26/08/2026
কয়েকদিন আগে একজন ভাই আমার সঙ্গে তার জীবনের একটি ঘটনা শেয়ার করেছিলেন। কথাটা বলতে বলতে তিনি বলছিলেন, ভাই, আমি তখন এতটাই অসহায় ছিলাম যে, কাউকে কিছু বলতে পারতাম না। শুধু আল্লাহর কাছেই কাঁদতাম।
তার অনেকদিনের একটি নেক আশা ছিল। কিন্তু যত চেষ্টা করছিলেন, কোনোভাবেই সেটি পূরণ হচ্ছিল না। এক রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে দীর্ঘ সময় সিজদায় থেকে তিনি আল্লাহর কাছে নিজের মনের কথাগুলো বললেন। তারপর হঠাৎ মনে হলো—আমি তো প্রতিদিন নিজের চাওয়ার কথা বলছি, কিন্তু নিজের গুনাহের জন্য কতটা ক্ষমা চাইছি?
সেদিন থেকেই তিনি নিয়ম করে বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়তে শুরু করলেন— أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি। প্রতিদিন ইস্তেগফার করার পর তিনি শুধু বলতেন, হে আল্লাহ, আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করুন। আমার এই চাওয়ার মধ্যে যদি কল্যাণ থাকে, তাহলে আপনার রহমতে তা সহজ করে দিন।
কয়েকদিন পর হঠাৎ এমন একটি সুযোগ তার সামনে এসে গেল, যেটা তিনি অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। খবরটি পাওয়ার পর তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলেন। তারপর চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে বলেছিলেন,
“আমি তো শুধু দোয়া করেছিলাম। আল্লাহ আমার জন্য এমন একটা রাস্তা খুলে দিলেন, যেটা আমি নিজেই কল্পনা করিনি।
তবে তিনি আমাকে একটি কথা বিশেষভাবে বলেছিলেন—
ইস্তেগফারকে আমি কোনো জাদুর আমল মনে করি না। আমার দোয়া কখন এবং কীভাবে কবুল হবে, সেটা আল্লাহই জানেন। কিন্তু ইস্তেগফার আমাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে গেছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন—তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
(সূরা নূহ: ১০)
হয়তো আপনার দোয়ার উত্তরও আসবে, তবে আপনার নির্ধারিত সময়ে নয়—আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে। তাই দোয়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন না। নামাজ ধরে রাখুন, ইস্তেগফার করুন, হালাল পথে চেষ্টা করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। কারণ আপনি জানেন না কোন দরজা দিয়ে আপনার দোয়ার উত্তর আসবে, কিন্তু আল্লাহ জানেন।