11/04/2023
#নোরার #কুরআন #শিক্ষার #খেসারত #দিতে
#হলো স্বামী,ভাই ও সন্তানকে
সাবিহাতুল জান্নাত নোরা। বয়স ৩০ ছুঁয়েছে মাত্র। গুলশানের শাহজাদপুরের একটি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষিকা। থাকতেন মুদি দোকানদার স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে। ছেলের বয়স সাত ও মেয়েটার বয়স নয় বছর হবে। তারা সবে এ বছর ক্লাস টু আর ফোরে উঠেছে।
আধুনিক কালের বাঙ্গালি সমাজ বাস্তবতার কারণে তার পরিবার প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেও ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআনের শিক্ষাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। যার দরুণ কোরআন শিক্ষাটা সহীহ হয়ে উঠেনি। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁর সন্তানদের সহীহভাবে কোরআন শিক্ষা দিবেন।
চলছে রমজান মাস। স্কুলও বন্ধ। তিনি নিজের ও ছেলে-মেয়েদের সহীহ কোরআন শিক্ষার জন্য এ সুযোগটি হাতছাড়া করেননি।
খোঁজখবর নিয়ে নিজের বাসার পাশেই গুলশান ইসলামিক সেন্টারে সহীহ কোরআন শিক্ষার কোর্সে ছেলে-মেয়েসহ ভর্তি হলেন। এখানে পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা প্রশিক্ষক আছেন। জোহরের নামাজের পর দেড় ঘণ্টা কোরআন শিখে তিনি আবার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে রাতে তারাবীহ আদায় করেন। এখানে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের সুব্যবস্থাও।
এক/দেড় ঘণ্টা নামাজ শেষে বাসায় ফিরেন। ততক্ষণে স্বামী নাহিনও দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় চলে আসেন। নিজ সন্তানদের নিয়ে মায়ের এ উদ্যোগে খুশি নাহিনও। কারণ, দোকান করে তাঁর দ্বারা ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনা করে ভালো মানুষ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সোমবার। চতুর্থ রমজান অতিবাহিত হয়েছে। ছেলে মেয়েরাও এ বছর নতুন রোজা রাখা শুরু করেছে। তারা নতুন নতুন রোজা রাখা, কোরআন শিখন, তারাবীহ নামাজ পড়া নিয়ে খুব উৎফুল্লও।
প্রতিদিনের মতো নোরা আজকেও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তারাবীহ পড়তে গেল। তখন রাত সাড়ে আটটা। ঈশার ফরয নামাজের পর তারাবীহর দুই রাকাত পড়েছেন মাত্র। নামাজ চলা অবস্থায় পুলিশ হা-না দেয়। হঠাৎ পুরো মসজিদ ঘিরে ফেলল। নারী ও শিশুরা ভী-ত-সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ল।
শিশুরা কান্না জুড়ে দিল। ফি~লি~স্তি~নি মুসলমানদের জন্য ই~স~রা~ই~লী সেনাদের এ রকম আচরণ নিত্যদিনকার ঘটনা।
কিন্তু বাঙ্গালী মুসলমানের জন্য এটি তিক্ত অভিজ্ঞতা।
পুলিশ গোপনে না-শ-ক-তা-র অভিযোগে ৩ ইমাম, ৩ শিশু, ২ নারীসহ আগত নামাজরত মুসল্লীদের ১৭ জনকে আটক করে শাহবাজপুর থানায় নিয়ে গেল।সেখানে অবুঝ শিশুদের কান্না, অবলা নারীদের ভয় ও অস্বস্তি, নিরীহ সাধারণ মুসল্লিদের উৎকণ্ঠাতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হলো।
নোরার স্বামী নাহিন এ খবর শুনতে পেয়ে ভ্যাবাচেকা হয়ে গেল। তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। বেচারা সহজ-সরল মানুষ। কি করবে ভেবে না পেয়ে, একা একা থানায় গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার সাহসে কুলালো না। ছেলেদের মামা নোরার ভাইকে সাথে নিয়ে থানায় গেল। পুলিশ নি-র্ম-ম-ভাবে তাদেরকেও গ্রেফতার করলো।
পরদিন পুলিশ তাদেরকে কোর্টে তোলে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বি-স্ফো-র-ক দ্রব্য আইনের-৩১ ধারায় মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে ও একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। নোরাকে ধর্ম পালন ও দ্বীন শিক্ষার খেসরাত দিতে হলো স্বামী, ভাই ও সন্তানদের নিয়ে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিনাতিপাত করে।
গুলশানের এ ইসলামিক সেন্টারের নির্বাহী প্রধান বলেন - "এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পাঁচবছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা পরিচালনা করে আসছে। এটি সরকারি রেজিস্ট্রেশনকৃত। পুলিশ অ-ন্যা-য়-ভাবে বিনাকারণে মুসল্লিদের আটক করেছে। এ ধরনের ঘটনায় আমরা মর্মাহত, বাকরুদ্ধ।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২(ক)-তে বলা হয়েছে - "প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, রাষ্ট্র সকল ধর্মালম্বীকে তাদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।" তাছাড়া, সংবিধানের ৪১ ধারায় প্রতিটি নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ জুমাবার ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে সাধারণ মুসল্লিরা প্রতিবাদ মিছিল বের করলে, বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকায় পুলিশ ব্যাপক লা-ঠি-চা-র্জ করে ও কয়েকজনকে আটক করে।
সচেতন মানুষের চাওয়া - "নোরাদের ধর্মচর্চার স্বাধীনতা ফিরে আসুক।"
আপনি কি এই ঘটনা জেনেও প্রতিবাদ করেছিলেন? উত্তর 'না' হলে এখন অন্তত করুন। ©