বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, Political organisation, Chittagong University, Chittagong.

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬পিসিপি চবি শাখার ২২তম কাউন্সিল সম্পন্ন:সুদর্শন চাকমা সভাপতি , মহামনি চাকমা সাধারণ সম্...
21/08/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তারিখ: ২১ আগস্ট ২০২৬

পিসিপি চবি শাখার ২২তম কাউন্সিল সম্পন্ন:

সুদর্শন চাকমা সভাপতি , মহামনি চাকমা সাধারণ সম্পাদক ও ক্যাসিংহ্লা মারমা সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২২তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সুদর্শন চাকমা সভাপতি, মহামনি চাকমা সাধারণ সম্পাদক ও ক্যাসিংহ্লা মারমা সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

" জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবি মেনে নাও"- এই স্লোগানে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ভবনে সকাল ১১.০০ টায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

পিসিপি চবি শাখার সভাপতি ভূবন চাকমা'র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা'র সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমর চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা, পিসিপি'র সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ইউপিডিএফ'র সংগঠক সুনয়ন চাকমা এবং পিসিপি'র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা। আরো উপস্থিত ছিলেন পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রাঞ্জল চাকমা, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা সভাপতি অংহ্লাচিং মারমাসহ বাম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

​পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। এরপর শোক প্রস্তাব পাঠ করেন পিসিপি চবি শাখার সদস্য মহামনি চাকমা। শোক প্রস্তাব পাঠ শেষে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আত্মবলিদানকারী সকল শহীদদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

​অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনটির চবি শাখার দপ্তর সম্পাদক ক্যাচিংহ্লা মারমা। তিনি বলেন, জুম্ম জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও প্রাণের দাবি ‘পূর্ণস্বায়ত্তশাসন’ অর্জনের লক্ষ্যে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ আজও নিরন্তর লড়াই করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল অন্যায়-নিপীড়নের বিরুদ্ধে পিসিপি চবি শাখা তাদের আপসহীন সংগ্রাম জারি রেখেছে। আজকের এই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম আরও বেগবান ও গতিশীল হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে অব্যাহত গুম, খুন, নিপীড়ন, অত্যাচার এবং শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া সেনাশাসনের বিরুদ্ধে পিসিপি'র লড়াই চলবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ছাত্রনেতা সমর চাকমা বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রে দ্বৈত নীতি চলমান। সমতলের জন্য এক রকম নীতি হলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কাঠামোগত নিপীড়ন ও জাতিগত নিধনের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে। পাহাড়ের জনগণকে আজও নিজেদের ভূমি, শিক্ষা এবং নিজস্ব জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে নিরন্তর লড়াই করতে হচ্ছে।

সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পতিত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার চরম অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের স্বতন্ত্র ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে অস্বীকার করেছে। অধিকারকামী এসব মানুষের ওপর জোরপূর্বক 'বাঙালি' জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাত শতাধিক জুম্ম শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যাঁরা পাহাড়ের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। বর্তমানে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের গৌরবোজ্জ্বল নাম ভাঙিয়ে অনেকেই ভুঁইফোড় সংগঠন গড়ে তুলেছে ঠিকই, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই-সংগ্রাম এবং রাজপথের আপসহীন প্রতিবাদেই পিসিপি'র আসল পরিচয় ফুটে ওঠে। তিনি ছাত্রসমাজকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের সকল ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং সকল প্রকার বিভ্রান্তি কাটিয়ে পাহাড়ের নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের এই সংগ্রামকে নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে। একমাত্র রাজনৈতিক সংগ্রামই নিপীড়িত জনগণকে মুক্তি দিতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণেরর মুক্তির জন্য পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

ইউপিডিএফ সংগঠক সুনয়ন চাকমা বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে ছাত্রসমাজকে সকল দোলাচল ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব এড়িয়ে পাহাড়ের গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে হবে। জাতির সূর্যসন্তানেরা কখনো সংগ্রামবিমুখ হয় না; বরং অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা বুক চিতিয়ে সামনে এগিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। ব্রিটিশ আমল থেকে আজ অবধি মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস জুম্মদের রয়েছে। পাহাড়ের জনগণের সামনে অধিকার আদায়ের সুযোগ বারবার এলেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে তা হাতছাড়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইউপিডিএফ প্রকৃত আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে বলেই রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের ওপর বর্বরোচিত দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। ঠিক একইভাবে পাহাড়ের লড়াই-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকায় পিসিপিকেও নানাভাবে দমন করা হচ্ছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের বৃহত্তর লড়াইয়ের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

​হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। পাহাড়ে নিয়মিত নারী ধর্ষণ, নির্যাতন এবং অধিকারকামী জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও ধরপাকড় করা হচ্ছে। দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক অন্যায়ভাবে জারি করা ১১ দফা নির্দেশনা আজও বলবৎ রয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরেও পাহাড়ে ন্যক্কারজনক সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে। পুরো দেশে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও পাহাড়ের বাস্তবতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। যতদিন পূর্ণস্বায়ত্তশাসন অর্জনের মধ্য দিয়ে জুম্ম জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় না হয়, ততদিন পিসিপি'র পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য তিনি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

​সভাপতির বক্তব্যে ভুবন চাকমা বলেন, শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ের লড়াই-সংগ্রামকে দমন করার হীন উদ্দেশ্যে ছাত্রসমাজের মধ্যে একটি সুবিধাবাদী ধারার সৃষ্টি করেছে। বিগত চাকসু নির্বাচনেও এই সুবিধাবাদী অংশটি ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছিল। তারা কেবল নাচ-গান ও সস্তা বিনোদনের মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে প্রকৃত লড়াই থেকে বিমুখ করে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের ভাষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট চালু করা হয়নি। অতীশ দীপঙ্কর হলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রাপ্য ৬০ শতাংশ আসন সঠিকভাবে বণ্টন করা হচ্ছে না, বৈসাবি উৎসবে ছুটি মঞ্জুর করা হয় না এবং চাকসুতে জাতিসত্তা বিষয়ক কোনো পদ রাখা হয়নি। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, শাসকগোষ্ঠী পাহাড়েও নীরব শিক্ষা-নিধন চালাচ্ছে। বর্তমানে সাজেক কলেজে পাঠদানে বাধা দিয়ে সেনাবাহিনী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের মৌলিক অধিকারে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। তিনি সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে পাহাড়ের নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান করেন।

​কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে চবি শাখার বিগত বছরের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়।

এরপর পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থিত সকল প্রতিনিধির সর্বসম্মতিক্রমে সুদর্শন চাকমাকে সভাপতি, মহামনি চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং ক্যাচিংহ্লা মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা।

​শপথ গ্রহণ শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে এবং উপস্থিত নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শুভেচ্ছা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চাকসু ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বুদ্ধিজীবী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

​কাউন্সিলে সাংবিধানিক গ্যারান্টিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রদান, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেনা-গোয়েন্দা নজরদারি বন্ধ, পিসিপি’র শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং পাহাড় থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহার করে গণতান্ত্রিক শাসন নিশ্চিত করার দাবি করা হয়।

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহের ভাষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট চালু করা, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল ও নবাব ফয়জুন্নেছা হলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ শতাংশ আসন বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোর সঠিক ইতিহাস সম্বলিত বই-পুস্তক সংরক্ষণ ও অধ্যয়নের জন্য উন্মুক্ত করা, হলের খাবারের মান উন্নয়ন ও আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ছুটির তালিকা প্রণয়নসহ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

#পার্বত্যচট্টগ্রাম
#পাহাড়িছাত্রপরিষদ
#চবিশাখার২২তমকাউন্সিল
#পূর্ণস্বায়ত্তশাসনপ্রতিষ্ঠারলড়াইয়েআপোষহীন

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২৪ জুলাই, ২০২৬​চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে চবি ছাত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শ্লীলতাহানির তীব্র নিন্দা...
24/07/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৪ জুলাই, ২০২৬
​চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে চবি ছাত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও শ্লীলতাহানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ: অবিলম্বে নির্যাতনকারী জসিমকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
​চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে চলাচলকারী 'খাগড়াছড়ি পরিবহন'-এর একটি বাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এক পাহাড়ি নারী শিক্ষার্থীর ওপর বর্বরোচিত যৌন নিপীড়ন ও প্রকাশ্যে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
​শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ১নং গেট থেকে বাসে ওঠার পর মো. জসিম (৩৫) নামক এক লম্পট ওই ছাত্রীর ওপর যে ন্যক্কারজনক যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে, তা গোটা ছাত্রসমাজের জন্য চরম অবমাননাকর। নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় বাসের স্টাফরা ওই ছাত্রীকে ন্যুনতম নিরাপত্তা না দিয়ে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। পরবর্তীতে ফটিকছড়িতে সিএনজি দিয়ে বাসের গতিরোধ করে ওই ছাত্রীকে প্রকাশ্যে চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর যে স্পর্ধা ওই নরপিশাচ দেখিয়েছে, তা প্রমাণ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
​ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চবি শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন,
​"একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর ওপর দিনে-দুপুরে এমন পৈশাচিক হামলা প্রমাণ করে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র ও পরিবহন খাত নারীদের জন্য কতটা অনিরাপদ। পাহাড়ি নারীদের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়নের যে নগ্ন চিত্র আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, এটি তারই একটি বিভৎস রূপ। ফটিকছড়ি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা হলেও প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে—শুধু কাগুজে মামলায় আমরা সন্তুষ্ট হবো না। অবিলম্বে এই অপরাধী জসিমকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাসের ভেতর একজন নারী যাত্রীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে 'খাগড়াছড়ি পরিবহন' কর্তৃপক্ষকেও এর দায়ভার নিতে হবে। প্রশাসন যদি অপরাধীকে বাঁচাতে টালবাহানা করে, তবে ছাত্রসমাজ আর চুপ করে বসে থাকবে না।"
​পিসিপি, চবি শাখা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানাচ্ছে যে, অবিলম্বে চিহ্নিত অপরাধী জসিমকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং গণপরিবহনে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কালক্ষেপণ বা অপরাধীকে মদদ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আপামর ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাজপথে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
​বার্তা প্রেরক,
​ক্যাচিংহ্লা মারমা
দপ্তর সম্পাদক
বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সাজেকে বিজিবি'র গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দ...
18/07/2026

সাজেকে বিজিবি'র গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চবিতে পিসিপি'র বিক্ষোভ সমাবেশ

আজ শনিবার (১৮ই জুলাই ২৬) বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে জিরো পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় সাজেকের মাচালং ১৪ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ও ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা ও চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ চাকমা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ভূবন চাকমা।

ছাত্রনেতা সোহেল চাকমা বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হলেও বিজিবি'র গাড়ির ধাক্কায় একজন পাহাড়ি অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু ঘটনা সমতলের তথাকথিত লেখক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের কাছে স্বাভাবিক ঘটনার মতো হৃদয়ে কোন নাড়া দেয় না। পার্বত্য চট্টগ্রামে এটি কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা নয়; এটি শাসকগোষ্ঠীর আধিপত্যবাদী জুলুমের নগ্ন দৃষ্টান্ত।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত এর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত শুরু হয়নি। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সামরিকতন্ত্র ও সেনাশাসনাধীন থাকা পাহাড়িদের ন্যায়-বিচার না পাওয়ার প্রমাণ। ফলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক সেখানে কোন ঘটলা ঘটলে রাষ্ট্র নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বহু ঘটনার এখনো সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বান্দরবনের বম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, বমদের ওপর যৌথ অভিযানের নামে নিশ্চিহ্ন করার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিরপরাধ সত্ত্বেও আটক বম জনগোষ্ঠীর অনেকেই এখনো কারা অন্তরীণ রয়েছে। এসব ঘটনাগুলো রাষ্ট্রেরই পরিকল্পিত। শাসকগোষ্ঠী পাহাড়িদের জাতিগত অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দিতে চায় । তিনি নিহত অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী বিজিবি সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

দেবাশীষ চাকমা বলেন, নিহত সুমন্তি চাকমা সাজেকের দাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে অতিরিক্ত গতিতে চলা একটি বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় তিনি যে সিএনজিতে যাত্রা করছিলেন, সে ঘটনার ভুক্তভোগী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়; বরং এটি একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। ঘটনায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকার কারণে এখনো দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ভূবন চাকমা বলেন, আজকের যে অন্তঃসত্ত্বা সুমন্টি চাকমা ও ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে যে শিশুটির প্রাণ গেল এটি কোন দুর্ঘটনা নয় এটি হত্যাকান্ড।কারন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিজিবি বাহিনী ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করে বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারনে পিছন থেকে তাদেরকে ধাক্কা দেয়। ২০২৬ সালের শুরু থেকে আজ পর্ষন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজারের অধিক মানুষ প্রাণ হারায়। শুধুমাত্র গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে এবং ৪৬৩ জন প্রাণ হারায়।

‎তিনি আরো বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শান্তি ও উন্নয়নের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। ন্যায়ের পক্ষে সাধারণ জনগণ রাজপথে নামতে পারেনা। যারা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে জেল,জুলুম,অত্যাচার ও হত্যার শিকার হতে হয়।

‎দাবি:
‎১.ঘটনার সাথে জড়িত বিজিবি সদস্যদের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
‎২.ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
‎৩.পার্বত্য চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বার্তা প্রেরক,
‎ক্যাচিংহ্লা মারমা
দপ্তর সম্পাদক,চবি শাখা।

সাজেকের মাচালং ১৪ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ও ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস...
18/07/2026

সাজেকের মাচালং ১৪ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ও ঘটনার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

১৮ জুলাই, সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায়
স্থান-জিরো পয়েন্ট।

তারিখ: ২৭ জুন ২০২৬প্রেস বিজ্ঞপ্তিপিসিপি'র উদ্যােগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিটন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট'২৬-এর ফাই...
27/06/2026

তারিখ: ২৭ জুন ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পিসিপি'র উদ্যােগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিটন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট'২৬-এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন
------------------------
আজ শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) বিকেল ৪ টায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে 'শহীদ মিটন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬'-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা, সহ-সাধারণ সম্পাদক নিউটন চাকমা , সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেম ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রতিনিধি দীপেন বিকাশ ত্রিপুরা, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহ- সভাপতি লালত্লান সাং বম, বাংলাদেশ চাক স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংকিউ চাক, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জশদ জাকির, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ভুবন চাকমা।

টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সুদর্শন চাকমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক ক্যাচিংহ্লা মারমা, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের প্রতিনিধি দীপেন বিকাশ ত্রিপুরা, বম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহ- সভাপতি লালত্লান সাং বম, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা, পিসিপি'র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোনাল চাকমা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।

স্বাগত বক্তব্যে ক্যাচিংহ্লা মারমা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিসত্তার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন। এই আয়োজনে তিনি রানার্স-আপ দল হিল অ্যাটাকার (২৫-২৬)-এর প্রশংসা করে বলেন, নবীনরা দারুণ খেলেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। হিল গ্ল্যাডিয়েটরসকেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় অভিনন্দন। ভবিষ্যতেও আশা করি এই টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক আয়োজন হবে।

টিএসএফ প্রতিনিধি দীপেন বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখাকে সুন্দর একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক পরিচয় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে এবং আমাদের ঐক্য-সংহতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক জশদ জাকির বলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয় এটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতিবাদের ভাষাও বটে। লাতিন আমেরিকার ফুটবল সংস্কৃতিতে এর প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি বলেন, কোন কার্ড ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ—উভয় দলই অত্যন্ত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশে খেলেছে, যা প্রশংসার দাবিদার। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং শহীদ মিটন চাকমার আদর্শ ধারণের আহ্বান জানান।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের ভিপি রিপুল চাকমা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যে মূল্যবোধ ও চিন্তা ধারণ করি, ভবিষ্যতে পাহাড়েও তার প্রতিফলন ঘটবে। তাই নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ নয়, বরং ঐক্য বজায় রেখে দেশ ও পাহাড়ের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ মিটন চাকমার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা না হলেও ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রতিবাদী ছাত্রনেতা। পাহাড়ের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগ বর্তমান প্রজন্মকে স্মরণ রাখতে হবে।

বম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ- সভাপতি লালত্লান সাং বম বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা অত্যন্ত প্রয়োজন। খেলাধুলা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। পাহাড় ও সমতলের শত শত শিক্ষার্থীর মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তুলতে এ টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ছাত্রনেতা রোনাল চাকমা বলেন, শহীদ মিটন চাকমা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী, বিনয়ী, সৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও আমাদের সহযোদ্ধা। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও আরাম-আয়েশের জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বে নিপীড়িত-বঞ্চিত জুম্ম জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা, সততা, সাহসিকতা এবং সংগ্রামী চেতনা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

রোনাল চাকমা আরও বলেন, বর্তমান জুম্ম প্রজন্মের দায়িত্ব শহীদ মিটন চাকমার আত্মত্যাগকে শুধু স্মরণ করা নয়, তাঁর আদর্শ, নৈতিকতা, সততা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে নিজেদের জীবনচর্চায় ধারণ করা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সংগঠন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলে জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখা। শহীদ মিটন চাকমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় উপায় হলো শিক্ষিত, সচেতন ও সংগঠিত একটি দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলা।

তিনি আরো বলেন, ফুটবল নিছক কোনো খেলা নয়। পাহাড়ের দুর্গম জনপদের এক কিশোরী রিতুপর্ণা চাকমা যে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করবেন এবং দেশের জন্য সম্মান ও মর্যাদা বয়ে আনবেন সেটা কেউ ভাবেনি। রুপনা চাকমা যে দেশের হয়ে গোলরক্ষক হবেন এবং আত্ন পরিচয় তুলে ধরবেন সেটাও আমরা ভাবিনি। ফুটবল শেখায় পর্যাপ্ত সুযোগ- সুবিধার অভাবের মাঝেও স্বপ্ন দেখার সাহস করতে হয়। স্বপ্ন দেখলে বিজয়ী হওয়া যায়। আমাদেরও বিজয় অর্জনের জন্য সাহসী হতে হবে।

তিনি আজ থেকে ৩০ বছর আগে অপহৃত কল্পনা চাকমা'কে উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনে আত্মাহুতি দেয়া বীর শহীদ রুপন এবং গুমের শিকার হওয়া সমর-সুকেশ-মনোতোষদের স্মরণ করেন। এবং অপহরণ, খুন ও গুমের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে দেখি। পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা যেমন শিক্ষায়, তেমনি খেলাধুলাতেও কৃতিত্বের পরিচয় দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়রা বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রতিনিধিত্ব করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সুন্দর আয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যাশা করেন। তিনি বিজয়ী ও রানার্স-আপ উভয় দলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ভুবন চাকমা বলেন, শহীদ মিটন চাকমা আমাদের গর্ব। তিনি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার পথ বেছে না নিয়ে নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী পাহাড়ি ক্রীড়াবিদদের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শহীদ মিটন চাকমা স্মৃতি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে হিল অ্যাটাকার (২৫-২৬) ও হিল গ্ল্যাডিয়েটর (২২-২৩) মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে হিল গ্ল্যাডিয়েটর ২-০ গোলে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার্স-আপ হয় হিল অ্যাটাকার।
এবারের টুর্নামেন্টে উশৈচিং চৌধুরী সর্বোচ্চ গোলদাতা ও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়, বেন্ডিকাম বম সেরা গোলরক্ষক এবং জয় বাবু ত্রিপুরা ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন।

খেলা শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রক্টর চ্যাম্পিয়ন দলকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও মেডেল তুলে দেন। রানার্সআপ ট্রপি তুলে দেন পিসিপি'র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোহেল চাকমা। এই সময় অন্যান্য অতিথিবৃন্দ পর্যায়ক্রমে চ্যাম্পিয়ন ও রার্নাসআপ টিম এবং খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারিবৃন্দকে মেডেল দিয়ে অভিনন্দন ও সম্মাননা জানান। এই সময় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উপস্থিত থাকা শত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছাস ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

বার্তা প্রেরক
ক্যাচিংহ্লা মারমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

27/06/2026

হিল গ্ল্যাডিয়েটর ১-০ গোলে এগিয়ে। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ খেলা চলছে ।

ফাইনাল খেলা শুরু হয়েছে। আপনার প্রেডিকশন জানান কমেন্টে।
27/06/2026

ফাইনাল খেলা শুরু হয়েছে। আপনার প্রেডিকশন জানান কমেন্টে।

শেষ হাসিটা কার মুখে ফুটবে, তার উত্তর মিলবে আগামীকাল!সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামছে হিল গ্ল্যাড...
26/06/2026

শেষ হাসিটা কার মুখে ফুটবে, তার উত্তর মিলবে আগামীকাল!

সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিরোপার লড়াইয়ে মাঠে নামছে হিল গ্ল্যাডিয়েটর (২২–২৩)। নব্বই মিনিটজুড়ে দর্শকরা উপভোগ করবেন রোমাঞ্চ, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর দৃষ্টিনন্দন ফুটবল।

হিল গ্ল্যাডিয়েটর (২২–২৩)-এর প্রতি শুভকামনা রইল।

আগামীকাল ফাইনালে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে লড়তে প্রস্তুত হিল অ্যাটাকার(২৫-২৬)। হিল অ্যাটাকার দলের প্রতি শুভকামনা। আগামীকাল বি...
26/06/2026

আগামীকাল ফাইনালে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে লড়তে প্রস্তুত হিল অ্যাটাকার(২৫-২৬)। হিল অ্যাটাকার দলের প্রতি শুভকামনা।

আগামীকাল বিকাল ৪ ঘটিকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

Address

Chittagong University
Chittagong
4330

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share