28/08/2026
আল্লাহ তাআলা পরিবারকে মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামতগুলোর একটি হিসেবে দান করেছেন। স্ত্রী ও সন্তান কেবল পার্থিব সুখের উপকরণ নয়; তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত একটি আমানত। তাই তাদের ভরণ-পোষণের পাশাপাশি সময় দেওয়া, ভালোবাসা প্রকাশ করা, দ্বীনের শিক্ষা দেওয়া এবং উত্তম চরিত্র গঠনে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। একজন মুমিনের সফলতা তখনই পূর্ণতা লাভ করে, যখন তিনি আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি পরিবারের হকও যথাযথভাবে আদায় করেন।
১. পরিবার আল্লাহর দেওয়া আমানত
স্ত্রী ও সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে অর্পিত আমানত। এই আমানতের হক আদায় করা ঈমানদার ব্যক্তির অন্যতম দায়িত্ব। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক অভিভাবককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে পরিবারের অধিকার অবহেলা করা উচিত নয়।
২. সময় দেওয়া ইবাদতও, দায়িত্বও
যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার আদায় করা হয়, তবে তা শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়; বরং ইবাদত এবং সওয়াবের কাজও। পরিবারের প্রতি আন্তরিকতা ইসলামের সৌন্দর্যেরই অংশ।
৩. রাসূল ﷺ ছিলেন পরিবারের সর্বোত্তম আদর্শ
রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতের নেতা হয়েও পরিবারের জন্য সময় বের করতেন। তিনি স্ত্রীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতেন, শিশুদের ভালোবাসতেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতেন, কোলে নিতেন, খেলতেন এবং স্নেহ প্রকাশ করতেন। তাঁর জীবনই মুসলিম পরিবারের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।
৪. সন্তানের ঈমান ও চরিত্র গঠনের শ্রেষ্ঠ সময় শৈশব
শৈশব হলো চরিত্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। শিশুর মন কোমল জমিনের মতো; এ সময় যে শিক্ষা দেওয়া হয়, সেটিই ভবিষ্যতের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। তাই তাওহীদ, সালাত, কুরআন, উত্তম আখলাক ও ইসলামী মূল্যবোধ শেখাতে বাবা-মায়ের নিয়মিত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
৫. সন্তানকে সময় না দিলে অন্যরা তার চিন্তা গড়ে দেবে
যখন বাবা-মা সন্তানের জন্য সময় বের করতে পারেন না, তখন মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বন্ধু কিংবা সমাজ তার চিন্তা-চেতনা গঠনে বড় ভূমিকা নেয়। ফলে সে ইসলামী মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
৬. স্ত্রী ও সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আপনার উপস্থিতি
অর্থ, দামী উপহার বা উন্নত সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলোর বিকল্প কখনোই বাবা-মা বা জীবনসঙ্গীর আন্তরিক উপস্থিতি হতে পারে না। স্ত্রী চান স্বামীর সময়, মনোযোগ ও আন্তরিকতা। সন্তান চায় বাবা-মায়ের সান্নিধ্য, ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনা।
৭. সময় দিলে ভালোবাসা, আস্থা ও সম্পর্ক দৃঢ় হয়
যে পরিবারে একে অপরের জন্য সময় থাকে, সেখানে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। সন্তান সহজেই নিজের সমস্যা, ভয় ও স্বপ্ন বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও প্রশান্তি ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়।
৮. একসাথে ইবাদত ঘরে বরকত নিয়ে আসে
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা, ইসলামী আলোচনা করা, একসাথে সালাত আদায় করা কিংবা আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানো ঘরে ঈমানি পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
৯. সময় দেওয়া মানে শুধু পাশে বসে থাকা নয়
পরিবারকে সময় দেওয়ার অর্থ শুধু একই ঘরে থাকা নয়। একসাথে খাওয়া, গল্প করা, সন্তানদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের নিয়ে মসজিদে যাওয়া, কুরআন শেখানো, স্ত্রীকে সময় দেওয়া, তার অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং পরিবারের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাই প্রকৃত সময় দেওয়া।
১০. ব্যস্ততা যেন সম্পর্ক নষ্ট না করে
অনেক মানুষ পরিবারের সুখের জন্য অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে পরিবার থেকেই দূরে সরে যান। অথচ পরিবার শুধু অর্থ নয়, আন্তরিক সময়ও চায়। যে সময় একবার চলে যায়, তা আর কখনো ফিরে আসে না।
১১. আজকের সময়ই আগামী দিনের সুন্দর স্মৃতি
আজ সন্তানের সঙ্গে কাটানো কয়েকটি মুহূর্ত, পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া কিছু হাসি কিংবা একসাথে ইবাদতের সময়—এসবই ভবিষ্যতে তাদের হৃদয়ের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
১২. সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো নেক পরিবার গড়ে তোলা
দুনিয়ার সম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু নেক, দ্বীনদার ও দায়িত্বশীল স্ত্রী-সন্তান দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনেই কল্যাণের কারণ হবে। পরিবারকে ইসলামের আলোয় গড়ে তোলাই একজন মুমিনের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগ।