Trusted Hajj &Umrah Service

Trusted Hajj &Umrah Service সকল বিধান বাতিল করো, ওহির বিধান কায়েম করো।

কাউকে টাকা ধার দিয়েছেন? জানেন, প্রতিদিন কত বড় সওয়াব পাচ্ছেন?কখনো কি ভেবে দেখেছেন—আপনার কাছে থাকা কিছু টাকা হয়তো কারও জীব...
15/08/2026

কাউকে টাকা ধার দিয়েছেন? জানেন, প্রতিদিন কত বড় সওয়াব পাচ্ছেন?

কখনো কি ভেবে দেখেছেন—আপনার কাছে থাকা কিছু টাকা হয়তো কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়টা পার করে দিতে পারে?

হয়তো একজন ভাই চিকিৎসার জন্য টাকা খুঁজছেন।
হয়তো কারও ঘরে বাজার নেই।
হয়তো কোনো বাবা সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে পারছেন না।
হয়তো কোনো মানুষ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

আপনি যদি সামর্থ্যবান হন এবং তাকে সুদমুক্ত ঋণ দেন, তাহলে আপনি শুধু একজন মানুষকে টাকা দিচ্ছেন না—আপনি তার বিপদের সময়ে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

আর ইসলামে এই কাজের প্রতিদান কত সুন্দর, তা শুনলে সত্যিই হৃদয় নরম হয়ে যায়।

▪️ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়ার সওয়াব

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، فَلَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ مِثْلُهُ صَدَقَةٌ»

“যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেয়, তার জন্য প্রতিদিন সেই ঋণের সমপরিমাণ সদকার সওয়াব রয়েছে।”

আর যখন ঋণ পরিশোধের সময় এসে যায়, এরপরও যদি তাকে অবকাশ দেওয়া হয়, তাহলে—

“প্রতিদিন তার জন্য ঋণের দ্বিগুণ পরিমাণ সদকার সওয়াব রয়েছে।”—মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩,০৪৬; সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ২,৪১৮

▪️একটু সহজ করে বুঝুন...

ধরুন, আপনি আপনার একজন ভাইকে ১,০০০ টাকা ধার দিলেন।

সে বলল,
“ভাই, তিন মাস পর টাকা ফেরত দেব।”

সে যদি সত্যিই অসচ্ছল হয়, তাহলে তাকে সেই সময় পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে সওয়াবের সুসংবাদ।

আর তিন মাস পর সে এসে যদি বলে—

“ভাই, আমি এখনো টাকা জোগাড় করতে পারিনি। আমাকে আরেকটু সময় দাও।”

আপনি যদি তার অসচ্ছলতা বুঝে তাকে সময় দেন, তাহলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—ঋণ পরিশোধের সময় পার হওয়ার পর তাকে অবকাশ দেওয়ার প্রতিটি দিনের সওয়াব আরও বেশি।

কী আশ্চর্য ব্যাপার!

আপনার টাকা হয়তো আপনার কাছেই নেই, কিন্তু আপনার জন্য সদকার সওয়াবের দরজা খোলা থাকতে পারে।

▪️ আর ঋণ মাফ করে দিলে?

এখানেই বিষয়টি আরও সুন্দর হয়ে যায়।

আবু আল-ইউস্র (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ عَنْهُ، أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ»

“যে ব্যক্তি কোনো অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মাফ করে দেয়, আল্লাহ তাকে তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।”—সহিহ মুসলিম

একবার ভাবুন—

দুনিয়াতে আপনি একজন অসহায় মানুষের বোঝা একটু হালকা করলেন,
আর আখিরাতে আল্লাহ আপনাকে তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেওয়ার প্রতিদান দিলেন!

▪️মানুষকে ছাড় দিন, আল্লাহর কাছ থেকে ছাড় পাওয়ার আশা রাখুন

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে—এক ব্যক্তি মানুষকে ঋণ দিতেন এবং তার কর্মচারীকে বলতেন:

“কোনো অসচ্ছল ব্যক্তির কাছে গেলে তাকে ছাড় দিও; হয়তো আল্লাহও আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।”

পরবর্তীতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।—সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম

তাই আপনার কাছে যদি সামর্থ্য থাকে, কারও বিপদের সময় তার পাশে দাঁড়ান।

তাকে সুদের ঋণের দিকে ঠেলে দেবেন না।
তার অসহায়ত্ব নিয়ে উপহাস করবেন না।
বারবার টাকা চেয়ে তাকে অপমান করবেন না।
আর সত্যিই যদি সে অসচ্ছল হয়, তাহলে তাকে সময় দিন।

কারণ—

আপনি জানেন না, আজ আপনি যার কষ্ট সহজ করে দিচ্ছেন, কাল আল্লাহ কোন অদৃশ্য পথে আপনার কষ্ট সহজ করে দেবেন। 🤍

▪️ সম্পদ জমিয়ে রাখার পাশাপাশি আখিরাতের জন্যও বিনিয়োগ করুন

দুনিয়ার ব্যবসায় লাভের হিসাব করা হয়—
“কত টাকা দিলাম, কত টাকা ফেরত পেলাম?”

কিন্তু আল্লাহর সঙ্গে লেনদেনে হিসাবটা অন্যরকম।

আপনি একজন অসহায় মানুষকে সাহায্য করলেন,
তার সম্মান বাঁচালেন,
তার বিপদ কিছুটা সহজ করলেন—

আর বিনিময়ে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখলেন।

এমন বিনিয়োগের চেয়ে উত্তম বিনিয়োগ আর কী হতে পারে?

তাই সামর্থ্য থাকলে মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ান।

হয়তো আপনার দেওয়া কয়েক হাজার টাকা আপনার জীবনে খুব বড় কিছু নয়—

কিন্তু কোনো অসহায় মানুষের কাছে সেটিই হতে পারে
একটি পরিবারের স্বস্তি,
একটি অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা,
একজন বাবার সন্তানের মুখে হাসি,
অথবা একটি পরিবারকে সুদের ঋণ থেকে বাঁচানোর কারণ।

আর আপনি যদি সেই সাহায্যটি করেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাহলে সেই ছোট্ট সহযোগিতাই আপনার আখিরাতের জন্য হয়ে যেতে পারে বিশাল এক নেক আমল।

ব্যক্তিত্বহীন মানুষের কোনো মর্যাদা নেই।মানুষমাত্রই সমাজে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হতে চায়। এর জন্য প্রয়োজন এমন নীতি-অভ্যাস যা ...
19/07/2026

ব্যক্তিত্বহীন মানুষের কোনো মর্যাদা নেই।মানুষমাত্রই সমাজে ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হতে চায়। এর জন্য প্রয়োজন এমন নীতি-অভ্যাস যা তাকে ব্যক্তিত্বের আসনে উন্নীত করবে।

কারণ পোশাক-পরিচ্ছদ, সহায়-সম্পদ বা বাহ্যিক সৌন্দর্য ব্যক্তিত্বের মানদণ্ড নয়, বরং এটি ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ের নাম। সুতরাং যেসব অভ্যাস মুমিন ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়, লোক সমাজে তার সম্মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করে তা পরিহার করা আমাদের জন্য অপরিহার্য।

এখানে ১০ টি অভ্যাস উল্লেখ করা হলো।

১. বেশি কথা বলা

কথা যত কম বলা যায় ভুল ততই কম হয়। অতিরিক্ত কথায় গীবত ও মিথ্যা বেশি থাকে। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করে চলা। তাই নিজের ব্যক্তিত্ব ঠিক রাখতে চাইলে স্বল্পভাষী হওয়া জরুরি।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।' (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)

২. অতিরিক্ত হাসি

মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা সুন্নত। এটা আন্তরিকতা ও ভালোবাসার পরিচায়ক। তবে অকারণে হাসা বা অতিরিক্ত হাসার কারণে ব্যক্তির গাম্ভীর্য নষ্ট হয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘অতিরিক্ত হাসবে না। কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৫)

৩. মিথ্যা বলা

মিথ্যা মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস করে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয় হয়। এ জন্যই পবিত্র কোরআনে সত্যবাদীর সাহচর্য গহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১১৯)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সত্য পুণ্যের দিকে নিয়ে যায়, আর পুণ্য নেয় বেহেশতের দিকে... মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায়, আর পাপ নেয় দোজখের দিকে।’ সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৯৪)

৪. গীবত-পরনিন্দা করা

হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) গীবতকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে—তা-ই গীবত।’ সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৯)

অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ বর্ণনা করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? নিশ্চয়ই তোমরা তা অপছন্দ করো।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১২)

৫. অনিয়ন্ত্রিত রাগ

রাগের সময় ধৈর্য ধারণ করা জরুরি। অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত রাগের কারণে মানুষ দিশেহারা হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যায় কাজ করে ফেলে। এতে তার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্তও হয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়; বরং শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)

৬. অহংকার করা

অহংকার মানুষকে মানুষের কাছে অপছন্দনীয় করে তোলে এবং আল্লাহর কাছে সে হয় নিন্দিত। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো অহংকারী ও দাম্ভিক ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৬)

হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ বলেছেন, ‘অহংকার আমার চাদর। যে তা নিয়ে আমার সাথে টানাহেঁচড়া করবে, আমি তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিব।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৯০)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১)

৭. ওয়াদা খেলাফ করা

কথা দিয়ে কথা না রাখা মোনাফেকের চরিত্র। ওয়াদা ভঙ্গ করা মুমিনের কাজ হতে পারে না। এটি তাঁর চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মোনাফেকের লক্ষণ তিনটি, কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩)

৮. কটু ভাষা

কটু ভাষা রূঢ় স্বভাব ও কঠোর হৃদয়ের আলামত। মানুষ এমন স্বভাবের লোকজন সমাজে অবজ্ঞার পাত্র হয়।

কথার মাধ্যমে কাউকে আঘাত করা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা মুমিনের ইমান ও মর্যাদার পরিপন্থি। কোনো ইমানদার ব্যক্তির জন্য এই অভ্যাস শোভনীয় নয়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি দোষ দেয় না, অভিসম্পাত করে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষী হয় না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)

৯. কৃপণতা

সম্পদ আল্লাহ দেন। বিধান মোতাবেক তা উপার্জন ও ব্যয় করা কর্তব্য। কৃপণতা করলে মন সংকীর্ণ হয় এবং লোকসমাজে ওই ব্যক্তির সম্মান-মর্যাদা নষ্ট হয়। আর পরকালের কঠিন শাস্তি হচ্ছে তার কর্মের ফল।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদে যারা কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে, এটা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। আজ যে সম্পদে তারা কৃপণতা করছে, কেয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি বানিয়ে পরানো হবে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সত্ত্বাধিকার কেবল আল্লাহরই। আট তোমরা যাই কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে অবগত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮০)

১০. খেয়ানত

বিশ্বস্ততা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। খেয়ানত মানুষের চরিত্র ও মর্যাদা ধ্বংস করে দেয়। এটি মুনাফিকের কাজ। মুমিনদের জন্য আমানত সংরক্ষণ করা এবং তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া কোরআনে নির্দেশ।

কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দেবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৮)
,
,

ইসলামের দৃষ্টিতে 'পহেলা বৈশাখ ও পান্তা-ইলিশ’:প্রশ্ন: ‘পহেলা বৈশাখ’ উপলক্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়া যাবে কি? বর্তমান সরকার এ উৎ...
13/04/2026

ইসলামের দৃষ্টিতে 'পহেলা বৈশাখ ও পান্তা-ইলিশ’:

প্রশ্ন: ‘পহেলা বৈশাখ’ উপলক্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়া যাবে কি? বর্তমান সরকার এ উৎসব উপলক্ষে ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকদেরকে স্কুল-কলেজে উপস্থিত থাকা ও তা পালন করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?
উত্তর:
ইসলামে মুসলিমদের জন্য দুটি জাতীয় উৎসবের দিন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। একটি হল, ঈদুল আজহা অপরটি হল, ঈদুল ফিতর।
এ দুটি ছাড়া মুসলিমদের জন্য ৩য় কোন আনন্দ-উৎসব জাতীয়ভাবে উদযাপন করার সুযোগ নেই।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আগমন করে দেখলেন, মদিনা বাসী খেলা-ধুলার মধ্য দিয়ে দুটি দিবস উদযাপন করে থাকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিবস কী?
তারা বলল, এ দুটি দিবস জাহেলি যুগে আমরা খেলাধুলার মধ্যদিয়ে উদযাপন করতাম।

তিনি বললেন,
إنَ اللَّهَ قد أبدلَكم بِهِما خيرًا مِنهما يومَ الأضحى ويومَ الفطرِ
“আল্লাহ তোমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুটি দিবসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, একটি হল, ঈদুল আজহা এবং অপরটি হল, ঈদুল ফিতর।” [সুনান আবুদাঊদ, হাদিস নং ৯৫৯ সনদ-সহিহ]
উপরোক্ত হাদিস থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, ইসলামি শরিয়তে ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর ব্যতিরেকে তৃতীয় কোন ঈদ বা উৎসব পালনের সুযোগ নেই। অথচ দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, আমাদের মুসলিম সমাজে বর্তমানে কত ধরণের ঈদ-উৎসব জমজমাট ভাবে পালন করা হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। যেমন: ঈদে মিলাদুন নবী বা রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্ম উৎসব। বরং এটাকে ‘সকল ঈদের শ্রেষ্ঠ ঈদ’ বলে জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে। যা রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসের সুস্পষ্ট বিরোধী।

অনুরূপভাবে তথাকথিত পহেলা বৈশাখ, খৃষ্ট নববর্ষ, এপ্রিল ফুল, বড় দিন (Xmas Day) ইত্যাদি অগণিত উৎসব আমাদের সমাজের মুসলিমগণ অবলীলায় পালন করে যাচ্ছে কিন্তু একবারও চিন্তা করে দেখে না যে, আসলে এগুলোর উৎস কোথায়? এসব মূলত: হিন্দু ও খৃষ্টা নদের থেকে আমদানিকৃত সংস্কৃতি যার সাথে মুসলমানের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। রসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলে গেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য কোন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করল সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” [আবুদাউদ হাদিস নং ৩৫১২, সনদ-সহীহ, আলবানি]

সুতরাং আমাদের সমাজে ইদানীং পহেলা বৈশাখ পালনের যে মহা আয়োজন দেখা যাচ্ছে এর সাথে মুসলিমদের কোন সম্পর্ক নেই। বরং এ সব অনুষ্ঠান উপলক্ষে যা কিছু দেখা যাচ্ছে সেগুলো অধিকাংশ হিন্দুয়ানী সংস্কৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ।

তাই এ উপলক্ষে কোন ধরণের অনুষ্ঠান করা, শুভেচ্ছা বিনিময় করা, কথিত প্রভাত ফেরী ও মঙ্গল শোভা যাত্রায় অংশ গ্রহণ করা, পান্তা-ইলিশ খাওয়া এ সব জাহেলিয়াত পূর্ণ কাজ। এগুলোতে কোন মুসলিম সন্তানের অংশ গ্রহণ করা বৈধ নয়।

সরকার যদি অন্যায় ভাবে মুসলিমদের উপর কোন অনৈসলামিক অনুষ্ঠান চাপিয়ে দেয় তাহলে তা মান্য করা যাবে না। বরং আইন সঙ্গত পন্থায় তার প্রতিবাদ করতে হবে। কিন্তু যদি প্রতিবাদ করার ক্ষমতা না থাকে বা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ না করলে জান-মালের ক্ষতির আশংকা থাকে তাহলে ঘৃণা সহকারে তাতে অংশ গ্রহণ করা যাবে। এটুকু হল ঈমানের সর্ব নিম্ন আলামত।
আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরণের বিজাতীয় সংস্কৃতি ও অন্ধ অনুকরণ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদি আরব।

.

Address

Palton Tower
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Trusted Hajj &Umrah Service posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Trusted Hajj &Umrah Service:

Shortcuts

Share

Category