Moral Parenting

Call Directions Website Contact the organization

Moral Parenting Moral Parenting is a humanitarian movement connecting caring adults with deserving students.

Through mentorship, compassion and long-term support, we help underprivileged children continue education, build confidence and create a moral society. নৈতিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে- মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট!

আমরা নিজ সন্তানের পাশাপাশি সমাজের কিছু অদম্য মেধাবী (এতিম, প্রতিবন্ধী, অতি-দরিদ্র কিন্তু মেধাবী) ছেলেমেয়েকে ভালমানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা বা প্যারেন্টিং করছি।

নিয়মিত বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি মোরাল চিলড্রেনদেরকে বিভিন্ন ভাবে গাইড ও সহায়তা প্রদান করা হয়। এরমধ্যে, ওদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে "স্বাবলম্বী প্রজেক্ট"; আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে "১০০ বই পড়া উৎসব"; সততা ও নৈতিকতা শিক্ষার জন্য "Morality Shop" ; বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দেওয়ার উদ্দেশ্যে "Online Lecture Series"; ফ্রি ডাক্তারী পরামর্শ "স্বাস্থ্য সেবা" এবং ওদেরকে সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে "Ten Taka Tuition" ও ‘উষ্ণতা প্রজেক্ট ’ অন্যতম।

আপনিও আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন!!!

বিস্তারিতঃ www.moralparenting.org

সম্মানিত মোরাল প্যারেন্ট, ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান ও মোরাল চাইল্ডদের আমন্ত্রণ!
02/10/2026

সম্মানিত মোরাল প্যারেন্ট, ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান ও মোরাল চাইল্ডদের আমন্ত্রণ!

24/09/2026

এই সেশনের বৃত্তি কালেকশন শেষ করতে হবে; সামনে বৃত্তি বিতরণের কাজ।
কিন্তু এখনও বেশ কিছু আবেদন পড়ে আছে, যাদের বৃত্তি ম্যানেজ না করা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছি না।

এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি (ভার্সিটি)


১) মোঃ গোলাপ হোসেন তালুকদার, দিনাজপুর, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট (গাজীপুর)- মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৩-৪ ইঞ্চি ছোট হয়ে গেছে এবং পুনরায় অপারেশন প্রয়োজন। বাবা দিনমজুর, দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বন্ধুদের কাছে ধার নিয়ে কোনোমতে পড়াশোনা চলছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করা অসম্ভব এবং পড়াশোনা চালানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে

২) মো মিরাজুল ইসলাম, ইতিহাস, দ্বিতীয় বর্ষ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট খুবই ভালো): বাবা নিম্ন আয়ের কৃষক ছিলেন। একটি দুর্ঘটনার কারণে এখন অসুস্থ, ঠিকমত কাজ করতে পারেন না। তিন ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ চালানো তার পক্ষে সম্ভব না। মিরাজুল গত দুই মাস টাকা ধার করে চলছে এবং পড়াশোনা প্রায় বন্ধের পথে।

৩) মো: শরিফুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের অনার্স ২য় বর্ষের – আমাদের পুরাতন মোরাল চাইল্ড তার মোরাল প্যারেন্ট সাহায্য চালিয়ে যেতে না পারায় বৃত্তিটি বাতিল হয়ে যায়। বাবা না থাকায় নিজের ও বোনদের পড়াশোনা তার বহন করতে হয়, হঠাৎ বৃত্তি বাতিল হওয়া তার পড়ালেখা চালিয়ে কষ্টকর হয়ে পরেছে।

৪) মোঃ সুজন ইসলাম, নীলফামারী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, (রেজাল্ট খুব ভালো—এসএসসি ও এইচএসসিতে GPA 5.00) — পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস বাবার কৃষিকাজের মজুরি। অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে বাবা কোমরের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হচ্ছে এবং আগের মতো কাজও করতে পারছেন না। ফলে তিন ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ ও সংসার চালানো বাবার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

৫) আনিসুর রহমান, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, ডুয়েট, গাজীপুর: ৫ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবা দরিদ্র কৃষক, অসুস্থতার কারণে আয়ও অনিয়মিত। বড় বোন অসুস্থ। এদিকে আনিসুরের স্বপ্ন দেশের বাইরে গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা। কিন্তু টিউশন করাতে গিয়ে একাডেমিক পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ল্যাব, গবেষণার কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছে না।

৬) মোসা সুমাইয়া সিদ্দিকা, ফার্মেসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা: বাবা কৃষক। ৮ ভাইবোনের ভেতরে ৬ ভাইবোনই পড়াশোনা করে। সব ব্যয় বহন করা উনার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বাবা ঋণ নিয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা চালাচ্ছে।

৭) মোঃ মামুন মিয়া, সমাজবিজ্ঞান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর (রেজাল্ট ভালো): বাবা ছিলেন কৃষক, মা বীমা কোম্পানিতে চুক্তিভিত্তিক চাকরি করতেন। বার্ধক্য জনিত কারণে এখন দুজনে অসুস্থ এবং অনেক টাকার ওষুধের প্রয়োজন হয়। টাকার অভাবে মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করতে পারছে না।পরিবারের সদস্য ৬ জন। গত ছয় মাস মামুন বাড়ি থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না এবং ঋণ করে চলছে।

৮) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, ইসলামী স্টাডিজ, অনার্স প্রথম বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: বাবা ছয় বছর আগে মারা গিয়েছেন। মা অসুস্থ, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। নিজের খরচ সহ পরিবারের দায়িত্ব সাজ্জাদের উপর।

৯) ইসরাত জাহান স্মৃতি, ইংরেজি বিভাগ, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বাবা মৃত। ৪ জনের পরিবারে ওরা তিন ভাই বোন পড়াশোনা করছে। ইসরাত ও তার মা দুজনেই টিউশন করিয়ে খরচ চালান। বর্তমান অবস্থায় তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

১০) ওসামা হোসেন নাহিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ওসামা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। পরিবারের আয়ের উৎস সীমিত; বাবা কৃষক। ভাই পড়াশোনার খরচ চালায়। নিজের প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

১১) স্নিগ্ধ রায় শুভ, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: স্নিগ্ধ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। বাবা একজন অটোচালক। ওরা তিন ভাইবোন পড়াশোনা করছে। বাবার একার পক্ষে সম্পূর্ণ খরচ বহন করা অনেক কষ্টকর।

(ভার্সিটি স্টুডেন্টদের বছরে বৃত্তি ২১,৬০০ টাকা।)

23/09/2026

দীর্ঘ ৮ বছর পাশে থাকার পর, মোরাল চাইল্ডের কাছ থেকে এরকম একটি ইমেইল পাওয়া- কি---যে---প্রশান্তি!!!

"আসসালামু আলাইকুম স্যার,

আমি মো ---- রহমান। মোরাল চাইল্ড, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

আমি ২০১৮ সাল হতে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের একজন মোরাল চাইল্ড। সেই ২০১৭ সালের দিকে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে রাসেল ভাইয়া কে দেখি। যদিও ভাইয়ের সাথে কোনো পূর্ব পরিচয় ছিলো না, তবুও ভাইয়ের সাথে আমার সমস্যা শেয়ার করি। এসএসসি পরীক্ষার পর আমি আসলে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ছিলাম কোন গ্রুপে পড়বো এটা নিয়ে । যদিও মন থেকে চাইতাম বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পড়লে অনেক খরচ, এটা তখন শুনেছিলাম। আমি যাকেই পেতাম তাকেই জিজ্ঞাসা করতাম সাইন্সে পড়লে কেমন খরচ, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সাইন্স নিয়ে পড়া ঠিক হবে কি না। রাসেল ভাইয়া কেও এটাই জিজ্ঞেস করেছিলাম।

রাসেল ভাইয়া তখন আমাকে মোরাল প্যারেন্টিং এ আবেদন করার কথা বলেন। তারপর হঠাৎ একদিন মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার হতে ফোন দিয়ে বৃত্তি নিশ্চিত করা হয়। সেদিন যে কি খুশি হয়েছিলাম। তারপর আমি পেলাম আমার আরেক মা জনাবা রওশন আরা ফেরদৌসী ম্যাম। নিজের সন্তানের মতো আমাকে বিগত ৮ টি বছর আগলে রেখেছেন। তারকথা আমি আসলে বলে শেষ করা যাবে না। যতই বলি ততই কম হবে। আমি স্বাবলম্বী প্রজেক্টের কথা জানতাম না।৷ আমি আবেদন করিনি শুনে ম্যাম আমাকে আবেদন করতে বলেন। আর স্বাবলম্বী প্রজেক্টের ডোনার হিসেবে পাই জনাবা ইসরাত রুমী ম্যাম কে।

স্যার, গত মাসে আমার এমএসি সম্পন্ন হয়েছে। গত ০৬/০৯/২০২৬ তারিখে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের আওতাধীন নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই -পিএলসি তে জব পেয়েছি। তাই আমার বৃত্তি স্যারেন্ডার করতে চাই। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুত মোরাল প্যারেন্ট হিসেবে যুক্ত হবো এই পরিবারে।

সবশেষে আপনাকে নিয়ে লিখতে মন চাচ্ছে। আপনাকে দেখে আমি অবাক হই কিভাবে একটা মানুষ অন্যকে নিয়ে এভাবে ভাবতে পারে। মোরাল প্যারেন্টিং এর প্রতি আপনার যে মায়া, মমতা এটা দেখলে আমি যারপরনাই বিস্মিত হয়। আমার খুব মন চায় আপনার মতো হতে, আপনার মতো করে ভাবতে। আপনার মনে আছে স্যার আমার বাবা যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন আপনি দেখতে গিয়েছিলেন। সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও আমার চোখে জল আসে।

আপনার প্রতি, রওশান আরা ফেরদৌসী ম্যামের প্রতি, রাসেল ভাইয়ের প্রতি, মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের এক্সিকিউটিভ কমিটির প্রতি, এই পরিবারের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

আমার জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইলো স্যার। আমি যেন আমার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি।

আপনাদের স্নেহের
মো ----- রহমান"

অপ্রতিমের ঘটনা: একটি ভিন্ন রকম সমাধানের ধারনা !!!অপ্রতিমের দুঃখজনক মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে বাবা-মায়ে...
22/09/2026

অপ্রতিমের ঘটনা: একটি ভিন্ন রকম সমাধানের ধারনা !!!

অপ্রতিমের দুঃখজনক মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কেউ অপ্রতিমের বাবা-মায়ের প্যারেন্টিং নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, কেউ রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতার কথা বলছেন।

আমি সেই বিতর্কে যেতে চাই না।

আমি বরং এমন একটি ভিন্ন সমাধানের কথা বলতে চাই, যে ধারণাটি নিয়ে আমরা প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছি।

একটি দৃশ্য কল্পনা করুনঃ

অপ্রতিমের বাবা-মা তাদের একমাত্র সন্তানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য যতটা আন্তরিক ছিলেন, তার সামান্য একটি অংশ যদি অপ্রতিমের বন্ধুদের প্রতিও দিতেন?

অপ্রতিম যাদের সঙ্গে মিশত, তাদের সঙ্গে যদি পরিচিত হতেন, মাঝে মাঝে বাসায় ডাকতেন, তাদের সঙ্গে গল্প করতেন, মন দিয়ে তাদের কথা শুনতেন, তাদের পরিবারের খোঁজ নিতেন, ভালো-মন্দ নিয়ে পরামর্শ দিতেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন?

দীর্ঘদিন ধরে যদি তাদের সঙ্গে এমন একটি আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হতো, যাতে ওই ছেলেদের মনে এই অনুভূতি জন্মাত—
“অপ্রতিমের বাবা-মা শুধু অপ্রতিমকেই নয়, আমাদেরও আপন মনে করেন। আমাদের ভালো-মন্দও তাদের ভাবায়।”
তাহলে সম্পর্কটা কি অন্য রকম হতে পারত না?

অপ্রতিমকে যদি তারা কোনো ধনী পরিবারের বিলাসী ছেলে হিসেবে না দেখে নিজেদের ছোট ভাই বা আপনজন হিসেবে ভাবতে শিখত, তাহলে কি তাদের আচরণও অন্য রকম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো না?
এই যে নিজের সন্তানের পাশাপাশি সমাজের অন্য সন্তানদের প্রতিও কিছুটা অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করা—এটাই আমরা বলছি মোরাল প্যারেন্টিং বা নৈতিক অভিভাবকত্ব।

কথাগুলো অনেকের কাছে হয়তো কাব্যিক মনে হতে পারে; কারও কাছে অবাস্তবও বা হাস্যকরও মনে হতে পারে।

কিন্তু একটি বিষয় আমাদের ভাবতেই হবে—
শুধু নিজের সন্তানকে মানুষ করলেই কি সে ভাল থাকতে পারবে?

আমাদের সন্তান তো একা বড় হবে না। সে এমন একটি সমাজে বড় হবে, যেখানে আরও অসংখ্য শিশু-কিশোর ও তরুণ তার বন্ধু, সহপাঠী, প্রতিবেশী, সহকর্মী ও সহযাত্রী হবে।

তাহলে সেই সমাজের অন্য সন্তানদের “মানুষ” হয়ে ওঠার দায় থেকে আমরা পুরোপুরি মুক্ত থাকি কীভাবে?

রাষ্ট্রের দায়িত্ব অবশ্যই আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব আছে। স্কুল-কলেজ শিক্ষকের যেমন দায়িত্ব আছে পরিবারও তেমন দায়িত্ব আছে। সেই সাথে সমাজের সচেতন মানুষ হিসাবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে।
আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন না করে শুধু রাষ্ট্রকে দোষ দিয়ে, পরিবারকে দোষ দিয়ে অথবা অপরাধীকে গালি দিয়ে কি ভবিষ্যতের অপরাধ ঠেকানো যাবে?

অপ্রতিমকে যারা হত্যা করেছে, তারা গুরুতর অপরাধ করেছে। সেই অপরাধের আইনগত ও ব্যক্তিগত দায় তাদেরই।

কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের এটাও ভাবতে হবে—কোন সামাজিক পরিবেশে একজন তরুণ ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে লোভ, ঈর্ষা, হতাশা বা প্রতিহিংসা মানুষের জীবনের মূল্যকেও অতিক্রম করে যায়।

কেউ খুনির জিন নিয়ে জন্মায় না, এই সমাজে এসে সে খুনি হয়ে যায়।

প্রতিটি শিশুই অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়। কিন্তু সব শিশু একই রকম পরিবার, শিক্ষা, ভালোবাসা, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পায় না।
কারও বাবা-মায়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকে, কারও মানসিক বা শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা থাকে। কেউ স্কুলে সঠিক শিক্ষা পায় না। কেউ বেকারত্ব ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে বড় হয়। কেউ আবার সামাজিক বৈষম্য, অবহেলা, মাদক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাকচিক্যের মধ্যে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ে।

এসব কোনো অপরাধের অজুহাত নয়।
কিন্তু এগুলো বুঝতে না পারলে অপরাধ তৈরির সামাজিক পরিবেশটাও আমরা বুঝতে পারব না।

আমরা নিজের সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে এত চেষ্টা করেও অনেক সময় হিমশিম খাই। অথচ সমাজে এমন অসংখ্য শিশু-কিশোর আছে, যারা পরিবার, শিক্ষক কিংবা সমাজ—কোনো জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পায় না।

তাহলে তাদের কাছ থেকে শুধু ভালো আচরণ আশা করলেই কি হবে?
আপনি কাউকে যা শেখাননি, যে মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করেননি, তা তার কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে আশা করাও কঠিন।

তাই শুধু নিজের সন্তানকে মানুষ করলেই হবে না।
আমাদের সন্তান যে সমাজে বাস করবে, সেই সমাজকে কিছুটা ভালো করার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে।

আজ যাদের আমরা ঘৃণা করছি, তাদের অপরাধ অবশ্যই ঘৃণার যোগ্য। কিন্তু তারা এই সমাজের বাইরের কেউ নয়। তারাও এই সমাজেরই সন্তান।
আজকের একজন বিপথগামী তরুণকে দেখে শুধু “সমাজের কীট” বললে হয়তো আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ হয়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না।
সমাধান শুরু হবে তখন, যখন আমরা প্রশ্ন করব—
“আমার নিজের সন্তানের বাইরে আর ক’জন শিশুর জীবনে আমি একজন ভালো বড় মানুষ হতে পেরেছি?”

হয়তো তার বাবা হতে হবে না, মা হতে হবে না; তবে একজন নৈতিক অভিভাবক তো হওয়া যায়। এর জন্য অনেক টাকা পয়সা খরচ করতে হয়তা- প্রয়োজন শুধু মানসিকতার পরিবর্তন।

সমাজের এই ছেলেমেয়েগুলো কে একটু আপন ভাবা যায়।
তাদের কথা শোনা যায়।
ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া যায়।
ভুল পথে গেলে বোঝানো যায়।
সমস্যায় পাশে দাঁড়ানো যায়।
মানুষ হিসেবে তাকে সম্মান দেওয়া যায়।
এক কথায়, একটু মোরাল প্যারেন্টিং করা যায়, তাদের নৈতিক অভিভাবক হওয়া যায়।

অপ্রতিমকে আমরা আর ফিরিয়ে আনতে পারব না।
কিন্তু তার মৃত্যু যদি আমাদের একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়,—
“আমরা কি শুধু নিজের সন্তানকে মানুষ করছি, নাকি আমাদের সন্তান যে সমাজে বাঁচবে, সেই সমাজের সন্তানদের মানুষ করতেও কিছুটা দায়িত্ব নিচ্ছি?”

আসুন, শুধু ব্লেইম-গেমে আটকে না থেকে যার যার অবস্থান থেকে কয়েকজন শিশুর নৈতিক অভিভাবক হওয়ার চেষ্টা করি।
আসুন, সবাই মিলে গড়ে তুলি একটি নৈতিক সমাজ।

Dr. Mahbub
Founder, Moral Parenting Family
www.moralparenting.org

আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এক মোরাল চাইল্ড মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীকে তাদের লেখা বই "অদম্য শিখা" উপহার দিচ্ছে।
16/09/2026

আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এক মোরাল চাইল্ড মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীকে তাদের লেখা বই "অদম্য শিখা" উপহার দিচ্ছে।

খুবই খুশির খবর!! মোরাল প্যারেন্টিং এর সেকেন্ড জেনারেশন আগেই শুরু হয়েছে- আজ আরেকজন প্রাক্তন মোরাল চাইল্ড মোরাল প্যারেন্ট ...
16/09/2026

খুবই খুশির খবর!!
মোরাল প্যারেন্টিং এর সেকেন্ড জেনারেশন আগেই শুরু হয়েছে- আজ আরেকজন প্রাক্তন মোরাল চাইল্ড মোরাল প্যারেন্ট হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এই ম্যাসেস টি আমাকে পাঠিয়েছেঃ

“আসসালামু আলাইকুম শ্রদ্ধেয় ড. মাহবুব স্যার।
আমি এস.এম. --- । সিভিল জজ (বিচারক); বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস। সাবেক শিক্ষার্থী: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

বর্তমানে কর্মরত: জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ----।

প্রায় ১.৫ বছর আগে আমি নিজেও একজন মোরাল চাইল্ড ছিলাম, যখন চাকরি হয়েছিল তখন শেষ মেইলে লিখেছিলাম খুব শিঘ্রই মোরাল প্যারেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবো। আজ বোধহয় সেই সময় এসেছে। আমি স্কুলে ৯/১০ শ্রেনীতে পড়ে অথবা নতুন ১১ শ্রেণীতে উঠেছে এমন একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিতে চাই ।

আমার নিজেরও নতুন চাকরি তাই এখনই ভার্সিটি পড়ুয়া কারোর জন্য দায়িত্ব নেওয়া একটু কঠিন হবে। তবে আশা রাখি সামনে ভবিষ্যতে মহান আল্লাহ্ চাইলে পারবো ইনশা-আল্লাহ।“

12/09/2026

আমাদের হাতে বর্তমানে ১৫০ টি আবেদন আছে; তার মধ্য থেকে বাছায় ও ভ্যারিফাই করে এই আবেদন গুলো আমাদের মাঝে শেইয়ার করছি। এই অদম্য মেধাবী ছেলেমেয়েগুলোর পড়াশুনা চালানো অনিশ্চিত হয়ে দাড়িয়েছে।
যদি সম্ভব হয়- কমপক্ষে একজন স্টুডেন্টের স্বপ্ন পূরণের সহযোগী হোন!


এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি (ভার্সিটি)

১) মোঃ সাদিকুল ইসলাম সুমন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া (রেজাল্ট ভাল) - ভূমিহীন পিতা কোমরের হাড়, হাঁটু ও পিঠের ব্যথার কারণে ভারী কাজ করতে পারছেন না । ছোট ভাই হাফেজি পড়ে। বর্তমানে পরিবারে আয়ের কোনো উৎস নেই এবং ঋণ করে সুমনের পড়াশোনা চলছে। আর্থিক অনটনে দুই ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছে।

২) মাইমুনা আক্তার, বাগেরহাট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ (রেজাল্ট ভালো—SSC GPA 5.00, HSC GPA 4.50, বিশ্ববিদ্যালয়ে CGPA প্রায় 3.78) —মাইমুনার মা মারা গেছেন এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী বাবা এখন নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ভাইয়েরা স্বল্প আয়ে গার্মেন্টসে কাজ করলেও নিজেদের সংসার চালিয়ে মাইমুনার পড়াশোনার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

৩) হাসনাত হাবিব, ঠাকুরগাঁও, সমাজবিজ্ঞান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, (রেজাল্ট খুব ভালো)- মা মারা গেছেন অনেক আগে, বাবা নতুন সংসার করেছেন। সৎ মা পড়াশোনা করাতে চান না। বাবার কৃষিকাজ থেকে সামান্য আয় দিয়ে পড়াশুনার খরচ চালাতে পারছেন না, পড়াশুনা চালানো অনিশ্চিত।

৪) তৌহিদ হাসান, বগুড়া, কৃষি অনুষদ, হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর,(রেজাল্ট ভালো)- বাবা ভ্যান চালক, তার বয়স হয়েছ্‌ প্রায় ই অসুস্থ থাকেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা 5 জন। ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তির টাকাটাও ঋণ করে সংগ্রহ করেছেন। এখন তিনি ঋণের ফাঁদে পড়েছেন, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া দিনদিন অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।

৫) রিয়াজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম, মার্কেটিং, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (রেজাল্ট মুটামুটি ভালো)- ছেলেটির বাবা দিনমজুর, তিনি নিজে দীর্ঘদিন অসুস্থ, বাড়িতে মা এবং বোন ও অসুস্থ, তাদের দ্রুত চিকিৎসা করা প্রয়োজন। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা, ছেলেটির পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে।

৬) মোঃ সুজন ইসলাম, নীলফামারী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, (রেজাল্ট খুব ভালো—এসএসসি ও এইচএসসিতে GPA 5.00) — পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস বাবার কৃষিকাজের মজুরি। অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে বাবা কোমরের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হচ্ছে এবং আগের মতো কাজও করতে পারছেন না। ফলে তিন ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ ও সংসার চালানো বাবার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

৭) মোঃ শামীম হোসেন, নওগাঁ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, পরিসংখ্যান বিভাগ (রেজাল্ট খুব ভালো—SSC ও HSC-তে GPA 5.00) — প্রায় ৬০ বছর বয়সী অসুস্থ বাবা একজন ফেরিওয়ালা, তিনি গ্রামে ঘুরে ঘুরে জিনিস বিক্রি করেন; সেই আয়েই সংসার ও শামীমের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। অনেক কষ্টে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসা শামীমের থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার ব্যয় বহন করা এখন পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

( ভার্সিটি স্টুডেন্টদের বছরে বৃত্তি ২১৬০০ টাকা। )

এখন যাদের জন্য বৃত্তি খুঁজছি –(স্কুল-কলেজ)

১) দিদার হোসেন , আব্দুল কাদির কলেজ , নরসিংদী, ১১শ শ্রেণী - বাবা অতি দরিদ্র কৃষক, জমি জমা তেমন নেই, সামান্য ইনকাম দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ দিতে পারছেন না। (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)

২) আয়েশা সিদ্দিকা, নীলফামারী, মেনাবর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (SSC, GPA 5.00—রেজাল্ট খুব ভালো) — দিনমজুর বাবার সীমিত আয়ের পরিবারে স্কুলের শিক্ষক ও বড় বোনের সহযোগিতায় আয়েশা পড়াশোনা চালিয়ে GPA 5.00 পেয়েছে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখন কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু আর্থিক সংকট তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। (বছরে বৃত্তি ১১৮০০ টাকা)

11/09/2026

বৃক্ষরোপন আপডেট ( বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর)

মোরাল পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মযজ্ঞে বেরোবি এর অবদান অনেক। ধন্যবাদ মোরাল চাইল্ড সহ দায়িত্বশীল সকলকে গানগুলো কে এত সুন্দর তত্ত্বাবধানে রাখার জন্য। অদূর ভবিষ্যতে এগুলো তাদের ও মোরাল পরিবারের স্মৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে। সুন্দর হোক সমাজ সবুজায়নে আমাদের পরিবারের পদক্ষেপ গুলা হোক আরো বেগবান। নৈতিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার।

মোরাল প্যারেন্টিং নিয়ে প্রথম আলোর প্রথম রিপোর্ট - জুন ২০১৯
09/09/2026

মোরাল প্যারেন্টিং নিয়ে প্রথম আলোর প্রথম রিপোর্ট - জুন ২০১৯

‘আমি তাঁকে দেখিনি কখনো। তিনিও দেখেননি আমাকে। কিন্তু মাসান্তে বৃত্তির টাকাটা ঠিক এসে পৌঁছে যায় আমার হাতে। আমি ....

09/09/2026

নৈতিক সমাজ গঠন মোরাল পরিবার!!

হাজার স্বপ্ন ও অদম্য শিখাদের নিয়ে আমাদের আয়োজন তাদের ভাবনা দায়িত্ববোধ আমাদের কাজকে অনুপ্রাণিত করে। আসুন কিছু স্বপ্নবাজদের নিয়ে গড়ে তুলি সুন্দর সমাজ।

Address

8/2 Indira Road, West Raja Bazar, Farmgate
Dhaka
1215

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Moral Parenting posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Moral Parenting:

Shortcuts

Share