11/07/2025
রান্নাঘর থেকে প্লাস্টিকের কাটিং বোর্ড ফেলে দিন!
বাইরে খেতে গেলে যেখানে প্লাস্টিক বোর্ডে কাটাকুটি করে খাবার তৈরি হতে দেখবেন সেখানে খাবেন না!
প্লাস্টিক বোর্ডে ছুরিচাকু দিয়ে চপিংয়ের সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক্স উৎপন্ন হয়। এটা প্রতিনিয়ত খাবারের সাথে দেহে প্রবেশ করবে।
বিশেষ করে সস্তা, রংচঙে, চাইনিজ বোর্ডগুলো বেশি ক্ষতিকর।
প্লাস্টিক কাটিং বোর্ড ব্যবহারে খাবারে কী পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয় তা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। বিজ্ঞানীরা প্লাস্টিক বোর্ডে গাজর কেটে তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের মাত্রা পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, প্রতিবার গাজর কাটলে গড়ে ১,১১৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গাজরে চলে আসে। যেগুলোর প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য ৫ মিলিমিটারের কম।
প্লাস্টিক বোর্ডে গাজর কাটলে প্রতি কাটে প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়। প্রতিদিন এভাবে চলতে থাকলে বছরে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ গ্রাম, যা ১০টি প্লাস্টিক ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমান!
(https://www.ewg.org/news-insights/news/2023/10/making-meals-without-microplastics-tips-safer-cutting-boards)
প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড ব্যবহারে প্রতি বছর একজন ব্যক্তি ১৪.৫ থেকে ৭৯.৪ মিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার সংস্পর্শে আসতে পারেন!
এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাগুলো মানবদেহে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জমা হতে পারে, যার ফলে ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
(https://pubs.acs.org/doi/10.1021/acs.est.3c00924)
প্লাস্টিক শুধু পরিবেশের শত্রু না, সরাসরি আমাদের হার্টেরও শত্রু!
প্লাস্টিক কণা আমাদের দেহে প্রবেশ করে ধমনীতে প্লাক জমাতে সাহায্য করে, হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমায়, রক্তচাপ বাড়ায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করে। এগুলো রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা, যাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক (MNPs), তা মানবদেহের রক্তনালী বা ধমনির ভেতরে জমতে পারে এবং হৃদরোগের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষণায়, যাদের হার্টে প্লাক দিয়ে ব্লক হয়ে হার্ট এ্যাটাক হয়েছে তাদের প্লাক পরীক্ষা করে সেখানে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে!
এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করে ইতালির ২৫৭ জন রোগী, যাদের অ্যাসিম্পটোমেটিক ক্যারোটিড আর্টারি স্টেনোসিস ছিল। অর্থাৎ, সবার রক্তনালিতে প্লাক (জমা চর্বি) ছিল।
তাদেরকে অপারেশন করে এই প্লাক বের করে সেটি ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে রোগীদের প্লাক স্যাম্পলগুলোতে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক (MNPs) শনাক্ত হয়!
৫৮.৪% রোগীর প্লাকে পলিথিন (polyethylene) পাওয়া যায়।
আর, ১২.১% রোগীর প্লাকে পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC) পাওয়া যায়।
(Marfella, R., et al. (2024). "Microplastics and Nanoplastics in Atheromas and Cardiovascular Events". The New England Journal of Medicine,
https://www.nejm.org/doi/full/10.1056/NEJMoa2309822)
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি হলো, যেসব রোগীর প্লাকে এই প্লাস্টিক কণাগুলো পাওয়া গেছে, তাদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা হঠাৎ মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় সাড়ে চার গুণ বেশি ছিল!
তাই নিজের ভালো বুঝলে সবসময় যথাসম্ভব প্লাস্টিক বর্জন করবেন।
রান্নাঘরে প্লাস্টিক বোর্ড ফেলে দিয়ে কাঠ ও বাঁশের বোর্ড ব্যবহার করুন।