28/07/2026
শীতের কনকনে বাতাস আর বর্ষার পানি আসবেনা এখন আয়তুনের ঘরে -
বর্ষাকাল আসলেই আয়তুনের ঘরে পানি পড়ে, শীতে আসে হিম বাতাস| এভাবেই কাঁদামাখা ছোট্ট মেঝেতে চলে ৩ জনের সংসার| আয়তুন অসুস্থ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধী। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী চলে গেছে শহরে, আর ফেরেনি| সমাজ সংসারের নানা অবহেলা, বঞ্চনা দেখে বেড়ে উঠেছে সে। যৌতুকের নিষ্ঠুর খড়গ এবং তার জেরে চলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নানা সময়ে, নানা ভাবে| বলছিলাম সুন্দরবনের পেছনে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামের খালধারের আয়তুনের কথা। তার সহজসরল জীবন-যাপন দেখে ছোটকালে তার বাবা আক্ষেপ করে বলেছিল আমার এই সিধা মেয়ের কপালে কি যে হবে! বাবার আক্ষেপ সত্যো পরিনত হলো| যদিও বাবা এখন মৃত| মাতা ফজিলা খাতুন আজও বেঁচে আছেন, থাকেন তাদের সাথে|
আয়তুন ২০১৭ সালে ফিরে আসেন বাবার ভিটায়| অভাবের তাড়নার কথা বলতে গেলে নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা| খেয়ে না খেয়ে ভিক্ষা করে চলে তাদের সংসার| আয়তুনের কোন ঘর নেই, সিমেন্ট শীটের পুরাতন চালা তার উপর বেড়া কেটে টুকরো টুকরো করে দিয়ে কোনভাবে চালা নির্মাণ করেছে। যদিও ঘরের চালায় বড়বড় ফাটল পলিথিন দিয়ে আটকানো, নেই ঘরের দু’পাশের বেড়া| বরষার বৃষ্টি আর শীতের কনকনে বাতাস মাথায় নিয়েই মানবেতর জীবন| এতেই তাদের সংসার।
নিজের পক্ষে ঘর করার ক্ষমতা নেই আয়তুনের, কোনদিন হবেনা, তা মেনেও নিয়েছিলেন তারা| তবে অসহায় আয়তুনের পাশে দাঁড়িয়েছে দাতা সংস্থা নাবিক। ব্রতীর সহযোগিতায় করে দিয়েছে একটি আধাপাঁকা ঘর। এ যেন স্বপ্নের মতো আয়তুনের কাছে। সারাজীবনের অন্তিম আকুতি ‘একটি ঘর’ এখন তাদের চোখের সামনে। এটি কেবল একটি ঘর নয়, এটি তাদের গভীরতম আবেগ, শান্তি ও ভালোবাসার জায়গা। এটি তাদের নিঃস্ব জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অনেক খুশিঁ আয়তুন বলেন স্বামী চলে যাওয়ার পরে অনেক কষ্টের দিন দেখেছেন, অনেকেই পাশে এসেছে কিন্তু নাবিক ও ব্রতীর মত এমন করে কেউ আসেনি| দুঃখের কথা বলতে যেয়ে কেঁদে ফেলেন আয়তুন। নতুন নিরাপদ আধাঁপাকা ঘরটিতে বৃদ্ধ মা ও প্রিয় মেয়েকে নিয়ে থাকেন| শীতের কনকনে বাতাস আর বর্ষার পানি আসবেনা এখন আর আয়তুনের স্বপ্নের ঘরে।