27/08/2026
ফেরাউনের প্রাসাদের সেই ঈমানদার নারী!
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মেরাজের রাতে আমি এক অপূর্ব সুঘ্রাণ অনুভব করলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম,“হে জিবরাঈল! এই চমৎকার সুঘ্রাণ কিসের?”
জিবরাঈল (আ.) বললেন,“এটি ফেরাউনের কন্যার পরিচারিকা এবং তার সন্তানদের সুঘ্রাণ।”
আমি তার ঘটনা জানতে চাইলে জিবরাঈল (আ.) বললেন,
একদিন সে ফেরাউনের কন্যার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিল। হঠাৎ তার হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে গেল। তখন সে বলল,“বিসমিল্লাহ।”
ফেরাউনের কন্যা জিজ্ঞেস করল,“তুমি কি আমার বাবার নাম নিয়েছ?”
সে বলল,“না। বরং সেই আল্লাহর নাম নিয়েছি, যিনি আমার, তোমার এবং তোমার বাবারও রব।”
ফেরাউনের কন্যা বলল,“আমার বাবা ছাড়া তোমার কি অন্য কোনো রব আছে?”
সে বলল,“হ্যাঁ।”
কন্যা বলল,“আমি এই কথা আমার বাবাকে জানিয়ে দেব।”
সে বলল,“ঠিক আছে, জানাও।”
এরপর ফেরাউন তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল,“আমি ছাড়া তোমার কি কোনো রব আছে?”
সে বলল,“হ্যাঁ। আমার এবং আপনার রব সেই মহান আল্লাহ।”
তখন ফেরাউন একটি বিশাল পাত্রে পানি ভরে তা প্রচণ্ডভাবে গরম করার নির্দেশ দিল। এরপর তার সন্তানদের একে একে সেই উত্তপ্ত পানিতে নিক্ষেপ করা হতে লাগল।
এ অবস্থায় নারীটি ফেরাউনকে বলল,“আমার একটি শেষ ইচ্ছা আছে।”
ফেরাউন বলল,“তোমার ইচ্ছা কী?”
সে বলল,“আমার এবং আমার সন্তানদের হাড়গুলো যেন একই কাপড়ে পেঁচিয়ে একসঙ্গে দাফন করা হয়।”
ফেরাউন বলল,“তোমার এই ইচ্ছা পূরণ করা হবে।”
এরপর একে একে তার সন্তানদের নিক্ষেপ করা হতে লাগল। অবশেষে যখন তার দুগ্ধপোষ্য শিশুটির পালা এল, তখন মায়ের মমতায় তার অন্তর কিছুটা দুর্বল হয়ে গেল।
ঠিক তখন শিশুটি আল্লাহর কুদরতে কথা বলে উঠল,“মা! তুমি এগিয়ে যাও। কারণ দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের শাস্তির তুলনায় অতি সামান্য।”
সুবহানাল্লাহ!
একজন সাধারণ পরিচারিকা - কিন্তু তার অন্তরে ছিল অসাধারণ ঈমান। ফেরাউনের মতো পরাক্রমশালী শাসকের সামনে দাঁড়িয়েও সে নিজের রবের পরিচয় অস্বীকার করেনি।
তার সামনে ছিল দুইটি পথ - একদিকে ঈমান ত্যাগ করে দুনিয়ার জীবন, অন্যদিকে ঈমানের ওপর অটল থেকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া। সে আল্লাহকেই বেছে নিয়েছিল।
আর সেই ঈমানদার নারী ও তার সন্তানদের সম্মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মেরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের সুঘ্রাণ অনুভব করেছিলেন।
যে অন্তরে আল্লাহর মহব্বত সত্যিই জায়গা করে নেয়, দুনিয়ার ভয় তাকে সহজে টলাতে পারে না। কারণ মুমিন জানে, দুনিয়ার কষ্ট ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের পুরস্কার চিরস্থায়ী।
সূত্র: মুসনাদে আহমাদ, ৩০৯৪; আত-তাবারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর, ১২২৭৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, ২৮৯২।
Salman Farsi