22/05/2026
আন্দরকিল্লা থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার জন্য একটা রিকশা খুঁজছিলাম। দু’একটা অটোরিকশা চোখের সামনে দিয়েই চলে গেল। একটু পর একটা অটো আসতেই হাত তুলে থামালাম। গন্তব্য বলতেই রাজি হলো, আমি উঠে বসলাম।
ড্রাইভারের পাশেই দেখি ছোট্ট একটা মেয়ে বসে আছে। বয়স হবে ছয় কিংবা সাত। নিষ্পাপ মুখ, ক্লান্ত চোখ, তবুও মাঝে মাঝে চারপাশ কৌতূহল নিয়ে দেখছে।
আমি হেসে জিজ্ঞেস করলাম,
“আপনার মেয়ে?”
লোকটা মাথা নেড়ে বললো,
“জ্বি স্যার, আমার মাইয়া।”
আমি আবার বললাম,
“ভালোই তো! মেয়েকে শহর ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন। এতে ও আনন্দও পাচ্ছে, আবার বাবার কষ্ট আর পেশা সম্পর্কেও ছোটবেলা থেকেই ধারণা হবে।”
আমার কথা শেষ হতেই লোকটার মুখে একটা অদ্ভুত অসহায় হাসি ফুটে উঠলো। তারপর খুব শান্ত গলায় বললো,
“স্যার, আসলে বিষয়টা ওইরকম না…
প্রথমে একটু আনন্দ পাইছিল, কিন্তু এখন অনেকক্ষণ ধইরা গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে ও আর ভালো লাগতেছে না। তবুও সাথে রাখছি বাধ্য হইয়া।
ওর মা কাজে গেছে। বাসায় রাখার মতো কেউ নাই। এই সময় মাইয়া বাচ্চারে একা ঘরে রাখতে ভয় লাগে স্যার… খুব ভয় লাগে। তাই কষ্ট হলেও সাথে নিয়া বের হইছি।
গাড়িতে ঘুরতে কষ্ট হইবো, তবু চোখের সামনে থাকলে অন্তত মনে হয় মাইয়াটা নিরাপদ আছে…”
লোকটার শেষ কথাটা শুনে আমি আর কিছু বলতে পারিনি।
হঠাৎ করেই মনে হলো, আমরা এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি যেখানে একজন বাবা নিজের ছোট্ট মেয়েকে আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়, নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সারাদিন অটোরিকশায় পাশে বসিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
জীবনটা সত্যিই কোথায় এসে দাঁড়ালো…!
♦♦সংগৃহীত