03/01/2018
জ্যাম জিনিসটা মনে হয় খারাপ না। ২৫ টাকায় ৪ ঘন্টা ভ্রমনের অউতপুট হচ্চে অনেক দিন হতে শুরু করা একটা বইয়ের সমাপ্তি টানা। ২০১৮ সালের শেষ করা প্রথম বই হচ্ছে আহমদ ছফা এর গাভী বিত্তান্ত। অনেক দিন পরেই বহু কসরত করে শেষ করতে হয়েছে, তাই বলে ভাববেন না যে বই খারাপ ছিল, আসলে নিজেই মনে হয় রিডারস ব্লকে পরেছিলাম। আজাইরা পেচাল বাদ দিয়ে এখন বইয়ের কথায় আসি.......................................।
দুর্দান্ত স্যাটায়ার! ছফা এদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দর্মহলের খবর তুলে ধরেছেন কোনরকম রাখঢাক ছাড়াই। উনার সেন্স অব হিউমার অতুলনীয়! ১৯৯৫ সালে লেখা হলেও দুঃখজনকভাবে এখনো সমান প্রাসংগিক। এ উপন্যাস এ সশব্দে কিংবা নীরবে হাসার মত ঘটনা আছে কিছুক্ষণ পরপরই।।কিন্তু এর সাথে এক ধরনের গাঢ় বিষণ্ণতাও কাজ করে। মনে হয় জ্ঞানদানের মহৎ সেবায় নিয়োজিত এত উচ্চশিক্ষিত মানুষদের যদি এই অবস্থা হয়, তাইলে এই শিক্ষার মূল্যটা কী?এত শত পাপ-পংকিলতার মাঝে ওই গাভীটাকেই মনে হয় শুভ্রতা আর বিশুদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু হায়! তার উৎস নিয়েও যে আছে বড়সর এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন! এ এক নিষ্ঠুর পরিহাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য উপাচার্য্য পদে নিযুক্ত আবু জুনায়েদের জীবন কাহিনী নিয়ে মূলত বইটা। গোবেচারা টাইপ একটা মানুষ কিভাবে সকল ক্ষমতার উৎস হয়ে উঠে এবং তাকে ঘিরে থাকা মানুষদের কার্যক্রম বইটাতে উঠে আসে। বৃহৎ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে জুনায়েদ সাহেব নানাবিধ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। এর কোনটা ছিল পরম আনন্দের, আবার কোনটা ছিল বিষাদের। ছোট বয়স থেকে তার একটা গাভী লালনপালনের যে ইচ্ছে ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজাদার এবং মিয়া মুহাম্মদ আবু জুনায়েদের স্ত্রীর পূর্বপরিচিত তবারক আলী পূরণ করে দেওয়ার পরে এই উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ পায়। এদিকে জুনায়েদ সাহেবের স্ত্রী গাভীটাকে মনে করতে থাকেন তার 'সতীন' বা 'শত্রু' । তিনি ষড়যন্ত্র করতে থাকেন, কিভাবে গাভীটাকে হত্যা করা যায়। অবশেষে বিষ খাইয়ে যখন গাভীটাকে হত্যা করা হলো, জুনায়েদ সাহেব বাকরোধ হয়ে পরেন। কিন্তু একই সময়ে উনি আমেরিকায় বক্তৃতা দেয়ার জন্যে দারুণ একটা অফার পান এবং স্ত্রীকে তা বলতে গেলে তার স্ত্রী সরল স্বীকারোত্তিতে বলে দেয়, সেইই খুন করে গাভীটাকে, উপন্যাসের শেষে ঠিক কি হলো, তা আমার কাছে অস্পষ্ট। লেখক আসলে পাঠকদের কি বুঝাতে চেয়েছেন, শেষে এসে তা বোধগম্য হয় নাই ... কিন্তু তবুও সব মিলিয়ে বইটা পড়তে মন্দ লাগে নাই।