Ministry of Commerce

Ministry of Commerce Ministry of commerce, Bangladesh.
(1)

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগি...
06/08/2026

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

স্বর্ণ খাতকে বৈধ ও জবাবদিহিমূলক শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগঢাকা : ৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দেশের স্বর্ণ খাতকে অনানুষ্ঠানিক ...
06/08/2026

স্বর্ণ খাতকে বৈধ ও জবাবদিহিমূলক শিল্পে রূপান্তরের উদ্যোগ

ঢাকা : ৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেশের স্বর্ণ খাতকে অনানুষ্ঠানিক অবস্থা থেকে বের করে একটি বৈধ, স্বীকৃত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে খসড়া ‘স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২৬’ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের আগামী রোববারের মধ্যে লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে খসড়া নীতিমালার ওপর আয়োজিত সভায় এ নির্দেশনা দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোশিয়েশন (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান,বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো ( ইপিবি) এর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও স্বর্ণ খাতের প্রতিনিধিরা সভায় মতামত তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও যথাযথ নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে খাতটি পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এ অবস্থার জন্য ব্যবসায়ীদের এককভাবে দায়ী না করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বলতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিকতা ঠিক করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বীকৃত ব্যবসায়িক খাত আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকাটা যথাযথ হয়নি। সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা এখন খাতটিকে বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চাই।’
সরকারের লক্ষ্য স্বর্ণ খাতকে দেশের অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের মতো পরিচালনার সুযোগ দেয়া উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটি আনুষ্ঠানিক হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধ আমদানি, রাজস্ব আদায় এবং স্বর্ণের মজুদ ও লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক-কর পরিশোধ করবেন এবং সরকারও ব্যবসার অনুকূল বিধিবিধান নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের ক্রয়, বিক্রয় ও মজুদের প্রতিটি ধাপ হিসাবভুক্ত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের কাছে কী পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে, কী পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে এবং কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

স্বর্ণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে মূল্য সংরক্ষণ করা। একইভাবে স্বর্ণও আন্তর্জাতিকভাবে মূল্য সংরক্ষণের একটি স্বীকৃত মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ সংরক্ষণ করে।
তিনি বলেন, ‘দেশে ৪ বিলিয়ন বা ১০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ বৈধভাবে আমদানি হওয়ার পর সেটি যদি দেশের মধ্যেই থাকে এবং অবৈধভাবে বাইরে চলে না যায়, তাহলে এর মাধ্যমে মূলত দেশের ভেতরে মূল্য সংরক্ষিত হচ্ছে।’
তবে স্বর্ণ যাতে চোরাচালানের মাধ্যমে অন্য দেশে চলে না যায়, সে জন্য দেশের বাজারমূল্য ও আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য তৈরি না করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর বলেন, কোনো পণ্যের স্থানীয় মূল্য প্রতিবেশী বা নিকটবর্তী দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলেই সেটি অবৈধভাবে বাইরে যাওয়ার অর্থনৈতিক প্রণোদনা তৈরি হয়।
‘কোনো ব্যবসায়ী অন্য দেশের ব্যবসায়ীকে লাভবান করতে গিয়ে নিজের লোকসান করবেন না’—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, শুল্ক ও করহার নির্ধারণের সময় স্বর্ণের আন্তর্জাতিক মূল্য, বিশেষ করে দুবাইসহ প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রের বাজারদর বিবেচনায় নিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালায় শুধু স্বর্ণ আমদানির বিষয় নয়, দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার তৈরি ও রফতানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ন্যূনতম ও যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রথমত দেখতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারদরে স্বর্ণ এনে দেশে মূল্য সংযোজনের পর তা রফতানি করা যায় কিনা। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও স্বর্ণের বড় চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও নীতিমালায় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
স্বর্ণের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যৌক্তিক নীতি ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভোক্তারাও তুলনামূলক ন্যায্য মূল্যে স্বর্ণ কেনার সুযোগ পাবেন।

খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ স্বর্ণালংকার রফতানিকারক তিন-চারটি দেশের নীতি ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আমদানি ব্যবস্থা, শুল্ক কাঠামো, মজুদ ব্যবস্থাপনা, রফতানি সুবিধা ও তদারকি পদ্ধতির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নীতিমালার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হবে।
তিনি এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য প্রশ্ন, ঝুঁকি এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত জটিলতা চিহ্নিত করে লিখিত মতামত দেয়ার আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিমালা প্রণয়ন করে খাতটিকে নতুন কোনো সংকটে ফেলা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। এখানে সংশ্লিষ্ট সবাই অভিজ্ঞ ও সচেতন। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মিলিতভাবে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে স্বর্ণ খাত বৈধ, স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবসায়িক খাতে পরিণত হয়।’
বিভিন্ন অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো সংকলনের পর প্রয়োজন হলে অংশীজনদের নিয়ে আবার সভা করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশোধিত স্বর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়

কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বাংলাদেশের ৮৪২৮ পণ্যঢাকা : ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরি...
04/08/2026

কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বাংলাদেশের ৮৪২৮ পণ্য

ঢাকা : ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement-CEPA) নিয়ে নেগোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে এ অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয় । আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের ধাপ শেষ হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের বাজারে ১ হাজার ৫৪টি পণ্যে একই সুবিধা ভোগ করবে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে, যেখানে বাংলাদেশের বাজারে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই ধরনের সুবিধা লাভ করবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে CEPA Negotiation Conclusion Ceremony-তে যৌথ ঘোষণা দেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও (Han-Koo Yeo)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এনডিসি, বাংলাদেশের প্রধান নেগোসিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান নেগোসিয়েটর পার্ক গিউন-ওহ এবং ডেপুটি প্রধান নেগোসিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের একটি উচ্চমানের বাণিজ্য চুক্তির নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, হোম টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করবে।

তিনি জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সে লক্ষ্য অর্জনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সিইপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। এতদিন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূলত টেক্সটাইল খাত। এখন সময় এসেছে সম্পর্ককে প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মতো নতুন খাতে সম্প্রসারণের। তিনি বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বাড়বে।

সেবা খাতেও বড় অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার :

পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও দুই দেশ উল্লেখযোগ্য বাজার উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ কোরিয়ার জন্য ৯৫টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে চারটি মোডে সেবা বাণিজ্যের সুযোগ দেবে। এতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক বছরে পাঁচ দফা আলোচনা :

সিইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে উভয় দেশ Terms of Reference (ToR) চূড়ান্ত করে। পরে Trade Negotiating Committee (TNC) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১১টি Technical Working Group (TWG) গঠন করা হয়।

২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে প্রথম দফা আলোচনা শুরু হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মোট পাঁচ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশে দুই দফা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনিষ্পন্ন বিষয়ে প্রধান নেগোসিয়েটর পর্যায়ে প্রায় ৪০টি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আলোচনার সমাপ্তি ঘটে।

বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা :

বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার, আর আমদানি করে প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক সামগ্রী রপ্তানি করে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় শিল্পযন্ত্র, লোহা ও ইস্পাত, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও কাগজজাত পণ্য।
উল্লেখ্য , সিইপিএ কার্যকর হলে শুধু রপ্তানি নয়, শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য সক্ষমতা ধরে রাখতে এ চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

বর্তমানে এটি নেগোসিয়েটর পর্যায়ের আলোচনার সমাপ্তি। উভয় দেশের আইনগত প্রক্রিয়া এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকা...
02/08/2026

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আজ রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (খাদ্য ও কৃষি) পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তাঁরা সরেজমিন পরিদর্শনে শান্তিনগর কাঁচাবাজারে যান।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে লজিস্টিক ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ..........................................................
30/07/2026

খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে লজিস্টিক ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ..................................................................
ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা: ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে লজিস্টিক ব্যয়ের উচ্চহার, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতিকে চিহ্নিত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে লজিস্টিক ব্যয় কমানো, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা, বাজারে অনানুষ্ঠানিক ব্যয় হ্রাস এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাজারব্যবস্থা, মুনাফার মার্জিন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই অতিরিক্ত তারল্য, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। তবে অনেক দেশ পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে বেশি থাকার অন্যতম কারণ লজিস্টিক ব্যয়। বিশ্বে যেখানে গড়ে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ লজিস্টিক ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ। এ ব্যয় কমানো গেলে খাদ্যপণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাজারে তথ্যের অসমতা (মার্কেট অ্যাসিমেট্রি) কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, টানা কয়েক বছর কৃষক আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলেও একই পরিমাণ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। এর অর্থ, কৃষকের কাছে বাজারসংক্রান্ত সঠিক তথ্য ও বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে না।

তিনি জানান, কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে ট্রেসেবিলিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের প্রায় এক কোটি ৭৮ লাখ কৃষক পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করে। তাদের সঞ্চয়ের সুযোগ খুবই কম। ফলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীলতায় বিনিয়োগের সক্ষমতাও সীমিত। এজন্য কৃষিকে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার কৃষি খাতকে ভর্তুকি, সার, বীজ ও সেচ সুবিধা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তবে এখন সময় এসেছে কৃষিকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের। দেশের মাটি, জলবায়ু ও কৃষি বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি এমন একটি খাত, যা শিল্পের মতো নির্দিষ্ট পরিবেশে পরিচালিত হয় না; বরং এটি প্রকৃতি ও নানা বাহ্যিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল। তাই জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে—লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, উৎপাদন উপকরণের খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। উৎপাদনশীলতা বাড়লে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি ভোক্তার জন্যও খাদ্যপণ্য সহনীয় দামে সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুল মাজিদ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার লিমা।

বিদেশের মেলায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বুথ ভাড়া লাগবে না: বাণিজ্যমন্ত্রীরপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের...
27/07/2026

বিদেশের মেলায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বুথ ভাড়া লাগবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে বুথ ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে পূর্বাচলস্থ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ১০ম চায়না-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না-কুনমিং আমদানি-রপ্তানি ২০২৬ শীর্ষক মেলার ডি-ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশাঢাকা : ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ আগামী ২০২৬-২...
26/07/2026

রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

ঢাকা : ২৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।

থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীরটপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬ প্রদর্শনী উদ্বোধনঢাকা : ২৩ ...
23/07/2026

থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬ প্রদর্শনী উদ্বোধন

ঢাকা : ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও এখনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থান, বড় ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ নয়, বরং উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম।

তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

উল্লেখ্য, রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (DITP)-এর আয়োজনে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর প্রতিনিধিদল সৌজন্...
22/07/2026

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা | ২২ জুলাই ২০২৬, বুধবার

নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশঢাকা : ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বাংলাদেশের অ...
21/07/2026

নতুন বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে ৫০ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

ঢাকা : ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দুই–তিন মাসের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে।

মঙ্গলবার বিকেলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইপিবির ১৪৯তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আমরা আরও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাব, ইনশাআল্লাহ। বর্তমান সরকারও দেশের অর্থনীতির বিকাশ, নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে কাজ করছে। শুধু কথায় নয়, বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

রপ্তানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “লেদার, এগ্রো প্রসেসিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ যেসব খাতকে আমরা অগ্রাধিকারমূলক রপ্তানি খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেগুলোর প্রত্যেকটিরই ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বড় রপ্তানি খাতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বর্তমানে বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও একসময় ছোট পরিসরে শুরু করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি, বিদেশি বাজারে অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা নতুন ব্যবসা শুরু করছেন, তাদের অনেকেরই বিদেশে গিয়ে বাজার অনুসন্ধান বা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকে না। এই সময় তাদের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে ইপিবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।”

সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্যালেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ অনুযায়ী, ১২টি অগ্রাধিকার খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ২৭টি দেশে মোট ৫০টি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)–২০২৭ আয়োজনের জন্য স্টিয়ারিং কমিটিও অনুমোদন করা হয়। মেলার সম্ভাব্য সময় আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিসিএফইসি) ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারসহ পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Address

Building # 03, Bangladesh Secretariat
Dhaka
1000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+88029545006

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ministry of Commerce posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Ministry of Commerce:

Shortcuts

Share