04/08/2026
খুলনায় উচ্চ বেতনে কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার; পিবিআই খুলনা কর্তৃক সিআর মামলা তদন্তের পর আদালতের আদেশে থানায় মামলা রুজু, পিবিআই কর্তৃক রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২, আদালতে স্বীকারোক্তি
খুলনার দৌলতপুরের বাসিন্দা মোঃ জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন ধরে কম্বোডিয়ায় বসবাস করত। উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি @ সুমি আক্তারের মাধ্যমে তাদের প্রতিবেশী মোঃ মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল দ্বয়সহ ০৫ জনের নিকট থেকে জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে কম্বোডিয়ায় পাঠায়। কম্বোডিয়ায় নিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি প্রদান করতে পারেননি। একপর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফিরে ভুক্তভোগীরা আসামী মোঃ জিহাদ আলী লস্কর এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি @ সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পিবিআই খুলনা জেলা সিআর মামলা দুটি তদন্তপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত থানায় মামলা রুজু নির্দেশ প্রদান করলে দৌলতপুর থানার মামলা নং-১৪, তাং ২৩/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারাঃ মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এর ৭/২২ এবং দৌলতপুর থানার মামলা নং-১৫, তাং-২৩/০৭/২০২৬ খ্রিঃ, ধারাঃ মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এর ৭/২২ ধারায় পৃথক দুটি রুজু হয়। গত ২৭/০৭/২০২৬ খ্রি. পিবিআই খুলনা স্ব-উদ্যোগে মামলা দুটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিঃ) রেজোয়ান এবং এসআই (নিঃ) মোঃ সোহানুর রহমান মামলা দুটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তাদ্বয় গত ০৩ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সাভারের আলমনগর হাউজিং এলাকাস্থ ভাড়া বাসা থেকে আসামী মোঃ জিহাদ আলী লস্কর এবং সুমাইয়া সুমি @ সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে। উভয়েই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্ত এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আসামী মোঃ জিহাদ আলী লস্কর এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি @ সুমি আক্তার ভুক্তভোগীদ্বয়ের আত্মীয় স্বজনের সাথে ১ লক্ষ টাকা বেতনে চাকরির প্রলোভনে ভুক্তভোগীদ্বয়ের নিকট থেকে ১২,৪০,০০০/-(বার লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা গ্রহণ করে ভুক্তভোগীদ্বয়কে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যায়। প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদেরকে মেয়ে সাজিয়ে ভয়েস পরিবর্তন করে ইউরোপ/আমেরিকার মধ্য বয়ষ্ক পুরুষদের সাথে অনলাইনে সেক্সুয়াল কথাবার্তা বলে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করে। উক্ত কাজে ভিকটিমদের কোন বেতন দেওয়া হত না এবং ঠিকমত খেতে দেওয়া হত না। ভুক্তভোগীদ্বয় কৌশলে আসামী জিহাদের নিকট থেকে পালিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে। ২০২৬ সালে মার্চ মাসে আসামী জিহাদও বাংলাদেশে ফিরে আসে। তারা তাদের টাকা ফেরত চাইলে আসামী জিহাদ এবং তার স্ত্রী সাভারে বাসা ভাড়া নিয়ে আত্নগোপন করে।
ঘটনার সাথে আরও কোন চক্র জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।