26/07/2026
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিয়েতনামের জাদুকরী ‘সিয়াম গ্রিন’ ও ‘সিয়াম ব্লু’ নারকেলের যে রূপকথা শোনানো হয়েছিল।
তা আজ দেশের কৃষি খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘মেগা জালিয়াতি’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
"তিন বছরেই ফল আসবে, গাছে গাছে নারকেলের বন্যা বয়ে যাবে"—এমন চটকদার মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে লাখ লাখ সরল কৃষক, শৌখিন ছাদবাগানী এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাদের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল।
আজ প্রায় ৭ বছর পর সেই স্বপ্নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিল খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএডিসি।
বিএডিসির অফিশিয়াল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি তদারকিতে রোপণ করা ৫,০০৫টি গাছের মধ্যে আজ ৭ বছর পরও ৯১ শতাংশ গাছে কোনো ফলই আসেনি!
অথচ আমদানির নামে সরকারের শত কোটি টাকা গচ্চা গিয়েছে। লাভবান হয়েছে প্রকল্পের সাথে জড়িত কৃষি বিভাগের একটি শক্তিশালী চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে খুশি করতে এবং নিজেদের বড় বড় প্রজেক্ট পাসের ধান্দায় প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কোনো দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই রাক্ষুসে জাত পুরো দেশে ছড়িয়ে দেন।
এত বছর পর এসে চরম ব্যর্থতার মুখে বিএডিসি দেশের ৪২টি স্থানে স্থাপিত তাদের নিজস্ব ভিয়েতনামি নারকেল বাগানগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে লিখিত সুপারিশ পাঠিয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে- সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক কে বিভ্রান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভিয়েতনামি নারিকেল গাছ আমদানিকে উৎসাহিত করেছিলেন তারা কি শাস্তি পাবে না?
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর এই গাছের নেতিবাচক প্রভাবের কথা কৃষি বিজ্ঞানীরা আগে আভাস দিলেও, তৎকালীন প্রজেক্ট ডিরেক্টর (পিডি) এবং তার সিন্ডিকেট কেবল সস্তা বাহবা ও ফান্ড পাসের লোভে সেসব বৈজ্ঞানিক সতর্কর্তা গোপন করেছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভিয়েতনামি জাতের নারকেল গাছের পানির ক্ষুধা স্বাভাবিক গাছের চেয়ে বহুগুণ বেশি। প্রয়োজনীয় পানির খোঁজে এর শিকড় মাটির গভীরে চলে যায় এবং চারপাশের ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত মাত্রায় শোষণ করে ফেলে।
যার ফলে বাগানের চারপাশের জমি চরম শুষ্ক মাটিতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে অন্য কোনো ফসল বা গাছপালা পুষ্টি না পেয়ে মারা যাচ্ছে
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, সরকারি নথিতে ভিয়েতনামের উন্নত খামার থেকে চারা আনার কথা বলা হলেও, বাস্তবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট ও নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিলে ভিয়েতনাম থেকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও রোগাক্রান্ত চারা আমদানি করে।
ভিয়েতনামের স্থানীয় বাজারে যে চারার দাম ছিল নামমাত্র, তা এ দেশে এনে সাধারণ কৃষকদের কাছে প্রতিটি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয়।
শুধু চারা বিক্রি করেই এই সিন্ডিকেট কৃষকদের পকেট থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে!
একই সময়ে সরকারি অর্থে আমদানি করা অধিকাংশ চারাই চলে গিয়েছিল দেশের কিছু প্রভাবশালী ও বড় বড় কর্পোরেট নার্সারি মালিকদের দখলে।
এই চতুর নার্সারি সিন্ডিকেট ভিয়েতনাম থেকে নামমাত্র মূল্যে নিম্নমানের ও রোগাক্রান্ত চারা এনে প্রতিটি চারা ১,০০০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি চড়া মূল্যে বিক্রি করেছে।
ইউটিউবে চটকদার ভিডিও বানিয়ে তারা কয়েক বছর ধরে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ চারা বিক্রি করে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ফল না আসা পর্যন্ত যেহেতু ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগে, তাই এই দীর্ঘ সময় ধরে তারা কোনো বাধা ছাড়াই এই প্রতারণার ব্যবসা অবাধে চালিয়ে গেছে।
সরকারের ক্ষতি, কৃষকের কান্না, উদ্যোক্তাদের স্বপ্নভঙ্গ! কৃষি কর্মকর্তাদের ভুল পরামর্শে বিগত ৭ বছর ধরে একেকটি গাছের পেছনে হাজার হাজার টাকার সার, বিষ এবং সেচ দিয়ে আজ দেশের হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও দেউলিয়া।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সরকারের শত শত কোটি টাকার প্রজেক্টের বাজেট, বিজ্ঞানীদের শ্রম এবং দেশের উর্বর কৃষিজমি বছরের পর বছর বন্ধ্যা করে রাখা হয়েছে।
ক্ষোভ আর হতাশায় দেশের বহু প্রান্তিক চাষি আজ বাধ্য হয়ে নিজেদের রক্ত পানি করা টাকা দিয়ে লাগানো গাছগুলো নিজ হাতে কেটে ফেলছেন।
জোর দাবি-শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের নয়, যেসব প্রভাবশালী নার্সারি মালিক মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে লাখ লাখ চারা বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করেছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।
এই প্রতারক চক্রের নার্সারি লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা ও কৃষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক এবং এই মানহীন চারা আমদানির সাথে জড়িত কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হোক।
সরকারের শত কোটি টাকার ক্ষতি, কৃষকের কান্না, আর উদ্যোক্তাদের স্বপ্নভঙ্গ—এই সবকিছুর বিচার চাই! পেছনের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক।
পোস্টটি শেয়ার করে দেশের সকল প্রতারিত কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের আওয়াজকে আরও শক্তিশালী করুন।
#ভিয়েতনামীনারকেলবিপর্যয় #নার্সারিসিন্ডিকেট #কৃষিদুর্নীতি #বিএডিসি #উদ্যোক্তাদেরক্ষতিপূরণচাই #বাংলাদেশকৃষি #মেগা_প্রতারণা