10/07/2026
বাঙালি মেয়েদের গ্লোবাল আইকন ও ইনস্টিটিউশন হিসেবে দাবিকৃত আইরিন খান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বোন। তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর মহাসচিব, জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা যারা এতদিন ধরে প্রশ্ন করেছিলাম , " গত দুই বছর ধরে দেশে এত অন্যায় - অবিচার ও মব ভায়োলেন্সে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিশ্চুপ কেন ❓
তার প্রধান কারণ মেরুদণ্ডহীন আইরিন জুবাইদা খান।
👉 দীপু দাসকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর তার বক্তব্য নাই।
👉 সেনাবাহিনীর বুট চাপায় ইমনের মৃত্যুর পর তার বক্তব্য নাই।
👉 ভাত খাইয়ে তফাজ্জল হত্যা , শামীম ও মাসুদের হত্যার পরও প্রতিবাদে তার একটা বিবৃতি নাই।
👉হামে ৭০০ শিশুর মৃত্যুর পরও তার ইউনূসের গ্রেফতার নিয়ে একটা বিবৃতি দেখলাম না।
অথচ গত কয়েকবছর এই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর জ্বালায় ফেসবুকে থাকা যেতো না।
এখন আমাকে বলেন, তার হার্ভার্ড ও ম্যানচেস্টারের ডিগ্রি ধুয়ে ধুয়ে দেশের মানুষ কি জল খাবে?
➡️ ছোটবেলায় আমরা অ্যারাবিয়ান নাইটস দেখতাম । আলাদীনের প্রদীপের দৈত্যরে স্বপ্নে দেখে নিজের ইচ্ছার কথা বলতাম। কিন্তু অ্যারাবিয়ান নাইটস আর আমাদের বাস্তবের জগত এক বিষয় নয়। আইরিন খান বাংলাদেশের ডেইলি স্টার পত্রিকার পরামর্শক হিসেবে কাজ করলেও ইউনূসের ১০০ দিনে ৬০০ মানুষের মব ভায়োলেন্স মৃত্যু নিয়ে একটি টু-শব্দ পর্যন্ত করেননি। বিবেক পচে যাওয়া এসব মানুষের শিক্ষা দিয়ে দেশের দুর্গতি ছাড়া কি ভালো কিছু হবে ❓
🔴 বেলজিয়ামের মুসলমানদের জন্য বুকিনি পার্টি নিষিদ্ধ হলে বেলজিয়ামের মুসলিম নারীরা নেকাব , বিকিনি ও বুকিনি পরে অদ্ভুত প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। জার্মানিতে এক মুসলিম নারীকে নেকাব/ বোরকা পরে মুখ ঢাকার জন্য একটা শপিং মলে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এসবের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তৎকালীন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল।তিনি বলেছিলেন , " জার্মানির সংস্কৃতিতে মুসলমানদের এসব নেকাব গ্রহণযোগ্য নয় " । এর কিছুদিন পরে তার সাথে এক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি। এসব নিয়ে তিনি টু - শব্দ করেননি। এজন্যই কথায় আছে , " নিজ দেশের স্বার্থ পাগলেও বুঝে।" আমাদের আইরিন খান বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থায় মূলত বিএনপি ও জামায়াতের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া কখনোই বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেননি।
এমন মানবতাহীন মানুষের কুকর্মের জন্য UNHCR এর মাধ্যমে জামায়াত শিবিরের বিভিন্ন জঙ্গিরা গত ১৬ বছরে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে স্থায়ী হয়ে গেছে।এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো ভয়াবহ বিপাকে পড়ে একের পর এক নাটকের সাক্ষী হয়ে বোরকা ও হিজাব গত কয়েকবছর ধরে নিষিদ্ধ করছে। আইরিন খানরা মূলত প্রগতিশীলতার ভেক ধরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে রাজনীতির নামে বাংলাদেশের মানুষকে বোরকা পরিয়েছেন।
🔴 আইরিন খানের প্রসঙ্গ মনে আসতেই আমার সুরা আল বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতের কথা মনে পড়লো । সেখান বলা হলো -
" তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র; এতএব তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের শস্যক্ষেতে গমন করো।"
বাঙালির কাছে শস্যক্ষেত্র হচ্ছে ফসলের মাঠ। ফলে নারীরা মুসলিম পুরুষের কাছ ফসলের মাঠ হয়ে গেলো। এখন তাদের মস্তিষ্কে ভাইরাস তৈরি হয়ে গেল, বীজ লাগাতে হবে! তাদের হাত মনের অজান্তে চলে গেল _নুতে। ঈমানি দণ্ড খাড়া হয়ে যেতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পথ ধরলো । আজকের বাংলাদেশে মসজিদ ও মাদ্রাসায় পর্যন্ত আমাদের ছোট ছোট শিশুরা নিরাপদ নয়। এমন পবিত্র স্থানে বছরের পর বছর শত শত শিশু ধর্ষিত ও বলোতকার হওয়ার পরও আইরিন খানের অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে টুঁশব্দটিও করেনি।মানবতার পরাজয় এখানেই। যার মধ্যে মনূষ্যত্ববোধ ও মানবতা বেঁচে নেই , তাকে মানুষ বলি কী করে?
এতক্ষণ পর্যন্ত আইরিন খানের জীবনী পড়ে আপনার হয়তো তাকে সুপার কম্পিউটার বা জামায়াত শিবির নিয়ন্ত্রিত এআই রোবট মনে হচ্ছে। কিন্তু তিনি কাজ করেছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ন্যানোবটের মতো নিঃশব্দে। এসব ভাবতে গিয়ে ছোটবেলার একটি আরবী শব্দ মনে পড়ে গেল। শব্দটি হচ্ছে " ওয়াদরিবুহুন্না" অর্থ হচ্ছে প্রহার করা। এই প্রসঙ্গে কোরআনের সুরা আন - নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -
" পুরুষরা নারীদের অভিভাবক - আর যেসব স্ত্রী অবাধ্য হয় , তাদের উপদেশ দাও এবং প্রহার করো।"
কিন্তু ২০০০ সালের পর কুরআনের নতুন আয়াতে এই শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে বলা হয়েছে - " খাট পৃথক করো" ।
এমন আরেকটি আয়াত ছিল - ঋণের ক্ষেত্রে পুরুষ না একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী! সুরা আন - নিসা তে সম্পদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ,
" উত্তারাধিকারে ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান ' '
আইরিন খান একজন নারী হয়েও নারীদের অধিকার নিয়ে এই দেশে টু শব্দ পর্যন্ত করেননি। একজন নারী হয়েও বাংলাদেশের মধ্যে যখন একের পর এক নারীর স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক জীবনকে উগ্রবাদের নামে কবর দেয়া হচ্ছিল , মেরুদণ্ডহীন নারী হয়ে তিনি টুঁশব্দটিও করেননি। ৫ আগষ্ট একজন ৭৯ বছর বয়সী নারীর অন্তর্বাস নিয়ে উল্লাস করা হলো , কিন্তু তার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি বিবৃতি বিশ্ববাসীর কারো চোখে পড়েনি। নারী ( মন্ত্রীদের ) যখন আদালত চত্বরে কিল ঘুষি দেয়া হচ্ছিল এই মেরুদণ্ডহীন নারী একটি শব্দও করেননি। আদালতের সামনে বন্দী নারীদের উপর যখন মৌলবাদীরা হামলা করেছে তিনি একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করেননি।অর্থাৎ তিনি জামায়াত শিবির ভাইরাসে আক্রান্ত। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করতে এখন জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হয়ে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উঠে গেছেন। এজন্যই তিনি যখন মেরুদণ্ডহীন মহাসচিব হয়ে বসেছিলেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে তখন বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা মরে গেছে। মব ভায়োলেন্স করে বিচারপতিকে অপসারণ করা হলো তার একটা বিবৃতি জাতি দেখেনি। এজন্যই বলা হয় -
" The Judge must not be baised . অর্থাৎ বিচারকের পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া উচিত নয়।
তাই তথাকথিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বানিয়ে তারেক রহমানের ভায়রা - বোন আইরিন খানকে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি বানানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হলো। এমনিতেই জাতিসংঘকে বলা হয় আমেরিকার হাতের পুতুল। সেই আমেরিকায় পকেটে বাণিজ্য চুক্তি করে নির্বাচনের তিনদিন আগে ঢুকে গেছে বিএনপি ও জামায়াত সরকার। সেই আমেরিকার খেলার পুতুল বিএনপি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিলেন আরেক পুতুল আইরিন খান। তার মানে পুরো জাতিসংঘকে এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে আমেরিকা। এটি একটি দেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এজন্যই এই জাতিসংঘ সম্পর্কে বলতে গিয়ে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন -
" The united Nations has been turned into a tool of the united States" " ( জাতিসংঘ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।)
অপরদিকে জাতিসংঘ সম্পর্কে লিবিয়ার গাদ্দাফি বলে গেছেন,
" It should not be called the Security Council, it should be called the terror council " ( এটাকে নিরাপত্তা পরিষদ না বলে সন্ত্রাসী পরিষদ বলা উচিত)
তাই এতক্ষণে আইরিন খানের বড় বড় ডিগ্রি দেখে যারা খাট উলটে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিচ্ছিলেন খুশিতে, তারা এখন থেকে খাট উলটে একজন একজন করে পাকিস্তান জিন্দাবাদ হয়ে যেতে থাকবেন। জাতিসংঘের মতো দেশের নাম বাংলাদেশ থাকবে , কিন্তু তথাকথিত সিকিউরিটি কাউন্সিলের নামে টেরর পরিষদ এর মতো ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হয়ে যাবে " জঙ্গি পরিষদ " । এই জঙ্গি পরিষদের রূপকথার গল্প লিখতেই জুবাইদা রহমানের বোন আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় জাতিসংঘের পুতুল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের সমঝোতার বাংলাদেশ সরকার।
সত্য সবসময় সুন্দর।
ক্যাকটাস ফিঞ্চ ডায়েরি
১০-০৭-২০২৬