07/04/2026
ভার্সিটি পড়ুয়া বোনরা যারা বিয়েকে ক্যারিয়ারের জন্য বাঁধা বা চাপ মনে করেন,,,,,
হ্যেঁ, এটা সত্য যে মেয়েদের পড়াশোনা যখন শেষের পথে থাকে তখন বা তারও আগে থেকে মা বাবারা মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তা করা শুরু করেন এবং পরিবার থেকে পাত্র দেখাও শুরু করেন।
তবে অনেক বোনেরাই এই বিষয়টিকে ক্যারিয়ারের পথে বাঁধা মনে করেন,যা সম্পূর্ণ ভুল।
বিয়ে ক্যারিয়ারের জন্য বাঁধা নয় বরং সহায়ক ও পরিপূরক।এই বিষয়টিকে যদি আমরা ইসলামের দৃষ্টিতে দেখি, তবে এখানে অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান পাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিয়ের এই বিষয়টি নিয়ে কিছু ভাবনা তুলে ধরা হলো:
১. বিয়ে একটি সুন্দর অধ্যায়ের শুরু, কোনো ‘স্টপ সাইন’ নয়-
অনেকে মনে করেন বিয়ে মানেই ক্যারিয়ার বা স্বপ্নের ইতি। কিন্তু ইসলামে বিয়েকে বলা হয়েছে 'দ্বীনের অর্ধেক'। একজন সঠিক জীবনসঙ্গী আপনার লক্ষ্য অর্জনে বাধা নন, বরং সহায়ক হতে পারেন। বিবি খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক সফলতা বা আয়েশা (রা.)-এর পাণ্ডিত্য বিয়ের পরেও অব্যাহত ছিল। পরিবার যখন বিয়ের কথা বলে, তখন তা ভয়ের কারণ না হয়ে নতুন এক প্রশান্তির সূচনা হতে পারে।
২. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও উত্তম রিজিক-
আজকাল পড়াশোনা শেষ মানেই চাকরির যুদ্ধ শুরু।যদিও বোনদের জন্য বিষয়টি তুলনামূলক কম তবুও এই অনিশ্চিত সময়ে বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তা আসা স্বাভাবিক। তবে কোরআনে বলা হয়েছে, "তারা যদি অভাবী হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।" (সূরা নূর: ৩২)। ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে বিয়ের বরকত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সঠিক সময়ে বিয়ে জীবনের অস্থিরতা কমিয়ে কাজে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. পরিবারের প্রতি ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি-
মা-বাবা যখন মেয়ের বিয়ের কথা ভাবেন, তখন তার মূলে থাকে মেয়ের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। ইসলামের শিক্ষা হলো মা-বাবার সাথে দয়া ও নমনীয়তার সাথে কথা বলা। আপনার যদি পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা থাকে, তবে তা মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলুন।ক্যারিয়ারের ভালো পদক্ষেপে সহায়ক এমন কাউকে খুঁজতে বলতে পারেন।
ইসলামে মেয়ের সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি মা-বাবার অবাধ্য হওয়াও বড় গুনাহ। তাই আলোচনার মাধ্যমে একটি মাঝামাঝি অবস্থানে আসা উচিত।
৪. সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মানদণ্ড:
রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কাছে যদি এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারী ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তবে তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করো।" (তিরমিজি)। পরিবার যখন পাত্র দেখে, তখন কেবল তার ডিগ্রি বা ব্যাংক ব্যালেন্স না দেখে তার আখলাক ও দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একজন দ্বীনদার স্বামী আপনার উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ারের পথে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবেন।
৫. দুয়া ও ইস্তিখারা:
জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আল্লাহর সাহায্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মা-বাবার পছন্দ আর নিজের স্বপ্নের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন বেশি বেশি 'ইস্তিখারা' করুন। আল্লাহ যেন আপনার জন্য যা কল্যাণকর তা-ই নির্ধারণ করেন।
শেষ কথা:
ভার্সিটি জীবনের শেষ সময়টা এমনিতেই আবেগ আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা থাকে। এই সময়ে বিয়ের প্রস্তাব আসা মানে আপনার জীবনের একটি অধ্যায় শেষ হয়ে অন্য একটি বরকতময় অধ্যায় শুরু হওয়া। ইসলাম আমাদের শেখায় ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে। তাই এটিকে ‘চাপ’ হিসেবে না দেখে, আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখুন।
তাছাড়া মুমিন নারীর ক্যারিয়ার একজন নেককার স্ত্রী ও ভালো মা হওয়াতেও কম কিসে?!