17/02/2026
‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’-এর খতিব পদ হতে অব্যাহতি পরবর্তীতে মুফতী মোঃ শামছুদ্দোহা-এর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদ:
‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’ বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর একটি প্রাতিষ্ঠানিক মসজিদ। মসজিদটির স্টাফদের বেতন-ভাতাদি, পরিচালনা ব্যয়, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ব্যয় বিসিএসআইআর এর তহবিল হতে নির্বাহ করা হয়ে থাকে। বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সর্বজন গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তা/কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে এই মসজিদটি পরিচালিত হয়ে থাকে।
এখানে অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং আশেপাশের এলাকার লোকজন নামাজ আদায় করে থাকেন। মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত।
বিগত ১৯.০১.২০১৬ তারিখে মুফতী মোঃ শামছুদ্দোহা সাহেবকে খতিব হিসাবে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। নিয়োগপত্রের ৪নং শর্তে উল্লেখ ছিল:
‘কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা যাবে না এবং রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।’
তিনি উক্ত শর্তসহ নিয়োগপত্রে উল্লিখিত অন্যান্য সকল শর্ত মেনে ৩১.০১.২০১৬ তারিখে খতিব পদে যোগদান করেন।
‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা নীতিমালা, ২০২৫’ এর ৪.২.৭(ঘ) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে ‘মসজিদের কোন জনবল কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হবেন না’। উল্লেখ্য, সরকার কর্তৃক সম্প্রতি প্রণীত ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’ এর ২৩.২(গ) অনুযায়ী মসজিদে কর্মমত সকল জনবলের সাধারণ করণীয় হল ‘কোন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করা’। এসকল শর্তানুসারে ‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’-এর কোন জনবলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের কোন সুযোগ নাই।
কিন্তু মুফতী মোঃ শামছুদ্দোহা উপরোক্ত শর্তসমূহ ভঙ্গ করে জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল হতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো এতবড় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নেন নাই। তিনি ১৩.০২.২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ছুটির আবেদন করেছেন এবং আবেদনে কোন কারণ উল্লেখ করেননি।
খতিব হিসেবে মুসল্লিদের আমল-আখলাক, করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ে আলোচনা করার কথা থাকলেও তিনি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং এতে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতেন; যা মুসল্লীগণের অসন্তুষ্টির কারণ হতো। এ বিষয়টি তাকে অবহিত করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছেন।
খতিব হিসেবে মুফতী মোঃ শামছুদ্দোহা নিয়োগের শর্তভঙ্গ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে মসজিদ কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে তাঁকে খতিব-এর পদ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর পূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ অবহিত করা হলে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি কমিটির উপস্থিত সদস্যদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন; যা কোন অবস্থাতেই একজন আলেমের পক্ষে সমীচীন হয় নাই।
অব্যাহতি পত্রটি পাওয়ার পরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ পরিষদের সচিব, সদস্য অথবা চেয়ারম্যান এর সাথে আলোচনা বা পরামর্শ না করে তিনি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা শুরু করেছেন; যা সম্পূর্ণরূপে শৃঙ্খলা পরিপন্থি।
শুধু তাই নয়, তিনি একের পর এক অসত্য ও আংশিক তথ্য দিয়ে আলেম সমাজ এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষদের বিভ্রান্ত করে চলেছেন; যা কোন অবস্থাতেই একজন আলেমের পক্ষে শোভনীয় নয়। তাছাড়া, তিনি তাঁর নিয়োগপত্রের শর্ত এবং মসজিদ পরিচালনার সরকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালাকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করছেন।
তিনি তাঁর চাকুরীর শর্ত ভঙ্গ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ঔদ্ধত্যতা এবং এর প্রেক্ষিতে খতিব পদ হতে অব্যাহতির ঘটনাকে আড়াল করার প্রয়াশে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এলক্ষ্যে তিনি কমিটির সভাপতিকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে নানানভাবে অপমান, অপদস্ত এবং হেনস্তা করছেন; অথচ তিনি দেশের ঔষধ শিল্প গবেষণায় একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী । বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে বহুল প্রচার হওয়ায় সমাজে তাঁর মানহানি হয়েছে।
মুফতী মোঃ শামছুদ্দোহা সাহেবকে ‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ’-এর খতিব পদ হতে অব্যাহতি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে বিধায় অব্যাহতি পরবর্তী তাঁর কর্মকান্ডে মসজিদ পরিচালনা কমিটি এবং বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।