03/08/2026
বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক “Improving Healthcare Quality and Safety through the Accreditation of Medical and Diagnostic Laboratories in Bangladesh, Transition Policy of ISO/IEC 17020:2026 এবং Effective Utilization of Accreditation” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
০৩ আগস্ট জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) গত ০২ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) বিকাল ৪:০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম), ৪ সোবহানবাগ, ঢাকা-এর মিলনায়তনে "Improving Healthcare Quality and Safety through the Accreditation of Medical and Diagnostic Laboratories in Bangladesh, Transition Policy of ISO/IEC 17020:2026 and Effective Utilization of Accreditation" শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব আব্দুন নাসের খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)-এর মহাপরিচালক জনাব মোহাঃ আমিনুল ইসলাম। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ নূরুজ্জামান এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), শিল্প মন্ত্রণালয়; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) এর মহাপরিচালক জনাব মোঃ সলিম উল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, জনাব সাইফুল ইসলাম, যুগ্মসচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কনফরমিটি অ্যাসেসমেন্ট বডি (Conformity Assessment Bodies) এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্মত অ্যাক্রেডিটেশনের কার্যকর ব্যবহার সম্প্রসারণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জোরদার করা এবং দেশের জাতীয় গুণগত অবকাঠামো (National Quality Infrastructure-NQI) আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা প্রদান।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আজ বলেছেন, দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা সনদপ্রাপ্ত ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের দুর্ভোগ কমবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, দেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়ানো গেলে রোগীরা বাড়িতেই প্রাথমিক রোগ নির্ণয় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবেন, যা তাদের চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি ল্যাবরেটরি থাকলেও, এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, অবিলম্বে জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা বা কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করার পরিবর্তে, প্রথমে ল্যাবরেটরির মালিক এবং পরিচালনা পর্ষদকে স্বীকৃতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা উচিত। তিনি বলেন, "যদি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা উপলব্ধি করেন যে মান বজায় রাখলে জনগণের আস্থা বাড়বে এবং তাদের ব্যবসা আরও লাভজনক হবে, তাহলে তারা নিজেরাই স্বীকৃতি অর্জনে আগ্রহী হবেন।"
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বহুমুখী চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মান নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং শুধুমাত্র হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, সঠিক রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার দিকে অধিক মনোযোগ না দিলে ক্যান্সার, কিডনি রোগ এবং লিভার রোগের মতো জীবনঘাতী রোগ হ্রাস করা সম্ভব হবে না।
শিল্প সচিব আবদুন নাসের খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ও স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরাসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।