ছাত্র গণমঞ্চ

ছাত্র গণমঞ্চ শিক্ষার উপনিবেশিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ�

শিক্ষার উপনিবেশিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ, দলীয়করণ-ফ্যাসিকরনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন বেগবান করুন ।
স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েমের জন্য শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের সাথে একাত্ম হোন । সাম্রাজ্যবাদ,সম্প্রসারণবাদ,আমলাতান্ত্রিক পুজিবাদ ও আধা সামন্তবাধের বিরুদ্ধে দেশ জোড়া ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলা ।

18/08/2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে"ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, হাসিনা ফ্যাসিবাদের পতন রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী সংস্কার...
05/08/2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদদের স্মরণে

"ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, হাসিনা ফ্যাসিবাদের পতন রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী সংস্কারের নতুন চেষ্টা

আমলা-দালাল পুঁজিবাদের সংকট মোকাবেলার জন্যই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উদ্ভব হয়েছিল। আবার ফ্যাসিবাদ তার প্রকৃতি অনুযায়ী বৃহত্তর সংকট ডেকে এনে বিস্ফোরিত হয়েছে। সার্বিক সংকটের কারণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু তা প্রকাশের অবলম্বন পাচ্ছিল না। না ছিল কোন শক্তিশালী গণমুখী সংগঠন, না ছিল ক্ষমতাপ্রত্যাসী শাসক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা। ফলে ঘটনাক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভে ফেটে পড়া ছাড়া এই ক্ষোভপ্রকাশের আর কোন পথ ছিল না। ঘটনাক্রমেই কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে এই জনরোষ এক একরোখা অভ্যুত্থান রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা হাসিনা ফ্যাসিবাদ উৎখাত হয়। গণতান্ত্রিক সংগ্রাম একধাপ অগ্রগতি অর্জন করে।

পূর্বের কোটা আন্দোলনের উত্তরাধিকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য কিছু কর্মী থাকার সুবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি কোটা আন্দোলনের (২০২৪) উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা ছিল ইসলামবাদীদের সাথে ঐক্যপন্থী "লিবারেল” ছাত্রদের ছোট একটি সংগঠন মাত্র। আন্দোলনটা ছিল তাদের ছাত্রভিত্তি বিকাশের আর দশটা চেষ্টার একটা। কিন্তু একদিকে তরুণদের বেকারত্ব, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও ফ্যাসিবাদী দাসত্বের বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত করে। অন্যদিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-নীতি আন্দোলনকে সরকার পতনের অভ্যুত্থানে পরিণত করে।

২০১৩-১৪ সালের সংঘাতের পর জামাত-শিবির-হেফাজতসহ ধর্মবাদী দলগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যে-অর্থ দিয়ে লীগের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। নিয়মিত কাজের বাইরে লিবারেল চেহারায় নানা ধরনের এনজিও, সিএসও, ফাউন্ডেশন, স্টাডি সার্কেল, পত্রিকা গড়ে তুলে তৎপরতা চালায়। এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, ১/১১-এর ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে মার্কিন-ইউরো সাম্রাজ্যবাদ কালার রেভল্যুশনের সমাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি সম্প্রসারণে ইসলামবাদী ও সংস্কারবাদী শক্তিগুলোকেও যুক্ত করে। কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে, জুলাই আন্দোলন পূর্বপরিকল্পিত কালার রেভল্যুশন।

স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে প্রতিক্রিয়াশীল, প্রগতিশীল সরকারবিরোধী সব সংগঠনই মাঠে নামে। কিন্তু গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি তার সহজাত মিত্র এবি পার্টি, শিবিরসহ ধর্মবাদী দলগুলো নেতা-কর্মীদের দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুরোপুরি কব্জা করে। সমর্থন বাড়াতে লিবারেলদেরও কাছে টানে। কিন্তু সচেতনভাবে বামপন্থীদের এড়িয়ে যায়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তৃতীয় শক্তির সাথে যোগসাজোস রক্ষা করে। সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপে কালার রেভুল্যুশনের শক্তিগুলোও সক্রিয় হয় এবং অনিচ্ছুক সেনাবাহিনীও সমর্থন দেয়।

ফলে হাসিনার পতন হলে সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ছাত্রনেতাদের ডাকে রাষ্ট্রের চালকের আসন হস্তগত করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল তৃতীয় শক্তির নেতৃত্বে ছাত্র নেতারা ও 'লিবারেল' ইসলামপন্থীদের সমন্বয়ে গঠিত অন্তরবর্তী সরকার।

আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, নানা কারণে মার্কিন-ভারতের দালাল দেশের শাসকশ্রেণী বৈরী উপদলে বিভাজিত। তারা ক্ষমতায় গেলে অর্থনীতি-রাজনীতিতে নিরঙ্কুশ একচেটিয়া প্রতিষ্ঠা করে। তাদের মতাদর্শিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক নির্মাণে এই বৈরীতা প্রতিফলিত হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার শাসক শ্রেণীর উপদলগুলোর মধ্যে বৈরীতা নিরসন করে ক্ষমতার একটা ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বণ্টন নিশ্চিত করতে চায়। যা হবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। এই অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ক্ষমতার বণ্টনের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকার মতাদর্শিক-সাংস্কৃতিক বয়ানও পুনঃনির্মাণ করতে চায়, যাতে তা এই নতুন "বন্দোবস্তুকে” সেবা করবে। এটাই এই রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির সারকথা।

"বাংলাদেশপন্থা", "অন্তর্ভুক্তিমূলক", "সভ্যতা রাষ্ট্র” ইত্যাদি ধারণাসহ নব্য বয়ানটি মূলতঃ সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের সাথে সঙ্গতি রেখে রাজনৈতিক উদারতাবাদ-অন্তর্ভুক্তির বুলি এবং ভারতবিরোধী মুসলিম ঐতিহ্যের জাত্যাভিমান আশ্রয় করে শাসক শ্রেণীর অভ্যন্তরীণ ঐক্য সৃষ্টি করারই প্রয়াস।… বস্তুত এটি একাধারে সাম্রাজ্যবাদী, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী, সামন্তবাদী এবং ক্ষুদে ও মধ্যবিত্তের সমন্বয়ে এক পপুলিস্ট আদর্শ। তাই আপাত দৃষ্টিতে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক হলেও সারবস্তুতে আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়া শ্রেণী আদর্শ হওয়ায়, এই ভাবাদর্শ থেকে ফ্যাসিবাদ বিকশিত হতে পারে।

তাই একে আমরা বলছি সাম্রাজ্যবাদী-আমলা-দালাল পুঁজিবাদী-ক্ষয়িষ্ণু সামন্তবাদী সংস্কারের কর্মসূচি।

কিন্তু বিএনপি জোট, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, ভারত-আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় ক্ষমতা কাঠামোর বড় অংশ এসব সংস্কারের মাঝে রাষ্ট্রে অংশীদারিত্বে হিস্যা হ্রাসের সম্ভাবনা দেখছে। ফলে তারা এর বিরোধিতা করছে।

পুরনো এই ক্ষমতা কাঠামোকে ছাড়িয়ে যাবার মত শক্তি সংস্কারপন্থীদের নেই। সুতরাং এই সংস্কার শেষপর্যন্ত কতটা কি হবে, তা নির্ভর করছে শাসক শ্রেণীর বিভিন্ন উপদলের বাস্তব শক্তি-ভারসাম্যের ওপর।

এই সংস্কার শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত ও দেশপ্রেমিক বুর্জোয়াদের ওপর সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও তাদের দালাল আমলা-বেনিয়া ও ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত শ্রেণীর শোষণ ও শাসনকেই মজবুত করবে। শাসক শ্রেণীর মধ্যে সামান্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করলেও, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি-মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর চলবে চরম একনায়কত্ব। সাধারণ বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোও তারা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। কারণ সস্তা শ্রম শোষণ ও লুণ্ঠনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নয়া উপনিবেশিক সমাজে শাসক শ্রেণীর পক্ষে জনগণের জন্য খুব বেশী ছাড় দেয়া সম্ভবই নয়।

সুতরাং সংস্কার সত্ত্বেও নয়া-উপনিবেশিক-আমলা-দালাল-সামন্তদের অতিশোষণ-লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতি মূলগতভাবে অটুট থাকবে। এ অভ্যুত্থানও নয়া উপনিবেশিক-আমলা-ক্ষয়িষ্ণু সামন্তীয় পুরনো প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা তৈরী করতে পারেনি। অতীত ব্যর্থতার চক্র ভাঙতে পারেনি। কেবল পুরোনো রাষ্ট্রের মালিকদের মধ্যে ক্ষমতার নতুন বিন্যাস অপরিহার্য করে তুলেছে।"

'ফ্যাসিবাদের পুনরাবর্তন অথবা মুক্তি' পুস্তিকা থেকে। (প্রথম খসড়া ১৩ নভেম্বর ২০২৪)

ছবি: ৫ আগস্ট ২০২৪

04/08/2026

ক্যাম্পাস দখলদারিত্ব ও বুর্জোয়া-প্রতিক্রিয়াশীল সংঘাতের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্য গড়ে তুলুন!
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলো ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সহিংস ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অর্জিত অভ্যুত্থানের পর যেখানে ক্যাম্পাসগুলোতে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা, গণমুখী শিক্ষানীতি, গবেষণার পরিবেশ, এবং শতভাগ আবাসিকতার দাবি জোরদার হওয়ার কথা ছিল সেখানে আবারও ক্ষমতা, হল দখল ও দলীয় আধিপত্য বিস্তারের পুরোনো খেলা শুরু হয়েছে। এক শক্তির জায়গায় আরেক শক্তির এই বলপ্রয়োগ ও দখলদারিত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ক্যাম্পাস কোনো দলের ক্যাডার বাহিনীর আখড়া না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার জায়গা। ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার সহিংসতা ও ক্যাডার ভিত্তিক আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না।

শিক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, মানসম্মত আবাসন, সুলভ মূল্যে মানসম্মত খাবার ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার লড়াই ছেড়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এই সংঘাত সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থী।

আমরা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছি, সকল প্রতিক্রিয়াশীল ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। শান্ত, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

- নাসিম সরকার
আহ্বায়ক, ছাত্র গণমঞ্চ, রাবি।

২০১৯ সালের এই বিবৃতিটির ৩টি অতিগুরুত্বপূর্ণ থিসিস যা সামাজিক অনুশীলনে প্রমাণিত হয়েছে:★ "একারণেই এ অতিধনীরা ভারতের নির্দে...
20/07/2026

২০১৯ সালের এই বিবৃতিটির ৩টি অতিগুরুত্বপূর্ণ থিসিস যা সামাজিক অনুশীলনে প্রমাণিত হয়েছে:

★ "একারণেই এ অতিধনীরা ভারতের নির্দেশনায় ও সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতায় নগ্নভাবে কায়েম করেছে আজকের নির্মম শাসন- আওয়ামী ফ্যাসিবাদ।"

★ ”জনগণের সকল সংগ্রাম শেষপর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শক্তিরই মুখোমুখি হবে। তাই, আগামী দিনের সকল সংগ্রাম মিলিত হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের মোহনায়। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী এক গণউত্থান অবশ্যম্ভাবী।"

★"আগুয়ান সে জনসংগ্রামের ঢেউ বিপ্লবী পথে পরিচালনা না করতে পারলে জনগণের আত্মবলিদান অতীতের মত আবারো ব্যর্থ হবে। কাজেই ওঁত পেতে থাকা আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের বিশ্বঘাতকতার পথ কিংবা মধ্য শ্রেণীর লেজুড়বাদী-সংস্কারবাদী পথকে নাকচ করে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবী পথে জনগণের সংগ্রামকে এগিয়ে নেবার দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আজ হাজির হয়েছে।"

সম্পূর্ণ বিবৃতি:

জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের ১১শ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিবৃতি:
-----------------------------
আসন্ন জনজোয়ারকে সংস্কার নয়, বিপ্লবী পথে চালিত করুন!
ভারতের দালাল অতিধনীদের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম বেগবান করুন!
ফ্যাসিবাদ উৎখাত করে জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হোন!
-----------------------------
আজ ৭ নভেম্বর, ২০১৯ জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের ১১শ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবেরও ১০২তম বার্ষিকী। আমরা সারা দুনিয়া ও বাংলাদেশের নিপীড়িত জাতি ও জনগণকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ায় শ্রমিক কৃষক মেহনতী জনগণের মুক্তির সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাঁদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

আজ বাংলাদেশের জনগণের বুকের উপর জগদ্দল পাথরের মত জেঁকে বসেছে- আওয়ামী ফ্যাসিবাদ। গত ৩০ ডিসেম্বর ভারতের মদদে নজিরবিহীন নৈশভোটের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ গদী রক্ষা করেছে। সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রের আয়োজনে এ ভোটডাকাতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অপরাধীকরণকে পরিপুর্ণ করেছে। সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদের দালাল ধনীক শ্রেণীর চরম অপরাধী এক রাষ্ট্র জনগণের টুটি চেপে ধরেছে।

দেশের ধনীশ্রেণী একদিকে দুনিয়ার সবচেয়ে কম বেতন-মজুরী দিয়ে, ফসল ও পণ্যের মূল্য বঞ্চিত করে, অতি পরিমাণে মুনাফা, সুদ, কর আদায় করে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্তকে শুষে-নিংড়ে নিঃশেষ করছে। অন্যদিকে জাতীয় ও সম্পদের হরিলুট আর বিদেশীদের কাছে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে দ্রুত গতিতে অতিধনী হচ্ছে। দালাল চরিত্রের এ ধনীরা উদ্বৃত্ত পুঁজি জাতীয় শিল্প-কৃষির উন্নয়ন না ঘটিয়ে সাম্রাজ্যবাদী কোম্পানির দালারখানা স্থাপন করছে নয়ত লুটের টাকা বিদেশে পাচার করছে। দেশে জীবনযাপন উপযোগী কাজের ব্যবস্থা না করে তারা সস্তা শ্রমের কারখানায় বা কম আয়ের কাজে ঠেলে দিচ্ছে, নয়ত প্রবাসী শ্রমিকের নামে আধুনিক দাস ব্যবসা চালাচ্ছে। প্রবল ক্ষোভ ও ঘৃণা জাগ্রত হয়, যখন দেখি স্বাধীনতার জন্য যে জনগণ লাখে লাখে প্রাণ দিয়েছে, তাদেরই সন্তান আজ সৌদি সমান্ত শেখদের যৌনদাসী হিসাবে বিক্রি হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মদদে। লাশ হয়ে ফিরছে নাজমার মত বোনেরা।

এদেশের আমলাতান্ত্রিক পুঁজিপতি, বড় ধনী-ধনীরা হলো দুনিয়ার নির্মমতম শোষক শ্রেণী। শোষণ-নিপীড়নে বৃটিশ, পাকিস্তানি শোষক-শাসকদেরও আজ তারা হার মানিয়েছে। অতিধনীদের উন্নয়নে উড়ন্ত গতির বিপরীতে তারা জনজীবনের সংকট বাড়িয়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে জনবিক্ষোভও বাড়ছে। কিন্তু তাদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে জনবিক্ষোভ দমন ছাড়া তাদের পথ নেই। একারণেই এ অতিধনীরা ভারতের নির্দেশনায় ও সাম্রাজ্যবাদের সহযোগীতায় নগ্নভাবে কায়েম করেছে আজকের নির্মম শাসন- আওয়ামী ফ্যাসিবাদ।

গণবিচ্ছিন্ন এ ফ্যাসিস্ট শক্তি খোলাখুলিভাবে বন্দুক তথা পুলিশ, র‌্যাব, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপর নির্ভর করছে, আইনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করছে সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে। শুধু তাই নয়, এ দুঃশাসনের সামাজিক ভিত্তি হিসাবে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় পড়ায়-মহল্লায়-পেশা-প্রতিষ্ঠানে দলদাস ফ্যাসিস্টচক্র গড়ে তোলা হয়েছে। নিরঙ্কুশ ক্ষমতাবলে এ ফ্যাসিস্টচক্র পাহাড় হতে সমতলে সর্বত্র খুন-ধর্ষণ, সন্ত্রাস, দুর্নীতির নৈরাজ্য তৈরী করেছে। এমনকি গণবিরোধী ও দেশবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে মতপ্রকাশের কারণে যে কাউকে আবরারের মত পিটিয়ে হত্যা করছে। আবার এসব দমনপীড়ণের “ন্যায্যতা” প্রতিষ্ঠা করছে উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিষ্ঠার নামে!

সুতরাং, এ নির্মম শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আজ বিদ্রোহ করা ন্যায়সঙ্গত!

সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বঅর্থনীতির সংকটের কারণে বাংলাদেশের মত দেশে দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো ক্ষমতা দখল করছে। তার বিপরীতে চিলি, ইকুয়েডর, ইরাক, লেবানন, হংকংসহ দেশে দেশে নতুন গণউত্থানের ঢেউ আছড়ে পরছে। বাংলাদেশেও অতিধনীদের শোষণ-লুন্ঠনের সংকটের ফলে আজ জনবিক্ষোভ ধুমায়িত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের দ্বন্দ্ব কীভাবে তীক্ষ্ণতর হচ্ছে তার প্রকাশ ঘটছে জনগণের চনমনে তৎপরতায়। সমাজের নানা শক্তি গুরুত্ব ও উৎসাহের সাথে নিজেদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করছে। অবদমিত ছাত্র, শ্রমিকরা রুখে দাঁড়াতে শুরু করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র আন্দোলনে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে ফ্যাসিস্টরা। এসবই আরো বৃহত্তর সম্ভাবনার লক্ষণ। জনগণের সকল সংগ্রাম শেষপর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শক্তিরই মুখোমুখি হবে। তাই, আগামী দিনের সকল সংগ্রাম মিলিত হবে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের মোহনায়। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী এক গণউত্থান অবস্যম্ভাবী।

আগুয়ান সে জনসংগ্রামের ঢেউ বিপ্লবী পথে পরিচালনা না করতে পারলে জনগণের আত্মবলিদান অতীতের মত আবারো ব্যর্থ হবে। কাজেই ওঁত পেতে থাকা আমলাতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের বিশ্বঘাতকতার পথ কিংবা মধ্য শ্রেণীর লেজুড়বাদী-সংস্কারবাদী পথকে নাকচ করে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে বিপ্লবী পথে জনগণের সংগ্রামকে এগিয়ে নেবার দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে আজ হাজির হয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বার্ষিকীতে আসন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণউত্থানকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শাসন কায়েমের বিপ্লবী পথে পরিচালনার জন্য আমরা দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করছি।

গণমঞ্চের সকল সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্য, নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি জনগণের সংগ্রামকে বিপ্লবী দিশায় এগিয়ে নিতে বিপ্লবী সক্রিয়তা প্রদর্শন করুন।

এদেশের বিপ্লবী ও ফ্যাসীবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তি ও সংগঠনের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন, আসন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামকে বিপ্লবী দিশায় পরিচালিত করতে নেতৃত্ব দেবার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের সংগ্রামী উত্থান ও বিজয় নিশ্চিত করে কায়েম করি- শ্রমিক কৃষক জনগণের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র।

(সভাপতি মাসুদ খান ও সাধারণ সম্পাদক আদিত্য মাহমুদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত)

13/07/2026

বন্যার কারণে এইএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে অবিলম্বে পরীক্ষার রুটিন সমন্বয় করতে হবে!

13/07/2026

'২৪ এর গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গির বাইনারিকে উন্মোচন ও প্রতিরোধ করুন!

★বিভ্রান্তিকর সংবাদ। সব স্তরে নয়, কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত কলেজে অনার্স কোর্সগুলো বাদ দেয়ার চিন্তা হচ্ছে।★ উচ্...
09/06/2026

★বিভ্রান্তিকর সংবাদ। সব স্তরে নয়, কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত কলেজে অনার্স কোর্সগুলো বাদ দেয়ার চিন্তা হচ্ছে।
★ উচ্চবিত্তের জন্য সীমিত বৃটিশ উপনিবেশিক কেরানি বানানোর শিক্ষা মাস স্কেলে পুনরুৎপাদনের ফল নিশ্চয়ই ভালো হচ্ছে না।
★ বাংলা, দর্শন, ইতিহাস বা 'কর্মমুখী' মানসম্মত উচ্চশিক্ষা জাতীয় চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংখ্যাতেই দেয়া উচিত, তার অতিরিক্ত নয়।
★ কর্মসংকর্মসংস্থান না থাকলে তথাকথিত কর্মমুখী শিক্ষাও কর্মবিমুখ শিক্ষায় পরিণত হয়।
★ সরকারের প্রকল্পের মূল সমস্যা লিটারেরি মানুষ তৈরী সীমিত করার আকাঙ্ক্ষায় নয়, কর্মমুখী শিক্ষার নামে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালালদের জন্য সস্তা দক্ষ শ্রম তৈরীর জাতীয় ও গণস্বার্থবিরোধী লক্ষ্যে।

বাংলা, দর্শন, ইতিহাসের মত উচ্চশিক্ষা কোর্স বাতিল করার সংবাদটি বিভ্রান্তিকর। পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভূক্ত কলেজগুলোতে তা বাতিলের চিন্তা করা হচ্ছে। স্কুল ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও এসব বিষয়ে পাঠদান বাতিল করা হচ্ছে না। অনেকে বিষয়টি না বুঝেই সমালোচনা করছেন। ফলে সমালোচনা যথাযথ হচ্ছে না।

বৃটিশ উপনিবেশিক শিক্ষায় উৎপাদনের চেয়ে আমলা-কেরানি, উকিল-মোক্তার তৈরীর লক্ষ্য আর ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষার গুরুত্ব ছিল বেশি। শিক্ষা ছিল উচ্চবিত্তের জন্য সীমিত। পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে সেই কাঠামো অর্থাৎ অনুৎপাদনশীল শিক্ষা থেকে গেছে। মুশকিলটা হয়েছে, শিক্ষা আগের মত উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমিত নেই। অনুৎপাদনশীল এই শিক্ষা মাস স্কেলে কেরানি-মার্কা এবং ফলে কর্মহীন উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরী করছে।

আবার কর্মমুখী শিক্ষার নামে প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করারও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বাস্তব দশা হয়েছে কর্ম-বিচ্ছিন্ন শিক্ষার মত। উচ্চ ও মাধ্যমিক উভয় স্তরে শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানের অভাব প্রকট।

ফলে সবদিক থেকে একটা অথর্ব শিক্ষা ব্যবস্থা চেপে বসেছে।

বাংলা, দর্শন কিংবা প্রযুক্তি যে বিষয়েই শিক্ষা হোক, কর্মসংস্থান না থাকলে সবই কর্মবিচ্ছিন্ন শিক্ষায় পরিণত হয়। এটা ঠিক একটা উৎপাদনমুখী সমাজে উচ্চশিক্ষায় যত জন বাংলা, দর্শন, ইতিহাসের শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান হবে, তার তুলনায় তুলনায় উৎপাদনসম্পর্কিত বিষয়গুলোতে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান হবে।

কিন্তু মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত উপরোক্ত বিষয়গুলো সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়াতে হবে। উচ্চশিক্ষায় জাতীয় চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা উচিত। তবে প্রত্যক্ষ উৎপাদনশীল বা পরোক্ষ উৎপাদনশীল যে বিষয়েই পাঠদান করা হোক, চাহিদার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীরা কর্মহীন হয়ে পড়বে। সুতরাং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হল সমস্যা সমাধানের মূল জায়গা।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে কি ধরনের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান জাতীয় বিকাশের জন্য দরকার। তার ওপরই শিক্ষার চাহিদা ও বিষয়বস্তু নির্ভর করছে, কারিকুলাম সাজানো নির্ভর করছে।

কিন্তু সরকার এআই, আইটি, ৭টি বিদেশী ভাষা শেখাতে চায় কার স্বার্থে?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভূক্ত শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষায় প্রাধান্য দিতে চাওয়াটা খারাপ নয়। যেটা খারাপ তা হলো-যে সব "কর্ম"-কে লক্ষ্য করে তারা কারিকুলাম সাজাচ্ছে, তা জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ নয়, সাম্রাজ্যবাদী বাজারে দক্ষ সস্তা শ্রমের যোগান আর দেশীয় শ্রম ঠিকাদার দালালদের মুনাফা লোটায় কাজে লাগবে।

এই গোঁড়ার দিকে দৃষ্টি দেয়া দরকার।

Address

Dhaka

Telephone

+8801995200210

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ছাত্র গণমঞ্চ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share