26/03/2026
বাংলাদেশ চার্টার: আদর্শিক দেশের জন্য জনগণের ভাবনা
বাংলাদেশ চার্টার বা "বাংলাদেশ সনদ" হলো "আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের জন্য জনগণের অঙ্গীকারনামা", যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে সবার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এটি মূলত আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মৌলিক রূপরেখা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
এই চার্টার বা সনদটি আটটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে, যা দেশ গড়ার একেকটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার প্রকাশ করে:
১. গণহত্যা: এই সনদে প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, "১৯৭১ সালের বাংলাদেশ গণহত্যা আমাদের জাতীয় চেতনার এক গভীর ক্ষত।" অঙ্গীকার করা হয়েছে এই গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করা, বিচার নিশ্চিত করা, শহীদদের স্মরণ ও সম্মান জানানো এবং বিশ্বজুড়ে গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের "অস্বীকার, বিকৃতি বা মুছে ফেলার" প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার।
২. জাতীয়তাবাদ: এখানে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে একটি "ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক জাতীয়তাবাদ" হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা এই ভূখণ্ডের সব মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং নৃ-তাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে ধারণ করে। এই পরিচয়ই হবে জাতীয় সংহতি ও দেশ গঠনের মূল ভিত্তি।
৩. সার্বভৌমত্ব: এই দলিলে ঘোষণা করা হয়েছে যে, সার্বভৌমত্ব এসেছে জনগণের দীর্ঘ "আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রাম" থেকে এবং এটি "অলঙ্ঘনীয়।" জাতীয় মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে শিক্ষা, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে "স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন" করতে হবে।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্মনিরপেক্ষতাকে এখানে একটি "মানবিক মূল্যবোধ" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশ ও পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। এই অধিকার রক্ষা এবং ধর্মের নামে সব ধরনের বৈষম্য বা আধিপত্য দূর করতে রাষ্ট্র নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
৫. মানবাধিকার: সনদে বলা হয়েছে যে, স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল সবার জন্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, কেবল "মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী বা ক্ষমতাশালীদের" জন্য নয়। এই মূল্যবোধগুলো "অপরিবর্তনীয়" এবং কোনো ধরনের ভয়, পক্ষপাত বা বৈষম্য ছাড়াই এগুলো কার্যকর করতে হবে।
৬. ন্যায়বিচার: সনদটি ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্রের একটি "পরিবর্তনকামী রূপকল্প" হিসেবে দেখে যা সবার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া, "গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে শান্তিপূর্ণ ও বৈধভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের" প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে সব পরিস্থিতিতে সমুন্নত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
৭ ও ৮. সুশাসন ও জবাবদিহিতা: এতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণের প্রতিফলন থাকতে হবে।
এই সম্মিলিত নীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে, সনদটি শেষ হয়েছে এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে যে, "আমরা এই সাধারণ ঐকমত্য ও রূপকল্পকে রক্ষা করব" এবং "সক্রিয়ভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দেশ গড়ায় অবদান রাখব।"
আমি এতে স্বাক্ষর করেছি, আপনি কি করেছেন?
পুরো বিষয়টি পড়তে এবং এই ঐক্যে যোগ দিতে ভিজিট করুন: https://www.bangladeshcharter.org/sign-bangladesh-charter/