07/08/2024
আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টি ও স্বল্প মেধায় মনে হচ্ছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন নেতৃবৃন্দ এখনো পর্যন্ত রাইট ট্র্যাকেই আছেন। ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এর বাদবাকি সদস্য ও উপদেষ্টাগণ চূড়ান্ত হননি। বেশ কয়েকজনের নাম খসড়া আকারে প্রস্তাবিত হয়েছে। আরো আলোচনার পরে সেগুলো চূড়ান্ত হবে। এবং এই সরকারের মেয়াদকাল নিয়েও সিদ্ধান্ত হওয়া বাকি।
অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে বিভিন্ন কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। সাধারণ অবস্থার বিপরীতে গিয়ে অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত সময়ের বদলে তিন বা ছয় বছর মেয়াদি হওয়ার প্রস্তাবনার কথা জোরেশোরে শুনছি। এর ভালোমন্দ নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ভালো বলতে পারবেন। লম্বা মেয়াদের এই প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে ভালো যুক্তি আছে সবার। আমি এর সাথে সম্পৃক্ত একটা বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।
যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ এক বছরের বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে এর উপদেষ্টা বা সদস্যদের মধ্যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনতার এক বা একাধিক "উত্তম প্রতিনিধি" থাকা দরকার (উত্তম প্রতিনিধি বলতে বোঝাচ্ছি যিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনতার ধর্মীয় ইস্যুগুলো যথাযথভাবে বুঝতে পারেন এবং আন্তরিকতার সাথে সেটা নিয়ে সরকারের বাকিদের সাথে ডিল করবেন। তিনি আলেমও হতে পারেন আবার দ্বীনদার যে কোন ব্যক্তি হতে পারেন)। নাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিন বা ছয় বছর মেয়াদের সময়ে সরকারের প্রস্তাবিত সদস্য ও উপদেষ্টাদের সাথে (যদি সেটা বাস্তবায়ন হয়) ইসলামপন্থীদের কিছু ঝামেলা হতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তিরা ইসলাম বিদ্বেষী বা শাহবাগী, সেটা বলছি না। তারা সেরকম না। এবং শাহবাগীদের তুলনায় যথেষ্ট উদার ও লিবারেল মনে হচ্ছে। কিন্তু মৌলিকভাবে তারা যেহেতু সেক্যুলার, যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ মোটামুটি কয়েক বছর হতে যাচ্ছে, সেহেতু তাদের সাথে বন্ডিং এবং বোঝাপড়া মজবুত হওয়া জন্য, বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাখার জন্য তাদের মধ্যে সরাসরি ইসলামপন্থীদের কেউ থাকতে হবে। আমরা চাই না যে কারো ভায়া হয়ে বা তৃতীয় কারো মাধ্যমে সরকার প্রধানের নিকট দেশের মানুষের ধর্মীয় ইস্যুগুলো হাজির হোক এবং সেখানে কোনরকম ভুল বোঝাবুঝি বা অজ্ঞতার কারণে নতুন বাংলাদেশের সরকারের সাথে চেতনাবাদী টেররিস্ট, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সহযোগী ও শক্তি ইসলামপন্থীদের বিরোধ বাড়ুক। জুলাই বিপ্লব সফল করতে এবং বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে যেহেতু উলামা ত্বলাবা এবং ধর্মীয় শ্রেণী তাদের কাজের মাধ্যমে রাজনীতি ও ক্ষমতার অংশিদারিত্বের দাবিদার হয়ে উঠেছেন, সেটার চর্চা এবং অধিকারের প্রকাশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের থেকেই শুরু হতে পারে।
এটা সুস্পষ্ট যে, বাংলাদেশে সামাজিকভাবে ইসলামপন্থীদের অভূতপূর্ব উত্থান ঘটেছে। সামনে এটা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, ইনশাআল্লাহ! অর্থাৎ বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তাদের প্রভাব, সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এটা আবার রাজনীতি ও ক্ষমতায় ইসলামপন্থীদের শরিকানাকে জোরালো করবে। সে জন্য ধর্মীয় ইস্যুগুলোতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে দেশকে স্থিতিশীল রাখা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার উপরের প্রস্তাবনা আপনারা ভেবে দেখতে পারেন। এর মধ্যে কোনরূপ সমালোচনা থাকলে সেটাও বলতে পারেন। প্রয়োজন মনে হলে দায়িত্বশীলদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
©Abdullah Hashem
#জুলাইবিপ্লব