18/08/2026
সুত্রঃ বিএসিউ/ডিএম/পিআর/১৮/৮/৩
তারিখঃ ১৮ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিরোধে, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাইগ্রেশনে কার্যকারী পদক্ষেপ নাও
গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে সরাসরি মতামত গ্রহণের পরিবর্তে অনলাইনে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ৬০ ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা অনলাইনে তাদের মতামত প্রদান করতে পারবেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, মনে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণ একটি ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে সেশনজট, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা, পরীক্ষার সময়সূচিতে অনিশ্চয়তা, খাতা মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতাসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই সাত কলেজকে নিয়ে একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদিত হয় এবং ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তিতে থাকা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলোরও দ্রুত ও কার্যকর সমাধান হবে—এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক।
কিন্তু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জটিলতা এখনো নিরসন হয়নি। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্ব, নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ ও পরীক্ষা গ্রহণে অনিশ্চয়তা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা এখনো নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও দীর্ঘ সময়েও ফলাফল প্রকাশ না হওয়ার মতো পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, সময়ের মূল্য ও একাডেমিক ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনেই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে শুধু মাইগ্রেশন সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসনকে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সামনে একটি সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। মাইগ্রেশনের পর কোন শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কখন অনুষ্ঠিত হবে, ফলাফল কত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে, ফরম পূরণ ও পরীক্ষা গ্রহণের ধারাবাহিকতা কী হবে এবং কীভাবে সেশনজট এড়ানো হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমরা মনে করি, একটি সংকটের সমাধান করতে গিয়ে যেন নতুন কোনো সংকট কিংবা নতুন সেশনজটের সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসনের। আবেগ নয়, বাস্তবতা; প্রতিশ্রুতি নয়, কর্মদক্ষতা; এবং ব্যক্তিস্বার্থ নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। ইউনিভার্সিটি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়—দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেশনজটমুক্ত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করুন। শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রতি সম্মান দেখান। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।
সেশনজট নয়—সময়ের মধ্যে শিক্ষা, পরীক্ষা ও ফলাফল নিশ্চিত করুন।
বার্তা প্রেরক,
বখতিয়ার আবিদ চৌধুরী,
সদস্য,
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন
ঢাকা মহানগর সংসদ