03/09/2026
উম্মুল মুমিনিন উম্মু সালামার রা. গল্প
উম্মুল মুমিনিন Umm Salama (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর গল্প। তাঁকে যত জানছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ।
আম্মিজান উম্মু সালামা ছিলেন তাঁর সময়ে বংশ, মর্যাদা, জ্ঞানে, পান্ডিত্যে সবকিছু মিলিয়ে বিশিষ্ট একজন নারী। তিনি লিখতে পারতেন। প্রথম দিকেই মুসলিম হওয়া এবং প্রথম হিজরতকারীদের মধ্যে তিনি, তাঁর স্বামী আবু সালামা (সালামা তাঁদের সন্তানের নাম) ছিলেন। রাদিআল্লাহু আনহু।
আবু সালামা বিখ্যাত এক সাহাবী যিনি বদর, উহুদ যুদ্ধে ছিলেন এবং বনু আসাদের অভিযানে তিনি প্রধান ছিলেন। উহুদে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। পরবর্তীতে এই জখমের জন্যই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর আগে দুটি দুয়া করেন,
১. হে আল্লাহ, আমার পর আমার পরিবারে আপনি উত্তম অভিভাবক দান করুন।
২. হে আল্লাহ, আমার পর উম্মু সালামাকে আমার চেয়েও উত্তম স্বামী দান করুন। যে তাকে কোনো রকমের দুঃখকষ্ট দেবে না।
একবার সুন্দর একটা দুয়া পেয়েছিলাম কোথাও। অর্থটাও খুবই সুন্দর।
আল্লাহুম্মা'জুরনি ফি মুসিবাতি ওয়াখলুফ লি খাইরন মিনহা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার এ বিপদে আমাকে প্রতিদান দিন এবং আমাকে এর চেয়ে উত্তম বিনিময় প্রদান করুন।
কত সুন্দর দুয়া তাই না? এখন জানলাম এটি ছিল আম্মিজান উম্মু সালামার দুয়া। যা তিনি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর পড়েছিলেন।
উম্মু সালামা ভাবতেন আবু সালামার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? তাঁদের ছিল ৪ সন্তান। স্বামী মারা যাওয়ার পর উম্মু সালামার ইদ্দত শেষ হলে ঈর্ষণীয় সাহাবি (যাদের কথা ভাবলেই চোখে পানি চলে আসে) আবু বকর, উমর রাদিআল্লাহু আনহুম আম্মিজান উম্মু সালামাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি নাকচ করেন। পরবর্তীতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সুবহানাল্লাহ!
তাঁর স্বামী; স্ত্রীর জন্য কত বরকতময় দুয়া করেছিলেন তাই না!
উম্মু সালামা কী বললেন? তিনি এমন প্রস্তাব পেয়ে খুশিতে বিয়েতে রাজি হয়ে যান নি প্রথমেই। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসুল, আমার আত্মমর্যাদাবোধ প্রখর আর রাগও বেশি। ভয় হয়, আমি হয়তো কোনো গোস্তাখি করে ফেলব। সন্তানাদিও আমার অনেক। তাছাড়া আমার বয়সও হয়েছে।
আল্লাহর রাসুল, প্রিয় নবীজি স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিত্তোরে বললেন, আমি তোমার আত্মমর্যাদার, রাগের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করব। তোমার বয়স বেশি তো কী হয়েছে? আমার নিজেরও তোমার চেয়ে বয়স বেশি। তোমার সন্তানদের জন্যই মূলত আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে আমি তাদের দায়িত্ব নিতে পারি।
বিভিন্ন সিরাত পড়ার মজা এখানেই। একেক সিরাত থেকে একেক তথ্য পাওয়া যায়। আবার সিরাত থেকে অনেক কিছু যেমন শেখা যায়, তেমনি মাঝেমধ্যে মনও ভালো হয়ে যায়।
একবার জেনেছিলাম— প্রিয় নবী মুহাম্মদ স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন তাঁর সকল স্ত্রীর খোঁজখবর নিতেন। এমনকি নিজের বিয়ের দিনেও নতুন স্ত্রীকে রেখে তিনি অন্যদের কাছেও গিয়েছিলেন।
এটা জেনে অবাক হয়েছিলাম। আমাদের সমাজে দ্বিতীয় বিয়ের পর অনেক পুরুষের আচরণের সাথে এই আদর্শের পার্থক্যটা চোখে ধরা পড়েছিল।
পরে অন্য সিরাত থেকে জানলাম— তিনি আসরের পর প্রতিদিন সবার ঘরে যেতেন, খোঁজখবর নিতেন। সর্বপ্রথম যেতেন উম্মু সালামা (রা:)-এর ঘরে, কারণ তিনি বয়সে বড় ছিলেন। আর সর্বশেষ যেতেন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে, যিনি ছিলেন সবার ছোট।
যারা একাধিক বিয়ের কথা ভাবে, তাদের জন্য এসব ঘটনাতেই রয়েছে অনেক বড় শিক্ষা। বারবার প্রিয় নবীর এই সুন্দর গুণগুলো ভেবে মুগ্ধ হই। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ভরে পড়ার চেষ্টা করি প্রিয় দুরুদ- স্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
_________
|| উম্মু সালামার (রাদি.) গল্প ||
সিরাজাম বিনতে কামাল
#রৌদ্রময়ী