19/06/2024
ডাক্তারদের জীবন বুঝি এরকমই। ঈদের চার দিন আগে মোটামুটি রিস্ক নিয়ে একজন রোগীর ১২ ঘন্টা সার্জারি করলাম।আজকে ঈদের আনন্দ মাটি করে, আসলাম রোগীর ড্রেসিং দিতে। রোগীটি বাংলাদেশে tertiary level এর দুইটা হাসপাতাল থেকে রিফিউজড হয়ে, আমার কাছে অনেক ভরসা নিয়ে এসেছিল। রোগীর একজন আত্মীয় ছিল ডাক্তার। রোগীটি যখন আমার কাছে আসলো, কোন টেস্ট পত্র করা নেই। রোগীটির ছিল খুবই এডভান্সড জিহবার গোড়ার ক্যান্সার। ক্যান্সারটি তার খাদ্যনালীর দেয়াল, মুখ গহবরের তলদেশ, টনসিল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। Base of the tongue, lateral pharyngeal wall, tonsillar pillar এর ক্যান্সার সার্জারি খুবই জটিল। কারণ এই ধরনের সার্জারিতে খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী দুটোকেই বাইপাস করতে হয়। আবার মুখের এত বড় অংশ কেটে ফেলে দেওয়ার পর ( খাদ্যনালীর অংশবিশেষ, জিহবার গোরা , টনসিল, মুখো গহবরের তলদেশ) সৃষ্ট ক্ষতকে শরীরের অন্য জায়গা থেকে মাংসসহ রক্তনালী দিয়ে কাভার করতে হয়। অর্থাৎ মাইক্রোভাস্কুলার রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জারি লাগে। সাধারণত জিহবার গোড়ার সার্জারি করতে গেলে,নিচের চোয়াল কেটে,তারপর অ্যাক্সেস করতে হয়। কিন্তু আমরা এই রোগীটির ক্ষেত্রে, নিচের চোয়ল না কেটেই, জিহবার গোড়ার সার্জারি করেছি। মাত্র চার ঘন্টায় আমাকে সবকিছু অর্গানাইজ করতে হয়েছে। কারণ যদি চারদিন আগে অপারেশন না করি। তাহলে ঈদের আগে আর অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঈদের পরে করতে গেলে, ক্যান্সার আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। কারণ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের দুটো tertiary level এর হাসপাতাল অপরাগতা প্রকাশ করেছে অপারেশন করতে। আমি যখন অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নিলাম তখন ভাবছিলাম, এবারের ঈদ মনে হয় আমার মাটি হবে। এত জটিল রোগী।পোস্ট অপারেটিভ পিরিওডে অনেক দখল যাবে আমার।কারণ এই সময় আমি কাউকে খুঁজে পাবো না। মোটামুটি রিক্স নিয়ে সার্জারি করলাম। আজকে ঈদের পরদিন,সবাই যখন ঘুরে বেড়াচ্ছে, বাসায় রিলাক্স সময় কাটাচ্ছে, আমি তখন হসপাতালে ছোটলাম ড্রেসিং দেয়ার জন্য। রুগিটা ড্রেসিং দিতে গিয়ে দেখলাম, আল্লাহর রহমতে সব কিছুই খুব ভালো আছে। আল্লাহ আমাকে অনেক হেল্প করেছেন। যেহেতু আমার নিয়ত সহি ছিল। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য এবং আমার টিমের জন্য। সবচেয়ে বেশি দোয়া করবেন রোগীদের জন্য।