28/04/2024
কমিউনিটি ক্লিনিক প্রান্তিক মানুষের ভরসার আশ্রয়স্থল
২৬ এপ্রিল কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকের ধারণা প্রবর্তন করেন। সেই স্বপ্নে ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের যাত্রা শুরু হয়।
সেই থেকে অদ্যবদি দেশের হতদরিদ্র গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নানান শ্রেণি পেশার মানুষদের স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক ভরসাস্থল এই কমিউনিটি ক্লিনিক।
২৬ এপ্রিল ২০২৪ শুক্রবার সরকারী ছুটির দিন বিধায় এবার আজ ২৭ এপ্রিল ২০২৪ শনিবার দেশব্যাপী সকল কমিউনিটি ক্লিনিকে একযোগে বিপুল উৎসাহ নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক দিবস উদযাপন করা হয়।
আমাদের সকলেরই জানা-
মানীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের অভিনব ধারণা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে । মৌলিক স্বাস্থ্য সেবার সুবিধাসমূহ আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমেই দেশের প্রান্তিক ও অন্যান্য তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে-যার ফলে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে দেশের গ্রামাঞ্চলের জনগণের বিশাল একটি অংশ। কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)গন প্রতিদিন কমিউনিটি ক্লিনিক হতে জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন, মা ও শিশু টিকা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ পরিষেবা সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে সফলতার সহিত কাজ করছে। দীর্ঘকাল ধরে চলমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটা শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় অপেক্ষাকৃত সচ্ছল বা ধনী লোকদের মত প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গরীব বা হতদরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চয়তা দিতে পারছিল না। তাই “সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা'র মত মানুষের জন্মগত মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্য অর্জন করা আমাদের জন্য সম্ভব ছিল না। এবং বৈপ্রবিক কোনো পদক্ষেপ ছাড়া একশ বছরেও এটা অর্জন করা কঠিন হত।
তখন ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দুস্থ জনগণের জন্য তার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার এই কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ১৯৯৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার প্রকল্প গ্রহণ করেন- যার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আরাধ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর মতো এই মহত কাজটি সরকারী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ‘কমিউনিটিভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা: সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনের লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি’ শিরোনামের ঐতিহাসিক রেজ্যুলেশনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক মডেল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য উদ্ভাবনী নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত রেজ্যুলেশনটিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করেন যা আমাদের জন্য সম্মান ও গর্ভের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মান সূচক এই স্বীকৃতির অন্যতম কারিগরি কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রাণ কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)
উল্লেখ্য-
২০১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত সিএইচসিপিগন দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে সরকারি নিয়মের ৫% ইনক্রিমেন্ট বিহীন একই বেতনে চাকুরী করছে। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি ও বাজার মূলের সাথে সীমিত এই বেতনে সংসার চালানো দিন দিন কঠিন থেকেও কঠিন হচ্ছে।
চাকুরির শুরুতে অধিকাংশ সিএইচসিপি অর্থাৎ ৯০% সিএইচসিপি সিঙ্গেল ছিলো বলে ততকালীন সময়ে বেতন বেশি মনে হলেও দিনে দিনে সংসার খরচ ও পরিবারের সদস্য বৃদ্ধি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী, আমাদের সীমিত এই বেতন মাসের ১৫ দিন চলতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে।
বিশেষত-
সিএইচসিপিদের রাজস্বের ন্যায় সকল সুবিধা প্রদান করবে বলে ২০১৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাষ্ট আইন নামে মহান জতীয় সংসদে একটি বিল পাস হলেও অদ্যবদি অবহেলায় কোন গতি হয়নি হতভাগা সিএইচসিপিদের।
আজকের এই দিনে কমিউনিটি ক্লিনিকের জননী ও সিএইচসিপিদের শেষ ভরসাস্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কাছে আকুল আবেদন, আপনার নিজ হাতে গড়া হতভাগা সিএইচসিপিগন আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সিএইচসিপি ও তার পরিবারের ভাগ্য উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ আজ খুব প্রয়োজন।
নিয়মের ব্যাতিক্রম নয়, সরাসরি মমতাময়ী নেত্রী কমিউনিটি ক্লিনিকের জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী'র হাত ধরে রাজস্বের স্বাদ পেতে চাই!
রাজস্বের মতে সুযোগ সুবিধা নয়, রাজস্ব'ই মোদের একমাত্র চাওয়া!
সিএইচসিপি বাঁচলে-
পাল্টে যাবে স্বাস্থ্যসেবার চিত্র,
স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে শেখ হাসিনার কৃতিত্ব।
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ মোকাররম আলী সোহেল
সিএইচসিপি
কুট্রাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক
সরাইল সদর, সরাইল উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
01724-490989