30/04/2026
মে দিবস শুধু একটি তারিখ নয়; এটি ইতিহাসের রক্তাক্ত পৃষ্ঠা, শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস, আর শোষণের বিরুদ্ধে মানুষের অবিচল প্রতিবাদের প্রতীক। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর প্রতিটি উন্নয়নের পেছনে আছে ঘামভেজা কপাল, ক্ষুধার্ত পেট, আর অধিকারহীন মানুষের নীরব আর্তনাদ।
শিল্পায়নের অন্ধকার যুগে শ্রমিকরা ছিল যন্ত্রের মতো, দিনে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ, নেই ন্যায্য মজুরি, নেই নিরাপত্তা, নেই মানবিক মর্যাদা। তাদের জীবন ছিল অবহেলা আর বঞ্চনার এক নির্মম চিত্র। কিন্তু মানুষ চিরকাল দাসত্ব মেনে নেয় না। ১৮৮৬ সালের শিকাগোতে শ্রমিকরা দাঁড়িয়েছিল নিজেদের অধিকারের জন্য, “৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা নিজের জন্য”—এই স্লোগান নিয়ে। তাদের সেই সংগ্রাম রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, কিন্তু সেই রক্ত বৃথা যায়নি; তা হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনের প্রেরণা।
সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায়, সমাজের প্রকৃত চালিকাশক্তি হলো শ্রমজীবী মানুষ। পুঁজিবাদ যেখানে মানুষের শ্রমকে পণ্যে রূপান্তর করে, সেখানে সমাজতন্ত্র সেই শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। আমরা দেখি, আজও পৃথিবীর বহু প্রান্তে শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীন, এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদের কণ্ঠস্বর প্রায়ই চাপা পড়ে যায় ক্ষমতার কোলাহলে।
মে দিবস তাই শুধুমাত্র অতীতের স্মৃতি নয়; এটি বর্তমানের সংগ্রাম এবং ভবিষ্যতের আশা। এটি আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায়—কেন এখনও বৈষম্য? কেন এখনও শ্রমিকের ঘরে ক্ষুধা? কেন উন্নয়নের সুফল সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয় না?
এই দিনে আমরা শুধু শহীদদের স্মরণ করি না; আমরা নিজেদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করি, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার জন্য, যেখানে শ্রমিকের অধিকার অখণ্ড, যেখানে মানুষ মানুষের জন্য, শোষণের জন্য নয়। আমাদের মানবতা তখনই পরিপূর্ণ হবে, যখন প্রতিটি শ্রমিক তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার পাবে।
মে দিবস আমাদের হৃদয়ে জ্বালিয়ে দেয় প্রতিবাদের আগুন, আর চোখে আনে অশ্রু। যারা রক্ত দিয়েছে, যারা স্বপ্ন দেখেছে একটি সমান অধিকারের পৃথিবীর। সেই স্বপ্ন এখনো অসম্পূর্ণ, কিন্তু তা নিভে যায়নি।
মহান মে দিবস অমর হোক।