02/08/2026
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল—শুধু একটি ছাত্রসংগঠনের নাম নয়, এটি এক অঙ্গীকার, এক ইতিহাস, এক অগ্নিশপথ।
এ সংগঠনের শীর্ষ পদে কে আসবেন—তা কেবল কমিটি গঠনের প্রশ্ন নয়; এটি ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন, এটি আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্মাণের প্রশ্ন।
শীর্ষ নেতা হতে হলে কেবল পদবি নয়, প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি।
প্রয়োজন আদর্শিক স্পষ্টতা—যেখানে রাজনীতি কেবল স্লোগানে নয়, চিন্তায় ও চেতনায় প্রতিফলিত হয়।
প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা—যেখানে উত্তেজনা নয়, কৌশল পথ দেখায়।
প্রয়োজন সততা—যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, সংগঠন ও দেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে থাকে।
প্রয়োজন সাংগঠনিক দক্ষতা—যেখানে তৃণমূলের স্পন্দন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে প্রতিধ্বনিত হয়।
প্রয়োজন সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি—কারণ ঐক্য ছাড়া কোনো বিপ্লব পূর্ণতা পায় না।
প্রয়োজন শিক্ষাবান্ধব ও গঠনমূলক কর্মসূচি—কারণ ছাত্ররাজনীতির প্রথম পরিচয় শিক্ষাঙ্গনেই।
আর সর্বোপরি—প্রয়োজন এমন এক অকুতোভয় নেতৃত্ব, যে জাতির যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে রাজপথকে নিজের ঘর বানাতে পারে; যে অন্যায়ের সামনে মাথা নত করে না; যে বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ইতিহাস রচনা করে।
আজ নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বহু নাম উচ্চারিত হচ্ছে।
তাদের ভিড়ের মধ্য থেকে এক নাম বারবার উঠে আসে দৃপ্ত উচ্চারণে—এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির ২নং সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
তিনি কেবল একজন নেতা নন, তিনি এক প্রতীক।
গ্রুপিং রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজন শ্রদ্ধেয়—একটি নির্মল ব্যক্তিত্ব, যেখানে দৃঢ়তা ও বিনয় একসাথে সহাবস্থান করে।
রাজপথে তিনি আপোষহীন; পড়ার টেবিলে তিনি মেধার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে সংকটের উত্তাল দিনগুলো—তিনি ছিলেন সামনে, সবসময় সামনে।
আন্দোলনের দিনগুলোতে যখন ভয় ছিল চারদিকে তখন তিনি ভয়কে ভয় পাননি।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, রাজপথকে নিজ গৃহ বানিয়ে বারবার বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই নিজের বিপ্লবী এবং আপোষহীনতার প্রমাণ দিয়েছে বহুবার।
২০০৮ সাল থেকে শুরু করে ২০১৩/২০১৪ এর আন্দোলন এবং বিএনপি'র সংকটকালীন সময়ে ২০২৩ এর ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ এর ৫ ই জানুয়ারী আমি-ডামির ইলেকশনের সময়টাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থাকাকালীন সময় প্রত্যেকটা প্রোগ্রাম সর্বোচ্ছ ঝুঁকি নিয়ে সফল করেছে। জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে ঢাবি ক্যাম্পাস, পল্টন, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী ও কাওরান বাজার এর মতো সর্বোচ্ছ ঝুকিপূর্ণ এলাকায় মৃত্যু ঝুঁকিকে পায়ে ঠেলে বেশ কয়েকবার আহত হয়েও রক্তভেজা শরীর নিয়ে আন্দোলন করে গেছেন৷
আঘাতে রক্তাক্ত শরীর নিয়েও পিছু হটেননি।
তিনি প্রমাণ করেছেন—বিপ্লব কেবল শব্দ নয়, এটি আত্মত্যাগের অন্য নাম।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার চোখে চোখ রেখে কথা বলা এই ছাত্রনেতা শুধু রাজপথেই নয় পড়ার টেবিলেও সমান পারদর্শী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ZOOLOGY ডিপার্টমেন্ট থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই ছাত্রনেতা নিজ ডিপার্টমেন্টে একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে শিক্ষকদের কাছে ছিলেন স্নেহের পাত্র।
স্নাতক থেকে ৩.৬২ সিজিপিএ এবং স্নাতকোত্তর এ ৩.৭৮ নিয়ে পাশ করা এই ছাত্রনেতা নিজ বিভাগের মেরিট পজিশনে ছিলেন সেকেন্ড। তার পাশাপাশি GRE, TOEFL, এবং IELTS এ দূর্দান্ত স্কোর করা এই ছাত্রনেতা পৃথিবীর অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ জাপানের মনবুসো স্কলারশিপ এবং USA এর Stevens Institute of Technology থেকে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছিলেন৷
এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল চাইলেই বিদেশের এই সমস্ত হাই র্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে একজন সফল শিক্ষাবিদ অথবা অন্য কোন সেক্টরে সফলতার সাথে নিজের ক্যারিয়ার বিল্ডআপ করতে পারতেন। কিন্তু বিপ্লবীরা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্যের প্রশ্নে নিজেদের অনন্ত সুখকে বিসর্জন দিয়ে রাজপথকেই আপন করে নেয়।
একদিকে একাডেমিক উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের দুয়ার;
অন্যদিকে রাজপথের কণ্টকাকীর্ণ সংগ্রাম—
তিনি বেছে নিয়েছেন সংগ্রামের পথ।
কারণ সত্যিকারের বিপ্লবীরা ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে জাতির প্রশ্নকে বড় করে দেখেন।
তিনি জানেন—
ছাত্রদল মানে শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতির পতাকা।
ছাত্রদল মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণ।
ছাত্রদল মানে জাতির সংকটে সাহসী অগ্রযাত্রা।
আজ সময় এসেছে এমন এক নেতৃত্বের,
যার হাতে ভবিষ্যৎ নিরাপদ,
যার কণ্ঠে দৃঢ়তা,
যার হৃদয়ে দেশপ্রেম,
যার পদচারণায় রাজপথ জাগ্রত হয়।
আমরা চাই—
রাজপথের সেই অকুতোভয় সৈনিককে শীর্ষে দেখতে।
যে নেতৃত্ব কেবল একটি কমিটি নয়,
একটি প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
কারণ ইতিহাস সাক্ষী—
যখন সৎ, মেধাবী ও আপোষহীন নেতৃত্ব উঠে আসে,
তখন সংগঠন শুধু এগোয় না—
নতুন যুগের সূচনা করে।
#সূচনা #করেছেন #যুগের #করেননা