম বাংলা লেখায় ‘বগুড়া’ হিসেবে প্রচলন করা হয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, এটি ছিল সুলতান বগড়া খানের প্রাপ্য স্বীকৃতি আড়াল করার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র।

★ 'Bogra' বনাম 'Bogura': রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ-

ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে এবং সরকারি দলিলে আমাদের এই জেলার ইংরেজি বানান ছিলো 'Bogra'। কিন্তু ২০১৮ সালে বিগত আওয়ামীলীগ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্রশাসনিকভাবে এই বানান পরিবর্তন করে 'Bogura' করে দেয়।

এর নেপথ্যে কাজ করেছে কুৎসিত রাজনৈতিক রেষারেষি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রশাসনের অতি দলীয়করণ এবং ফ্যাসিজমের সমালোচনা করে প্রতীকী হিসেবে গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন, তখন তাঁর সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৎকালীন সরকার বগুড়াকে হেয় করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান এবং আপনার রাজনৈতিক দুর্গ হওয়ার কারণে 'Bogra' বানানটি মুছে দেওয়ার মাধ্যমে মূলত একটি জেলার ঐতিহ্যের ওপর রাজনৈতিক কুঠারাঘাত করা হয়েছে।

এই হঠকারী পরিবর্তনের ফলে কেবল স্থানীয় মানুষের আবেগই আহত হয়নি, বরং সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতি সংকট। 'Bogra' বানানটি একটি ব্র্যান্ডিং হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ছিলো। হঠাৎ 'Bogura' করায় শিক্ষা সনদ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নথিপত্রে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা বগুড়াবাসীর জন্য চরম অসম্মানজনক।

★★★ আমাদের দাবিঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বগুড়াবাসীর দাবি আজ স্পষ্ট। আমরা ইতিহাসের বিকৃতি রোধ করে সুলতান বগড়া খানের সেই হারানো শৌর্য এবং আমাদের জেলার নামের প্রকৃত রূপ ফিরে পেতে চাই।

১. প্রশাসনিক ও দাপ্তরিকভাবে 'বগুড়া'র পরিবর্তে সুলতান বগড়া খানের নামানুসারে 'বগড়া' নামটির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন।

২. জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ইংরেজি বানান 'Bogura' বাতিল করে ঐতিহ্যবাহী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বানান 'Bogra' ফিরিয়ে দিন।

৩. ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে সুলতান নাসিরউদ্দীন বগড়া খানের অবদান সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৪. অনতিবিলম্বে সুলতান বগড়া খানের প্রকৃত সমাধিস্থল দাপ্তরিকভাবে চিহ্নিত করে সেখানে একটি রাজকীয় স্থাপত্যশৈলীর মাজার বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি, ​এটিকে একটি হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষণ করা হোক।

৫. জেলার প্রবেশদ্বারগুলোতে সুলতান বগড়া খানের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও অবদান সংবলিত স্মারক ফলক স্থাপন করা হোক, যাতে আগামী প্রজন্ম তাদের শেকড় সম্পর্কে জানতে পারে।

৬. বাংলা ও ইংরেজি বানানের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী 'বগড়া' নামের যে বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, এর পুনরাবৃত্তি যেনো না ঘটে, এজন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ইতিহাস পর্যালোচনা করে 'বগড়া' জেলার এই নামকরণের ঐতিহাসিক সত্যকে দাপ্তরিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হোক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বগড়াবাসীর হারানো শৌর্য এবং সুলতান বগড়া খানের স্মৃতিকে প্রশাসনিক ফাইলে বন্দি না রেখে রাজপথে ও দলিলে স্বনামে ফিরিয়ে আনা হোক।
শেকড় বিচ্ছিন্ন জাতি যেমন টিকে থাকতে পারে না, তেমনি ইতিহাসের বিকৃতি নিয়ে একটি জনপদ এগিয়ে যেতে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার হাত ধরেই এই ষড়যন্ত্রের কালো মেঘ দূর হবে এবং বগড়া জেলা তার প্রকৃত নামের গাম্ভীর্য, স্বকীয়তা এবং ঐতিহাসিক গৌরব ফিরে পাবে।
-

বিনীত নিবেদক,
সচেতন বগুড়াবাসীর পক্ষে,
তারেক হাসান শেখ।
১৯/০৪/২০২৬-রবিবার, বিকেল সাড়ে ৫টা।

credited by Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ

Address

Bogura
5800

Telephone

+8801919365354

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bogra - বগুড়া, বাংলাদেশ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share