22/08/2026
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই
কেউ কেউ ২০০৭ সালে দেশের বিশেষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমাদের উত্তরের দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রকে থানায় উন্নীত না করে অন্যায়ভাবে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সরিয়ে ভুজপুরকে থানা বানানোর জন্য সর্বদক্ষিণের সুয়াবিল ইউনিয়নকে যুক্ত করার কূটকৌশলকে আজও সফলতা হিসেবে প্রচার করছেন।
এই অন্যায় ও জুলুমকে ভিত্তি করে এখন আবার বলা হচ্ছে— “থানা যেখানে, উপজেলা সদরও সেখানে বা থানার পাশেই হতে হবে।” এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ২০০৭ সালের অন্যায় সিদ্ধান্তকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যারা এ প্রচারণা করছেন, তারা মূলত সেই অন্যায়, জুলুম ও ধোঁকাবাজিকে প্রতিষ্ঠিত করার কৌশলেই লিপ্ত রয়েছেন।
তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— ২০০৭ সালে রাষ্ট্রীয় নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত অন্যায়, জুলুম ও প্রতারণা সর্বদক্ষিণের সুয়াবিল ইউনিয়নবাসী এবং উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নের মানুষ একদিনের জন্যও মন থেকে মেনে নেয়নি, আজও মেনে নেয় না এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। উল্লিখিত চার ইউনিয়নের জনগণ গত ১৯ বছর ধরে নানাভাবে এ জুলুমের প্রতিবাদ করে আসছে এবং এর নেপথ্য কারিগরদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।
আজও আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাই— যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের ওপর এ অন্যায় চাপিয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
যারা আজ আইনের দোহাই দিয়ে জনগণকে আইন শেখানোর চেষ্টা করছেন, তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই— মানুষের জন্য আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়। মানুষের প্রয়োজনেই আইন সৃষ্টি হয়, মানুষের কল্যাণেই আইনের পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন করা হয়। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—
“সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।”
আরেকটি বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে সামনে আনা হচ্ছে— থানার পাশেই উপজেলা সদর হতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন আইনে বলা আছে যে উপজেলা সদর থানার গা ঘেঁষেই হতে হবে? থানার পাশে বলতে কি থানার ওপরই সেটি স্থাপন করতে হবে? আপনারা কি জনগণকে পুরো আইনটি দেখাচ্ছেন? অন্যান্য শর্তগুলো কেন গোপন রাখছেন? গেজেটে থানার পুনর্গঠনের বিষয়ও তো উল্লেখ রয়েছে, সেটি কেন বলছেন না? বিকল্প সম্ভাবনাগুলো কেন সামনে আনছেন না? মানচিত্র বিকৃত করার প্রয়োজনই বা কেন হলো?
ছয় ইউনিয়নের মধ্যে সাড়ে চার ইউনিয়নের মানুষ কি কিছুই বোঝে না? আর দেড় ইউনিয়নের মানুষই কি সমস্ত জ্ঞান-বুদ্ধির একমাত্র অধিকারী? এ ধরনের দাম্ভিকতা ও আত্মঅহমিকা পরিহার করুন।
যে কালো চশমা পরে জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন, আইনের ফাঁকফোকর দেখিয়ে জনগণের দাবি খাটো করার চেষ্টা করছেন, তাতে শেষ রক্ষা হবে না। দিন শেষে জনগণের কাছেই ফিরে আসতে হবে, জনতার কাতারেই দাঁড়াতে হবে।
ইতিহাস সাক্ষী— জনগণের শক্তির কাছে অন্যায়, ষড়যন্ত্র ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অপচেষ্টা বারবার পরাজিত হয়েছে। এবারও হবে।
জনগণ আবারও সেটাই প্রমাণ করবে, ইনশাআল্লাহ।