11/08/2026
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
১১ আগস্ট, ২০২৬
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসি’র (NTRC) কাছেই রাখতে হবে
সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা NTRC’র (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই সংবাদ প্রচার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, চাকরি প্রত্যাশী এবং রাজনৈতিক সংগঠন এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
এর প্রেক্ষিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, “২০১৫ সালে NTRC’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ চালু হয়। ফলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকাংশে কমেছিল। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এই নিয়োগব্যবস্থা। বিদ্যমান এই নিয়োগ পদ্ধতি বাতিল করে আবার ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা পুরনো দুর্নীতির পথকে উন্মুক্ত করবে।”
তাঁরা আরো বলেন, “ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় যদি স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে অর্থ, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও স্থানীয় প্রভাব নিয়োগের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। এতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজার হাজার প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না এবং নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। একইসাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ হবে, যা শিক্ষাব্যবস্থার উপর ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তাঁরা আরো বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে NTRC কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা পুরোপুরি নিখুঁত নয়। কিন্তু অনিয়মের সমাধান হিসেবে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং NTRC’র নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও জটিলতা চিহ্নিত করে তা সংস্কার, আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন।”
তারা আরও যুক্ত করেন, “দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার তরুণ দীর্ঘদিন ধরে চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন। নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা সংকুচিত করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে নিয়োগের ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে অনিয়ম, রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে, যার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি বহন করতে হবে গোটা সমাজকে।”
নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে অভিবাদন জানিয়ে উল্লেখ করেন, এই ধরনের দূর্নীতিমূলক সিদ্ধান্ত যে ছাত্রসমাজ মেনে নিতে রাজি নয় তা গতকাল সারাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
বার্তা প্রেরক—
অরূপ দাস শ্যাম
দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি
যোগাযোগ: ০১৬৮৪-২৭৭৪০৮