01/05/2020
জীবন কথা।
আবুল কালাম
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক,সিলেট
(সম্মানিত উপদেষ্টা,বাগান বাজার এসোসিয়েশন)
সকলের তরে সকলে অামরা
====================
সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা ৷ এ গ্রুপটি রান করার পর থেকেই ভাবছি অামি সবার সাথে একটু পরিচিত হওয়া দরকার ৷ অামি ১৯৮৯ সালে চিকন ছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই ৷ অামি চিকন ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম ৷ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যাঁদের পেয়েছিলাম তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মাহবুব স্যার (বনানী, হেঁয়াকো-প্রয়াত), কবির স্যার (প্রয়াত), কাসেম স্যার(প্রয়াত), গফুর স্যার, রাবেয়া ম্যাডাম ৷ গ্রামের বাড়ি অামার মোহাম্মদপুরের পশ্চিম মধ্যম পাড়ায় ৷ সে সময়ে অনেক প্রতিকূল অবস্থার সাথে নিয়ত সংগ্রাম করেই অামাকে এত পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে অাসতে হতো ৷ বর্তমান মোহাম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অাঁধারমানিক রাস্তার মাথা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ছিল গহীন অরণ্য, বাড়িঘরের উদ্ভব ঘটেছে তারও বহু পরে ৷ মাহবুব স্যারের অান্তরিক প্রচেষ্টা এবং দোয়ায় ১৯৮৮ সালে ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছিলাম ৷ সে সময় প্রতি ইউনিয়নে একজন ছাত্র এবং একজন ছাত্রীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হতো ৷ সে বছর বাগানবাজার ইউনিয়ন থেকে ছাত্রদের মধ্যে অামি বৃত্তি লাভ করলেও বৃত্তি প্রদানের জন্য কোন উপযুক্ত ছাত্রী পাওয়া যায়নি ৷ সে সময় লোকজনের কাছে শুনতাম ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চিকন ছড়া প্রাইমারী থেকে নাকি অামিই প্রথম বৃত্তি পেয়েছিলাম ৷ মাহবুব স্যারের স্নেহ, অার প্রাথমিক বৃত্তি লাভ অামাকে অাজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে ৷
ক্লাস এইট পর্যন্ত অামি চিকন ছড়া স্কুলে পড়াশুনা করি ৷ এ সময়ের অনেক ঘটনা, অনেক স্মৃতি মনের জানালায় উঁকি দেয় ৷ ক্লাস সিক্সে অামাদের ব্যাচটা ছিল বেশ মেধাবী ব্যাচ ৷ হলুদিয়ার হাসেম মেম্বার, ইসলামপুরের অাব্দুল অালিম, বাংলাবাজারের খায়রুল শাহীন, চিকনছড়ার মন্নান মনুসহ অারো অনেক মেধাবী ছিল অামাদের সাথে ৷ পরবর্তী জীবনে হয়তো তারা তাদের মেধাকে যথোপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারেনি বলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি ৷ সিক্স থেকে সেভেনে কে প্রথম হবে এটা নিয়ে এক বিশাল স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলো ৷ অামি সব মিলিয়ে সবার থেকে একটু ব্যাকডেইটেড ছিলাম ৷ যে কারণে অামার প্রতিযোগী সহপাঠি বন্ধুরা অামাকে একটু হয়তো দুর্বল মনে করে ছিল ৷ তবে মনের দিক থেকে অামি ছিলাম অতিশয় সবল ৷ অবশেষে অামিই প্রথম হলাম ৷ অামি প্রতিযোগি বন্ধুরা অামার থেকে অনেক কম নম্বর পেল ৷ এতে করে দু'একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দী খুবই হতাশ হলো ৷ তন্মধ্যে হাসেম ছিল অন্যতম ৷ সে তখনকার প্রধান শিক্ষক সামছুদ্দিন স্যারকে ধরে একটা অটো প্রমোশন নিল ৷ সেভেনে না পড়ে এইটে ভর্তি হলো এবং অবিশ্বাস্যভাবে এইট থেকে নাইনে প্রথম স্থান লাভ করলো ৷
এ স্কুলে নূর মোহাম্মদ স্যার, অাজিজ স্যার, কাসেম স্যার, জাকির স্যারের স্নেহ অর্জনে সক্ষম হয়েছিলাম ৷ আর প্রধান শিক্ষক সামছুদ্দিন স্যার সম্পর্কে বলতে গেলে মনে হয় একদিন একরাত শেষ হয়ে যাবে। যারা উনার সময়কালে এ স্কুলের ছাত্রছাত্রী ছিলেন তাদের সবাই জানবেন তিনি কেমন ফানি কারেক্টার ছিলেন ৷ 'The Cow' ছিল উনার অন্যতম পাঠদানের বিষয় ৷' the ' অর্থ টি টা খানা খানি ; অার cow অর্থ গরু দিয়েই ক্লাস সিক্সের পুরোটা বছর শেষ করে দিলেন।নানা হাস্যকৌতকের মাধ্যমে তিনি ক্লাস নিতেন ৷ মাঝেমাঝে তিনি অাবার ছাত্রদের বেদম প্রহার করতেন ৷ অাগে থেকে ধারণা করা যেত না কোনদিন তাঁর ক্লাস ইজি হবে অার কোনদিন অনেক গুরুগম্ভীর হবে ৷ তবে সর্বোপরি তিনি একজন দয়ালু মানুষ ছিলেন ৷ উনার অাত্মার মাগফেরাত কামনা করি ৷
নাইনের বছর অামি চলে গেলাম কুমিল্লায় ৷ এখানে এসেই জীবন সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা জন্মালো ৷ জীবনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য স্থির করে কঠোর মনোনিবেশে পড়াশুনা করেছিলাম ৷ ১৯৯৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৮১১ নম্বর পেয়ে একটি কেন্দ্রে প্রথম স্থান অর্জন করে SSC পাশ করেছিলাম ৷ পরবর্তীতে কৃতিত্তের সাথেই HSC সম্পন্ন করি ৷ ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ৷ বিজ্ঞান ছেড়ে বাংলায় ভর্তি হবার জন্য অনেক মানুষের সমালোচনার মুখেও অনার্স ও মাস্টার্সে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান লাভ করি ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ তম সমাবর্তনে স্বর্ণপদক লাভ করি, যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ৷ তাছাড়াও অনার্সে প্রথম হবার জন্য ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করি ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অামি সলিমুল্লাহ মুসলিম ( SM Hall) হলের অাবাসিক ছাত্র ছিলাম ৷
পড়াশুনা শেষ করে এক বছর ঢাকার নামকরা মনিপুর হাই স্কুলে শিক্ষকতা করি ৷ তারপর ২৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে এ উত্তীর্ণ হয়ে রাঙামাটি সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে প্রায় অাড়াই বছর শিক্ষকতা করি ৷ তারপর ২৭ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হই ৷ সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করেছি যশোর ও কুষ্টিয়া ডিসি অফিসে ৷ এসি ল্যান্ড হিসেবে কাজ করেছি কক্সবাজার জেলার রামু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে ৷ তারপর সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এক বছর ঢাকা ডিসি অফিসে ৷ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ বছর কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) হিসেবে কাজ করছি ৷ এখানে কর্মকালীন সময়ে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং সফর করার সুযোগ পেয়েছি ৷ তারপর বছরখানেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক/ শিক্ষা ও অাইসিটি) হিসেবে বান্দরবানে কাজ করেছি ৷ বর্তমানে সিলেটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)/ADC(General) হিসেবে সিলেটে কর্মরত অাছি ৷
অাল্লাহর নিকট লাখো শুকরিয়া ৷ এলাকার মানুষের কোন উপকারে অাসতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি ৷ অামার মোবাইল নম্বর দিলাম ৷ যে কেউ প্রয়োজনে ফোন করতে পারবেন ৷ ০১৭৪৬-২৬২৬২৮ ৷ সবাইকে ধন্যবাদ ৷
©