জাতীয়তাবাদের পাঠশালা

জাতীয়তাবাদের পাঠশালা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী

বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক নিচের যে কোনো একটি অর্জন থাকলেই নির্দ্বিধায় এ...
30/05/2026

বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক

নিচের যে কোনো একটি অর্জন থাকলেই নির্দ্বিধায় একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সফল বলা যায়। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যাঁর জীবনে গৌরবের এসব মহিমান্বিত পালক একত্রে বিদ্যমান। আমার জানা মতে, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, একজন নেতা নিজ দেশের জন্য বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে এভাবে পরিণত হয়েছেন সমগ্র জাতির সত্তা ও অস্তিত্বের অংশে; তথা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে।

(১) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যাঁর আহবানে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ।
(২) মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, এবং অসামান্য বীরত্বের জন্য 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত।
(৩) সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং ইতিহাসের সফলতম সেনাপ্রধান।
(৪) দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
(৫) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সুমহান আদর্শের প্রবক্তা, যা নিশ্চিত করে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষ এবং সমতল ও পাহাড়ের প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার ও স্বাধীনতা।
(৬) বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্ন মতের অধিকার স্থাপক।
(৭) গণআকাঙ্খার আলোকে সংবিধানের সংশোধন ও ইসলামী মূল্যবোধের ধারক।
(৮) মুক্তবাজার অর্থিনীতি চালু, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রবর্তক।
(৯) রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ এবং দেশজুড়ে ইপিজেড ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনাকারী।
(১০) মধ্যপ্রাচ্যে ও অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানির পথিকৃৎ, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত প্রবাসীদের রেমিটেন্স আজও দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি।
(১১) কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তি নির্মাণ এবং তৃণমূলের উন্নয়নের রূপকার।
(১২) গ্রাম সরকার ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা উদ্যোগের প্রবর্তক।
(১৩) ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনক।
(১৪) গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির প্রবর্তক এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার কারিগর।
(১৫) নারী ও যুবকদের জন্য দুইটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
(১৬) শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও নতুন কুঁড়ির প্রবক্তা।
(১৭) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য সার্কের প্রতিষ্ঠাতা।
(১৮) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের কারিগর।
(১৯) পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের রূপকার, ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী, ফিলিস্তিনি জাতি নির্মাণে আল-কুদস কমিটির সদস্য।
(২০) নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে শক্তিশালী অবস্থান ও পানির হিস্যা বুঝে নেওয়াসহ বহু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণকারী।

এসব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সাফল্যের গৌরব নয়। বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করার কালজয়ী ইতিহাস। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম, পরিকল্পনা, চিন্তা ও নেতৃত্ব আজও কোটি-কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে এবং তাঁর হাত ধরেই বদলে গেছে পুরো দেশ ও জাতির কাঠামো। আর ঠিক সেই আদর্শ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাই আজ বহন করছেন জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেমনটি করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

ড.মাহাদী আমিন
মাননীয় উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

শহীদ জিয়া: অগ্রসরমান বাংলাদেশের রূপকারঅধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানএকাত্তর-পরবর্তী সময়ে লুটপাটের শাসন ব্যবস্থা থেকে যিনি ...
30/05/2026

শহীদ জিয়া: অগ্রসরমান বাংলাদেশের রূপকার
অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান

একাত্তর-পরবর্তী সময়ে লুটপাটের শাসন ব্যবস্থা থেকে যিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। একজন সাধারণ সৈনিক থেকে দেশপ্রেমের দীক্ষা পেয়েছিলেন তিনি।

সেই দীক্ষাই তাকে দেশ ও জাতি গঠনের কাজে বাধিত করে। তিনি হয়ে ওঠেন অগ্রসরমান বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। উন্নয়ন, উৎপাদন আর উন্নত জাতিসত্তা বিনির্মাণের প্রাণপুরুষ। তাইতো যতদিন এই ভূখণ্ড রবে ততদিন এই জাতির মনের মণিকোঠায় রয়ে যাবেন বাংলার রাখাল রাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান দ্বিতীয়। ১৯৫২ সালে তিনি করাচি একাডেমি স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি করাচিতে ডি. জে কলেজে ভর্তি হন।

একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৫৫ সালে সামরিক বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। করাচিতে দু’বছর চাকরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। এছাড়াও তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার জন্য বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন।

একই বছর তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গভীর রাতে পূর্ব পাকিস্তানের ঘুমন্ত, নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে হত্যা ও মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে এক ভীতিকর পরিস্থিতি শুরু করলে জিয়া দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্ত্রী-সন্তানদের জীবন বিপন্ন হতে পারে জানা সত্ত্বেও জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য নিজ নামে জেড ফোর্স গঠন করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়। লাল-সবুজের পতাকায় শোভিত স্বাধীন দেশে তিনি পুনরায় সেনাবাহিনীতে ফিরে যান। ১৯৭২ সালে সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে তিনি মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শেখ মুজিবের সরকার জিয়াউর রহমানকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পট পরিবর্তন ঘটে। ক্যু ও পাল্টা ক্যু’র মাধ্যমে দেশ যখন চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংকটে নিপতিত তখন জিয়াউর রহমান আবার দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব ও সংহতির মধ্য দিয়ে তিনি গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রশ্নাতীত জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পাদপীঠে আসীন করে।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ২৩ জুন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপরের ইতিহাস বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস। তিনি প্রথমেই মুজিবের বাকশাল থেকে জাতিকে মুক্তি দেন। সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল প্রথা বাতিল করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করলে জনগণ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে। গণমাধ্যমের ওপর থেকে সকল কালাকানুন প্রত্যাহার করেন। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে দেশে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পুরস্কার চালু, অনুদান তহবিল গঠন, ফিল্ম ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং চলচ্চিত্রে প্রেসিডেন্ট পুরস্কারের সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ বছরই তিনি জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ এবং এর সাথে স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ বিভাগ যুক্ত করেন।

পরে বায়ান্নের ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৬ সালে তিনি প্রবর্তন করেন একুশে পদক। এছাড়া গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাদের কাজের স্বীকৃতি ও সম্মান জানাতে ১৯৭৭ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রবর্তন করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে পুরোনো হাইকোর্ট ভবনের পশ্চিম পাশে তিনি শিশু একাডেমির নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কলেরা হাসপাতাল। পাশাপাশি ১৯৮১ সালে ঢাকার মহাখালীতে নার্সিং কলেজ এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় নিপসম, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও ইপিআই প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ৫০ শয্যার ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, পিজি হাসপাতালের সি-ব্লক, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ চিকিৎসকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিএমএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশি জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমির উন্নয়নে বাংলা একাডেমি অর্ডিন্যান্স ১৯৭৮ জারি করেন।

জিয়াউর রহমান জানতেন বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে আগে কৃষিকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তাই তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খনন কর্মসূচির প্রবর্তন করেন। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের উলশী-যদুনাথপুর খাল খননের মাধ্যমে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর ১৯৭৭ সালের ২২ মে জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশের ম্যাগনাকার্টা বা মুক্তির সনদ ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এছাড়া তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তন করেন। তার আগ্রহেই ১৯৮১ সালের মার্চ-এপ্রিলে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে ৪টি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। শিশুদের বিনোদনের জন্য ১৯৭৯ সালে রাজধানীর শাহবাগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় শিশু পার্ক। শিশুর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য শ্যামলীতে একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৬ সালে শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করতে পুনরায় বিটিভিতে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা চালু করেন।

১৯৮০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করেন। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। দেশে সকল ধর্মের মানুষের স্বীয় ধর্ম পালনের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। পল্লী চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং প্রথম বছরেই ২৭ হাজার লোককে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালের ১৯ জানুয়ারি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বরেণ্য ব্যক্তিদের একটি বহর নিয়ে তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে গভীর সমুদ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে হিজবুল বাহার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি ধারণা সৃষ্টি হয়। তিনি বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যুতের আলো সারাদেশে পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। তিনি জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করেন।

এছাড়া তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করে কেবল নিজে নয়, বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি করান। পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ কূটনীতিতে তার উদ্যোগে গড়া সার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রেসিডেন্ট জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ লাভ করে। এমন অসংখ্য উদ্যোগ নিয়ে তিনি একটি নবীন দেশকে উন্নয়নের মূল স্রোতে তুলে দেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাত। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সৈনিকের বুলেটের আঘাতে শহীদ হন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রমী ব্যক্তি। যিনি এত কম সময়ে একটি দেশের আমূল পরিবর্তন করেছিলেন। আজ তার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে তার প্রতি রইল অফুরন্ত শ্রদ্ধা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা।

লেখক: মহাসচিব, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

শহীদ জিয়া গণতন্ত্র, জনরাজনীতি ও রাষ্ট্রনায়কত্বের এক অমর উত্তরাধিকার  -ড. একেএম শামছুল ইসলামশহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানে...
30/05/2026

শহীদ জিয়া গণতন্ত্র, জনরাজনীতি ও রাষ্ট্রনায়কত্বের এক অমর উত্তরাধিকার
-ড. একেএম শামছুল ইসলাম

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর দিনটি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এক গভীর বেদনাবিধুর, আত্মসমীক্ষা এবং এক অপূরণীয় রাজনৈতিক ক্ষতির দিন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে শুধু একজন রাষ্ট্রপতির শাহাদত দিবস নয়; এটি এমন একজন রাষ্ট্রনায়কের মহাপ্রয়াণের দিন; যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত, রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত, অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়া সংকটাপন্ন বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন সৈনিক, একজন সংগঠক, একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং সর্বোপরি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কস্থাপনকারী এক ব্যতিক্রমী নেতা। তাঁর জীবন, কর্ম ও শাহাদত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে যা আজও জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনসম্পৃক্ত উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের মর্যাদাশীল অবস্থানের আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্রকে একটি স্থিতিশীল, কার্যকর ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় উন্নীত করাই ছিল সবচেয়ে বড় কঠিন কাজ। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, খাদ্যসংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার আবর্তে নবীন রাষ্ট্রটি কঠিন পরীক্ষার মুখে অবতীর্ণ হয়। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষমতা এককেন্দ্রীকরণ, স্বাধীন মত প্রকাশে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে ক্রমশ সংকুচিত করতে থাকে। ইতিহাসের এই অগ্নিগর্ভ সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যখন জনগণ ছিল অনিশ্চয়তায় তাড়িত, রাষ্ট্রযন্ত্র ছিল দুর্বল এবং আস্থার সংকটে ধুকছিলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্‌ম গড়ে তোলেন, যেখানে জাতীয়তাবাদ, উৎপাদন, উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রের স্বাধীন মর্যাদা প্রমুখ বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দর্শন নির্মিত হয়। তাঁর রাজনীতি কোনো সংকীর্ণ গোষ্ঠীভিত্তিক রাজনীতি ছিল না বরং তিনি সমাজের নানা শ্রেণি, পেশা ও মতের মানুষকে রাষ্ট্র নির্মাণের অংশীদার হিসাবে দেখতে চেয়েছিলেন। বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি জনগণকে আবার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনেন। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয় সেটি শুধু সাংবিধানিক বা নির্বাচনি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তিনি রাজনীতিকে জনগণের জীবনযাত্রার দৈনন্দিনতার সাথে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল মানুষের খাদ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা, উৎপাদন, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাস্তবধর্মী প্রক্রিয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র যদি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে না পারে তবে সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো কখনোই পূর্ণতা পায় না।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তায় উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদ ছিল একে অপরের পরিপূরক। তিনি খাদ্য উৎপাদনকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসাবে নিরূপণ করেছিলেন। গ্রামীণ উন্নয়নকে শুধু অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসাবে নয়, বরং রাষ্ট্রের সামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী করবার উপায় হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে তিনি শুধু নিয়ন্ত্রণের বিষয় হিসাবে দেখেন নাই, বরং রাষ্ট্রকে কার্যকর করার উপায় হিসাবে দেখেছিলেন। তাঁর রাজনীতির মূল সূত্র ছিল- রাষ্ট্র জনগণের জন্য, জনগণ রাষ্ট্রের শক্তি, আর জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন একটি অসম্ভব বিষয়।

জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আত্মসমর্পণের ভীরুতা ছিল না, আবার অযৌক্তিক সংঘাতের প্রবণতাও তিনি ধারণ করেন নাই। তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশ আত্মমর্যাদার সঙ্গে সকলের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুক, বাস্তবতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বের মেলবন্ধন গড়ুক এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুসংহত করুক। আজকের জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর এই চিন্তা আরও অধিকতর প্রাসঙ্গিক। কারণ একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা কেবলমাত্র ভৌগোলিক সীমান্তের নিরিখে রচিত হয় না বরং সেটি কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতার মেলবন্ধনে নিহিত।
তাঁর শাহাদত বাংলাদেশের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মতো একজন রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বিশেষ করে যখন কিনা তিনি রাষ্ট্রনির্মাণের একটি চলমান প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তার শাহাদত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার উপর গভীর আঘাত হানে কেননা রাষ্ট্রকে তিনি স্থিতিশীলতা, উৎপাদনশীলতা, মুক্ত গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক ভারসাম্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ সেই ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

জিয়াউর রহমানের জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ তার জনপ্রিয়তাও জনগণের তাঁর প্রতি ভালোবাসার এক ঐতিহাসিক প্রকাশ। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে আসে। একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন অনেক সময় তাঁর মৃত্যুর পর জনগণের শ্রদ্ধানিবেদন ও হাহাকারের ভেতর দিয়ে প্রকাশিত হয়। ক্ষমতার আসন, রাষ্ট্রের পদমর্যাদা বা আনুষ্ঠানিক সম্মান দিয়ে মানুষের ভালোবাসা তৈরি করা যায়না। মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে হয় সততা, কর্ম, সাহস, ন্যায়পরায়ণতা এবং জনগণের পাশে থাকবার মাধ্যমে। জিয়াউর রহমান সেই স্থান খুব সফলভাবেই অর্জন করেছিলেন।
তাঁর নামাজে জানাজায় উপস্থিত জনসমুদ্র প্রমাণ করে যে তিনি মাত্র রাষ্ট্রপতি ছিলেন না; তিনি জনমানুষের নেতা ছিলেন। তাঁর প্রতি মানুষের আকর্ষণ শুধু ক্ষমতার কারণে ছিল না, ছিল আস্থার কারণে। সাধারণ মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করেছিল একজন সৎ, সরল, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে। তিনি বিলাসী জীবনযাপন করতেন না; তিনি মাঠকেন্দ্রিক, কর্মমুখী ও জনগণ ঘনিষ্ঠ নেতা ছিলেন। এসব কারণেই তাঁর মৃত্যু সাধারণ মানুষের নিকট ছিল স্বজন হারাবার শোকের মতো।

একজন সৎ রাষ্ট্রনায়ক ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করেন না; ক্ষমতাকে তিনি জাতির সেবার দায়িত্ব প্রতিপালনের সুযোগ বলে বিবেচনা করেন। জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ববোধ সুস্পষ্ট ছিল। তিনি রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত আনুগত্যের ওপর দাঁড় করাতে চান নাই; তিনি রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠান, শৃঙ্খলা, উৎপাদন এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল রাষ্ট্রের ভেতরে ভারসাম্য তৈরির, সমাজের নানা অংশকে অন্তর্ভুক্ত করবার এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবার প্রয়াস।
তিনি কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন, কারণ তিনি মাঠ কর্মীর গুরুত্ব বুঝতেন। তিনি জানতেন কোন রাজনৈতিক আদর্শ শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব দিয়ে টিকে থাকে না, আদর্শ টিকে থাকে কর্মীদের শ্রম, ত্যাগ ও বিশ্বাসের ওপর। আবার তিনি শুধু দলীয় কর্মীদের কথা ভাবেন নাই; তিনি কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, সৈনিক, সরকারি কর্মকর্তা—সবাইকে রাষ্ট্রনির্মাণের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর রাজনীতিকে বিস্তৃত সামাজিক ভিত্তি দিয়েছিলো।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মহাপ্রয়াণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একগভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর কর্মধারা এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আজও প্রবহমান। তিনি বাংলাদেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন, জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, রাষ্ট্রকে উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভরকরার ডাক দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি বাংলাদেশের মর্যাদাশীল অবস্থানের কথা ভেবেছিলেন এবং জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রচিন্তাকে সুসংহত করতে চেয়েছিলেন।
তাঁর শাহাদত প্রমাণ করে যে সত্যিকারের নেতৃত্ব কখনো শুধু জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন নেতা যদি জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারেন, তবে তাঁর শাহাদত তাঁকে ইতিহাস থেকে মুছে দেয় না; বরং তাঁকে জাতিসত্তার সাথে আরও গভীরভাবে প্রোথিত করে। জিয়াউর রহমান সেই বিরল রাষ্ট্রনায়কদের একজন যিনি মৃত্যুর পরও বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তায় সমকালীন ও প্রাসঙ্গিক।

১৯৮১ সালের ৩০ মে তাই আমাদের কাছে কেবল শোকের দিন নয়; বরং এটি অঙ্গীকারের দিন। গণতন্ত্রের পক্ষে অঙ্গীকার, জনগণের রাজনীতির পক্ষে অঙ্গীকার, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার, সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এবং আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের পক্ষে অঙ্গীকার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও শাহাদত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ, গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি বহুমত, উন্নয়নের প্রকৃত শক্তি উৎপাদন, আর নেতৃত্বের প্রকৃত সৌন্দর্য সততা ও কর্ম।
বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় মর্যাদার ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর শাহাদত জাতির জন্য বেদনাবিধুর হলেও, তাঁর জাতীয়তাবাদের উত্তরাধিকার জাতির জন্য প্রেরণা। তিনি ছিলেন সত্যিকারের সৎ, ন্যায়পরায়ণ, কর্মীবান্ধব ও জনগণমুখী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর মহাপ্রয়াণ তাই শেষ নয় বরং একটি অমর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রবহমানতা, যা কিনা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাংলাদেশকে গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ, আত্মনির্ভরতা ও জনগণের মর্যাদার পথে এগিয়ে যেতে সর্বদা অনুপ্রাণিত করবে।

লেখক : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.)

৩০ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ দিবসে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, ৭ নভেম্বর, খেম...
29/05/2026

৩০ মে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ দিবসে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা, ৭ নভেম্বর, খেমকারান রণাঙ্গনের বীরত্ব এবং রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণে অবদান নিয়ে কিছু কথা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম। স্বাধীনতা যুদ্ধ, যুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা রয়েছে। একজন সেনা কর্মকর্তা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা , মুক্তিযুদ্ধে সামরিক নেতৃত্ব, ১৯৬৫ সালের খেমকারান রণাঙ্গনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা, ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশ পুনর্গঠনে তাঁর অবদান রাস্ট্রনায়োকচিত হিসেবে মূল্যায়িত হয়ে থাকে।
জিয়াউর রহমানের সামরিক জীবনের সাহসিকতার পরিচয় মুক্তিযুদ্ধের আগেই দেখা যায়। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে খেমকারান রণাঙ্গনে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহস, কৌশলগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তিনি সহযোদ্ধা ও ঊর্ধ্বতন মহলে প্রশংসিত হন। সামরিক জীবনের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন দক্ষ নেতৃত্বে পরিণত করে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। খেমকারান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে দেশ যখন চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রভিন্সিয়াল প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কাল রাত্রীতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ক্র্যাকডাউন ও বর্বরোচিত গনহত্যায় বাংলাদেশের মানুষ ছিল দিশাহীন কিংকর্তব্যবিমুঢ়। মানুষের মধ্যে ভয়, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্বর কাছ থেকে কোন দিকনির্দেশনা ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে একজন সামরিক কর্মকর্তার দৃঢ় কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা জনগণের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।এক ঝাকিতে জাতি হয়েছিল ঐক্যবদ্ধ পেয়েছিল যুদ্ধ করার মনোবল। এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে এবং প্রতিরোধ যুদ্ধ সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়াউর রহমান একজন দক্ষ সামরিক সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পরে “জেড ফোর্স”-এর অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার নামের আদ্যাক্ষর দিয়েই জেড ফোর্সের নামকরণ করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিতভাবে বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যুদ্ধক্ষেত্রে সাহস, শৃঙ্খলা ও কৌশলগত নেতৃত্বের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন এবং পরবর্তীতে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন।১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ৭২-৭৫ এর মুজিব সরকারের সময় ব্যাংক ডাকাতি লুটপাট বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা। ধর্ষণ রাহাজানি রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়। রক্ষীবাহিনী লালবাহিনী এরকম বিভিন্ন বাহিনীর সৃষ্টি করে মুজিব সরকার ত্রাস ও ভয়ের শাষণ প্রতিষ্ঠা করে। বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গনতন্ত্রের কবর রচনা করে মুজিব সরকার। সে সময় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ভূমিকা বিশ্লেষণে বলা যায় ৭ নভেম্বরের পর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও কমান্ড কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশের নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রশাসন পুনর্গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন । তিনি কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করার উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রচেষ্টাও তাঁর শাসনামলে আলোচিত হয়। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি বহুদলীয় রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রবর্তিত “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” ধারণা রাষ্ট্রের পরিচয় ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্যবোধকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ফলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচিতি ও যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং যুদ্ধোত্তর রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেই বাংলাদেশর মানুষের ভালবাসায় তিনি একজন সফল রাস্ট্রনায়ক ছিলেন। ৩০ মে ১৯৮১ যেদিন জিয়াউর রহমানকে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে হত্যা করেছিলো।সারা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ একজন নেতা একজন স্বজন একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। তার জানাযায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি এবং স্বজন হারানোর ব্যাথা আর আহাজারি বাংলাদেশের আকাশকে করেছিল মেঘাচ্ছন্ন।
খেমকারান রণাঙ্গনের সামরিক অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রগঠনের মানদণ্ডে শহীদ জিয়া তাই সফলতম রাষ্ট্রনায়ক।

আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল
সাবেক সভাপতি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

“জনগণের সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুয়ারে” পরিবর্তনের ১০০ দিন: নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা          ২৫ মে ২০২৬ গণতান্ত্র...
25/05/2026

“জনগণের সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুয়ারে” পরিবর্তনের ১০০ দিন: নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা


২৫ মে ২০২৬ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস কনফারেন্সে উঠে এসেছে নতুন বাংলাদেশ গঠনের এক বিস্তৃত রূপরেখা, যেখানে উন্নয়ন, মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমী চিত্র ফুটে উঠেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের পর জনগণ নতুন এক প্রত্যাশার জন্ম দেয়। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। মাত্র ১০০ দিনের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় গতি, কার্যকারিতা ও জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়।

সরকারের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দ্রুত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে তৈরি হয়েছে জবাবদিহিতা ও ফলাফলভিত্তিক কাজের সংস্কৃতি। এই পদক্ষেপের সুফল ইতোমধ্যেই বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে “ফ্যামিলি কার্ড” চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সহায়তা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী চালু, প্রিপেইড বিদ্যুতের অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখা সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কৃষি খাতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, “কৃষক কার্ড” চালু এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির পুনরুজ্জীবনকে অনেকেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সরকারের আর্থিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

তরুণদের জন্যও এসেছে নতুন সম্ভাবনার বার্তা। ফ্রিল্যান্সারদের রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র, স্টার্ট-আপ ফান্ড, ফ্রি ওয়াই-ফাই, স্মার্ট ক্লাসরুম, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ তরুণ সমাজকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে তোলার পরিকল্পনার অংশ। সরকার বুঝতে পেরেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী।

শুধু উন্নয়ন নয়, সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও আলোচনায় এসেছে। শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও আলোচিত হত্যা মামলাগুলোতে দ্রুত বিচার কার্যক্রম এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে সরকারের উপস্থিতি জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। “প্রধানমন্ত্রী জনগণের দুয়ারে” এই বার্তাটি প্রেস ব্রিফিংয়ের অন্যতম শক্তিশালী দিক ছিল। একজন সরকারপ্রধান যখন প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে যান, তখন তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের বিষয়টিও ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন পর প্রাণবন্ত সংসদ অধিবেশন, বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দ্রুত স্থায়ী কমিটি গঠন গণতান্ত্রিক চর্চাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা।

তবে এই ১০০ দিনের মূল্যায়নে সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়ও রয়েছে। উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় জনগণ এখন বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়। ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, সরকারের প্রথম ১০০ দিন ছিল পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার সময়। এই সময়ে সরকার উন্নয়ন, সংস্কার, মানবিকতা ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের যে চিত্র তুলে ধরেছে, তা জনগণের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। এখন সেই আশাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষায়,
“করবো কাজ, গড়বো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।”

এই স্লোগান কেবল একটি রাজনৈতিক আহ্বান নয়; বরং আগামী বাংলাদেশের স্বপ্ন নির্মাণের এক প্রতিশ্রুতি।

এইচ এম সাইফ আলী
তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ সম্পাদক
জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থকারী হিসেবে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সাথ...
19/05/2026

শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে ইরাক-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থকারী হিসেবে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সাথে।

04/01/2026

Address

28, 1 VIP Road
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জাতীয়তাবাদের পাঠশালা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to জাতীয়তাবাদের পাঠশালা:

Shortcuts

Share