Road Safety Foundation

Road Safety Foundation Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Road Safety Foundation, Social service, House-3, Road-5, Block-D, Niketon, Dhaka.

Road Safety Foundation is Bangladesh’s national platform for road safety evidence, capability, and accountability - convening government, industry, academia, and civil society around a shared system no single actor can build alone.

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট
02/08/2026

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট
02/08/2026

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট

01/08/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি / তারিখ: ১ আগস্ট-২০২৬

রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র:
(২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত)

গত সাড়ে ৬ বছরে রাজধানীতে ১৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৮৪ জন নিহত এবং ২৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে পুরুষ ১০৩৪ জন (৭৪.৭১%), নারী ২১৯ জন (১৫.৮২%) এবং শিশু ১৩১ জন (৯.৪৬%)।

দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ধরণ:
নিহতদের মধ্যে পথচারী ৫৯২ জন (৪২.৭৭%), মোটরসাইকেল আরোহী ৫৩৬ জন (৩৮.৭২%) এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও যাত্রী ২৫৬ জন (১৮.৪৯%)।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:
দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ভোরে ১৪২ জন (১০.২৬%) সকালে ২৫৮ জন (১৮.৬৪%), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪.০৮%), বিকালে ১৭৪ জন (১২.৫৭%), সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬.৯৩%), এবং রাতে ৫১৯ জন (৩৭.৫%) দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন:
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২১.৭৫%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাংকার-ময়লাবাহী ট্রাক ৩৩.২৫%, মোটরসাইকেল ২৬%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জীপ ৬.২৫% এবং অটোরিকশা-সিএনজি-লেগুনা ১২.৭৩%।

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা:
দুর্ঘটনাসমূহ রাতে এবং সকালে বেশি ঘটেছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি নিহত হচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘসময় যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্য্যহানী ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে।

মন্তব্য:
রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক, স্বল্প ও দ্রুত গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া ও ব্যবহার উপযোগী না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে অতিমাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পনী-ভিত্তিক বাস-সার্ভিস চালু করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখি কার্যক্রম পরিচালনা করা অতীব জরুরি।

বার্তা প্রেরক

স্বাক্ষরিত
(সাইদুর রহমান)
নির্বাহী পরিচালক
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
প্রয়োজনে: ০১৭১২ ৬৯০ ৬১৬

রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার বছর-ভিত্তিক চিত্র:

২০২০ সালে ১২৪টি দুর্ঘটনা, ১২৬ জন নিহত, ২৩৩ জন আহত
২০২১ সালে ১৩৭টি দুর্ঘটনা, ১৪১ জন নিহত, ২৪৭ জন আহত
২০২২ সালে ২৬৮টি দুর্ঘটনা, ২৫৬ জন নিহত, ৩২৪ জন আহত
২০২৩ সালে ২৯৬টি দুর্ঘটনা, ২৪৯ জন নিহত, ৩৩৫ জন আহত
২০২৪ সালে ৩৯৪টি দুর্ঘটনা, ২৪৬ জন নিহত, ৪৮২ জন আহত
২০২৫ সালে ৪০৭টি দুর্ঘটনা, ২২৯ জন নিহত, ৫১১ জন আহত
২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ২২৩টি দুর্ঘটনা, ১৩৭ জন নিহত, ৩৫৬ জন আহত

31/07/2026
28/07/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৮ জুলাই-২০২৬

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের চিত্র
(২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত)

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের মাত্রা খুবই উদ্বেগজনক। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ১৫.১১%। উল্লিখিত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছে ৪৮,৭১৩ জন।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৩,৩২৮ জন (৪৫.১৯%)। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৪,০৩৬ জন (৫৪.৮০%)।

দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ধরন:

১. শিক্ষার্থীরা পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা/ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১,৯২৩ জন (২৬.১১%)

২. যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছে ৯২৭ জন (১২.৫৮%)

৩. মোটরসাইকেরলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছে ৩,৮৪১ জন (৫২.১৫%)

৪. বাইসাইকেল ও রিকশা আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছে ৫১৯ জন (৭.০৪%)

৫. অটোরিকশার চাকায় ওড়না/পোশাক পেঁচিয়ে নিহত হয়েছে ১৫৪ জন (২.০৯%)।

সড়কভিত্তিক মোট নিহতের চিত্র:

মহাসড়কে ১,৪৮২ জন (২০.১২%)
আঞ্চলিক সড়কে ২,১৪৯ জন (২৯.১৮%)
শহরের সড়কে নিহত হয়েছে ১,৭৮৬ জন (২৪.২৫%)
গ্রামীণ সড়কে নিহত হয়েছে ১,৯৪৭ জন (২৬.৪৩%)

সড়কভিত্তিক পথচারী নিহতের চিত্র:

জাতীয় মহাসড়কে ২৫১ জন (১৩.০৫%)
আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন (২১.২৬%)
শহরের সড়কে ৫৩৭ জন (২৭.৯২%)
গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন (৩৭.৭৫%)

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা:

৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে, বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায়/চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে।

১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।

বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল এবং অনিরাপদ মালবাহী যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ এবং আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছে।

অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুঘটনার জন্য ব্যক্তিগত অসতর্কতা দায়ী।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের বছরভিত্তিক চিত্র:

২০১৯ সালে- ৬৯৩ জন
২০২০ সালে- ৭১৯ জন
২০২১ সালে- ৯৩৬ জন
২০২২ সালে- ১৩৮৫ জন
২০২৩ সালে- ১১৫৩ জন
২০২৪ সালে- ১০৭৩ জন
২০২৫ সালে- ১০১৪ জন
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত-৩৯১ জন

গত সাড়ে ৭ বছরে অসাবধানে রেল লাইন পারাপারের সময় এবং কানে হেড ফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১,২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের কারণসমূহ:

১. ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং অনিরাপদ যানবাহন;

২. নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব;

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা;

৪. সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা;

৫. শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া বাইক চালানোর মানসিকতা;

৬. ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা;

৭. অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

সুপারিশসমূহ:

১. শিক্ষ প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করতে হবে;

২. সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে;

৩. ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন থাকতে হবে;

৪. গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনমুখি প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে;

৫. অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করতে হবে;

৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে;

৭. কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্ত বয়স্করা বাইক চালাতে না পারে সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য: ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২জন শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ঢাকা-সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে অভূতপূর্ব অহিংস আন্দোলন করেছিল। এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহনখাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়দী কোনো টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে তা অনেকটা অবৈজ্ঞানিক ও সমন্বয়হীন। সড়ক পরিবহন আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। মাঝে-মধ্যে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটি গঠন এবং সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো সুপারিশই আলোর মুখ দেখে না। মূলত কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরির মধ্যেই সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।

স্বাক্ষরিত
(সাইদুর রহমান)
নির্বাহী পরিচালক
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
প্রয়োজনে: ০১৭১২ ৬৯০ ৬১৬

25/07/2026

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থা: পরিকল্পিত, সংযুক্ত ও কার্যকর। 🗽🚇🚌⛴️

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন: সাবওয়ে (টিউব) !!

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থা: পরিকল্পিত, সংযুক্ত ও কার্যকর। 🗽🚇🚌⛴️নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম...
25/07/2026

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন ব্যবস্থা: পরিকল্পিত, সংযুক্ত ও কার্যকর। 🗽🚇🚌⛴️

নিউইয়র্ক সিটির গণপরিবহন নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম সেরা। বাস, সাবওয়ে (টিউব) ও ফেরি, সবই একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকাকে সহজে সংযুক্ত করেছে।

দ্রুতগতি, সময়ানুবর্তিতা, সাশ্রয়ী ভাড়া এবং সহজ সংযোগের কারণে প্রতিদিন লাখো মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করেন। এটি শুধু যাতায়াতকে সহজ করেনি, বরং যানজট, জ্বালানি ব্যবহার এবং পরিবেশ দূষণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একটি উন্নত শহরের পরিচয় শুধু তার সুউচ্চ ভবনে নয়, বরং তার দক্ষ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থায়।

বাংলাদেশে বিশেষকরে বড় শহরগুলোতে এই ধরনের সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, শুধু দরকার ইচ্ছা, সততা, স্বচ্ছতা, নৈতিকতা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা, তাহলেই সম্ভব!!

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন।
06/07/2026

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন।

05/07/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি / তারিখ: ৫ জুলাই-২০২৬

জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন:

গত জুন মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৭২টি। নিহত ৪৩৮ জন এবং আহত ৫৬১ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৪৪, শিশু ৫৬। ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩০.৭২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০.৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ।

এই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। ২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র:
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন (৩০.৫৯%), বাসের যাত্রী ২৭ জন (৬.১৬%), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ৩৭ জন (৮.৪৪%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যম্বুলেন্স আরোহী ১৪ জন (৩.১৯%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১১২ জন (২৫.৫৭%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১৫ জন (৩.৪২%) এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন (১.৮২%) নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন:
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি (৩২%) জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি (৪১.১০%) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৩.৫৫%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.০৭%) শহরের সড়কে এবং ৬টি (১.২৭%) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন:
দুর্ঘটনাসমূহের ১০৯টি (২৩.০৯%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৬টি (৪৩.৬৪%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৭টি (২০.৫৫%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৫৩টি (১১.২২%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৭টি (১.৪৮%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন:
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ২৫.৬৬%, যাত্রীবাহী বাস ১৬.২৬%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ৪.৬২%, মোটরসাইকেল ২২%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১৯.৭৭%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৫.৫৯%, রিকশা-বাইসাইকেল ১.৫৪% এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪.২০%।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা:
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭১৩টি। (বাস ১১৬, ট্রাক ১০৭, কাভার্ডভ্যান ২৪, পিকআপ ২৮, ট্রলি ৪, লরি ৭, ট্রাক্টর ৫, ড্রাম ট্রাক ৮, মাইক্রোবাস ১৬, প্রাইভেটকার ১৩, অ্যাম্বুলেন্স ৪, মোটরসাইকেল ১৫৭, থ্রি-হুইলার ১৪১ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪২ (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র), রিকশা ৭, বাইসাইকেল ৪ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩০টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৬.১৪%, সকালে ৩১.৩৫%, দুপুরে ১৭.৫৮%, বিকালে ১৪.১৯%, সন্ধ্যায় ১১.৪৪% এবং রাতে ১৯.২৭%।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান:
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪.৫৭%, প্রাণহানি ২৬.৯৪%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮.৪৩%, প্রাণহানি ১৭.৫৭%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩.৭২%, প্রাণহানি ২৫.৭৯%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৬৮%, প্রাণহানি ৮.৬৭%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৯৩%, প্রাণহানি ৫.০২%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.৪৪%, প্রাণহানি ৪.৩৩%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.১৬%, প্রাণহানি ৮% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.০২%, প্রাণহানি ৩.৬৫% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের পেশাগত পরিচয়:
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুলিশ সদস্য ১ জন, শিক্ষক ৪ জন, সাংবাদিক ২ জন, চিকিৎসক ১ জন, প্রকৌশলী ৩ জন, আইনজীবী ৪ জন, চীনা নাগরিক ১ জন, বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ১৩ জন, এনজিও কর্মী ১৭ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২১ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ২৪ জন, ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৯ জন, মসজিদের ইমাম/খাদেম ৪ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৫ জন, প্রতিবন্ধী ২ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ:
১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. ত্রুটিপূর্ণ সড়ক; ৩. বেপরোয়া গতি; ৪. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৫. বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৬. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৭. তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; ৮. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৯. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ১০. বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি; এবং ১১. গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশসমূহ:
১. জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (NRSC) পুনর্গঠন করে এই কাউন্সিলের অধীনে BRTA, BRTC এবং DTCA পরিচালনা করতে হবে। কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতে হবে।

২. BRTA, BRTC এবং DTCA এর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।

৩. মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৪. সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে।

৫. রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।

৬. বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবহন সেবা উন্নত করে সরকারের পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

৭. দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করে তাদের বেতন, কর্মঘন্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. স্বল্প গতির ছোট যানবাহনের জন্য সকল মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ-সহ নিরাপদ রোড ডিজাইন করতে হবে।

৯. সকল রেল ক্রসিংয়ে গেইট-কীপার নিয়োগ করতে হবে।

১০. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।

১১. প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ, তাঁরা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন।

১২. টেকসই পরিবহন কৌশলের অধীনে সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। এতে করে সমন্বিত, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য শিক্ষা-সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অতীব জরুরি।

বার্তা প্রেরক

স্বাক্ষরিত
(সাইদুর রহমান)
নির্বাহী পরিচালক
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
প্রয়োজনে: ০১৭১২ ৬৯০ ৬১৬

Address

House-3, Road-5, Block-D, Niketon
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Road Safety Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Road Safety Foundation:

Shortcuts

Share

Category