10/11/2022
জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সাহাবী হযরত তালহা (রাঃ) প্রতিদিন নবীজির পিছনে ফজর নামাজ আদায় করেন। কিন্তু নামাজে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে তিনি মসজিদে না বসে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান। এ
ভাবে কয়েক দিন চলার পর অন্যান্য সাহাবিরা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন যে,প্রতিদিন সালাম ফিরিয়েই তালহা কোথায় যেন চলে যান।
অথচ নবীজি (সাঃ) ফজরের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে বসে বয়ান করেন। অন্যান্য সব সাহাবী
রাও বয়ান শুনার জন্য নবীজীর কাছে বসে থাকেন।এক
পর্যায়ে তালহার এ-ই কথা নবীজীর কানে পৌঁছাল।
নবীজি তা শুনে সাহাবীদের বললেন, আগামীকাল ফজর নামাজ এর শেষে তালহা যেন আমার সাথে দেখা করে। পরের দিন তালহা নামাজে আসলে তাকে জানি
য়ে দেয়া হয়, নবীজির সাথে দেখা করার জন্য। পরের দিন নামাজ শেষ করে তালহা বসে আছেন নবীজির সাথে দেখা করার জন্য। এক পর্যায়ে নবীজি মোলায়েম কন্ঠে তালহাকে বললেন, আমি কি তোমাকে কোন কষ্ট
দিয়েছি, তোমার কোন হক নষ্ট করেছি ?
নবীজীর মুখ থেকে এ কথা শুনে তালহা কেঁদে ফেললেন
এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমার জীবন
আপনার তরে উৎসর্গ হক,আপনি আমার কোন হক নষ্ট
করেন নি,কষ্টও দেন নি। তা শুনে নবীজী বললেন, তাহলে তুমি প্রতিদিন নামাজ শেষে আমার কাছে না বসে কোথায় চলে যা-ও.....?
কেঁদে কেঁদে তালহা বললেন - আমার এবং আমার স্ত্রীর
গতর ঢাকার জন্য একটি মাত্র পোশাক আছে, আমি যখন সেটি পরে নামাজ পড়ি,তখন আমার স্ত্রী উলঙ্গ থাকে। আবার,আমার স্ত্রী যখন নামাজ পড়েন আমি তখন উলঙ্গ থাকি। এক্ষেত্রে ফজরের নামাজের সময় একটু অসুবিধা হয়ে যায় ইয়া আল্লাহর রাসূল (সাঃ)।
ফজরের নামাজে আসার সময় আমি তাকে একটা গুহায় রেখে আসি। এমতাবস্হায় আমি যদি নামাজ শেষে এখানে বসে থাকি, তাহলে তো আমার স্ত্রীর নামা
জ-টা কাযাহ্ হয়ে যাবে। এজন্য আমি নামাজ শেষে দৌড়ে চলে যাই।
তালহার এ-ই কথা শুনে আল্লাহর রাসূল দরদর করে কাঁদছেন। নবীজীর দাড়ি বেয়ে বেয়ে চোখের পানি পড়
ছেই তো পড়ছে। সাথে সাথে নবীজী তালহাকে জানিয়ে
দিলেন, নিশ্চয়ই তুমি জান্নাতে যাবে....
আল্লাহ আকবর, আল্লাহ আকবর। সুবাহান আল্লাহ।
🍁 দেখুন, একটি মাত্র পোশাক ছিল তাদের ! তবুও আল্লাহর প্রতি তাদের কোন অভিযোগ ছিল না,এবাদত
এর প্রতি কোন অযুহাত ছিল না।
আর, আমাদের কতো অভিযোগ, অবহেলা আল্লাহর
প্রতি। হে মহান তুমি আমাদের ক্ষমা করে দেও,আমিন।
সংগৃহীত -