বিএসটিআই BSTI Metrology মেট্রোলজি

বিএসটিআই BSTI Metrology মেট্রোলজি It’s a standards organisation and trying to serve the people by maintaining the standards of goods, weights and measures.

08/08/2026

জনগণের ভাষা VS Technical Language

একই কথা, শুধু একজন বোঝে মানুষ, আরেকজন বোঝে PowerPoint!

আমাদের দেশে সমস্যার অভাব নেই।
তবে সমস্যার চেয়েও বড় সমস্যা হলো, সমস্যাটা জনগণকে এমন ভাষায় বোঝানো হয় যে, সমস্যা শেষে নিজেই নিজের পরিচয় ভুলে যায়!

ধরুন, বাজার থেকে আপনি এক প্যাকেট বিস্কুট কিনলেন। খুলে দেখলেন, বিস্কুটের চেয়ে বাতাস বেশি।

আপনি বললেন,
“ভাই, প্যাকেটে মাল কম কেন?”

Technical Language বলল,
“The observed net content may have been influenced by permissible process variation subject to applicable metrological tolerance.”

আপনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
“ভাই, আমি বিস্কুট কিনেছি। IELTS দিতে আসিনি।”

জনগণের ভাষা খুবই বেয়াদব

কারণ জনগণের ভাষা সরাসরি কথা বলে।

জনগণ জিজ্ঞেস করে,
“পানিটা খাওয়া যাবে তো?”

আমরা বলি,
“Sample-এর physicochemical and microbiological parameters applicable standard-এর specified limit-এর মধ্যে পাওয়া গেছে।”

জনগণ আবার জিজ্ঞেস করে,
“মানে?”

“Compliant.”

“মানে?”

“সন্তোষজনক।”

“ভাই, খাওয়া যাবে?”

“জি।”

জনগণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“এই ‘জি’ কথাটা প্রথমে বললে সরকারের কত কালি বাঁচত!”

Technical Language-এর একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে

সে ছোট কথাকে বড় করতে পারে।

জনগণ বলে,
“তেলে ভেজাল আছে।”

Technical Language বলে,
“প্রাপ্ত পরীক্ষণ ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নমুনার এক বা একাধিক নির্ধারিত গুণগত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে।”

জনগণ বলে,
“তার মানে ভেজাল?”

Technical Language ঘামতে শুরু করে।

“বিষয়টি এভাবে সরলীকরণ করা সমীচীন হবে না।”

জনগণ বলে,
“তাহলে তেলটা খাব?”

Technical Language এবার ফাইল খোঁজে।

জনগণ আসলে বিজ্ঞানবিরোধী নয়
আমরা অনেক সময় ভুল করি এখানে।
ভাবি, কঠিন ভাষায় বললেই কথার ওজন বাড়ে।

“Risk-based surveillance mechanism”,
“Conformity assessment framework”,
“Regulatory compliance ecosystem”,
“Post-market surveillance”…

সবই দরকারি শব্দ। বিশেষজ্ঞের টেবিলে এগুলোর প্রয়োজন আছে।

কিন্তু রহিম চাচা বাজারে দাঁড়িয়ে “post-market surveillance” কিনতে যান না।

তিনি জানতে চান,

“যে জিনিসটা কিনছি, এটা ঠিক আছে তো?”

রহিম চাচা ISO-এর clause নম্বর না জানলেও একটা জিনিস খুব ভালো বোঝেন:

এক কেজি বলে ৯০০ গ্রাম দিলে তিনি ঠকেছেন।

এই জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ লাগে না।

ধরুন, টেলিভিশনে টক শো চলছে

উপস্থাপক প্রশ্ন করলেন,

“বাজারে খারাপ পণ্য থাকলে আপনারা কী করেন?”

একজন বিজ্ঞ কর্মকর্তা উত্তর দিলেন,

“আমরা prevailing regulatory framework-এর আওতায় risk-based market surveillance পরিচালনার পাশাপাশি conformity assessment এবং enforcement mechanism strengthen করছি।”

টিভির সামনে বসা কুদ্দুস মিয়া স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন,

“লোকটা কি বলল?”

স্ত্রী বললেন,

“মনে হয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

কুদ্দুস মিয়া বললেন,

“তাহলে ‘ব্যবস্থা নিচ্ছি’ বললেই তো হতো!”

সবচেয়ে মজার শব্দ: “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা”

সরকারি ভাষার এক অমর সৃষ্টি।

চিঠিতে লেখা হয়,

“প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।”

কী ব্যবস্থা? কে নেবে? কখন নেবে? নেওয়ার পরে কী হবে? এসব প্রশ্ন করা অসৌজন্য।

কারণ “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা” এমন এক রহস্যময় প্রাণী, যাকে সবাই চেনে কিন্তু কেউ কোনোদিন চোখে দেখেনি।

জনগণের ভাষা অবশ্য এত ভদ্র নয়।

তারা বলে,

“কাজটা কবে হবে?”

এই একটি প্রশ্নের কাছে হাজার শব্দের Technical Language মাঝে মাঝে বড় অসহায়!

তবে Technical Language-কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে না

কারণ বিজ্ঞান, আইন, মান, পরীক্ষা, আদালত, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুনির্দিষ্ট পরিভাষা দরকার।

সমস্যা Technical Language-এ নয়।

সমস্যা হলো, কোন ঘরে কোন ভাষায় কথা বলতে হয়, সেটা ভুলে যাওয়া।

ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলছেন?
Technical Language ব্যবহার করুন।

আদালতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিচ্ছেন?
নির্ভুল terminology ব্যবহার করুন।

আন্তর্জাতিক বৈঠক?
Standard terminology ব্যবহার করুন।

কিন্তু বাজারের একজন মা যদি জিজ্ঞেস করেন,

“এই দুধটা আমার বাচ্চাকে খাওয়ানো নিরাপদ তো?”

তখন তাঁকে Codex-এর ইতিহাস শোনানোর দরকার নেই।

প্রথমে বলুন,

“পরীক্ষায় এই নমুনায় নির্ধারিত মানের বাইরে এই সমস্যাটি পাওয়া গেছে। তাই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

তারপর প্রয়োজন হলে বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করুন।

কারণ তথ্য যত বড়ই হোক, মানুষ না বুঝলে যোগাযোগটা ছোটই থেকে যায়।

আসল সংকট ভাষার নয়, দূরত্বের

রাষ্ট্র বলে,
“Stakeholder engagement বৃদ্ধি করা হবে।”

জনগণ বলে,
“আমাদের কথাটা শুনবেন?”

রাষ্ট্র বলে,
“Consumer awareness enhancement প্রয়োজন।”

জনগণ বলে,
“সহজ করে বুঝিয়ে বলেন।”

রাষ্ট্র বলে,
“Non-compliant economic operators-এর বিরুদ্ধে enforcement action…”

জনগণ বলে,

“অন্যায় করলে ব্যবস্থা নিন।”

খেয়াল করলে দেখা যাবে, দুই পক্ষ প্রায় একই কথাই বলছে।

পার্থক্য শুধু এই যে,
এক পক্ষ কথা বলে অভিধান সঙ্গে নিয়ে, আরেক পক্ষ কথা বলে জীবন সঙ্গে নিয়ে।

তাই ভাষারও মান নিয়ন্ত্রণ দরকার

আমরা খাদ্যের মান দেখি।
ওজনের মান দেখি।
পণ্যের মান দেখি।

কিন্তু কথার মানও দেখা দরকার।

একটি ভালো সরকারি বক্তব্যের তিনটি পরীক্ষা থাকা উচিত:

মানুষ বুঝল কি?
মানুষ বিশ্বাস করল কি?
মানুষ জানল, এখন তার কী করা উচিত?

তিনটির উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে বক্তব্য technically শতভাগ correct হলেও communication পরীক্ষায় সে ফেল।

কারণ জনগণকে মুগ্ধ করার জন্য কথা বলা হয় না। জনগণকে বোঝানোর জন্য কথা বলা হয়।

Technical Language প্রয়োজন নির্ভুলতার জন্য।
জনগণের ভাষা প্রয়োজন বিশ্বাসের জন্য।

দুটোর মধ্যে যুদ্ধ লাগানোর দরকার নেই।
বরং বিজ্ঞানের সত্যকে মানুষের ভাষায় পৌঁছে দেওয়াটাই দক্ষতা।

কারণ শেষ পর্যন্ত একজন নাগরিকের প্রশ্ন খুব সাধারণ:

“আমার জন্য এর মানে কী?”

আর সেই প্রশ্নের উত্তর যদি আমরা এমনভাবে দিই যে উত্তর বুঝতে আবার একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হয়, তাহলে সমস্যা জনগণের শিক্ষায় নয়, আমাদের যোগাযোগে।

রাষ্ট্রের ভাষা তখনই সফল,
যখন তা ফাইলের কর্মকর্তা, ল্যাবের বিজ্ঞানী আর বাজারের সাধারণ মানুষ, তিনজনকেই একই সত্য বোঝাতে পারে।
কারণ কঠিন কথা বলে জ্ঞানী প্রমাণ করা যায়,
কিন্তু কঠিন কথাকে সহজ করে বলতেই জ্ঞান লাগে।
আর জনগণ যে ভাষা বোঝে না, সেই ভাষায় জনসেবা করলে সেবাটা শেষ পর্যন্ত ফাইলেই থাকে, জনগণের কাছে পৌঁছায় না।
Copied from Arafat Sarker

08/08/2026

বাংলাদেশে সম্ভবত সবচেয়ে সহজ পেশাগুলোর একটি হলো বিশেষজ্ঞ হওয়া।
বিশেষ করে ফেসবুকে !

ক্রিকেট ম্যাচ হারলে আমরা কোচ।
ডলার বাড়লে অর্থনীতিবিদ।
বৃষ্টি হলে নগর পরিকল্পনাবিদ।
ভূমিকম্প হলে ভূতত্ত্ববিদ।
আর বাজারে কোনো পণ্যে সমস্যা পাওয়া গেলে?

আমরা সবাই বিএসটিআই বিশেষজ্ঞ!

“বিএসটিআই কী করে?”

প্রশ্নটা করার আগেই উত্তর প্রস্তুত:

“কিচ্ছু করে না!”

আমি এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম,

“আচ্ছা, বিএসটিআই কী কী কাজ করে জানেন?”

তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন,

“জানব না কেন? ওই যে… মানে… জিনিসপত্র দেখে।”

“কী জিনিস?”

“সব জিনিস।”

“কী দেখে?”

“মান দেখে।”

“কীভাবে?”

ভদ্রলোক একটু বিরক্ত হলেন।

“ভাই, এত ডিটেইলস জানলে কি আর ফেসবুকে কমেন্ট করা যায়?”

যুক্তি অকাট্য!

চলুন, একদিনের জন্য বিএসটিআই তুলে দিই

ধরা যাক, এক সুন্দর সকালে ঘোষণা এলো:

“জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে দেশে কোনো স্ট্যান্ডার্ড, পরীক্ষা, সার্টিফিকেশন, ওজন-পরিমাপ যাচাই বা সংশ্লিষ্ট বাজার নজরদারি থাকবে না।”

প্রথম দিনেই ব্যবসায়ী রহিম সাহেব আনন্দে তিন কেজি মিষ্টি কিনলেন।

দোকানদার বলল,

“স্যার, তিন কেজি হয়ে গেছে।”

বাসায় এসে ওজন করে দেখা গেল দুই কেজি চারশ গ্রাম।

রহিম সাহেব ফোন দিলেন,

“ভাই, ছয়শ গ্রাম কম কেন?”

দোকানদার শান্তভাবে বললেন,

“স্যার, আপনার কেজি আর আমার কেজির মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য আছে।”

রহিম সাহেব রেগে গিয়ে বললেন,

“এক কেজি তো এক কেজিই!”

দোকানদার হাসলেন,

“কে বলেছে? স্ট্যান্ডার্ড তো তুলে দিয়েছেন!”

পরদিন রহিম সাহেব এক লিটার তেল কিনলেন।

বোতলে লেখা:

১ লিটার*

নিচে ছোট্ট তারকা।

তারও নিচে আরও ছোট অক্ষরে:

“প্রস্তুতকারকের আবেগ ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিমাণ পরিবর্তনশীল।”

তিনি প্রতিবাদ করলেন।

দোকানি বলল,

“স্যার, স্বাধীন বাজার। তেলেরও স্বাধীনতা আছে।”

তারপর রহিম সাহেব কিনলেন একটি ইলেকট্রিক কেবল।

দেখতে অসাধারণ।

প্যাকেটে বজ্রপাতের ছবি, সোনালি অক্ষরে লেখা:

SUPER ULTRA MEGA INTERNATIONAL PREMIUM QUALITY

রহিম সাহেব মুগ্ধ।

“কোন স্ট্যান্ডার্ড?”

বিক্রেতা বলল,

“স্যার, স্ট্যান্ডার্ডের দরকার কী? প্যাকেটটা দেখেন! কী সুন্দর চকচক করছে!”

কেবল লাগানোর পর ফ্যান চালু করতেই কেবল গরম।

এসি চালু করতেই ধোঁয়া।

ইস্ত্রি চালু করতেই পুরো পরিবার বারান্দায়।

বিক্রেতাকে ফোন দিলে উত্তর:

“স্যার, আমাদের কেবল বিদ্যুৎ পরিবহন করে ঠিকই, তবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেখলে একটু ইমোশনাল হয়ে যায়।”

এরপর বাজারে শুরু হলো সৃজনশীলতার স্বর্ণযুগ

প্যাকেটে লেখা:

Pure Honey

ভেতরে মৌমাছির অবদান কতটুকু, সে বিষয়ে মৌমাছিও নিশ্চিত নয়।

বোতলে লেখা:

Premium Drinking Water

পানি কোথা থেকে এসেছে জানতে চাইলে উত্তর:

“প্রকৃতি থেকে।”

প্রকৃতির কোন অংশ?

“এত ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবেন না।”

এক প্যাকেটে লেখা:

১০০% খাঁটি

কী খাঁটি?

সেটা লেখা নেই।

কারণ কোম্পানি মনে করে, অতিরিক্ত তথ্য গ্রাহকের মানসিক চাপ বাড়ায়।

ওজনের দোকানে নতুন দর্শন

আপনি এক কেজি চাল চাইলেন।

দোকানি দিল ৮৭০ গ্রাম।

আপনি বললেন,

“এটা এক কেজি?”

দোকানি বলল,

“স্যার, জীবনকে এত গ্রাম দিয়ে বিচার করবেন না। অনুভূতি দিয়ে বিচার করুন।”

আপনি বললেন,

“১৩০ গ্রাম কম!”

তিনি বললেন,

“আপনি খুব নেগেটিভ মানুষ। কোথায় ৮৭০ গ্রাম পাওয়ার আনন্দে শুকরিয়া করবেন, তা না, পড়ে আছেন ১৩০ গ্রাম কম নিয়ে ! ”

তখনই জাতি আবিষ্কার করল, স্ট্যান্ডার্ড আসলে বিরক্তিকর একটা জিনিস

কারণ স্ট্যান্ডার্ড কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন করে।

কতটুকু আছে?

কী দিয়ে তৈরি?

নির্ধারিত মান পূরণ করে কি?

লেবেলে যা লিখেছেন, সত্যি তো?

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে?

ওজন ঠিক আছে?

পরিমাপের যন্ত্র ঠিক আছে?

এই প্রশ্নগুলো ক্রেতার কাছে স্বাভাবিক।

কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে এগুলো ভয়াবহ বিরক্তিকর।

তার স্বপ্নের বাজার হলো এমন এক বাজার যেখানে সে নিজেই পণ্য বানাবে, নিজেই মান ঠিক করবে, নিজেই পরীক্ষা করবে, নিজেই নিজেকে সার্টিফিকেট দেবে এবং শেষে নিজেকেই অভিনন্দন জানাবে:

“Congratulations! You have successfully met your own requirements.”

তাহলে বিএসটিআই না থাকলে কার সবচেয়ে বেশি লাভ?

সৎ ব্যবসায়ী?

না।

কারণ সৎ ব্যবসায়ী নিয়ম মেনে পণ্য তৈরি করতে টাকা খরচ করেন।

ভালো কাঁচামাল কেনেন।

পরীক্ষা করেন।

সঠিক ওজন দেন।

মান বজায় রাখেন।

তার পাশের অসাধু ব্যবসায়ী যদি এসব কিছু না করেই অর্ধেক খরচে পণ্য বাজারে ছাড়তে পারে, তাহলে সৎ ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতা করবেন কীভাবে?

অর্থাৎ মান নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শুধু ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

সৎ ব্যবসায়ীও শাস্তি পায়, আর অসৎ ব্যবসায়ী পুরস্কৃত হয়।

এটাই সবচেয়ে বড় কৌতুক।

এবং সবচেয়ে নির্মমটাও।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিলেই আমরা একজন আসামি চাই

খাবারে সমস্যা?

“বিএসটিআই কোথায়?”

রেস্টুরেন্টে সমস্যা?

“বিএসটিআই কী করে?”

নকল পণ্য?

“বিএসটিআই ঘুমায়!”

অনলাইনে অজ্ঞাত বিক্রেতা বিদেশি নাম লাগিয়ে কিছু বিক্রি করছে?

“বিএসটিআইয়ের ব্যর্থতা!”

এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো বাসার পানির কল নষ্ট হলেও পোস্ট হবে:

“দেশে বিএসটিআই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান আছে?”

কমেন্টে একজন লিখবেন:

“সবাইকে চাকরি থেকে বাদ দেন।”

আরেকজন:

“বিদেশে হলে এমন হতো না।”

তিনি কোন বিদেশে গেছেন?

মোটামুটি গুগল ম্যাপ পর্যন্ত।

তাই বলে কি বিএসটিআইয়ের সমালোচনা করা যাবে না?

অবশ্যই যাবে।

বরং করতে হবে।

প্রশ্ন করুন:

• কেন সেবা আরও দ্রুত হবে না?

•কেন পরীক্ষার সময় আরও কমবে না?

•কেন ডিজিটাল সেবা আরও সহজ হবে না?

•কেন বাজার নজরদারি আরও ঝুঁকিভিত্তিক ও কার্যকর হবে না?

•কেন অপরাধ বারবার করা প্রতিষ্ঠানকে আরও কঠোরভাবে জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে না?

•কেন জনগণ সহজে জানতে পারবে না কোন পণ্য মানসম্মত, কোনটি নয়?

এসব প্রশ্ন করুন।

কারণ প্রতিষ্ঠান জনগণের।

তাই জবাবদিহিও জনগণের কাছেই।

কিন্তু সমালোচনা আর অজ্ঞতার মধ্যে ছোট্ট একটা পার্থক্য আছে।

সমালোচনা বলে,

“আপনার দায়িত্বটি আরও ভালোভাবে পালন করুন।”

অজ্ঞতা বলে,

“আপনার দায়িত্ব কী জানি না, কিন্তু আপনি ব্যর্থ।”

আরেকটা সত্য একটু অস্বস্তিকর

বাজারে ভেজাল পণ্য কে বানায়?

বিএসটিআই?

না।

কম ওজন কে দেয়?

বিএসটিআই?

না।

নকল লেবেল কে লাগায়?

বিএসটিআই?

না।

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা কে করে?

বিএসটিআই?

না।

তারপরও এগুলো ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট কার্যকর না হলে তাকে প্রশ্ন করতে হবে।

কিন্তু অপরাধীকে বাদ দিয়ে শুধু নিয়ন্ত্রককে গালি দিলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এমন:

চোর ঘরে ঢুকেছে।

আমরা চোরকে বললাম,

“ভাই, আপনি বসেন।”

তারপর থানায় ফোন করে চিৎকার:

“আপনাদের কারণে চোরটা আমার বাসায় এসেছে!”

চোর পাশে বসে চা খেতে খেতে বলছে,

“ভাই, পুলিশকে আরেকটু শক্ত করে বলেন। আমি আপনার সঙ্গে আছি।”

শেষ কথা

বিএসটিআই কোনো জাদুর কাঠি নয়।

কারো পক্ষেই প্রতিটি দোকান, প্রতিটি কারখানা, প্রতিটি গুদাম, প্রতিটি অনলাইন পেজ এবং প্রতিটি পণ্যের প্রতিটি ইউনিট পাহারা দিতে পারে না।

আবার এটাও সত্য, জনগণের টাকায় পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়।

তাই বিএসটিআইয়ের সমালোচনা করুন।

খুব করুন।

কাজ ধীর হলে প্রশ্ন করুন।
ভুল হলে ধরিয়ে দিন।
দুর্বলতা থাকলে পরিবর্তন চান।
জবাবদিহি দাবি করুন।

শুধু সমালোচনার আগে তিনটি জিনিস জেনে নিন:

প্রতিষ্ঠানটির কাজ কী,
আইনে তার ক্ষমতা কতটুকু,
আর যে অপরাধের কথা বলছেন, সেটি আসলে কার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তারপর সমালোচনা করুন।

কারণ জেনে করা সমালোচনা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে।

আর না জেনে করা সমালোচনা?

- সেটা অনেকটা ৮৭০ গ্রাম চাল হাতে নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে তর্ক করতে করতে নিজের দাঁড়িপাল্লাটাই ছুড়ে ফেলে দেওয়ার মতো।

তারপর পরদিন আবার দোকানে গিয়ে বলা:

“ভাই, এক কেজি চাল দেন।”

দোকানি মুচকি হেসে বলবে,

“কোন কেজি স্যার? আপনারটা, আমারটা, নাকি ফেসবুকেরটা?”

সেদিন হয়তো আমরা বুঝব,

মানদণ্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সেটা থাকা অবস্থায় আমরা তার প্রয়োজনটাই টের পাই না।

আর যেদিন সেটা থাকবে না,

সেদিন এক কেজির সংজ্ঞা খুঁজতে খুঁজতেই জাতির আধা কেজি ওজন কমে যাবে!
Copied from: Arafat Sarker

06/08/2026

নিষিদ্ধ হলো আরো আটটি স্কিন ক্রিম।

06/08/2026
06/08/2026

ত্বক ফর্সা হওয়াইইইই লাগবে????
ভিডিও ক্রেডিটঃ বিবিসি

29/07/2026

বিএসটিআই অনুমোদিত বউ😁😁😁😁

29/07/2026

বিএসটিআই অনুমোদিত বউ। হা হা হা হা

29/07/2026

29/07/2026

# Electric_Cable

Address

Tejgaon
Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিএসটিআই BSTI Metrology মেট্রোলজি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to বিএসটিআই BSTI Metrology মেট্রোলজি:

Shortcuts

Share