12/08/2026
লোডশেডিং (Load Shedding) হলো বিদ্যুতের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার একটি প্রক্রিয়া।
সহজ কথায়, কোনো অঞ্চলে যদি বিদ্যুতের চাহিদা (Demand) তার উৎপাদন বা সরবরাহের (Supply) চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন জাতীয় পাওয়ার গ্রিডকে সুরক্ষিত রাখতে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করাকে লোডশেডিং বলা হয়।
লোডশেডিং কেন করা হয়?
১. গ্রিড বিপর্যয় রোধ করা: একটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা থাকে। যদি উৎপাদনের চেয়ে ব্যবহারের পরিমাণ বেশি হয়, তবে পুরো পাওয়ার গ্রিড ওভারলোড হয়ে অচল হয়ে যেতে পারে (যাকে Total Blackout বলা হয়)। পুরো গ্রিড যেন ট্রিপ না করে, সেজন্য নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুৎ 'শেড' বা বাতিলে ফেলা হয়।
২. বিদ্যুতের ন্যায়সংগত বণ্টন: সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সব এলাকায় পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে লোডশেডিং করা হয়।
লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণসমূহ
* জ্বালানি সংকট: বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি (যেমন: প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস অয়েল) সরবরাহে ঘাটতি থাকা।
* চাহিদার হঠাৎ বৃদ্ধি: গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ফ্যান, এসি ও সেচ পাম্পের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া।
* বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ: উৎপাদন কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বা নিয়মিত মেরামতের কাজে কোনো ইউনিট বন্ধ থাকলে উৎপাদন কমে যায়।
* অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা: সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ট্র্যান্সফরমার বা সাবস্টেশনের ধারণক্ষমতার অভাব।
সত্য জানুন এবং সংযত আচরণ করুন।