দারুল হিকমাহ পরিচিতি
=====+==========
পাঠাগার শব্দটি শুনলেই আমাদের চিন্তা চলে যায়, শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সকল জ্ঞান জমা হয়ে থাকা, অন্তহীন জ্ঞানের উৎস বই, পুস্তিকা, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র ও অন্যান্য তথ্যসামগ্রীর একটি সংগ্রহশালার দিকে; যেখানে পাঠক তার অনন্ত জিজ্ঞাসা ও অসীম কৌতূহল মেটানোর জন্য গ্রন্থ পাঠ, গবেষণা ও তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে; যেখানে পাঠক হৃদয়ের উত্থান-পতনের শব্দ শুনতে পায়;
স্পর্শ পায় সভ্যতার শাশ্বত ধারার; অনুভব করে মহাসমুদ্রের শত বছরের মহাকল্লোল; শুনতে পায় জগতের এক মহা ঐক্যতানের সুর; যেখানে পাঠক অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের নীরব সাক্ষী শব্দহীন এক মহাসমুদ্রে অবতরণ করে।
মানুষের হাজার বছরের ইতিহাস পুঞ্জিভূত হয়ে রয়েছে পাঠাগারের একেকটি তাঁকের ভেতর। এই বইয়ের ভাণ্ডারে সঞ্চিত আছে মানব সভ্যতার প্রতিটি হৃদস্পন্দন। মানুষ এর ভেতর খুঁজে পায় তার সমস্ত জিজ্ঞাসার উত্তর। সময়ের পাতা থেকে পাতায় ভ্রমণের একমাত্র সেতু এই পাঠাগার। এর জ্ঞান নদীর মতো দেশ, কাল ও সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে যায়। পাঠাগার তাই অজস্র মানুষের শব্দহীন মুক্তমঞ্চ।
একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদণ্ড হলো পাঠাগার। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার একটি সমাজের রূপরেখা পাল্টে দিতে পারে। শিক্ষার আলো বঞ্চিত কোন জাতি পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। আর শিক্ষার বাতিঘর বলা হয় গ্রন্থাগারকে। তাই গ্রন্থাগার ছাড়া কোন সমাজ বা রাষ্ট্র তার নাগরিককে পরিপূর্ণ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে না। তাই প্রতিটি সমাজে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগারের ভূমিকা সামনে রেখে রাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিপূর্ণ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে গড়ে উঠেছে "দারুল হিকমাহ"
"দারুল হিকমাহ" ইনস্টিটিউট অফ ইনোভেটিভ থট (আইআইটি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর অধীনে পরিচালিত একটি একাডেমিক ও গণগ্রন্থাগার। আইআইটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গবেষণার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের লোকের চাহিদা পূরণের জন্য এর প্রতিষ্ঠা। সমগ্র জাতিকে পরিকল্পিত উপায়ে বুদ্ধির পরিপক্কতা অর্জনে সহায়তা করাই এর উদ্দেশ্য।