04/09/2026
*সিএমপি’র আকবরশাহ থানা কর্তৃক চাঞ্চল্যকর চুরির মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটন, বিশেষ অভিযানে চোর চক্রের ০৭ (সাত) সদস্য গ্রেফতার এবং চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার বিক্রির নগদ ১৫,১১,৮০০/- (পনের লক্ষ এগারো হাজার আটশত টাকা), ০৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার*
বাদী জনাব মোঃ আলমগীর মিয়া (৪০) আকবারশাহ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন যে, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট এলাকায় তার ‘বিসমিল্লাহ ফার্নিচার’ নামে একটি দোকান রয়েছে। গত ২৮/০৭/২০২৬ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২:১০ ঘটিকার সময় তিনি তার স্ত্রীসহ ইপিক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যান। দুপুর আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকার সময় প্রতিবেশীর স্ত্রী আরিফা বিনতে ইসলাম বাসায় এসে দেখতে পান যে, বাদীর বাসার দরজার হুক কাটা ও দরজা খোলা। বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানতে পেয়ে বাদী দ্রুত বাসায় গিয়ে দেখেন, ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং স্টিলের আলমারি খোলা রয়েছে। খোঁজাখুঁজি করে তিনি দেখতে পান, আলমারিতে রাখা বিভিন্ন স্বর্ণালংকার, যার সর্বমোট ওজন ১০ ভরি ০৪ আনা এবং আনুমানিক মূল্য ২০ লক্ষ টাকা, নগদ ২ লক্ষ টাকা, ১২,৫০০ সৌদি রিয়াল এবং ০১টি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স চুরি হয়েছে। এছাড়া তার প্রতিবেশী নুরুল ইসলামও দেখতে পান যে, তার বাসার দরজার হুক কাটা ও আলমারির তালা ভাঙা। তার বাসা থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, ১ ভরি ০৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ০১টি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল চুরি হয়েছে। বাদীর ধারণা, গত ২৮/০৭/২০২৬ ইং তারিখ দুপুর ১২:১০ ঘটিকা থেকে ১:৩০ ঘটিকার মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা উভয় বাসায় প্রবেশ করে উল্লেখিত মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। বাদীর এরূপ এজাহারের প্রেক্ষিতে আকবরশাহ থানায় মামলা নং-৩০, তারিখ-৩১/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা-৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
মামলা রুজুর পর সিএমপির সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আকরবশাহ থানার চৌকস আভিযানিক টিম চুরির ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে আভিযানিক টিম ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ০৬/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখ ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সন্দিগ্ধ আসামী ০১। জসিম উদ্দিন প্রঃ জসিম(৪৫), পিতা-মৃত সিদ্দিকুর রহমান, মাতা-তারামতি, সাং-চরলক্ষী, জেবল হক মিস্ত্রি বাড়ী, পোঃ ধুমুর, থানা-সোনাগাজী, জেলা-ফেনী, বর্তমানে-ঝর্ণা পাড়া কলোনী, থানা-ডবলমুরিং, জেলা-চট্টগ্রাম(ভাসমান), ০২। মোস্তাকিন হোসেন মিঠু(৪৭), পিতা-আমজাদ হোসেন বাবুল, মাতা-মোর্শেদা বেগম, সাং-শেরপুর, আজগর সর্দারের বাড়ী, পোঃ কিত্তিপুর, ০২নং ওয়ার্ড, থানা-নওগাঁ সদর, জেলা-নওগাঁ, বর্তমানে-বারো কোয়াটার, আবদুল লতিফ সড়ক, কামরুলদের ঘর/ইউসুফ মোল্লার ঘর, থানা-পাহাড়তলী, জেলা-চট্টগ্রাম(ভাসমান) দ্বয়’কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৭/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখ কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সন্দিগ্ধ আসামী ০৩। সেতু দাস প্রঃ সালাউদ্দিন(৪৩), পিতা-সাদন দাস প্রঃ আবদুর রহিম, মাতা-মৃত রঞ্জু দাস, সৎ মাতা-সোহা ঘোষ দাস, সাং-বড় উঠান, বাইন্না পাড়া, সাদন দাসের বাড়ী, থানা-কর্ণফুলী, জেলা-চট্টগ্রাম, স্থায়ী-১-ছনহরা, ইদ্রিস চেয়ারম্যানের বাড়ীর পাশে, ধোপা পাড়া, দত্ত বাড়ী, ০৩নং ইউপি, থানা-পটিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম, স্থায়ী-২-বুরুমছড়া, সওদাগর দিঘীর পাড়, ইয়াকুব মাস্তানের, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-ষ্টেশন রোড, আল-আমিন বোডিং, থানা-কোতয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম(ভাসমান), ০৪। মোহাম্মদ আলী(৪৩), পিতা-মৃত মোঃ আছমত আলী, মাতা-সাজিয়া বেগম, সাং-আউডবাগ, ভোলা নগর, খনকার বাড়ী, পোঃ পাঁচ পুকুরা, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমানে-আগ্রাবাদ, মৌলভী পাড়া, পুস্কুনির পাড়, নেজামের ৬তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর নীচ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ডবলমুরিং, জেলা-চট্টগ্রাম, ০৫। দেবব্রত বণিক প্রঃ বলাই বণিক(৩৭), পিতা-বাদল বণিক, মাতা-শুক্লা বণিক, সাং-রামচন্দ্রপুর, বণিক পাড়া, নগেন্দ্র সাধুর বাড়ী, থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমানে-হাজারী গলি, ৩২নং বণিক ভবনের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম গণকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখ সন্দিগ্ধ আসামী ০৬। মোঃ ইসমাইল(৩৩), পিতা-আবদুল মালেক, মাতা-সাজেদা বেগম, সাং-দৌলতপুর, চৌধুরীপাড়া, বক্স আলী মাঝি বাড়ী, পোঃ মমতাজ মিয়ার হাট, ০৯নং ওয়ার্ড, ০৮নং ধলিয়া ইউপি, থানা-সদর, জেলা-ফেনী, বর্তমানে-উত্তর নালাপাড়া, শরীফ মসজিদের সামনে ০৩ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর নিচ তলার ০২ নাম্বার রুমের ভাড়াটিয়া, থানা-সদরঘাট, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৯/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখ চক্রের অন্য সদস্য ০৭। ফারজানা বেগম(৩৮), স্বামী-মোহাম্মদ আলী, পিতা-হারুন মিয়া, মাতা-জাহেদা বেগম, সাং-আউডবাগ, ভোলা নগর, খনকার বাড়ী, পোঃ পাঁচ পুকুর, থানা-দাউদ কান্দি, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমানে-আগ্রাবাদ মৌলভি পাড়া, পুষকনির পাড়, নেজামের ০৬তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর নিচ তলার ভাড়াটিয়া, থানা-ডাবলমুরিং, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোহাম্মদ আলীকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদকালে তার দেখানো ও সনাক্ত মতে তার বাসা হতে স্বর্ণ পরিমাপের নিক্তিসহ ড্রামের ভিতরে চালের মধ্যে পলিথিন দিয়ে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৫,১১,৮০০/- (পনের লক্ষ এগারো হাজার আটশত টাকা) ও ০১টি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড উদ্বার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে ইং ০৩/০৯/২০২৬খ্রি. তারিখ ডিএমপি’র ঢাকা কোতোয়ালী থানাধীন তাতীবাজার এলাকা হতে ২টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ১জোড়া কানের দুল, ১টি আংটিসহ মোট ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ০১টি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করা হয়। উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামী ১। সেতু দাস প্রকাশ সালাউদ্দিন(৪৩), ২। জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম(৪৫), ৩। মোস্তাকিন হোসেন মিঠু(৪৭) দেরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাহাদের তথ্যের ভিত্তিতে ৪। মোহাম্মদ আলী(৪৩), ৫। ফারজানা বেগম(৩৮) গণ বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাত নামা চোর/চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ যে, আসামী গ্রেফতারকৃত আসামী ০১। সেতু দাস প্রকাশ সালাউদ্দিন (৪৩) এর বিরুদ্ধে-০৬ টি ০২। জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম (৪৫) এর বিরুদ্ধে-০৬ টি ০৩। মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪৭) এর বিরুদ্ধে-০৯ টি ০৪। মোহাম্মদ আলী (৪৩) এর বিরুদ্ধে-০৭ টি মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।