Aaraf TV

Aaraf TV সমায়ের সাথে আগামীর পথে

‘আমি মেজর ডালিম বলছি’ বইটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। বুঝতে চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মেজর ডালিমের মূল‍্যায়ন কি? ব‍...
15/08/2026

‘আমি মেজর ডালিম বলছি’ বইটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। বুঝতে চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মেজর ডালিমের মূল‍্যায়ন কি? ব‍্যক্তি শেখ মুজিবকে তিনি কিভাবে দেখতেন? ডালিম বঙ্গবন্ধুকে চাচা বলে ডাকতেন। শেখ কামাল সবসময় মেজর ডালিমকে ডাকতেন ‘বস’ বলে। ৩২ নম্বর বাড়িতে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীর যাতায়াত ছিল। ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে মেজর ডালিমের খালাতো বোন তাহমিনার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিলো ঢাকা লেডিস ক্লাবে। সেখানে নিম্মীর ছোটো ভাই বাপ্পি কানাডা থেকে এসে উপস্থিত হয়েছিলো। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারও দাওয়াতি ছিলো। তার ছেলে বসেছিলো বাপ্পির পেছনের চেয়ারে। পেছন থেকে বাপ্পির চুল টেনে দুষ্টুমি করলো। বাপ্পি রেগে গিয়ে বললো কে চুল টানে? গাজীর ছেলে হেসে জানালো পরখ করে দেখছি নকল কি না। বেয়াদপ ছেলে বের করে দেবো এখান থেকে- বাপ্পির এই কথায় ঘটনা বড় হয়ে ঝগড়া বেধে গেলো।
পরে ঘটনাটি শুনে গাজী সশস্ত্র সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে লেডিস ক্লাব থেকে ডালিমকে উঠিয়ে নিতে গেলে নিম্মি ও খালাম্মা সঙ্গে যান। কিছু পথ ঘুরে সেই গাড়ি যায় ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে, মিথ‍্যে অভিযোগ নিয়ে। কিন্তু আসল ঘটনা এসপি মাহবুবের কাছে শুনে বঙ্গবন্ধু উল্টো গাজীর ওপর ক্ষেপে যান। ‘হারামজাদা করছস কি। মাপ চা নিম্মী ও ডালিমের কাছে’। বঙ্গবন্ধুর এই গর্জনে গাজী মাপ চাইলেও নিম্মী তাকে মাপ করেনি। উল্টো বঙ্গবন্ধুর ওপর রাগ ঝাড়েন। বঙ্গবন্ধু তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন তুই আমার মেয়ে। এসময় শেখ রেহানা ও শেখ কামালও তাকে শান্ত করতে পারছিলেন না। বঙ্গবন্ধু গাজীকে বলেছিলেন ‘তুই ডালিমের সাথে গিয়ে বিয়ের বাকী কণ‍্যা সম্প্রদান অনুষ্ঠানে সহযোগিতা কর’। সেটিতেও ডালিম রাজি হননি। এসব এভাবেই ডালিম তার বইতেই লিখেছেন।
আরেকটি ঘটনা
ডালিমের সেনাবাহিনীর চাকরি যখন চলে যায় তখন বঙ্গবন্ধু নূর ও ডালিমকে বাসায় ডেকে বলেছিলেন, ‘দ‍্যাখ আমার করার কিছুই ছিলোনা। নেহায়েত অপারগ হয়েই তোদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হইছে। জানি মনক্ষুন্ন হইছস তোরা। হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি তোদের জন্য কিছু একটা করতে চাই। বিদেশে দূতাবাসে চাকরি করতে চাইলে ব‍্যবস্থা করে দিতে পারি। আর যদি ব‍্যবসা করতে চাস। শেখ নাসেরকে বলে ব‍্যবস্থা করে দিতে পারি। ওর সাথে ব‍্যবসা করতে পারবি’। ডালিম বলেছিলেন, চাচা লাগবেনা এসব, আপনি শুধু দোয়া কইরেন। এসব ঘটনা মেজর ডালিমের বইতেই লেখা। আরও লেখা আছে, ‘চাকরিচ্যুতির পর ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলে শেখ রেহানা ও শেখ কামাল কেমন যেনো বিব্রত হয়ে পড়েছিলো। পরিবেশটা হালকা করার জন‍্য আমি বলেছিলাম কি কামাল তোমার বিয়েতে দাওয়াত পাবোতো? কামাল বলেছিলো কি বলেন বস, আমি নিজে গিয়ে আপনাকে আর নিম্মী ভাবীকে দাওয়াত করে আসবো।’
বইয়ের এই বর্ননাগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রশ্ন জেগেছে মেজর ডালিম তার বইতে ব‍্যক্তি শেখ মুজিবের সমালোচনা করতে পারেননি একটুও। সমালোচনা করার মতো কিছু ছিলোও না। তার প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। ব‍্যক্তি শেখ মুজিবের হৃদয় ছিলো আকাশের মতো বিশাল।
তবে বঙ্গবন্ধুর শাসন ব্যবস্থার যুক্তিহীন সমালোচনা করেছেন বইটিতে। আর আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় মনে হয়। তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে মেজর ডালিম বঙ্গবন্ধুর হত‍্যাকাণ্ডে জড়িত হলেন। তার পুরো পরিবারকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হলো। যে বাড়িতে কতোবার গেছেন এই হত‍্যাকারীরা। তাদের একটুও দ্বিধা হলো না।
আর যে গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলেকে নিয়ে ঘটনার সুত্রপাত সেই গোলাম মোস্তফা ও তার ছেলেকে স্পর্শও করলেন না কেনো?
অথচ হত‍্যা করা হলো শিশু রাসেলকেও। শেখ মনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, সেরনিয়াবাত তার শিশুপুত্রকেও দুই বাড়িতে গিয়ে মারা হলো।
যার প্রতি এতো আক্রোশ তাকে কিছু না করে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারসহ আরও দুই পরিবার বুলেটে ঝাঁঝরা করা হলো
এর ব‍্যাখ‍্যা কি?

12/08/2026

"৩ সরকারের শাসনামলের তুলনা ও আওয়ামিলীগের চাপিয়ে দেয়া ঋণের বোঝা।"

১) বিএনপি শাসন (২০০১–২০০৬)
রিজার্ভ: ৬–৬.৫ বিলিয়ন ডলার
সরকারি ঋণ: ৩৫–৪০ বিলিয়ন ডলার
জিডিপি (২০০৬): ৭২–৭৫ বিলিয়ন ডলার
মোট জিডিপি (২০০১–২০০৬): ৩২০–৩৮০ বিলিয়ন ডলার
মাথাপিছু আয়: ৪০০–৫৩০ ডলার (গড়)
প্রবৃদ্ধি হার: ৫–৬%
জিডিপির তুলনায় ঋণের হার: ৩৫-৪০% (গড়।)

২) তত্ত্বাবধায়ক সরকার (ফখরুদ্দিন আহমদ) (২০০৭–২০০৮)
রিজার্ভ: ৫.৫–৬.৫ বিলিয়ন ডলার
সরকারি ঋণ: ৩৮–৪২ বিলিয়ন ডলার
জিডিপি (২০০৮): ৯০–১০০ বিলিয়ন ডলার
মাথাপিছু আয়: ~৫৫০–৬০০ ডলার
প্রবৃদ্ধি হার: ৫.৫–৬.০%
জিডিপির তুলনায় ঋণের হার-৩৮-৪২% (গড়।)

৩) আওয়ামী লীগ সরকার (২০০৯-২০২৪)
রিজার্ভ: ২০–২৭ বিলিয়ন ডলার
মোট সরকারি ঋণ: ১৬০–১৭০ বিলিয়ন ডলার
জিডিপি (২০২৪): ৪৬০–৪৭০ বিলিয়ন ডলার
মোট জিডিপি (২০০৯–২০২৪): ৪–৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলার
মাথাপিছু আয়: ২,৫০০–২,৮০০ ডলার
প্রবৃদ্ধি হার: ৬–৮% (গড়ভাবে)
জিডিপির তুলনায় ঋণের হার:- ৩৬-৪২% (গড়।)

আওয়ামিলীগ সরকারের ঋণের পরিমাণ নিয়ে অনেকে কথা বলে, বলে আওয়ামিলীগ সরকার জনগণের উপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব ও মিথ্যাচার, বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামিলীগ সরকারের ঋণের পরিমাণও বিএনপি জামাত জোট সরকারের এবং মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন সরকারের সমানই, পার্থক্য হচ্ছে আওয়ামিলীগ জনগণের জন্য অনেক উন্নয়ন, সেবা, আবাসন, মেগা প্রজেক্ট গড়ে ঋণ করেছে ৪২%, এখন প্রশ্ন আসে বিএনপি জামাত জোট সরকার এবং ফখরুদ্দিনের সরকার কী কাজ করে ৪০-৪২% ঋণ রেখে গিয়েছিলো?
আওয়ামিলীগের আমলে ঋণের পরিমাণ এমাউন্টে বেশি কিন্তু পার্সেন্টেজে বেশি না, ধরুন আপনি আগে ১০০ টাকা কামিয়ে ৪০ টাকা ঋণ ছিলেন আর আওয়ামিলীগ আমলে ১০০০ টাকা কামিয়ে ৪০০ টাকা ঋণ হয়েছেন, একদম সমান, বিনিময়ে আপনি অন্যান্য আমলে যেখানে কিছুই পাননাই সেখানে আওয়ামিলীগ আমলে অনেক কিছু পেয়েছেন৷

আওয়ামিলীগ আমলে শুধু ২০২৪ সালেই বাংলাদেশের যা আয় (জিডিপি ৪৬০) বিলিয়ন ডলার) বিএনপির ৫ বছরের শাসনামলেও (৩২০বিলিয়ন) হয়নি। জোট সরকার ও ফখরুদ্দিন সরকারের ৭ বছর মিলিয়ে যা আয় শুধু ২০২৪ সালেই আওয়ামিলীগ সরকার তা আয় করেছে বাংলাদেশের।

৪৬০ বিলিয়ন ডলার আয় (জিডিপি) ২৭ বিলিয়ন ডলার সঞ্চয় (রিজার্ভ) রেখে যাওয়ার পরও আওয়ামিলীগের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ করে যারা ৭ বছরে মিলে আওয়ামিলীগ সরকারের এক বছরের সমপরিমাণ আয় করেছে।
আনুমানিক ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি রেখে গিয়েছে জোট সরকার+তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথচ সেই জিডিপি শেখ হাসিনা নিয়ে গেছে ৪৫০০ বিলিয়ন/৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।
৪৫০ ডলার মাথাপিছু আয় থেকে ২৮০০ ডলারে রূপান্তর করেছে শেখ হাসিনা, এখন তো আপনাদের উচিৎ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি রেখে বাকি ৪০০০ বিলিয়ন/৪ট্রিলিয়ন ডলার শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়া, সেই অর্থ থেকে নাহয় শেখ হাসিনা ১৭০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে দেবে।
পুরো শাসনামলের জিডিপিও যদি বাদ দেন শুধু ২০২৪ সালের জিডিপির ৪৭০ বিলিয়ন ডলার থেকে শেখ হাসিনার ঋণের ১৭০ বিলিয়ন ডলার বাদ দিয়ে দিন না।
ঋণটাই দেখেন আয়টা চোখে পরেনা?
ঋণের সংখ্যাটাই দেখেন, পার্সেন্টেজ হিসাব করতে পারেন না?

আমাদের ঋণটাই দেখেন উন্নয়ন দেখেন না?
আমাদের উন্নয়নের সময় ঋণের হিসেব খোঁজেন অন্যদের ঋণের উন্নয়ন খোঁজেন না?

শেখ হাসিনার সমালোচনা করা খুব সহজঃশেখ হাসিনা যদি আজ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে হয়তো কায়সার হামিদকে মেয়ের চিকিৎসার ...
13/05/2026

শেখ হাসিনার সমালোচনা করা খুব সহজঃ
শেখ হাসিনা যদি আজ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে হয়তো কায়সার হামিদকে মেয়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করতে হতো না। তিনি নিজ উদ্যোগেই “ত্রাণ তহবিল” থেকে সহায়তার চেক পাঠিয়ে দিতেন—আবেদন করারও প্রয়োজন পড়ত না।

কাজ করার সুবাদে এমন অসংখ্য মানবিক ঘটনার সাক্ষী আমি নিজে। বিশেষ করে লক্ষণীয় বিষয় হলো—যাদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাঁর বিরোধী ছিলেন, তাদের প্রতিও তিনি একই রকম উদার ও সহানুভূতিশীল ছিলেন।

তখন আমি উপ-প্রেস সচিব। এক সন্ধ্যায় গণভবনে গেলে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দেখেই বললেন, “খোঁজখবর তো কিছুই রাখো না! খলিলউল্লাহ খান যে অসুস্থ, জানো?” পুরো নামে প্রথমে চিনতে পারিনি, পরে ধমক দিয়ে বললেন “অভিনেতা খলিল সাহেব।” বিষয়টি আমি জানতাম না। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি একটি বড় অঙ্কের চেক দিলেন এবং বললেন, ওনার বাসায় পৌঁছে দিতে।খলিলউল্লাহ খান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এটা সবাই জানত। আমি জানি, এটা সংবাদ প্রকাশ হবার পরই আমাকে দলের লোকজনের গালি খেতে হবে। তাই সিনিয়র একজন কলিগকে সাথে নিয়ে ওনার বাসায় গেলাম। আমরা নিউজ করাইনি, কিন্তু কিভাবে যেন নিউজ হয়ে গেলো। যথারীতি আমাদের নামও এসেছে। আর সোস‍্যাল মিডিয়াতেও আমি এবং আমার কলিগ ভিলেন হয়ে গেলাম। জামাত-বিএনপি লালন-পালনকারী হয়ে গেলাম।

চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ঘটনাও একই রকম। ১৯৭৫–এর পর তিনি খু/নি ডালিমের ভাষণ প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ অভিযোগ অনেকেই তুলেছিলেন। কিন্তু যখন ব্যাংককে তাঁর চিকিৎসার জন্য পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে, শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেন। আপত্তি উঠলে তিনি বলেছিলেন, “তার এই অতীতের আগে আরও একটা গৌরবময় অতীত আছে—দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর অসাধারণ কাজ এবং অবদান আছে।”

গাজী মাজহারুল আনোয়ার ছিলেন বিএনপির সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবুও তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজে থেকে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, শেখ হাসিনা বলেন, “তাঁর দলে যদি সমস্যা না হয়, আমার দরজা সবসময় খোলা।” মেয়ে দিঠি আনোয়ারকে নিয়ে তিনি গণভবনে আসলেন। জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা বললেন, এবং শেষ পর্যন্ত “স্বাধীনতা পুরস্কার” পেলেন। কেবিনেটের ভেতরে আপত্তি উঠেছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল স্পষ্ট—বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের গানে তাঁর অবদান রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে। “জয় বাংলা, বাংলার জয়”—এর মতো অমর গান তাঁরই লেখা। ৫ আগষ্টের পর ওনার মেয়ে দিঠিকে মিডিয়াতে বলতে শুনলাম” তারা নাকি ১৫ বছর নির্যাতিত ছিলেন। অথচ তখন শেখ হাসিনার গুনকীর্তন করে ফেসবুকে স্ট‍্যাটাসও দিয়েছিলেন।

অভিনেতা আবুল হায়াত—প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সমালোচক হিসেবে পরিচিত— কেবিনেটে বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনিও অভিনয়ে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন শেখ হাসিনার হাতেই। কুদ্দুস বয়াতি, যিনি শেখ হাসিনাকে নিয়ে বহু কটূক্তি করেছেন, তিনি চিকিৎসার জন্য বড় আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন।

৫ আগষ্টের পর কবি হেলাল হাফিজের ফেসবুক পোস্টও দেখেছি, অথচ ওনার অসুস্থতার খবর শুনে তাঁকে গণভবনে দাওয়াত দিয়ে সকালের নাস্তা করিয়েছেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন শেখ হাসিনা। সিআরআই এর “ হাসিনাঃ এ ডটারস টেল” সিনেমাটি যিনি বানিয়েছিলেন সেই পিপলু আর খান শেখ হাসিনার সাথে গণভবনের দোতলায় এক টেবিলে ভাতও খেয়েছেন, গর্ব করে সেটা বলতেনও। শুনেছিলাম, তার চিকিৎসার জন‍্যও নাকি ৫০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। ৫ আগষ্টের আগে তিনিও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লাল বিপ্লবীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সংগীত শিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহর কথা বলে শেষ করি। তিনি সম্ভবত মারা গিয়েছিলেন রাত ১১ টার পর, ওনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর শোক দিবো কিনা কনফিউশনে ছিলাম। তাই ভোর বেলা গণভবনে গেলাম, আমাকে দেখেই বললেন, শাহনাজ রহমতুল্লাহ’র জন‍্য শোক বানী দিয়েছো। আমি বললাম, আপা সেটা জানার জন‍্যই এসেছি। তিনি বললেন, এটার জন‍্য আবার জিজ্ঞেস করতে হবে কেন? আমতা আমতা করে ওনার রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলতেই ধমক দিয়ে বললেন, “ওনারা লিজেন্ড। কে কোন দল করে, সেটা এখানে বিষয় না।” তখনই শোকবার্তা প্রকাশের নির্দেশ দিলেন। এমনকি এটাও বলেছিলেন, ১৯৯৬ সালেও তাঁর চিকিৎসার জন্য তিনি সহায়তা করেছিলেন।

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ঘটনাও মনে পড়ে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি গণভবনে মিটিংয়ে আসেন। মিটিংয়ের পর মামলার কারণে অসুস্থ শরীরে কোর্টে হাজিরা দিতে কষ্ট হওয়ার কথা জানান। শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গেই আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন, যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ও আইনি জটিলতা দূর করা হয়। অথচ শিরিন শারমীন চৌধুরীকে কোর্টে মব করে এই আমলে জেলহাজতে যেতে হয়েছে।

এমন ঘটনা আরও অনেক বলা যায়। শেখ হাসিনার সমালোচনা করা সহজ। রাজনৈতিক বিরোধিতা করাও সহজ। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার যে মানবিকতা, যে উদারতা, যে প্রজ্ঞা—তা ধারণ করা সহজ নয়।

Copied
Ashraful Alam Khokan


ধন্যবাদ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ......
28/04/2026

ধন্যবাদ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ......

ইতিহাস বড় নির্মম, আবার ইতিহাস বড় সত্যনিষ্ঠ। আজ যখন রূপপুরের গম্বুজ আকাশ ছুঁতে চাইছে, তখন আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। য...
28/04/2026

ইতিহাস বড় নির্মম, আবার ইতিহাস বড় সত্যনিষ্ঠ।

আজ যখন রূপপুরের গম্বুজ আকাশ ছুঁতে চাইছে, তখন আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। যারা বলেন রূপপুর হঠাৎ করে হয়েছে, তারা মিথ্যে বলছেন। যারা এর কৃতিত্ব নিতে চান, তাদের জানা উচিত এই ইটের নিচে কতটা রক্ত আর মেধা মিশে আছে।

১৯৬১ সালে যখন ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলো, তখন বাংলার মানুষের চোখে ছিল এক সোনালী স্বপ্ন। কিন্তু সেই অগ্রগতির রথ থমকে গেল কেন? উত্তরটা পরিষ্কার, তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতি।

১৯৬৩ সালে রূপপুরের জন্য একটি রিয়্যাক্টর অনুমোদিত হয়েছিল। কোথায় গেল সেই রিয়্যাক্টর? সেটি কৌশলে করাচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (KANUPP) সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বাঙালির পকেটের টাকায় বরাদ্দ হলো, অথচ আলো জ্বললো করাচিতে।

বারবার রূপপুরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করা হয়েছে। এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির মেধা ও ভবিষ্যতের ওপর চরম আঘাত। তারা জানত, পূর্ব বাংলা যদি একবার জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, তবে তাদের দাসত্ব থেকে আমরা মুক্তি পাব।

১৯৭১-এ দেশ স্বাধীন হলো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দায়িত্ব নিয়েই ১৯৭৩-৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসলেন। তিনি বুঝতেন, শিল্পায়ন ছাড়া মুক্তি নেই। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, সেদিন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়ার ড্রিম' বা পারমাণবিক স্বপ্নকেও সপরিবারে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এরপর যে সরকার গুলো এসেছে, তারা ছিল নতজানু। কোনো সরকার বড় ধরনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নিতে চায়নি, কারণ তাদের দেশপ্রেম ছিল ঠুনকো। তারা চেয়েছিল এ দেশ আমদানিনির্ভর হয়ে থাকুক।

আজ এই মহান দিনে দাঁড়িয়ে আমি একজনের নাম উচ্চারণ না করলে পাপ হবে। তিনি ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। লোকে তাকে চেনে বঙ্গবন্ধুর জামাতা হিসেবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বামী হিসেবে কিন্তু আমি তাকে চিনি এই প্রকল্পের 'ত্রাতা' হিসেবে।

ড. উসমানী ছিলেন পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্ণধার এবং ড. ওয়াজেদ মিয়ার মেন্টর। ১৯৬৩ সালের মূল পরিকল্পনায় ড. উসমানীর যে স্বপ্ন ছিল, তাকে কারিগরিভাবে পূর্ণতা দিয়েছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়া।

পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ সময় যখন রূপপুর ছিল একটি পরিত্যক্ত ধূলিময় ফাইল, তখন ড. ওয়াজেদ মিয়া হতাশ হননি। পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি লড়াই করেছেন জমিটুকু রক্ষা করার জন্য। তিনি জানতেন, জমি একবার হাতছাড়া হলে এই স্বপ্ন আর কোনোদিন বাস্তবায়ন হবে না।

তিনি কোনো পলিটিক্যাল লিডার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বিজ্ঞানী। তিনি বই লিখেছেন, গবেষণাপত্র তৈরি করেছেন এবং রূপপুরের কারিগরি ও প্রশাসনিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

২০০৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিলেন, তখন তাকে জিরো থেকে শুরু করতে হয়নি। ড. ওয়াজেদ মিয়া যে রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছিলেন, সেই নকশাই ছিল আমাদের মূল শক্তি।

ড. ওয়াজেদ মিয়া তার মেধা দিয়ে রূপপুরকে নথিপত্রে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন বলেই আজ আমরা রাশিয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আজ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, এটি ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার দেশপ্রেম এবং ধৈর্যের এক জীবন্ত স্মৃতিস্তম্ভ।

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, আবার কাউকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে ভুল করে না। আজ রূপপুরের প্রতিটি ইউনিট যখন চালু হবে, তখন বাংলার প্রতিটি ঘরে যে আলো জ্বলবে, সেই আলোর ভেতরে আমি ড. ওয়াজেদ মিয়ার সেই নিরলস পরিশ্রমের ছায়া দেখতে পাই।

এটিই তার প্রতি জাতির শ্রেষ্ঠতম শ্রদ্ধা।

26/04/2026

গরুর মাংস খাওয়ার গোলামী থেকে স্বাধীন হয়ে এখন শুকর এর মাংস খাওয়ার আজাদী বাংলাদেশের 🙄

তথাকথিত তৌহিদী জনতার কাছে এখন শূকরের মাংসও হালাল হবে নাকি...? ইউনুস গং+বিএনপি+জামাত+এনসিপির পক্ষ থেকে তৌহিদী জনতাকে শূকর...
23/04/2026

তথাকথিত তৌহিদী জনতার কাছে এখন শূকরের মাংসও হালাল হবে নাকি...?

ইউনুস গং+বিএনপি+জামাত+এনসিপির পক্ষ থেকে তৌহিদী জনতাকে শূকরের মাংস উপহার।

১০ মিনিট সময় দিন—দেখবেন সপ্তাহটা কেমন বদলে যায়(ইনফোগ্রাফিক্স)আমরা সাধারণত ভাবি, জীবনে বা কাজে বড় পরিবর্তন আনতে হলে বড় সম...
20/04/2026

১০ মিনিট সময় দিন—দেখবেন সপ্তাহটা কেমন বদলে যায়
(ইনফোগ্রাফিক্স)

আমরা সাধারণত ভাবি, জীবনে বা কাজে বড় পরিবর্তন আনতে হলে বড় সময়, বড় পরিকল্পনা আর কঠিন শৃঙ্খলা দরকার। তাই ব্যস্ততার মধ্যে ছোট ছোট কাজগুলিকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু সত্যি হল, এই ছোট, নিয়মিত কাজগুলিই ধীরে ধীরে আমাদের দিন গুছিয়ে দেয়, আর সেই গুছানো দিনই তৈরি করে একটি ভাল সপ্তাহ।

এই ইনফোগ্রাফিকের কাজগুলি কোনো জটিল রুটিন না—বরং এমন কিছু সহজ অভ্যাস, যেগুলি করতে আপনার লাগে মাত্র ১০ মিনিট। এই ছোট পদক্ষেপগুলিই আপনার কাজের চাপ কমায়, মন পরিষ্কার রাখে, আর আপনাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও প্রস্তুত করে তোলে।

আপনি যদি প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট সময় সচেতনভাবে ব্যবহার করেন, তাহলে দেখবেন—দিনগুলি আর এলোমেলো লাগে না, সপ্তাহটাও ধীরে ধীরে নিজের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ছোট সময়, ছোট কাজ—কিন্তু ফলটা মোটেও ছোট না।

20/04/2026

সবাই ভাবে আমি ভালো আছি… 🙂
কিন্তু শুধু আমি আর আমার রব জানি—ভেতরে কতটা ভাঙা আমি… 💔

মানুষের কাছে কিছু বলি না,
রাত হলে চুপচাপ আল্লাহর কাছে সব খুলে বলি… 🤲🤍

হে আল্লাহ!
আপনি তো আমার নীরব কান্নাগুলোও দেখেন—
তাই আমার জীবনটা সহজ করে দিন… ✨

কারণ আমি জানি—
মানুষ ছেড়ে যেতে পারে,
কিন্তু আপনি কখনোই ছাড়বেন না… 🕊️

শাহাদত হোসেন তসলিম ২০০১ সালের পর বিএনপির শাসনকালে কুমিল্লা -১০ আসনে বিএনপি এমপি আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার একান্ত সচিব ছিলেন। ...
20/04/2026

শাহাদত হোসেন তসলিম ২০০১ সালের পর বিএনপির শাসনকালে কুমিল্লা -১০ আসনে বিএনপি এমপি আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার একান্ত সচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের লোটাস কামালের সঙ্গে মিশে যান। তারপর আওয়ামী লীগ যাত্রা শুরু। ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী যুব লীগ চেয়ারম‍্যান হওয়ার পর তসলিমকে করা হয় সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক। পরশ চেয়ারম‍্যন হয়ে করেন প্রেসিডিয়াম সদস‍্য। একই সময় লোটাস কামাল তার আদম ব‍্যবসার সুবিধার জন‍্য তাকে বাংলাদেশে হজের ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত বেসরকারি এজেন্সিগুলোর সংগঠন হলো হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব বা HAAB) সভাপতি। এখানে থেমে নেই রেল মন্ত্রী মুজিবুল হক তাকে কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি করেন। সভাপতি ছিলেন লোটাস কামাল, যিনি ২০১৮ সালের পর কোন দিন এলাকায় যাননি।

👉😭 ইনবক্সে একজন আমাকে দিলেন।কুমিল্লার মানুষ এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

২০২২ সালের ১৫ ই আগষ্ট " জাতীয় শোক দিবস" এর পরের দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব আক্ষেপ করে বলেছিলেন -

" ১৫ ও ১৬ ই আগষ্ট ওই লাশগুলো ধানমন্ডিতে পড়ে ছিল।কেউ তো একটা কথা বলার সাহস পায়নি। আমাদের নেতারাও তো এখানে আছেন।জাতির পিতা তো অনেককে ফোনও করেছিলেন ।কী করেছিলেন তারা ? বেঁচে থাকলে সবাই থাকেন ।মরে গেলে যে কেউ থাকে না , এটা তার জীবন্ত প্রমাণ।"

বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এই কথাগুলো বলছিলেন , তখন আমি বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে ইউটিউবে বারবার সংবাদটি দেখছিলাম, আর মনের অজান্তেই চোখের জল ফেলছি।যে রাতে বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়, সেই রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ প্রধান (ডেপুটি চীফ অফ আর্মি স্টাফ )জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল ফারুকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি অংশ ২৮ টি T54 ট্যাঙ্ক ও ১৮ টি কামান ( 105 mm howitzer) বঙ্গবন্ধুর বাসা ঘিরে রেখেছিল। রক্ষীবাহিনী কয়েকবার বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দিতে চাইলে বঙ্গবন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন,
" এই দায়িত্বটা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ।এটা ( রাষ্ট্রপতিকে) নিরাপত্তা দেওয়া রক্ষীবাহিনীর কাজ নয়"

রক্ষীবাহিনীর উপ-পরিচালক ( প্রশিক্ষণ) আনোয়ার উল আলম ( শহীদ) এর " রক্ষীবাহিনীর সত্য- মিথ্যা " ও
রক্ষীবাহিনীর উপ-পরিচালক ( অপারেশন্স) সরোয়ার আলম মোল্লা এর " রক্ষীবাহিনীর অজানা অধ্যায় " বই দুটি পড়লে এই বিষয়ে আপনারা আরও বিস্তারিত জানাবেন।সাভারে রক্ষীবাহিনীর ছোট ছোট দুটি ব্যাটালিয়ন ছাড়া ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর বড় কোন ঘাঁটি ছিলো না। রক্ষীবাহিনীর ২০ হাজার সদস্যের বেশীরভাগ ছিলেন বাংলাদেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে।এই সুযোগটাই নিয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একাংশ।১৪ আগষ্ট রাত দশটায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ট্যাংক বাহির করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একাংশ। ১৯৭৩ সালে আরব - ইসরায়েল ( ইয়ম কিপুর যুদ্ধ) বঙ্গবন্ধু ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আরবকে সহযোগিতা করায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত বঙ্গবন্ধুর উপর খুশি হয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারকে ৩০ টি T54 ট্যাংক উপহার দিয়েছিলেন। এজন্য বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার উল সাদাত বাঙালি জাতিকে বিশ্বাসঘাতক উল্লেখ করে বলেছিলেন ,

" তোমরা আমারই দেওয়া ট্যাঙ্ক দিয়ে আমার বন্ধু মুজিবকে হত্যা করেছ! আমি নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিচ্ছি।"
আজ থেকে ৫০ বছর আগেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পরের দিন ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় লিখেছিলো, " বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক বঙ্গবন্ধুর জঘণ্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।"

আজ ৫৫ বছর পরও বাঙালি বঙ্গবন্ধুর অভাব অনুভব করছে। জার্মানির পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে চতুর্দশ লুইয়ের সাথে তুলনা করে লিখেছিল " বঙ্গবন্ধু নিজেই রাষ্ট্র"। বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বপ্ন ও স্বপ্নদ্রষ্টাকে হত্যা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমার জন্মই হয়নি। মানুষ উপহাস করে বলতো, " বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশে কোন মিছিল হয়নি!" পরবর্তীতে বাবার মুখে শুনলাম, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেনাবাহিনী তার উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে।" বড় হয়ে জানলাম , বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে দলে দলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। এদের অনেকেই ভারতে গিয়েছিলো আবার আরেকটি যুদ্ধের আশায়। কিন্তু আওয়ামীলীগ রাজনীতি বিভক্ত থাকায় ও জাতীয় চার নেতার মৃত্যুর পর সেই প্রতিরোধ যুদ্ধ আর হয়ে উঠেনি।"

ইতিহাস বড় সত্য ও নির্মম। স্বাধীনতার ইতিহাস পড়তে পড়তে জানলাম বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য আওয়ামীলীগ নেতা তাহের উদ্দিন ঠাকুর , খন্দকার মোশতাক , মাহবুবুল আলম চাষী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামীলীগের এমপি কেএম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন।এই হত্যাকাণ্ডের আরও গভীরে গিয়ে জানলাম , মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে বসেই আমেরিকার সহায়তায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চক্রান্ত করেছে আওয়ামীলীগের একটা অংশ।এর পেছনে ছিলো জিয়া ও খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতালোভের রাজনীতি ও কোল্ড ওয়ারের পর দুইভাগে বিভক্ত বিশ্ব রাজনীতি। আলজেরিয়ার সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু পরিস্কার ভাষায় বলে দিয়েছিলেন ,
" বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত - শোষক এবং শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে।"

গরীব - দুঃখী মানুষের পক্ষ নেওয়াটাই বঙ্গবন্ধুর জন্য কাল হয়ে গিয়েছিল। বাকশালের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের খতম করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতালোভীরা তাকেই হত্যা করে প্রতিশোধ নিলো।

নব্বইয়ের দশক থেকে রাজনীতি একটু একটু করে বুঝতে শুরু করেছি।১৯৯১ সালের নির্বাচনে সমগ্র বাংলাদেশের সকল পত্রিকা আওয়ামীলীগের বিজয় একপ্রকার ঘোষণা করে দিয়েছিলো। কিন্তু নির্বাচনের পর দেখলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে আওয়ামীলীগকে হারিয়ে দেওয়া হলো। দীর্ঘ একুশ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন তখন সমগ্র বাংলাদেশে যে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল তার রাজসাক্ষী আমি নিজেও। কিন্তু মাত্র তিন বছর না যেতেই ১৯৯৯ সাল থেকে দলে দলে বিএনপি ও জামায়াত থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান শুরু হলো। শেখ হাসিনা অসংখ্যবার পত্রিকায় এসব যোগদানের বিরোধিতা করেছেন। বারবার তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের ভেতরে ক্ষমতালোভী অংশটি তা কান পর্যন্ত নেয়নি।

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের বাবাদের মতো আওয়ামী লীগার দের রাজনীতি করা কঠিন করে দেয়া হলো। বাংলাদেশের রাজনীতিবীদদের জন্য এই রাজনীতি কঠিন করে দিয়েছিলেন ক্ষমতালোভী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান বলেছিলেন , " আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট পর পলিটিশিয়ান।"
সেই থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি ধীরে ধীরে রাজনীতিবীদদের হাত থেকে দুর্নীতিবাজ , আমলা ও ব্যবসায়ীদের হাতের মুঠোয় চলে যেতে লাগলো।আদর্শিক রাজনীতি করা দিন দিন বাংলাদেশের মানুষের জন্য কঠিন হয়ে গেল।২০০১ সালে সৎ ও আদর্শিক রাজনীতি ধরে রাখার খেসারত দিলো আওয়ামীলীগ। ফলে বিএনপি ও জামায়াত আবার বিজয়ী হলো। ২০০১ সালের পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামীলীগ ২০০৯ সালে ব্যাপকহারে ব্যবসায়ী ও আমলা নমিনেশন দিলো।২০১৩ সাল থেকে আমাদের মতো তরুণ প্রজন্মের জন্য আদর্শিক রাজনীতি সোনার হরিণ হয়ে গেলো। রাজনীতি বাংলাদেশে হয়ে গেল একটি রাজনৈতিক ব্যবসা।

জন্ম দুঃখী শেখ হাসিনা তাঁর বাবার মতো এদের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে চেয়েছেন। বারবার তিনি আওয়ামীলীগের নেতাদের বিএনপি ও জামায়াতের যোগ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কিন্তু ততদিনে আওয়ামীলীগ আর আওয়ামীলীগ নাই। আওয়ামীলীগের প্রতিটি কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা কমিটি হয়ে গেছে বিএনপি ও জামায়াতের বি - টীম।কোন আদর্শ ও সাংগঠনিক গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে বিএনপি ও জামায়াত থেকে যাকে তাকে দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা তাদের পাল্লা ভারী করেছেন।আজ বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা দু' জনেই নির্বাসিত। ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আমিও আজ জানতে চাই -

" এই দায় কার ⁉️"

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট বলেছিলেন ,

" মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যেকোন জঘণ্য কাজ করতে পারে।"

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট এর এই উক্তিটি যেন তাঁর মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মনে রাখেন।এই অকৃতজ্ঞ জাতিকে যারাই বিশ্বাস করবে তারাই ঠকবে। এদের অধিকাংশের শরীরেই এখনও পাকিস্তানের দূষিত রক্ত।জর্জ সান্তায়ানা তাঁর " দ্য লাইফ অফ রিজন" গ্রন্থে তাই যথার্থই বলেছিলেন,
" Those who learned from history are doomed to repeat it."
( যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে না , তারা তার পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য।"

শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীর উদ্দেশ্য বলবো,
" ইতিহাস থেকে এখনি শিক্ষা নিন। দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা খন্দকার মোশতাক , তাহের উদ্দিন ঠাকুর , ওবায়দুর রহমান ও সেনাবাহিনীর ছদ্মবেশে জিয়াউর রহমান ( ওয়াকারুজ্জামান) দের এখনি খুঁজে খুঁজে বের করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পবিত্র করুন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের এখনও ৫ কোটি সমর্থক জীবিত আছে। দলের ভেতরের ত্যাগি , আদর্শিক ও মেধাবী নেতৃত্বদের খুঁজে বের করুন। ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের নামে নতুন নতুন কমিটি করে খন্দকার মোশতাক জন্ম দেওয়াদের এখনি থামান। প্রথমে দলের ভেতরে সংস্কার ও পরে কমিটি গঠন করুন। ১৯৯৯ সাল থেকে হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সকল কমিটির তালিকা নিন। এদের এখন চিহ্নিত করে রেখে পরবর্তীতে সময়মতো এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কমিটির নামে আওয়ামীলীগের আত্মহত্যার যে নাটক রচিত হচ্ছে তাই হয়তো ভবিষ্যতের " রিফাইন্ড আওয়ামীলীগ"। দয়া করে এই ফাঁদে পা দিবেন না। আওয়ামীলীগ রিফাইন্ড হলে বঙ্গবন্ধুর কন্যার হাত দিয়ে হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ছাড়া আওয়ামীলীগের আর কাউকে বিশ্বাস করি না , প্রশ্নই আসে না।প্রত্যেকটা জেলা ও উপজেলায় মনিটরিং কমিটি গঠন করে রাজনৈতিক নেতাদের বায়োডাটা ও তাদের পারিবারিক বায়োডাটা সংগ্রহ করুন।

" দয়া করে আর একটিও ভুল করবেন না।"
এখনও আমাদের মতো লক্ষ লক্ষ যুবক আপনার জন্য হাসিমুখে জীবন দিতে প্রস্তুত আছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের অতি সর্বনাশী কার্যক্রম আমাদের এক পা এগিয়ে গেলে দুই পা পিছিয়ে যেতে বাধ্য করে।"

সমগ্র বাংলাদেশ থেকে বাছাই করে আওয়ামীলীগের একটি রিজার্ভ ফোর্স গঠন করুন। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য সৎ ও আদর্শিক মানুষদের নিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করুন। রাজনীতির অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিন। দলের ভেতরে ক্ষমতালোভী ও খন্দকার মোশতাক আর জন্ম দিবেন না। আওয়ামীলীগের ইতিহাস সাক্ষী , আওয়ামীলীগ তার পায়ের উপর ভর করে দাঁড়ায়। প্রতিটি অপকর্মের বিচার করা হবে ‌। বঙ্গবন্ধু হত্যা , জাতীয় চার নেতা হত্যা, ত্রিশ লক্ষ শহীদের হত্যার বিচার যেভাবে হয়েছে সব অপরাধের সেভাবেই বিচার করা হবে।এর জন্য আওয়ামীলীগ নামক বটবৃক্ষের চারপাশে যত আগাছা জন্মেছে এগুলো এখন থেকে ছাটাই করা শুরু করুন।
আগামীর যুগোপযোগী রাজনীতির ভবিষ্যত আমরাই তৈরি করে দিবো। আপনি শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকুন। আপনার উপর যে অবিচার হয়েছে তার বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে। যাদের জন্য এত উন্নয়ন করেছেন তারাই আপনাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা দুটোই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অদূর ভবিষ্যতে আর কাউকেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ দিবেন না। প্রকৃতির নিয়মেই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির এর বিরুদ্ধে ১৭ কোটি বাঙালির মুক্তির হুংকার হয়ে আপনি আবার বাঙালির রাজকন্যা হয়েই ফিরবেন।

আজ আমিও ডেইলি টেলিগ্রাফ এর মতো ভবিষ্যৎ বাণী করে বলছি,

" আপনার মৃত্যুর পরও শত শত বছর কোটি কোটি বাঙালি তাদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবে। আগামীর শত শত প্রজন্মের তরুণ তরুণীরা আপনার ত্যাগ , সংগ্রাম ও সফলতার কথা ভেবে বারবার চোখের জল ফেলবে।
এই জনম দুঃখী বাংলা আপনার কথা ভেবে রোজ কাঁদবে ।"

সত্য সবসময় সুন্দর।

Address

Dhanmonidh
Dhaka
1200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Aaraf TV posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Aaraf TV:

Shortcuts

Share