MIBD Course

MIBD Course Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from MIBD Course, Public School, Uttara, Dhaka.

13/12/2022

বিজয়ের পর ইসলাম কী করতে শেখায়
মাওলানা আবু হাসসান রাইয়ান বিন লুৎফুর রহমান

আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। এই দ্বীনকে তিনি বহু বিষয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল, এটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন। সর্বজনীন দ্বীন। জীবনের প্রতিটি লগ্নে, প্রতিটি অঙ্গনে এই দ্বীন আমাদেরকে সঠিক পথনির্দেশনা প্রদান করে। এই চিরন্তন বিধান ও নির্দেশনা পালনের মাধ্যমেই আমরা লাভ করতে পারব ইহলৌকিক-পারলৌকিক সফলতা।

মানুষের ব্যক্তিজীবন এবং জাতীয় জীবনে সফলতা-ব্যর্থতা আছে। উত্থান-পতন আছে। কিন্তু এইসকল পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের বিশ্বাস ও চেতনা, আচরণ ও কর্মপন্থা অন্য সবার থেকে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র হওয়া উচিত। বিশেষত যেসব ক্ষেত্রে শরীয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান; যার যথাযথ মূল্যায়ন করা মুমিন হিসেবে আমাদের অপরিহার্য দায়িত্ব।

যখন বিজয় অর্জিত হয়, জমিনের বুকে কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় তখন মুমিন-মুসলিম হিসেবে আমাদের বেশ কিছু করণীয় আছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল।

এক.

সর্বপ্রথম আমাদের কর্তব্য হল, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা, বিজয় একমাত্র আল্লাহর দান। তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ না হলে বিজয় অর্জন কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

قَالَ الَّذِیْنَ یَظُنُّوْنَ اَنَّهُمْ مُّلٰقُوا اللهِ كَمْ مِّنْ فِئَةٍ قَلِیْلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِیْرَةًۢ بِاِذْنِ اللهِ وَ اللهُ مَعَ الصّٰبِرِیْنَ.

যারা দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর সঙ্গে তাদের মিলিত হতে হবে, তারা বলতে লাগল, কত ক্ষুদ্র দল আল্লাহর হুকুমে বড় দলের উপর জয়ী হয়েছে। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। -সূরা বাকারা (২) : ২৪৯

বস্তুত বিজয় অর্জন সম্পর্কে একজন মুমিনের অনুভব-অনুভূতি এমন হওয়াই কাম্য।

দুই.

বিজয় যেহেতু আল্লাহর দান ও নিআমত তাই মুমিন বান্দার কর্তব্য হল, এই নিআমতের উপর আল্লাহর শোকর আদায় করা। আর ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

اِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَ الْفَتْحُ، وَ رَاَیْتَ النَّاسَ یَدْخُلُوْنَ فِیْ دِیْنِ اللهِ اَفْوَاجًا،فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَ اسْتَغْفِرْهُ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا.

যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং লোকদের দেখবেন তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে। তখন আপনি স্বীয় রবের স্বপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করতে থাকবেন এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। -সূরা নাসর (১১০) : ১-৩

তিন.

বিজয় অর্জনের পর মুমিন বান্দার দায়িত্ব হল, বিনয়ী হওয়া, বিশৃঙ্খল না হওয়া। অবনত হওয়া, উদ্ধত না হওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

تِلْكَ الدَّارُ الْاٰخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِیْنَ لَا یُرِیْدُوْنَ عُلُوًّا فِی الْاَرْضِ وَ لَا فَسَادًا وَ الْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِیْنَ.

ওই পরকালীন নিবাস আমি তাদের দেব, যারা যমীনের বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর শুভ পরিণাম আল্লাহভীরুদের জন্য। -সূরা কাসাস (২৮) : ৮৩

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিজয়ীরূপে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন এবং যি তুয়া নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন ইয়ামানী লাল চাদরের অংশবিশেষ দ্বারা মস্তক ও চেহারা ঢেকে ফেললেন। আল্লাহ তাআলা যে এই বিজয় দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করেছেন এদিকে লক্ষ করে আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশে এমনভাবে মাথা অবনত করলেন যে, তাঁর দাড়ি হাওদার মধ্যখান ছোঁয়ার উপক্রম হল। -আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ. ৪, পৃ. ২৯৩

অথচ একদিন কুরাইশদের অত্যচারের দরুন এই মক্কা নগরী থেকেই তিনি হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবীর উপর অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যিনি আমাদের সামনে এই অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

চার.

বিজয় অর্জিত হওয়ার পর মুমিন বান্দাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল, যিনি বিজয় দিয়েছেন তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যিনি ভূখ- দিয়েছেন তাঁর বিধান নিজেদের জীবনে এবং সমাজের সব অঙ্গনে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক ও অনুগত বান্দাদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন-

اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَ لِلهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ.

তারা এমন যে, আমি তাদের পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করলে তারা নামায কায়েম করবে। যাকাত প্রদান করবে এবং সৎকর্মের আদেশ দেবে এবং অসৎকার্য থেকে নিষেধ করবে। আর সবকিছুর পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে। -সূরা হাজ্জ্ব (২২) : ৪১

আল্লাহ প্রদত্ত শরয়ী বিধানের যথাযথ অনুসরণের দ্বারা ভূখণ্ডের অধিবাসীগণই উপকৃত হবে। সর্ব প্রকার কল্যাণ ও বরকতে তাঁরা ধন্য হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ لَوْ اَنَّ اَهْلَ الْقُرٰۤی اٰمَنُوْا وَ اتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الْاَرْضِ وَ لٰكِنْ كَذَّبُوْا فَاَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا یَكْسِبُوْنَ.

যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও পরহেযগারী অবলম্বন করত, তবে আমি তাদের জন্য অবশ্যই উন্মুক্ত করে দিতাম আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ। কিন্তু ওরা অস্বীকার করেছিল। অতএব আমি ওদের কৃতকর্মের কারণে ওদের পাকড়াও করেছি। -সূরা আ‘রাফ (৭) : ৯৮

পাঁচ.

বিজয় অর্জিত হওয়ার পর মুমিন বান্দাদের সবচে বড় দায়িত্ব হল, আল্লাহপ্রদত্ত ভূখণ্ডকে সব ধরনের গোনাহ ও নাফরমানী থেকে মুক্ত রাখা। কেননা গোনাহ যখন ব্যাপক আকার ধারণ করে, আল্লাহর নাফরমানী সীমা অতিক্রম করে, তখন ভূখণ্ডের অধিবাসীদের উপর ধ্বংস ও বরবাদি নেমে আসে। বিভিন্ন কল্যাণ ও বরকত থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়ে যায়, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে এই বিজয় পরাজয়েও রূপান্তরিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَ اِذَاۤ اَرَدْنَاۤ اَنْ نُّهْلِكَ قَرْیَةً اَمَرْنَا مُتْرَفِیْهَا فَفَسَقُوْا فِیْهَا فَحَقَّ عَلَیْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنٰهَا تَدْمِیْرًا.

আমি যখন কোনো জনপদ ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন তার ঐশ্বর্যশালী লোকদের (ঈমান ও সৎকর্মের) আদেশ করি। কিন্তু ওরা সেখানে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, ফলে সেই জনপদের ব্যাপারে (শাস্তির) কথা অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করে দেই। -সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ১৬

ইউরোপের একটি সামুদ্রিক দ্বীপ হল সাইপ্রাস। আরবীতে বলা হয় কুবরুস। খলীফায়ে রাশেদ হযরত উসমান রা.-এর শাসনামলে ২৮ হিজরী সনে সাইপ্রাস দ্বীপের উপর মুসলিমদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন এই বিজয় অর্জিত হল, তখন দেখা গেল সবাই আনন্দে উদ্বেলিত, কিন্তু একজন মানুষ ক্রন্দনরত। তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূলের বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবুদ দারদা রা.। তখন জুবাইর ইবনে নুফাইর তাঁকে জিজ্ঞাসা করল আপনি কেন কাঁদছেন? অথচ আজ আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে সম্মানিত করেছেন।

তিনি বললেন, আফসোস তোমার প্রতি! নিশ্চয়ই এই জাতি ছিল বড় প্রতাপশালী জাতি। তাদের ছিল অনেক বড় রাজত্ব। কিন্তু যখন তারা আল্লাহর হুকুম নষ্ট করল তখন তিনি তাদের এই পরিণতি ঘটালেন, যা তুমি দেখতে পাচ্ছ। আল্লাহর বান্দারা যখন আল্লাহর বিধান পরিত্যাগ করে তখন তারা কীভাবে অপদস্থ হয়ে যায়! -আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া, ফাতহু কুবরুস অধ্যায় ৭/১১০

এত বড় বিজয় অর্জিত হওয়ার পরও হযরত আবুদ দারদা রা. যেই অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কায় ক্রন্দন করেছিলেন, সেই আশঙ্কাই আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। হযরত শায়খুল ইসলাম তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম বলেন- এখন আমরা সেখানে গিয়ে হযরত আবুদ দারদা রা.-এর সেই শঙ্কার বাস্তবতা স্বচক্ষে দেখতে পাই। অর্থাৎ কুবরুসের বিশাল একটা অংশ মুসলমানদের হাত থেকে ছুটে গিয়েছে। আপনারা হয়তো শুনে থাকবেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এ অঞ্চল নিয়ে গ্রীক ও তুর্কীদের মাঝে যুদ্ধ চলছিল। গ্রীকরা বলছিল এটা আমাদের এলাকা। আমরা এখানে শাসন করব। তুর্কী সরকার বলছিল, আমরা এখানে শাসন করব, এটা আমাদের অঞ্চল। একপর্যায়ে জাতিসংঘের সালিশিতে কুবরুস দ্বীপকে দুই ভাগ করা হয়। একটি অংশ দিয়ে দেয় গ্রীকদের। আরেক অংশ তুর্কীদের!... (দ্র. মাসিক আলকাউসার, অক্টোবর ২০১৯, পশ্চিমে পাড়ি জমানোর আগে একটু ভাবুন, কুবরুস সফর : কিছু শিক্ষা, হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী)

হযরত আবুদ দরদা রা. কেঁদে কেঁদে যে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আজ তা স্বচক্ষে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই দ্বীপ আমাদের হাতে নেই। ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাদের এই বাস্তবতা উপলব্ধি করার তাওফীক দান করুন।

ছয়.

বিজয় অর্জিত হওয়ার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, দেশে শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং জনগণের ঈমান-আকীদা হেফাজতের জন্য আল্লাহর দরবারে সকাতর প্রার্থনা করা। যেমনটা করেছিলেন হযরত ইবরাহীম আ.। কুরআনের ভাষায়-

وَ اِذْ قَالَ اِبْرٰهِیْمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا الْبَلَدَ اٰمِنًا وَّ اجْنُبْنِیْ وَ بَنِیَّ اَنْ نَّعْبُدَ الْاَصْنَامَ.

স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম বললেন, হে আমার রব! এই শহরকে করুন নিরাপদ এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততিকে প্রতিমার পূজা থেকে দূরে রাখুন। -সূরা ইবরাহীম (১৪) ৩৫

এমনকি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করে এলেন, তখন দুআ করেছিলেন-

اللّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا المَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ، اللّهُمَّ وَصَحِّحْهَا، وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّهَا وَصَاعِهَا، وَانْقُلْ حُمَّاهَا فَاجْعَلْهَا بِالْجُحْفَةِ.

হে আল্লাহ! মক্কার প্রতি আমাদের অন্তরে যে মহব্বত সেই পরিমাণ অথবা তার চেয়ে অধিক মহব্বত মদীনার প্রতি তৈরি করে দেন। হে আল্লাহ! মদীনাকে স্বাস্থ্যকর স্থানে পরিণত করুন এবং আমাদের জন্য মদীনার মুদ ও সা (বিশেষ ধরনের পরিমাপক) এর মধ্যে বরকত দান করেন। আর মদীনার জ¦রকে জুহফা নামক স্থানে স্থানান্তরিত করে দেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯২৬

সুতরাং শাসকবৃন্দের দায়িত্ব হল, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঈমান-আকীদা হেফাজতের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সাত.

এই প্রসঙ্গে সর্বশেষ কথা হল, বিজয় অর্জন করা এক জিনিস। বিজয় অক্ষুণœ রাখা আরেক জিনিস। প্রত্যেক মুসলিম নাগরিকের দায়িত্ব হল, নিজ নিজ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সজাগ দৃষ্টি রাখা। নতুবা স্পেন, ফিলিস্তীন, কাশ্মীর, আরাকানের ভাগ্য-বিপর্যয় আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। মিসর বিজেতা বিখ্যাত সাহাবী আমর ইবনুল আস রা. মুসলিম উম্মাহকে এই দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন-

أنتم في رباط دائم إلى يوم القيامة لكثرة الأعداء حولكم وتشوق قلوبهم إليكم...

কিয়ামত পর্যন্ত তোমাদেরকে সর্বদা এই ভূখণ্ডের পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকতে হবে। কেননা তোমাদের চারপাশে অসংখ্য শত্রু ওত পেতে আছে।... (আননুজূমুয যাহিরাহ ফী মুলূকি মিস্র ওয়াল কাহিরাহ ১/৯২)

আল্লাহ আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমিসহ প্রতিটি মুসলিম ভূখণ্ডকে রক্ষা করুন, তাদেরকে ঈমান ও ইসলামের সাথে কবুল করুন, সর্বপ্রকার কল্যাণ দান করুন- আমীন।

13/12/2022

বণ্টনে বিলম্ব করার বাহানাসমূহ

উপরের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মিরাস বণ্টন না করা বা বণ্টনে বিলম্ব করা কত বড় গুনাহ। এতদসত্ত্বেও অনেক হিলা-বাহানা করে মানুষ বণ্টনে বিলম্ব করতে থাকে। মনে রাখবেন, কোনো ছুতোর আড়ালে এই কাজ জায়েয হয়ে যাবে না; গুনাহ গুনাহই থাকবে। আল্লাহ তাআলা আলিমুল গাইব। তাঁর সকল হুকুম ও সকল ফায়সালা ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁকে হিলা-বাহানার দ্বারা ধোঁকা দেয়া সম্ভব নয়। সেজন্য আমাদের কর্তব্য- সবধরনের হিলা-বাহানা ছেড়ে শরীয়তের বিধান মোতাবেক যত দ্রুত সম্ভব মিরাস সংশ্লিষ্ট হকগুলো আদায় করা এবং ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার প্রতি পরিপূর্ণ গুরুত্বারোপ করা।

এখানে কিছু বিষয় আলোচনা করা মুনাসিব মনে হচ্ছে, যেগুলোকে সাধারণত হিলা-বাহানা বানিয়ে মিরাস বণ্টনে বিলম্ব করা হয়। এগুলো একদম অনুচিত।

১. মা জীবিত আছেন!

কেউ বলে, মা জীবিত আছেন, এখন কীভাবে আমরা মিরাস বণ্টন করব? অথচ মা’র অস্তিত্ব আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত। তিনি থাকাবস্থায়ই মিরাস বণ্টনের বরকতপূর্ণ কাজ অতি দ্রুত সমাধা করে ফেলা উচিত। অথচ উল্টো এটাকে বণ্টন বিলম্ব করার বাহানা বানায়। শরীয়ত তো যত দ্রুত সম্ভব বণ্টনের হুকুম করে আর আমরা মায়ের ইনতিকাল পর্যন্ত মুলতবি করি; এর কী বৈধতা আছে? এই অজুহাতে টালবাহানা করলে বা বিলম্ব করলে বণ্টনে বিলম্ব করার গুনাহসহ আরো যত গুনাহের জন্ম হয়- এগুলোর মধ্যে কি কোনো কমতি হবে? নিজের মন মতো কোনো কারণ দেখিয়ে কাকে ধোঁকা দিতে চায়?

২. মা বাধা দেন বা বড় ভাই সম্মত নয়!

কেউ বলে, আমরা তো বণ্টন করতে চাই, কিন্ত মা বাধা দেন কিংবা আমাদের বড় ভাই বা অমুক ভাই সম্মত নয়! সবাই বোঝে, এটা কোনো ওযর নয়। শরীয়তের অকাট্য বিধান-

لا طاعة لمخلوق في معصية الله عز وجل.

‘আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে কারো আনুগত্য করা হারাম।’

৩. জায়গা-জমি বণ্টনযোগ্য নয়

কখনো বলে, মিরাস এত ছোট একটা ঘর যে, সেটা শরীকদের মধ্যে ভাগ করে দিলে আর কাজে লাগবে না। এটাও ধোঁকা। কারণ শরীয়ত বাহ্যিকভাবে বণ্টনযোগ্য নয়, এমন জিনিস কীভাবে বণ্টন করবে, তার বিধানও দিয়েছে, যা ফিকহ-ফতোয়ার কিতাবসমূহে কিসমা অধ্যায় (كتاب القسمة) ও তাখারুজ পরিচ্ছেদ (فصل في التخارج)-এর অধীনে শরীয়তের দলীলসহ উল্লেখ আছে। এসব বিধান জেনে সে অনুযায়ী আমল করা ফরয। পুরো মিরাস বা মিরাসের কোনো অংশ অবণ্টনযোগ্য হওয়াকে বণ্টন না করা বা বিলম্ব করার ছুতো বানানো ঠিক নয়। এটুকু তো সবাই বোঝে যে, অবণ্টনীয় জিনিসের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে তার মূল্য সবার মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনাও দেখার সুযোগ হয়েছিল। পিতার ইনতিকালের পর ভাইয়েরা নিজেদের অংশ তো বণ্টন করেছে, কিন্তু বোনদেরকে হিস্যা বুঝিয়ে দেয়নি। এক বোন বলল, আমার অংশ মসজিদের (বাড়ির সামনে অবস্থিত মসজিদ) জন্য ওয়াকফ করে দিলাম। তখন এক ভাই বলল, তোমার অংশ তো পুকুরেও আছে, হাম্মামেও আছে; এখন সেটা মসজিদের জন্য কীভাবে দেবে!! চিন্তা করুন, মানুষ অন্যের হক আদায় না করার জন্য কত আশ্চর্যজনক বাতিল ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। সেই বেচারীর অংশ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে- এতে কোনো সমস্যা নেই। মসজিদের জন্য দেয়ার কথা উঠেছে; তাই এখন যত হিলা-বাহানা!

৪. জায়গা-জমি নিয়ে মামলা চলছে

এটাও বাহানা। কারণ জমিতে বাস্তবেই যদি অন্যের হক থাকে, সেটা আদায় করা ফরয। আর মোকদ্দমা যদি যুলুমের কারণে হয় এবং বাস্তবেই তা বণ্টনে প্রতিবন্ধক হয় তাহলে সবাই মিলে এ ব্যাপারে পরামর্শ করে ও চিন্তা-ভাবনা করে মোকদ্দমার ফয়সালা করাতে হবে; চুপচাপ বসে থাকার কী অর্থ?

এটাও অবাক করা বিষয় যে, মিরাসের জায়গা-জমি এক বা একাধিক ওয়ারিসের দখলে বা ব্যবহারে থাকবে- এক্ষেত্রে মোকদ্দমা প্রতিবন্ধক নয়; কিন্তু কোনো হকদার যখন নিজের অংশ চায় তখন মোকদ্দমা প্রতিবন্ধক হয়ে যায়। এটা তামাশা নয় তো কী?

৫. সকল অংশীদার বণ্টন করতে চায় না

এটাও মিথ্যা অজুহাত। কারণ কেউ বণ্টনের দাবি না করলেও বণ্টন করা জরুরি। আর একজনও যদি দাবি করে তখন বণ্টন করা তো আরো বেশি জরুরি হয়ে যায়; কারো না চাওয়ার কারণে বণ্টনে বিলম্ব করা জায়েয নয়।

৬. আরো কিছু বাহানা

কখনো বলে, ‘কোনো কোনো ওয়ারিস ছোট; সেজন্য এখন বণ্টন করা মুনাসিব নয়। তারা বড় হোক, শিক্ষা-দীক্ষা পূর্ণ হোক এরপর বণ্টন করব।’

‘কোনো কোনো ভাই-বোনের বিয়ে হয়নি। তাদের বিয়ে হলে পরে বণ্টন করব।’ এটাও নিছক বাহানা। এ কারণে মিরাস বণ্টনে বিলম্ব করা জায়েয নয়।

কেউ বলে, ‘কী জিনিসই বা রেখে গেছে। এগুলো ভাগ করে দিলে প্রত্যেকের অংশে কতটুকুই বা পড়বে’। মনে রাখবেন, এটাও নিছক বাহানা । যদি প্রত্যেক শরীক এক টাকা বা আট আনা করে পায় তাহলে সেটাও তাদের হক। ভাগ করে প্রত্যেককে তাদের অংশ দিয়ে দেয়া জরুরি।

কিছু লোক তো এমন, যাদের কাছে মিথ্যা অজুহাতও নেই। তখন তারা এই বলে যে, ওয়ারিসরা সবাই সচ্ছল। কিংবা অমুক অমুক সচ্ছল। তাদেরকে মিরাসের অংশ দেয়ার প্রয়োজন নেই। অথবা বলে, এই মাত্র বাবার/মা’র/ভাইয়ের/চাচার ইনতিকাল হল। এখনই মিরাস বণ্টনে বসে গেলে মানুষ কী বলবে?

কে না বোঝে, এগুলো-

عذر گناہ بدتر از گناہ.

(গুনাহের অজুহাত দাঁড় করানো গুনাহের চেয়েও জঘন্য)-এর অন্তভুর্ক্ত। শরীয়তের হুকুম জানার পর এ ধরনের অজুহাতের আশ্রয় নেয়া স্পষ্ট হারাম। ‘লোকে মন্দ বলবে’- এ কারণে শরীয়তের বিধান বাস্তবায়নে বিলম্ব করা জায়েয নয়। তেমনিভাবে ‘সে তো সচ্ছল’ একথা বলে শরীয়ত-নির্ধারিত হক থেকে কাউকে বঞ্চিত রাখাও জায়েয নয়।

শরীয়তের দৃষ্টিতে মিরাস বণ্টনে বিলম্ব করার সুযোগ যে নেই এর একটি স্পষ্ট প্রমাণ হল, বিলম্বের যে দু-একটি কারণ বাহ্যিকভাবে যুক্তিসঙ্গত মনে হয় সেগুলোর জন্যও শরীয়ত বণ্টনে বিলম্ব করার ব্যাপক অনুমতি দেয়নি। উদাহরণস্বরূপ একটি ওযর এই হতে পারে, মরহুম ইনতিকালের সময় তার স্ত্রীর গর্ভে সন্তান রেখে গেছেন। মিরাসের মধ্যে এই বাচ্চারও অংশ রয়েছে। সে জীবিত প্রসব হলে মিরাসের অংশ পাবে। এখন প্রশ্ন হল, এই বাচ্চা জীবিত প্রসব হবে, নাকি মৃত? ছেলে হবে নাকি মেয়ে? এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগে অংশীদারদের হিস্যা নির্ধারণ করা কঠিন। এই অবস্থায় বাহ্যিকভাবে বণ্টনে বিলম্ব করার পরামর্শ দেয়া উচিত মনে হয়। অথচ মাসআলা কিন্তু ঢালাওভাবে এমন নয়। এই মাসআলারও বিভিন্ন সুরতে বণ্টনে বিলম্ব না করারই হুকুম। তবে তার পদ্ধতি কী হবে সেটি মুফতীয়ানে কেরাম থেকে জেনে নিতে হবে। ফিকহ-ফাতাওয়ার কিতাবে এ সংক্রান্ত মাসআলাগুলো ফাসলুন ফিল হামলি এবং কিতাবুল কিসমাতে বর্ণিত আছে।

এমনিভাবে একটি ওযর এই হতে পারে, মরহুমের স্ত্রীর ইদ্দত তো ঐ বাড়িতেই পালন করতে হবে, যেখানে তিনি স্বামীর জীবদ্দশায় থাকতেন। সেই ঘর যদি স্বামীর মালিকানাধীন হয় তাহলে ওই ঘরও তো মিরাসের অংশ। অতএব অন্তত ঐ ঘরের বণ্টন তো নিঃসন্দেহে ইদ্দত পুরো না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করতে হবে। আসলে আমরা জরুরি মাসআলাগুলো জানি না এবং জানার চেষ্টাও করি না। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুন, এই অবস্থাতেও বিধান হল, সেই ঘরে স্ত্রীর যেটুকু অংশ আছে (কোনো অবস্থায় এক-চতুর্থাংশ আর কোনো অবস্থায় এক-অষ্টমাংশ) সেটা যদি তার অবস্থানের জন্য যথেষ্ট হয় তাহলে ওই ঘরেই ইদ্দত পুরো করবে। স্পষ্ট কথা, এ হালতে তার অবস্থানের নিমিত্তে ইদ্দত শেষ হওয়া অবধি বণ্টনে বিলম্ব করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ঘরের মাঝে তার অংশটুকু যদি তার অবস্থানের জন্য যথেষ্ট না হয় তাহলে সকলের সন্তুষ্টিক্রমেই সে সেখানে ইদ্দত পালন করবে। যদি হকদারগণ আপত্তি জানায় তাহলে মহিলার উচিত- অন্যত্র গিয়ে ইদ্দত পূর্ণ করা।

15/02/2022
Muassasa Ilmiyah BD - MIBD
15/02/2022

Muassasa Ilmiyah BD - MIBD

গতকাল শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ-এর দুআর মাধ্যমে আদর্শ দাম্পত্য জীবন-১ কোর্স সুসম্পন্ন হয়।আল হামদ...
15/02/2022

গতকাল শায়খ মুহাম্মদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ-এর দুআর মাধ্যমে আদর্শ দাম্পত্য জীবন-১ কোর্স সুসম্পন্ন হয়।
আল হামদুলিল্লাহ।

মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশ এরউন্মুক্ত দীন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত“সর্বসাধারণের জন্য দীনী-সচেতনতা কোর্স”-...
06/01/2022

মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশ এর
উন্মুক্ত দীন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত
“সর্বসাধারণের জন্য দীনী-সচেতনতা কোর্স”-

আদর্শ দাম্পত্য জীবন
পর্ব-১ : বিয়ে-শাদী

•• উদ্বোধনী দারস করাবেন ••

হযরত মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম
শায়খুল হাদীস, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকা
ইমাম ও খতিব, পলিটেকনিক জামে মসজিদ, তেজগাঁও, ঢাকা

•• এতে আরও যারা দারস করাবেন ••

• শায়খ মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ
উসতায, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকা
সহ সম্পাদক, মাসিক আল কাউসার

• শায়খ তাহমীদুল মাওলা
উসতায, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকা
খতীব, মহানগর প্রজেক্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

• শায়খ আব্দুল্লাহ মাসুম
উসতায, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা
CSAA (AAOIFI)

• শায়খ মহিউদ্দিন ফারুকী
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মারকাযুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশ

• মাওলানা আমীর হামযাহ
উসতায, জামিয়াতুন নূর আল কাসেমিয়া উত্তরা ঢাকা
ইমাম ও খতিব, ১৪নং সেক্টর বায়তুল আমান জামে মসজিদ, উত্তরা

•• এ পর্বে যা থাকছে ••

• ইসলামে পরিবার ব্যবস্থা
• বিয়ের গুরুত্ব, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, উপকারিতা
• পাত্র-পাত্রী নির্বাচন
• বিবাহে অভিভাবকের ভূমিকা
• মোহরের মাসাইল
• আকদে নিকাহের সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি ও প্রাসঙ্গিক মাসাইল
• বিয়ে-শাদীতে প্রচলিত রসম-রেওয়াজ
• দাম্পত্য জীবন: মৌলিক দায়িত্ব, অধিকার ও পারস্পরিক আচরণবিধি
• বিবাহ: সমসাময়িক কিছু মাসাইল
• ইসলামের দৃষ্টিতে তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ

উদ্বোধনী দারস: ১২ জানুয়ারি ২০২২ ঈসাব্দ, বুধবার। রাত ৮.৪৫
রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়: ১১ জানুয়ারি ২০২২ ‍মঙ্গলবার (আসনসংখ্যা সীমিত)
* কোর্সের সময়কাল: একমাস।
* দারস হবে: প্রতি শনি ও রবিবার।
* মোট দারস: ১১ টি।
* দারসের সময়: রাত ৮.৪৫
কোর্স ফি: (পুরুষ) ৩০০ টাকা, (মহিলা) ২০০ টাকা।
(ওযর থাকলে কমও দেয়া যাবে। দ্বীনী কাজে সহযোগিতার নিয়তে বেশিও দেয়া যাবে)

কোর্স সংক্রান্ত:
• দারস হবে জুম অ্যাপে।
• সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে।
• প্রতিটি দারসের রেকর্ডেড ভিডিও দেয়া হবে।
• কুইজ থাকবে এবং সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হবে।
যেভাবে ভর্তি হবেন:
১. 01871746798 (নগদ, বিকাশ ও রকেট/পার্সোনাল) এই নাম্বারে ফি পাঠান।
অথবা নিম্নোক্ত ব্যাংক একাউন্টে ফি পাঠান:
মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বিডি
চলতি হিসাব নং ০২৪১৩৩০০২২৬৭২
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
উত্তরা শাখা, ঢাকা-১২৩০
২. তারপর নিচের লিংকে ক্লিক করে ফরম পূরণ করুন:
পুরুষ:
https://forms.gle/6YUGTSH3sxXHmkMU7
মহিলা:
https://forms.gle/CmpVozGHfdoMSKNG9
৩. তারপর সাবমিট করুন।

• যোগাযোগ:
মোবাইল নাম্বার:
০১৮৭১৭৪৬৭৯৮ (হোয়াটসঅ্যাপ)

Address

Uttara
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MIBD Course posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category