05/04/2016
তারিখ : ০৫ এপ্রিল, ২০১৬
ব্রিফিং : এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি।
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আপনাদেরকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
আজ একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে কথা বলার জন্য
আপনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। মহান স্বাধীনতার
ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের
প্রবক্তা, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী অন্যতম
সেক্টর কমান্ডার, রণাঙ্গনের বীর মুক্তযোদ্ধা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর
উত্তমের মাজার সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত অব্যাহত
রেখেছে ভোটারবিহীন এ অবৈধ সরকার। আমরা
বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিশ্বখ্যাত স্থপতি
লুই আই কানের মূল নকশায় জাতীয় সংসদ ভবন
এলাকায় কবরস্থানের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি
এমন অজুহাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর
রহমানের মাজার সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গৃহায়ন
ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ২৯ মার্চ
ভোটারবিহীন সংসদের স্পীকার ড. শিরিন শারমিন
চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে বৈঠক করে
যুক্তরাস্ট্র থেকে লুই আই কানের মূল নক্শা আনার
জন্য কমিটি গঠন করে। একদলীয় নব্য বাকশালী
পার্লামেন্টে স্পীকার ড. শিরিন শারমিন জাতীয়
সংসদকে জনস্বার্থে ও দেশের স্বার্থে
বিতর্কের জায়গা না রেখে প্রধানমন্ত্রীকে
স্তাবকতা করার একটি অডিটোরিয়ামে পরিণত
করেছেন। তাঁর পক্ষে গণতন্ত্রবিনাশী
যেকোন উদ্যোগই গ্রহণ করা সম্ভব। কারন
তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসামূলক ইচ্ছাগুলোকে
আমলে নিয়েই কাজ করতে হয়। মূলত: বর্তমান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ষড়যন্ত্র শুরু করে
১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর। সে সময় তিনি
জিয়া উদ্যানের নাম পরিবর্তনই শুধু করেননি, তিনি
শহীদ জিয়ার মাজারে যাওয়ার ক্রিসেন্ট লেকের
ওপর থেকে বেইলি ব্রীজটিও সরিয়ে
দিয়েছিলেন। আবার ২০১৪ সালের ১৭ জুন একনেক
এর সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ জিয়াউর
রহমানের মাজার অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ঘোষনা
দেন। জনপ্রিয়তাহীন, জনবিচ্ছিন্ন এ অবৈধ সরকার
সম্পূর্ণ ঈর্ষান্বিত হয়ে মহান স্বাধীনতার
ঘোষকের মাজার সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করছে।
বাস্তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের
মাজারটি সংসদ ভবন এলাকা থেকে অনেক দুরে
অবস্থিত। মাজারের কারণে সংসদের কার্যক্রমের
কোন ক্ষতি হচ্ছেনা। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায়
জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার মাজারটি অন্যত্রে সরানোর
অপচেষ্টা করছে। মূলত: একটি অবৈধ ও গণবিচ্ছিন্ন
সরকার কখনোই সুষ্ঠভাবে দেশ পরিচালনা করতে
পারে না। কারণ ক্ষমতাবিলাস, দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর
রক্তপাতের জেনারেল লাইসেন্স নিয়ে রাষ্ট্র
পরিচালনা করে বলেই তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
রাজকোষ থেকে টাকা পাচার, তনু হত্যা,
বাঁশখালীতে পুলিশের নির্বিচার হত্যাকান্ড এবং ইউপি
নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নজীরবিহীন
খুনোখুনী আর ভোট ডাকাতি আড়াল করার জন্যই
আবারো জিয়ার মাজার সরানোর ইস্যু সামনে নিয়ে
আসা হয়েছে।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
ভোটারবিহীন এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা এমন অপচেষ্টা করতেই পারেন। কারণ
স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের
কতটুকু অবদান ছিল তা জাতি জানে। স্বাধীনতার পর তাঁর
বাবা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হরণ করে একদলীয়
বাকশাল কায়েম করেছিলেন। চারটি পত্রিকা রেখে
সকল গণমাধ্যম বন্ধ করে নিয়ে মানুষের
বাকস্বাধীনতা হরণ করেছিলেন। তাদের পারিবারিক
দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় দেশে দূর্ভিক্ষ নেমে
এসেছিল। না খেয়ে মারা গিয়েছিল লাখ লাখ মানুষ।
আর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবনবাজী
রেখে পরিবারের বিপদের কথা না ভেবে
চট্রগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে
স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন। যে ঘোষনা
দেয়ার কথা ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্বের। শহীদ জিয়া
মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন যুদ্ধের ময়দানে
থেকে। দীর্ঘ ৯ মাস পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তিনি
অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন। শুধু তাই নয় ১৯৭৫
সালে ৭ই নভেম্বর দেশের ক্রান্তিকালে সিপাহী
জনতা জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন
করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গিয়ে বাকশাল বাতিল
করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বন্ধ
গণমাধ্যম খুলে দিয়ে বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
একটি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে জাতিকে একটি সমৃদ্ধ
বাংলাদেশ উপহার দেন। অল্প দিনেই তিনি
বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান
করে নিয়েছিলেন। তিনি কত জনপ্রিয় ছিলেন প্রমাণ
হয়েছিল তার মৃত্যুর পর। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমান কতিপয় বিপথগামী সেনা
কর্মকর্তাদের হাতে শহীদ হওয়ার পর তাঁর জানাযায়
অংশ নিয়েছিলেন কোটি মানুষ। কোটি কোটি
মানুষের ভালবাসা ও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তেই
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সেখানে
সমাহিত করা হয়েছিল।
বন্ধুরা,
ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর শহীদ জিয়ার মাজার
সহ্য না হবারই কথা। কারন শেখ হাসিনা তাঁর পিতার পথ
অনুসরণ করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছেন। আর
শহীদ জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে
দিয়েছিলেন। এক বন্য প্রতিহিংসায় প্রধানমন্ত্রী
আচ্ছন্ন হয়ে আছেন। জিয়া পরিবার তথা
জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর রক্তাক্ত আক্রমণ
চালিয়েও তার প্রতিহিংসার লেলিহান বহ্নি কোনভাবেই
প্রশমিত হচ্ছে না। এখন তিনি টার্গেট করেছেন
এদেশের যুগনায়ক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের
প্রবক্তা শহীদ জিয়ার মাজারকে। কিন্তু তিনি
প্রকারন্তরে এদেশে প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার
ভয়াবহ বিস্তার ঘটিয়ে দেশকে বিভৎস নৈরাজ্যের
দিকে ঠেলে দিচ্ছেন-দেশে শান্তি, ঐক্য,
সহিঞ্চুতা ও সম্প্রীতির সংস্কৃতিকে একেবারে
ধ্বংস করে দিয়ে। শহীদ জিয়ার এ মাজারটি আজ
কোটি কোটি জনগণের হৃদয়ে স্থান দখল করে
আছে। তাই শহীদ জিয়ার মাজার সরানোর উদ্যোগ
দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির তৈরী করবে। জনগণ
তাদের এই প্রিয় নেতার মাজার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা
কখনোই বরদাস্ত করবে না। এই মাজার সরানোর
মতো দুঃসাহস দেখালে পরিণতি ভাল হবে না।
কোনভাবেই তাদের এ অপচেষ্টা সফল হতে
দেয়া হবে না। জনগণ তাদের সকল অপচেষ্টাকে
জীবন দিয়ে প্রতিহত করবে। জাতীয়তাবাদী
শক্তি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও শহীদ জিয়ার
মাজার উচ্ছেদের অশুভ পরিকল্পনা প্রতিরোধ
করবে।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ
বার্তা প্রেরক
(মোঃ আব্দুল লতিফ জনি)
সহ-দফতর সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।