Brahmanbaria Govt. College Islamic Library

Brahmanbaria Govt. College Islamic Library একদল বইপ্রেমী আপুদের জন্য আরেকদল বইপ্রেমী আপুর পক্ষ থেকে উপহার 🌸
বই পড়ুন, নিজেদের বিকশিত করুন।

জীবনের এই ব্যস্ততুমুল যাপনেও, এই আলো আলো অন্ধকারেও—দরিদ্র অথচ দরকারি বন্ধুর মতো বই পড়াকে খুব মিস করি। বই পড়া কেবল শব্দের...
01/06/2026

জীবনের এই ব্যস্ততুমুল যাপনেও, এই আলো আলো অন্ধকারেও—দরিদ্র অথচ দরকারি বন্ধুর মতো বই পড়াকে খুব মিস করি। বই পড়া কেবল শব্দের বাজারে অনর্থক ঘোরাফেরা ছিল না, ছিল হৃদয়ের প্রেম। ফলে পুরোনো প্রেয়সীর মায়ার মতো বইয়ের গন্ধ এখনো আমাকে মাঝে মাঝেই টানে, বেহুঁশের মতো টানে। এখনো টানে শব্দের কোলে, বাক্যের ভাঁজে, চরিত্রের ছায়ায় হারিয়ে যেতে।

আগে বই খুললেই মনে হতো শব্দেরা মিছিলে যাচ্ছে। তাদের সাথে আমিও যাচ্ছি সমস্ত শক্তি্, রাগ, কখনোবা কুসুম-কোমল প্রেম নিয়ে। এখন চোখ রাখি পর্দায়, যেখানে মায়া নেই, গন্ধ নেই প্রেম ও প্রেমিকার। এখানে, এই অন্তর্জালে শব্দের দৃশ্যায়ন আছে, কিন্তু আনন্দ নেই, নেই কোনো মিছিল। কেবলই কতক কোলাহল—অর্থহীন, সারহীন, ছায়া ও মায়াবিহীন।

আর তাই এখনো মিস করি ফুল ও তারার মতো শব্দদের, নদী ও চাঁদের মতো বাক্যদের এবং সাগর ও পাহাড়ের মতো চরিত্রদের। তারা এখন আমার না। আমি এখন তাদের না। তারা আমাকে, আমি তাদেরকে নিয়ে কল্পনার খেয়াঘাটে নামি না। স্বপ্নের মায়াজলে আর স্নাত হই না আমরা। ফলে এখন সমস্ত অনুভব হারিয়ে যাচ্ছে। হৃদয় শুকিয়ে প্রেমশূন্য হয়ে পড়ছে ইমোজির মেকি হাসি-কান্নায়।

এখন তাই চোখ দেখে হৃদয় পড়তে পারি না মানুষের, প্রকৃতির এবং আমার ও তোমার।

হ্যাঁ, বই এমন, বই পড়া এমন—ওকে ছেড়ে দিলে ছেড়ে যায় সমস্ত কিছু। মানুষ হয়ে পড়ে পুতুল; চোখ আছে, কিন্তু দর্শনহীন। হৃদয় আছে, কিন্তু প্রেমহীন।

© মুতিউল মুরসালিন

31/05/2026

শাইখ উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন-

"মানুষের জন্য উচিত প্রতিটি বিষয়েই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা, এমনকি ছোটখাটো বিষয়েও; যেমন—কোনো স্থানে যাওয়া ও সেখান থেকে ফিরে আসা, আহার করা, পান করা এবং নিজের পোশাক পরিধান করার ক্ষেত্রেও।"

(আহকামুল কুরআন-খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭)

সংগৃহীত

আল্লাহর কাছে সবকিছুই সম্ভব।
31/05/2026

আল্লাহর কাছে সবকিছুই সম্ভব।

27/05/2026

জীবনের নতুন এক সংজ্ঞা পেয়েছি।
> কী সেটা?
অপেক্ষা.....আল্লাহর প্রতি সুধারণা রেখে যাওয়া.... আর আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। সর্বাবস্থায় বলা, আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল। হাসবিয়াল্লাহ। 💥

27/05/2026

ইমাম হাসান আল বাসরী [রাহ.] প্রায়শ বলতেন,
"হে যুবকেরা, তোমরা আখিরাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর এবং তাঁরই অন্বেষণে লিপ্ত হও। আমরা এমন কতজনকেই তো দেখেছি যারা আখিরাতের অন্বেষণ করেছে আর এর পাশাপাশি দুনিয়াও পেয়ে গিয়েছে। তবে আমরা এমন কাউকে দেখিনি যে দুনিয়ার অন্বেষণ করতে করতে এর পাশাপাশি আখিরাতকে পেয়েছে"।
[ ইমাম বাইহাক্বী (রাহ.), আয যুহদুল কাবীর, হা: ১২]

📌 রিমাইন্ডার: ২৭ মে ফজর থেকে ৩১ মে আসর পর্যন্ত অন্তত একবার তাকবিরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব।
26/05/2026

📌 রিমাইন্ডার: ২৭ মে ফজর থেকে ৩১ মে আসর পর্যন্ত অন্তত একবার তাকবিরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব।

যিলহজ্বের এই বরকতময় দিনগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো “তাকবীরে তাশরীক”।

৯ই যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ই যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয সালাতের পর পুরুষদের উচ্চস্বরে এবং নারীদের নিম্নস্বরে অন্তত একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।

তাকবীরে তাশরীক:

“الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد”

“আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
“আর তোমরা নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।”
— (সূরা আল বাকারাহ ২:২০৩)

আগ্রহীরা লিখতে পারেন
26/05/2026

আগ্রহীরা লিখতে পারেন

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে আমাদের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন ❝ সুকূন - শব্দফুলে ছড়িয়ে পড়ুক দ্বীন ইসলামের সুবাস ❞ এর দুটি সংখ্যা ইতিমধ্যে সাফল্যের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। এই পথচলায় আপনাদের অনেকের কাছ থেকেই আমরা অফুরন্ত ভালোবাসা, আন্তরিক দোয়া এবং পথ চলার সুন্দর অনুপ্রেরণা পেয়েছি, যা আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। আল্লাহ তাআলা কবুল করুন আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্ট। ‘সুকূন’-এর প্রতিটি পাতা যেন দ্বীনের পবিত্র আলো ও সুবাস মানুষের মনে এবং আরও দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে একটি পজিটিভ ভূমিকা রাখতে পারে।

এখন আহ্বান জানানো হচ্ছে "৩য় সংখ্যার" জন্য লেখা জমা দেয়ার! আপনার কলমও হোক এই দাওয়াতি যাত্রার অংশ ছড়িয়ে দিন হিদায়াতের আলো আপনার লেখা, কবিতা, গল্প বা আর্টের মাধ্যমে।

📚 লেখা দেয়ার ক্যাটাগরি:
(একজন শুধুমাত্র একটি ক্যাটাগরি বেছে নিতে পারবেন, তবে একাধিক লেখা দিতে পারবেন)

⃣ সমসাময়িক বিষয়
⃣ ছোট গল্প (প্রত্যাবর্তনের গল্প, দু‘আ কবুলের গল্পও দিতে পারেন — সর্বোচ্চ ২টি, সর্বচ্চ ৫০০ শব্দ)
⃣ কবিতা (সর্বোচ্চ ২০ লাইন ও সংখ্যা সর্বোচ্চ ২টি)
⃣ আর্টিকেল / অনুপ্রেরণামূলক / আত্ম-উন্নয়নমূলক লেখা (সর্বচ্চ ২ টি এবং সর্বচ্চ ৫০০ শব্দ)
⃣ ভ্রমণ কাহিনী (সর্বচ্চ ২ টি)
⃣ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক লেখা
⃣ আর্ট / ফটোগ্রাফি (অবশ্যই PDF ফাইল করে পাঠাবেন)
⃣ রান্নাবান্না (অবশ্যই নিজের তোলা রেসিপির ছবি সহ)
⃣ কমিক্স

📌 লেখা জমা দেয়ার কিছু শর্ত:

1️⃣ ম্যাগাজিনটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য, তাই শুধুমাত্র মেয়েরাই এখানে লেখা পাঠাতে পারবেন।

2️⃣ আমাদের ম্যাগাজিনে প্রকাশিত আপনার লেখাটি অনুগ্রহ করে ফেসবুকে বা অন্য কোনো মাধ্যমে শেয়ার করবেন না। এমনকি লেখাটি যদি পূর্বে অন্য কোথাও প্রকাশিত হয়ে থাকে, তবে তার লিংক বা সূত্রও এখন শেয়ার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। ম্যাগাজিনের স্বকীয়তা ও মান বজায় রাখার স্বার্থে আশা করি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং পাঠকদের মাঝে ম্যাগাজিনটি সরাসরি পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে সহযোগিতা করবেন।

3️⃣ লেখাগুলো অবশ্যই ইসলামিক হতে হবে। কোনো অনৈসলামিক বিষয় বা প্রাণীর ছবিযুক্ত কনটেন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
4️⃣ গল্প, আর্টিকেল, রেসিপি ৫০০ শব্দের মধ্যে রাখতে হবে।
কবিতা সর্বোচ্চ ২০ লাইনের মধ্যে।
5️⃣ লেখা সম্পূর্ণ নিজস্ব হতে হবে। অন্যের লেখা নিজের নামে দেয়া বা কপি করা যাবে না।
6️⃣ প্রত্যেকে চেষ্টা করবেন সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন লেখা দেয়ার ইন শা আল্লাহ — যেন দ্বীনের কাজে আমাদের সৃজনশীলতাই হোক অনুপ্রেরণার কারণ!
7️⃣ কমিক্স সর্বোচ্চ এক পৃষ্ঠা।
8️⃣ আর্ট, ফটোগ্রাফি ও কমিক্স/মিমের কোণায় নিজের নাম ছোট করে লিখে PDF ফাইল আকারে পাঠাবেন।
9️⃣ নির্বাচিত লেখিকারা সম্মাননা হিসেবে একটি করে ম্যাগাজিন পাবেন ইন শা আল্লাহ।

ম্যাগাজিনটি প্রকাশিত হবে সুকূন পাবলিকেশন থেকে ইন শা আল্লাহ।

📬 লেখা জমা দেয়ার নিয়ম:
✉️ Subject: ম্যাগাজিনের জন্য
এরপর মেইলে লিখবেন —
1. ক্যাটাগরির নাম
2. আপনার নাম
3. মোবাইল নাম্বার
4. ইমেইল আইডি
5. ফেসবুক আইডি
6. লেখা বা ফাইল সংযুক্তি

📧 পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

🗓️ লেখা জমা দেয়ার শেষ তারিখ:
৩০ জুন, ২০২৬

⚠️ বি:দ্র:পেইজ ইনবক্সে পাঠানো লেখা গ্রহণযোগ্য হবে না।

পরিচিত বোনদের মেনশন করুন,
যেন তাঁরাও অংশ নিতে পারেন এই সুন্দর দ্বীনি উদ্যোগে 💌


#দ্বীনের_ডাকে_আপনার_কলম
#সুকূন_ত্রৈমাসিক_ম্যাগাজিন

বাইতুল্লাহ নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন!?
26/05/2026

বাইতুল্লাহ নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন!?

#যুলহিজ্জা_রাইটিং_কন্টেস্ট

#সিরিয়াল_৯

লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক…
লাব্বাঈক লা শারীকা লাকা লাব্বাঈক…
ইন্নাল হামদা…

তালবিয়া— এই পবিত্র শব্দগুলোর আলাদা এক ধ্বনি আছে। এমন এক ধ্বনি, যা হৃদয়ে কাঁপন ধরায়, চোখে জল আনে, শরীরে শিহরণ জাগায়। জানি না এর মাঝে কী আছে! কেমন অনুভূতি হয়! শুধু জানি, লুকানো কিছু একটা আছে। গভীর, অদ্ভুত, ব্যাখ্যাতীত কিছু।

তখনও তালবিয়ার অর্থ জানতাম না। শুধু জানতাম, হজ্বে গেলে এটা পড়তে হয়। সেই ছোট্টবেলাতেও টিভির সামনে হা করে তাকিয়ে থাকতাম। শুনতাম সেই শ্রুতিমধুর শব্দগুলো।

আমার দাদী, চাচীরা আরাফার দিন বলতেন— “আজকে কি হজ্ব দেখাইবো না?”

আমরা বিটিভি অন করে দিতাম।সেদিন হজ্বের সরাসরি সম্প্রচার হতো। দেখানো হতো দেশ-বিদেশের হাজার হাজার হাজীকে।

হাজার হাজার মাইল দূরে বসেও আমার দাদী, চাচীরা হাজীদের সাথে মুনাজাতে বসতেন। সেই অশ্রুসিক্ত মুনাজাতে হয়তো থাকত তীব্র এক চাওয়া— “মাবুদ গো, আমাদেরও একদিন তোমার শাহী দরবারে ডাইকা নিও।”


টিভিতে হজ্ব দেখা কিংবা বইয়ে হজ্ব সম্পর্কে পড়ারও আগে, হজ্বের ছবি আমি এঁকেছিলাম আব্বুর মুখে গল্প শুনে। আমাদের জন্মেরও আগে আব্বু হজ্ব করেছিলেন। দেশে ফিরে তিনি সেসব গল্প আমাদের শোনাতেন।

বিবি হাজেরার সাফা-মারওয়া পাহাড়ে পুত্রের জন্য পানির খোঁজে দৌড়, নবী ইবরাহীম আ:-এর প্রিয় জিনিস কুরবানি করার স্বপ্ন, নবী ইসমাঈল আ: বাবার স্বপ্নের কথা জেনে এক বাক্যে রাজি হয়ে যাওয়ার গল্প— এসব শুনেছি আব্বুর কোলে বসে।

নবী ইসমাঈল আ:- এর মতো আল্লাহকে খুশি করার দৃঢ় ইচ্ছা ছিল ছোট্ট মনে। তখন বুঝতাম না, কুরবানির ইতিহাসে যা ঘটেছে, তা আর কখনো ঘটবে না। তবুও একদিন হুট করেই আব্বুকে বলেছিলাম—
“আব্বু, আপনি যদি কখনো এমন স্বপ্ন দেখেন, তাহলে আমাকে কুরবানি করতে নিয়ে যাবেন।”

সুবহানাল্লাহ! শিশু মনে এত দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমার কিছুই হবে না। কারণ আল্লাহ আমাকেও ইসমাঈল আ: এর মতো বাঁচিয়ে দেবেন।

সময় পেরোয়। শিশু থেকে বড় হই। কিন্তু মনের স্বপ্নগুলো আরও প্রগাঢ় হতে থাকে। নানী, বড় খালা-খালুও হজ্বে যান। নানীর মুখে শুনি হজ্বের অনুভূতির কথা। ইশ! প্রাণ তখন আকুলিবিকুলি করে। সত্যিই কি এত শান্তি সেখানে? মন প্রশ্ন করে,
আমি কবে যাব? আমি কবে দেখব এসব?

কখনো মন খারাপের বিষণ্ণ ঋতুতে আনমনে ভাবি— কোনো এক বৃষ্টিমুখর দিনে আমিও কাবার সামনে বসে কেঁদেকেটে মন সাফ করে ফেলব। শুধু মনে হয়, এর চেয়ে উত্তম কোনো জায়গা নেই কাঁদার জন্য। কাবার মালিকের কাছে কাঁদতে পারাটাও তো বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার।

বিভিন্ন বইয়ে কিংবা আর্টিকেলে পড়ি—হজ্বে গিয়ে কারও ঈর্ষণীয় মৃত্যুর সংবাদ। তখন খুব করে দুয়া করি—
এমন রাজকীয় এক মৃত্যু যেন আমারও হয়।

আমাদেরই এক প্রতিবেশী একবার হজ্বে যান। শুনে ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। ভাবলাম, যাক! এবার তাহলে কিছুটা পরিবর্তন হবে। খুব স্টাইলিশ, ওয়েস্টার্ন চলাফেরা ছিল তার। তাই হজ্বে গিয়েছেন শুনে ভালোও লাগল, আবার ঈর্ষাও হলো। মনে হচ্ছিল, আল্লাহ, তাকেও তুমি ডেকেছ… আমার পালা কবে?

একদিন মা সেই প্রতিবেশীকে রুমে ডাকলেন। তিনি জানতেন, আমি হজ্বের গল্প শুনতে ভীষণ পছন্দ করি। তাই তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন কেটেছে সেখানকার দিনগুলো?”

আমার নানী বলেছিলেন, “কী এক জায়গারে বইন! কোনো ভুখ নাই, তিয়াশ নাই, ঘুম নাই, ক্লান্তি নাই। খালি শান্তি আর শান্তি। এখন ভাবি, আরও আগে কেন গেলাম না! আমার আরও যাইতে মন চায় রে বইন। কী এক জায়গা দেইখা আসলাম… তাইজ্জব লাগে সব!”

নানীর ভেতরের সেই অনুভূতিগুলো যেন হাহাকার হয়ে বাতাসে মিশে যেত। আমি ঠিক এমন কিছু শোনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।

কিন্তু প্রতিবেশীনি বললেন—
“আছে ভালোই। হোটেলে আরাম। কিন্তু বাইরে বের হলে খুব গরম। মক্কায় গরম অনেক বেশি। আবার মদীনায় একটু ঠান্ডা।”

এই ছিল তার হজ্বের অনুভূতি।

আমার মনটা হুহু করে কেঁদে উঠল। ইশ! মা যদি তাকে এই প্রশ্ন না করতেন! আমি যদি এই কথাগুলো না শুনতাম!

আমার স্বপ্নের জায়গাকে নিয়ে এমন অনুভূতি শুনতে একটুও ভালো লাগেনি। আমি তো শুনতে চেয়েছিলাম, “কী এক জায়গা! কোনো ভুখ নাই, তিয়াশ নাই, ঘুম নাই…”

দিন বাড়তে থাকে। অপেক্ষাও তীব্র হয়। রব্বে কারীমের কাছে একটাই প্রার্থনা, “মাবুদ গো, এই অধমরে তোমার ঘরে একবার ডাইকা নিও। নয়ন ভইরা তোমার ঘরখান দেইখা আমার চক্ষের তৃষ্ণা মিটাইতে চাই। বুকের ভেতর চাইপা রাখা বলতে না পারা কথাগুলা তোমার ঘরের সামনে বইলা আমি নির্ভার হইতে চাই।”


সিরাত পড়ে মক্কা-মদীনা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। জায়গাগুলো চিনি না, কিন্তু কত মসজিদ, পাহাড় আর স্থানের নাম যে জানা হয়ে গেছে! খুব ইচ্ছা করে, সিরাতে বর্ণিত প্রিয় নবীজি ﷺ- এর পদধূলিতে ধন্য সব জায়গায় আমি নিজেও একদিন যাব। আল্লাহ যেন উত্তম সঙ্গী আর উত্তম সুযোগ মিলিয়ে দেন।

গত বছর আমার মা চিকিৎসার জন্য ঢাকার এক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ১৪ তলার সিঁড়িকোঠায় তাদের ব্লকের নারীরা নামাজ পড়তেন। জায়গাটা ছিল নীরব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

একদিন এশার নামাজের পর মা বাইরে তাকিয়ে ১৪ তলার উপর থেকে ঝলমলে ঢাকা শহর দেখছিলেন। তার কাছে খুব ভালো লাগছিল। তিনি ভাবছিলেন, “এখানেই যদি এত সুন্দর লাগে, তাহলে হজ্বে গেলে না জানি কত ভালো লাগবে!”

সেখানেই তিনি দুয়া করেছিলেন, তিনি যেন তার বড় মেয়েকে সাথে নিয়ে হজ্বে যেতে পারেন।

আমিও দুয়া করি, আমার মায়ের সাথে যেন আমি হজ্বে যেতে পারি, ইন শা আল্লাহ। আমার মা অসুস্থ। চিকিৎসা চলছে এখনো। সবার কাছে দুয়াপ্রার্থী—আল্লাহ যেন আমার মাকে নেক হায়াত দান করেন, কল্যাণকর শিফা দেন। আমরা যেন একসাথে আমাদের স্বপ্নের জায়গায় যেতে পারি।

সকলের সাথে সমস্বরে আমরাও যেন বলতে পারি—

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ،
لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ،
إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ،
لَا شَرِيكَ لَكَ

আর এবারের হজ্বে ভিডিও দেখে আনন্দে শুধু কান্না আসছে। সুবহানাল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! ১.৮ মিলিয়ন মানুষ একইসাথে বলছে, আল্লাহ আমি হাজির। একইসাথে সবাই আল্লাহর স্তুতি গাইছে। সুবহানাল্লাহ! আমি যেতে পারিনি। কিন্তু তারা পেরেছে। তবুও আমার আনন্দ লাগছে। অবর্ণনীয় এক আনন্দ।

ইয়া রব্বি, তুমি আল গণিই, আল মুগনিই, আল ওয়াহহাব, আল ওয়াকিল।

রব্বি, তুমি এই অধমের ফরিয়াদগুলোও কবুল করে নাও প্লিজ। তোমার ঘরের সামনে বসে কেঁদেকেটে তোমার সাথে নিবিড় আলাপনের সুযোগ করে দাও। সুম্মা আমিন।

লেখা: সিরাজাম বিনতে কামাল

Address

Brahmanbaria Sodor
Brahmanbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Brahmanbaria Govt. College Islamic Library posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category