09/08/2026
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন উড়িরচর আজও নানা সংকট ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, নদীভাঙন, চিকিৎসাসংকট, শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা—সব মিলিয়ে উড়িরচরের মানুষের জীবন যেন প্রতিনিয়ত সংগ্রামের আরেক নাম। সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উড়িরচরের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ভালো ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের জন্য এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নদীভাঙনের ভয়াবহতা। বছরের পর বছর নদীর ভাঙনে মানুষ হারাচ্ছে বসতভিটা, জমিজমা ও জীবনের শেষ সম্বল। একসময় যে মানুষ নিজের ঘরকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করতেন, নদীর ভাঙনে সেই মানুষকেই আজ নতুন করে কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে—এই চিন্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে। চিকিৎসা ও শিক্ষার সংকট আরও ভয়াবহ
উড়িরচরে মানসম্মত হাসপাতাল, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার বড় অভাব রয়েছে। একজন মানুষ অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্দ্বীপ কিংবা মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়। অনেক সময় এই যাত্রাপথই রোগীর জন্য জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থাও আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার পরিবেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
উড়িরচর তো সন্দ্বীপ উপজেলারই একটি ইউনিয়ন। তাহলে এই ইউনিয়নের মানুষ কেন পিছিয়ে থাকবে?
সন্দ্বীপের উন্নয়ন নিয়ে আমরা যখন বড় বড় স্বপ্নের কথা বলি, সেতু নির্মাণের কথা বলি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলি—তখন আমাদের অবশ্যই উড়িরচরের মানুষের কথাও মনে রাখতে হবে। সন্দ্বীপের সম্মানিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, প্রবাসী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি বিনীত অনুরোধ—উড়িরচরের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখুন। নির্বাচনের সময় আমরা দেখি, উড়িরচরের মানুষের কাছে যেতে অনেকেরই ব্যস্ততা থাকে। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি শোনা যায়, মানুষের পাশে থাকার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই মানুষগুলোর কথা কতজন মনে রাখেন?
আমরা প্রশ্ন করতে চাই— উড়িরচরের মানুষ কি ভোট দেন না?
তারা কি সন্দ্বীপের মানুষ নন? তাদের সন্তানদের কি ভালোভাবে পড়াশোনা করার অধিকার নেই? তাদের অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নেই? তাদের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার নেই? নদীভাঙন থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষা করার অধিকার নেই?
সন্দ্বীপের অন্যান্য ইউনিয়নের মানুষ যখন বিভিন্ন দুর্যোগে সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন মহল থেকে ত্রাণ ও সহযোগিতা পান, তখন উড়িরচরের মানুষ কতটা সেই সহযোগিতা পান—সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। উড়িরচরকে করুণা নয়, অধিকার দিতে হবে। প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে।
নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর উড়িরচরের মানুষের পাশে থাকতে হবে। সন্দ্বীপের উন্নয়ন তখনই পূর্ণাঙ্গ হবে, যখন সন্দ্বীপের প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষ উন্নয়নের সুফল পাবে। উড়িরচরকে বাদ দিয়ে সন্দ্বীপের উন্নয়নের গল্প কখনো পূর্ণ হতে পারে না।
আসুন, আমরা সবাই মিলে উড়িরচরের মানুষের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। উড়িরচরের মানুষ আমাদেরই মানুষ।
তাদের কষ্ট আমাদের কষ্ট। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। উড়িরচরের মানুষের জন্য কথা বলুন।
উড়িরচরের পাশে দাঁড়ান। উড়িরচরকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন।
— উড়িরচরের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের দাবিতে
#উরিরচর #সন্দ্বীপ #চট্টগ্রাম #সন্দ্বীপ_প্রবাসী_অধিকার_আন্দোলন সন্দ্বীপ প্রবাসী অধিকার আন্দোলন