31/08/2026
সূত্র: বিএসইউ/পিআর/৩১/০৮/৮
তারিখ: ৩১ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে বিশৃঙ্খলা নয়, প্রয়োজন গণমুখী পরিবহন নীতিমালা
শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা রক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে আটকের নামে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই একটি টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার সমাধান হতে পারে না। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের; কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের নামে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা অনিশ্চিত করে দেওয়া কোনো গ্রহণযোগ্য নীতি হতে পারে না।
এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। কোথাও এগুলো নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হচ্ছে, আবার কোথাও হঠাৎ অভিযান চালিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের প্রধান অবলম্বনটি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রের পরিবহন নীতি এভাবে আকস্মিক অভিযান ও অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করতে পারে না।
তারা বলেন, শহরের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে এসব যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যান চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করেন। ফলে যানবাহনগুলো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে চালক, মালিক, যাত্রী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা, রুট ও চলাচল ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত কাঠামোর মধ্যে আনা যেতে পারে। নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপত্তা মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে একটি শৃঙ্খলিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এর পাশাপাশি গণপরিবহন সম্প্রসারণ ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা রক্ষা এবং নিরাপদ সড়ক—এই দুটিকে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দাঁড় করানো সম্পূর্ণ ভুল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে নাগরিকের নিরাপদ চলাচলের অধিকার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি একজন শ্রমিকও হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়বেন না।
ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক, ব্যাটারি খুলে নেওয়া কিংবা কোনো ধরনের অনানুষ্ঠানিক ‘মব’ কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ বলেন, আইনের প্রয়োগ অবশ্যই রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে। কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির হাতে আইন প্রয়োগের সুযোগ তুলে দেওয়া হলে তা জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন—উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।
তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠন ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বিষয়ে একটি স্বচ্ছ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনো ধরনের উচ্ছেদ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার দাবি জানান।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার দায় শ্রমজীবী মানুষের কাঁধে চাপিয়ে নয়—পরিকল্পিত গণপরিবহন, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং শ্রমিকবান্ধব নীতির মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।
বার্তাপ্রেরক
আমিনুল ইসলাম ইমন
দপ্তর সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন