11/08/2026
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন কোনো সিন্ডিকেট নয়:
স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও জি-টু-জি (BOESL) ব্যবস্থায় কর্মী পাঠাতে হবে—অভিবাসন ব্যয় সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের কঠোর প্রতিবাদ ও জোরালো দাবি:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার খবরে লাখো কর্মপ্রত্যাশী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে যদি আবারও সিন্ডিকেট, দালালি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, কমিশন-বাণিজ্য কিংবা প্রভাবশালী মহলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়—তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে ২৫ সদস্যের সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা এবং এজেন্সিপ্রতি বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার—
🔴 মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, নেতা, এমপি, ব্যবসায়ী, দালালচক্র বা নির্দিষ্ট কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
🔴 নতুন কোনো সিন্ডিকেট গঠন করে কর্মীদের জিম্মি করা যাবে না। অতীতের সিন্ডিকেটের পুনরাবৃত্তি হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
🔴 কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দালালি, চাঁদাবাজি, কমিশন-বাণিজ্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
🔴 সম্ভব হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় জি-টু-জি (G2G) এবং BOESL-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি যুক্ত হলে তাদের জন্যও স্বচ্ছ, উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 কর্মীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অযৌক্তিক অর্থ নেওয়া যাবে না। একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে মোট অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
🔴 কর্মীপ্রতি মোট ব্যয়, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ, ভিসা/প্রসেসিং/মেডিকেল/টিকিটসহ প্রতিটি খাতের ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
🔴 কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থের বিনিময় কিংবা প্রভাব-তদবিরের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
🔴 কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
🔴 অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অনিয়মের কারণে হাজার হাজার কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
আমাদের স্পষ্ট দাবি:
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
আমরা চাই—
জি-টু-জি (G2G) ও BOESL-কেন্দ্রিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা।
সবার জন্য সমান ও উন্মুক্ত সুযোগ।
কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার মধ্যে অভিবাসন ব্যয়।
কোনো দালালি, চাঁদাবাজি বা কমিশন-বাণিজ্য নয়।
প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি নজরদারি।
কড়া কথা পরিষ্কারভাবে শুনে রাখুন—
প্রবাসীদের ঘাম ও কষ্টের টাকা দিয়ে কোনো সিন্ডিকেটকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে আবারও কিছু মানুষের লুটপাটের বাজারে পরিণত করার চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ নীরব থাকবে না।
কর্মী পাঠানোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সিন্ডিকেট গঠন কিংবা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা জনগণ ও প্রবাসীদের নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হব।
সরকারের প্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান—
সিন্ডিকেট বন্ধ করুন।
দালালি বন্ধ করুন।
চাঁদাবাজি বন্ধ করুন।
কর্মীদের জিম্মি করা বন্ধ করুন।
স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হবে কর্মীদের জন্য—কোনো সিন্ডিকেটের জন্য নয়।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ আপসহীন।
“এসো, এক হই—অধিকারের কথা কই”
“প্রবাসীদের অধিকার—আমাদের অঙ্গীকার”
বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ